সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
লাইফস্টাইল

পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২২:৩৯
পোষা প্রাণীর উপস্থিতি রাতে শব্দ, নড়াচড়া বা তাপের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পোষা প্রাণীর উপস্থিতি রাতে শব্দ, নড়াচড়া বা তাপের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পোষা কুকুর বা বিড়ালকে পাশে নিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, রাতে পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মধ্যে ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ এবং অনিদ্রার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি এমন অভ্যাসকে সরাসরি ঘুমের সমস্যার কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি।

 

গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছিলেন, রাতের অন্তত কিছু সময় তারা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। গবেষণায় ‘পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো’ বলতে একই বিছানায় শোয়া বোঝানো হয়নি শুধু, একই ঘরে রাতের কিছু সময় ঘুমানোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

এরপর গবেষকেরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এবং না ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের অভ্যাস তুলনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের মান কম এবং অনিদ্রার উপসর্গ তুলনামূলক বেশি। বয়স, লিঙ্গসহ বিভিন্ন জনমিতিক পার্থক্য হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক দেখা যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রশ্নপত্রভিত্তিক এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

 

পোষা প্রাণীর ধরন বিবেচনা করলে গবেষণায় আরও একটি পার্থক্য পাওয়া যায়। কুকুরের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর প্রভাব সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই হতে পারে না। প্রাণীর নড়াচড়া, শব্দ, আকার এবং রাতে মানুষের ঘুমের মধ্যে তাদের আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

 

গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, তাদের পোষা প্রাণী ঘুমের ওপর হয় ইতিবাচক নয়তো নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যারা নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাদের অনেকেই সেই সমস্যার সঙ্গে পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক দেখেননি। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে অনেক মানুষ রাতে পোষা প্রাণীর কারণে ঘুমের ওপর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যাঘাত সম্পর্কে সচেতন নন।

 

তবে এর অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দিনের বেলায় পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় বিভিন্নভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে পারে, দৈনন্দিন রুটিন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একাকিত্ব কমিয়ে সঙ্গ ও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর সামগ্রিক উপকারিতা এবং রাতে ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

 

গবেষকদের মতে, রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে শব্দ, নড়াচড়া কিংবা শরীরের তাপমাত্রার মতো বিষয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার জেগে ওঠেন বা গভীর ঘুমে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশের এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি দিলেও একই সময়ে তাদের ঘুমের ধারাবাহিকতায় সূক্ষ্ম ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে।

 

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি ছিল জরিপভিত্তিক গবেষণা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। ফলে তাদের ঘুমের সমস্যা পোষা প্রাণীর কারণে হয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গী, সন্তান বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Scientific Reports-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Co-sleeping with pets, stress, and sleep in a nationally-representative sample of United States adults”। গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান এন. চিন ট্রিনিটি কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। পরবর্তী সময়ে তিনি The Conversation-এ গবেষণার ফল ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, যা পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করেছে।

 

যারা পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে চান, তাদের জন্য গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমানোর জায়গাটি যেন মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হয়, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাতের রুটিন তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে। তবে কোন অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে গবেষণাটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কারও নিয়মিত ঘুমে সমস্যা থাকলে এবং রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে, ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে কোন ধরনের মানুষ বা কোন ধরনের পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে।

 

সূত্র: Scientific Reports, The Conversation


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
পোষা প্রাণীর উপস্থিতি রাতে শব্দ, নড়াচড়া বা তাপের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা

পোষা কুকুর বা বিড়ালকে পাশে নিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, রাতে পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মধ্যে ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ এবং অনিদ্রার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি এমন অভ্যাসকে সরাসরি ঘুমের সমস্যার কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি।   গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছিলেন, রাতের অন্তত কিছু সময় তারা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। গবেষণায় ‘পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো’ বলতে একই বিছানায় শোয়া বোঝানো হয়নি শুধু, একই ঘরে রাতের কিছু সময় ঘুমানোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।   এরপর গবেষকেরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এবং না ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের অভ্যাস তুলনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের মান কম এবং অনিদ্রার উপসর্গ তুলনামূলক বেশি। বয়স, লিঙ্গসহ বিভিন্ন জনমিতিক পার্থক্য হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক দেখা যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রশ্নপত্রভিত্তিক এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।   পোষা প্রাণীর ধরন বিবেচনা করলে গবেষণায় আরও একটি পার্থক্য পাওয়া যায়। কুকুরের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর প্রভাব সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই হতে পারে না। প্রাণীর নড়াচড়া, শব্দ, আকার এবং রাতে মানুষের ঘুমের মধ্যে তাদের আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।   গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, তাদের পোষা প্রাণী ঘুমের ওপর হয় ইতিবাচক নয়তো নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যারা নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাদের অনেকেই সেই সমস্যার সঙ্গে পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক দেখেননি। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে অনেক মানুষ রাতে পোষা প্রাণীর কারণে ঘুমের ওপর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যাঘাত সম্পর্কে সচেতন নন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দিনের বেলায় পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় বিভিন্নভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে পারে, দৈনন্দিন রুটিন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একাকিত্ব কমিয়ে সঙ্গ ও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর সামগ্রিক উপকারিতা এবং রাতে ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।   গবেষকদের মতে, রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে শব্দ, নড়াচড়া কিংবা শরীরের তাপমাত্রার মতো বিষয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার জেগে ওঠেন বা গভীর ঘুমে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশের এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি দিলেও একই সময়ে তাদের ঘুমের ধারাবাহিকতায় সূক্ষ্ম ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে।   তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি ছিল জরিপভিত্তিক গবেষণা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। ফলে তাদের ঘুমের সমস্যা পোষা প্রাণীর কারণে হয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গী, সন্তান বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।   গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Scientific Reports-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Co-sleeping with pets, stress, and sleep in a nationally-representative sample of United States adults”। গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান এন. চিন ট্রিনিটি কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। পরবর্তী সময়ে তিনি The Conversation-এ গবেষণার ফল ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, যা পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করেছে।   যারা পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে চান, তাদের জন্য গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমানোর জায়গাটি যেন মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হয়, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাতের রুটিন তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে। তবে কোন অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে গবেষণাটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কারও নিয়মিত ঘুমে সমস্যা থাকলে এবং রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে, ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে কোন ধরনের মানুষ বা কোন ধরনের পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে।   সূত্র: Scientific Reports, The Conversation

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২২:৩৯
দীর্ঘায়ুর সঙ্গে আলোচনায় তিন ধরনের পানীয়

শতায়ু মানুষের পানীয়ের অভ্যাসে মিল, দীর্ঘায়ুর সঙ্গে যুক্ত তিন পানীয়ের কথা জানালেন গবেষক

ছুটির ভ্রমণে সস্তা বিমান টিকিট পেতে বুকিংয়ের সেরা সময় জানাল গুগল

থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটিতে সস্তায় বিমান টিকিট পেতে কখন বুক করবেন

দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’

দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’! হতবাক ব্যক্তি

মাত্র একবার চিটিং করতেই ১০ বছরের সংসার ভেঙে দিলো স্বামী! কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী
মাত্র একবার চিটিং করতেই ১০ বছরের সংসার ভেঙে দিলো স্বামী! কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী

একবারের পরকীয়ায় ১০ বছরের দাম্পত্য প্রায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে এবং দুই বছর ধরে ক্ষমা চেয়েও স্বামীকে ফেরাতে পারেননি, এমন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ‘আকাই রিকো’ নাম ব্যবহারকারী এক নারী। ‘লেডি উইথ ফ্লজ’ নামে পরিচিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই গল্পটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘ ১০ বছরের বৈবাহিক জীবনের মধ্যে একবার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন আকাই। বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁর স্বামী সম্পর্ক থেকে সরে যান এবং এরপর আর সংসারে ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি।   এসব পোস্টে আরও বলা হচ্ছে, ঘটনার প্রায় দুই বছর পরও আকাই সম্পর্কটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি নাকি একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন, অনুরোধ করেছেন এবং ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর সাবেক স্বামী পুনর্মিলনে রাজি হননি।   গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদল ব্যবহারকারীর মতে, দাম্পত্যে বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সম্পর্ক কত বছরের সেটির চেয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও অঙ্গীকার রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে আরেকদল ব্যবহারকারী বলছেন, ১০ বছরের সংসার এবং একসঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কথা বিবেচনা করে অন্তত আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারত। তাঁদের মতে, একটি ভুলের পর ক্ষমা, অনুশোচনা এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   ভাইরাল বর্ণনায় আকাইয়ের অনুভূতি হিসেবে বলা হচ্ছে, তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় শুধু বিয়ে ভেঙে যাওয়া নয়। বরং একটি ভুলের কারণে যেন পুরো ১০ বছরের সম্পর্কই মুছে গেছে, এমন অনুভূতিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিচ্ছে।   তবে America Bangla-র যাচাইয়ে এই ব্যক্তিগত ঘটনার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, আদালতের নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাচাইযোগ্য বক্তব্য বা অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনলাইনে ‘Akai Riko’ এবং ‘lady_with_flaws’ নামের সঙ্গে গল্পটি যুক্ত করে বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনা থাকলেও সেগুলো থেকে ১০ বছরের বিয়ে, পরকীয়ার ঘটনা কিংবা দুই বছর ধরে পুনর্মিলনের চেষ্টা সংক্রান্ত দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   বরং অনলাইনের একটি আলোচনায় গল্পটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নামে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট বাস্তব ব্যক্তির মূল পোস্টের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। তবে ওই দাবিটিও কোনো কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত নয়।   ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। আপাতত এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি, যা বিশ্বাসঘাতকতা, ক্ষমা এবং দীর্ঘ দাম্পত্যে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২:১৯
ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন ও দাম্পত্য সন্তুষ্টি নিয়ে গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

ধর্মভীরু দম্পতিদের যৌ ন জী বন বেশি সন্তোষজনক: গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঘুম কমছে বলে মনে করছেন অনেক মার্কিন

স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়ছেন মার্কিনরা

ত্বকের গভীর টিস্যুতে আক্রমণ করা বিরল ও প্রাণঘাতী নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস রোগ। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত শরীরের টিস্যু ধ্বংস করতে পারে এই মাংস খেকো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, সতর্কতা

বিয়েকে এড়িয়ে নয়, বরং স্থায়ী সম্পর্কের দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে জেন জি
জেন জি-ই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, বলছে নতুন গবেষণা

বিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।   ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।   ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।   অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা।   অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি।   কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।   তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে।   গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৫:১৩
দামি ব্যাগ, ঘড়ি বা জুতার ক্রেতা মানেই বিপুল সম্পদের মালিক, এমন ধারণা ঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত

বিলাসপণ্যের ৭৫% কিনে থাকেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা, উদ্দেশ্য শো-অফ

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির জ্বালানি মানদণ্ড শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বাইডেনের ইভি নীতি বাতিল করলেন ট্রাম্প, কমবে নতুন গাড়ির দাম

নভেম্বরে বরফঢাকা পাহাড় থেকে রোদঝলমলে সমুদ্রসৈকত—ভ্রমণের জন্য রয়েছে নানা গন্তব্য।

বরফ, সমুদ্র নাকি মরুভূমির উষ্ণতা? নভেম্বরে ঘুরতে যাওয়ার ৫ দারুণ গন্তব্য

0 Comments