যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে টিকিট লটারির নিবন্ধনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই নির্ধারিত দৈনিক আবেদনসীমা পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে কর্তৃপক্ষ নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করতে এই লটারির আয়োজন করা হয়। মেয়রের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, নিবন্ধন শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় আবেদনসীমা দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন মোট ১ হাজার বিশ্বকাপ টিকিট সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া নির্বাচিতদের জন্য নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আগ্রহ বাড়ছে। কম দামে টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লটারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি টিকিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক শহরগুলোতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা, পরিবহন ও দর্শকসেবা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ফোর্বসের জরিপে আয়ের দিক থেকে ফুটবল জগতের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা টানা চতুর্থ এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যাথলেট নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১২ মাসে কর এবং এজেন্ট ফি বাদে রোনালদোর আনুমানিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে। এর মধ্যে সৌদির ক্লাব আল নাসরের খেলার চুক্তি থেকে তিনি পেয়েছেন ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাকি ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এসেছে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাত থেকে। ফোর্বসের আয়ের তালিকায় ষষ্ঠবার শীর্ষে উঠে রোনালদো এখন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের পাশে স্থান করে নিয়েছেন। এই তালিকায় রেকর্ড ১১ বার শীর্ষে থেকে তার ওপরে আছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস। ৩০ কোটি ডলার আয়ের মাধ্যমে রোনালদো মুষ্টিযোদ্ধা ফ্লয়েড মেওয়েদার জুনিয়রের ২০১৫ সালের আয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। ১৯৯০ সালে ফোর্বস অ্যাথলেটদের আয়ের তালিকা প্রকাশ শুরুর পর এটি এক বছরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আয়ের অনন্য রেকর্ড।
নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ ম্যাচ দেখার সুযোগ নিয়ে বিশেষ টিকিট লটারি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিটি প্রশাসন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীরা মাত্র ৫০ ডলারে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মোট এক হাজার সাশ্রয়ী টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে! সাতটি ম্যাচের জন্য এসব টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং দুটি নকআউট পর্বের খেলা। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাখা হয়নি। এছাড়া নির্বাচিত দর্শকদের জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াতের বিনামূল্যে বাস সুবিধাও রাখা হয়েছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লটারির আবেদন শুরু হবে আগামী ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। তবে আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কেবল নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হবে। প্রতিদিন একজন ব্যক্তি একবার করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একাধিক আবেদন করলে তা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের কাছে ইমেইল বা ফোনে যোগাযোগ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন বিজয়ীরা। মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের কথা বিবেচনায় এনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময় আমরা দেখছি টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ অসংখ্য মানুষ জীবনে একবার হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান।” সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কিছু ম্যাচের সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ২২০ থেকে ৪১৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরায় বিক্রির বাজারে এসব টিকিটের দাম আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় টিম ওয়ে এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি হোস্ট কমিটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ল্যাসরিও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বহুজাতিক সম্প্রদায়ের ফুটবল উন্মাদনা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তে থাকা আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথের নিরাপত্তা জোরদার করছে। সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও অননুমোদিত আকাশযান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছর প্রায় ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে, যা “বিপজ্জনক ও অবৈধ ড্রোন ব্যবহারের” বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যয় করা হচ্ছে। এফবিআই সম্প্রতি আলাবামার হান্টসভিলে একটি জাতীয় ড্রোন প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি বিশ্বকাপ ভেন্যুর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের ব্যবহারিক অনুশীলন এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কংগ্রেস সদস্যদের মতে, বড় জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আকাশ নিরাপত্তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ড্রোন জ্যামিং প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ দখল ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষামূলক ড্রোন ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনার পর ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়ে। এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থা কাজ করবে।
ফুটবলকে অনেকেই কেবল খেলা হিসেবে দেখলেও এর ভেতরে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ আর স্বপ্ন পূরণের গল্প। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম তিউনিসিয়ার স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি। জীবিকার অনিশ্চয়তায় যিনি একসময় দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি এখন জাতীয় দলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া মাস্তুরির ফুটবল যাত্রা শুরু হয় একেবারে নিচের স্তর থেকে। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তৃতীয় বিভাগের দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগের এলপিএস তোজেউরে খেললেও বড় কোনো সাফল্য আসেনি। ২০২১ সালে শীর্ষ লিগের ইএস মেত্লাউইতে যোগ দিলেও সেখানে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। সীমিত আয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে একসময় পেশাদার ফুটবল ছেড়ে বিকল্প পেশা হিসেবে দমকলকর্মী হওয়ার চিন্তাও করেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের আগেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে। ২০২৩ সালে ইরাকের আল নাজাফ এসসিতে যোগ দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের চেষ্টা শুরু করেন মাস্তুরি। পরের বছর তিউনিসিয়ার ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। সেখানে এক মৌসুমে ১৭টি গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়া জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে ২০২৫ সালে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালায় যোগ দেন, ট্রান্সফার ফি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো বলে জানা যায়। বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন মাস্তুরি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অল্প কিছু বছর আগেও যিনি দমকল বাহিনীতে স্থায়ী চাকরির স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে উঠে আসা মাস্তুরির গল্প এখন তিউনিসিয়ার ফুটবলে নতুন প্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছন্দে না থাকলেও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কোচ রুডি গার্সিয়া বিশ্বাস করছেন, বড় মঞ্চে নিজের সেরা খেলাই তুলে ধরতে পারবেন এই ফরোয়ার্ড। ৩৩ বছর বয়সী লুকাকু চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে গত দুই মাস আগে ফিরলেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না। চলতি মৌসুমে ন্যাপোলির হয়ে সাতটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মোট ৬৯ মিনিট খেলেছেন তিনি। তবে কোচ গার্সিয়া লুকাকুকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “রুমেলু চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছে। সে এখন ছন্দে নেই। বিশ্বকাপে শুরু থেকে খেলানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সে আমাদের সেরা স্ট্রাইকার। সামনে সময় আছে, আশা করছি সে ফিট হয়ে উঠবে এবং ছন্দ ফিরে পাবে।” দলে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো। লিলের এই ফরোয়ার্ড আগে স্পেনের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেললেও এবার বেলজিয়ামের জার্সিতে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন। অভিজ্ঞদের মধ্যে কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া ও জেরেমি ডকুর ওপর ভরসা রেখেছেন কোচ। আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভ্যাঙ্কুভারে। বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল: গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া, সেনে ল্যামেন্স, মাইক পেন্ডার্স। ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেলে, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সেস, আর্থার থিয়েট। মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, নিকোলাস রাস্কিন, ইউরি তিয়েলেমানস, হান্স ভানাকেন, অ্যাক্সেল উইটসেল। ফরোয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ার, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, ডোডি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ১১ মে’র মধ্যে ফিফার কাছে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দেওয়ার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্টস জানিয়েছে, সেই তালিকায় অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র-এর নাম থাকছে। পাশাপাশি সুযোগ পাচ্ছেন উদীয়মান প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে ৩৫ থেকে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হয়। পরে সেই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ২৩ থেকে ২৬ সদস্যের দল নির্বাচন করা হবে। যদিও চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার সময়সীমা ১ জুন, তার আগেই দল ঘোষণা করতে পারে দেশগুলো। ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত দল নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে নেইমার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন। দীর্ঘ সময় ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারকে ঘিরে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার ফিটনেস পরিস্থিতির দিকেই এখন নজর ব্রাজিল সমর্থকদের। অন্যদিকে চেলসিতে যোগ দিতে যাওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাও উইলিয়ানও রয়েছেন আলোচনায়। বর্তমানে তিনি হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। সময়মতো সুস্থ হতে না পারলে বিকল্প হিসেবে এন্ড্রিক কিংবা রাইয়ান-কে বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে দল ঘোষণার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। চোটের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ-এর দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এডার মিলিতাও ও রদ্রিগো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। ফলে প্রাথমিক স্কোয়াডেও জায়গা হচ্ছে না তাদের। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় এটি বড় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ফুটবল মাঠে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বড় পদক্ষেপ নিল ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উয়েফা এই শাস্তির ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রেস্তিয়ানির আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক (হোমোফোবিক)। গত ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ম্যাচ চলাকালীন ভিনিসিউস গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদযাপন করতে গেলে স্থানীয় সমর্থক ও বেনফিকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিউসের মুখ বরাবর জার্সি টেনে ধরে কিছু একটা বলেন। ভিনিসিউস অভিযোগ করেন যে তাকে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে এবং ভিনিসিউস মাঠ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন। উয়েফার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে উঠে আসে যে প্রেস্তিয়ানির মন্তব্যটি বর্ণবাদী না হলেও তা চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক ছিল। ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনটি ম্যাচ স্থগিত (probation) রাখা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন, তাই আপাতত তাকে আরও দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে উয়েফা ফিফাকে অনুরোধ করেছে এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ম্যাচেও কার্যকর করতে। যদি ফিফা তাতে সাড়া দেয়, তবে আগামী জুনে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথম দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলার। ফুটবল বিশ্বে এই রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বলেছেন, মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়া বা বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি ফুটবলের আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে লাল কার্ডের আওতায় আনা উচিত।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শকদের মাঝে টিকিটের চাহিদাও আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই উন্মাদনার মাঝেই ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন খবর জানাল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে আরও কিছু টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার টিকিটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এবং আগের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল কিছু ক্যাটাগরি। নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ফিফা জানিয়েছে, বুধবার থেকে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ১, ২ এবং ৩ নম্বর ক্যাটাগরির পাশাপাশি নতুন একটি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’র টিকিট পাওয়া যাবে। মূলত স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলো থেকে খেলা দেখার সুযোগ দিতেই এই প্রিমিয়াম স্তরটি চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্তরের টিকিটের দাম সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বেশ চাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকিটের এই নতুন মূল্যতালিকা এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা আগে যখন টিকিট কিনেছিলেন, তখন সেরা সিটগুলো হয়তো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এখন সেই ভালো সিটগুলোকেই ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ বা দামি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে যখন প্রথম দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের দাম ছিল ১৪০ ডলার। আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছিল ৮,৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের শুরুতে টিকিট পোর্টাল পুনরায় চালু হলে দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০,৯৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ (৪৮ দলের) এই বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনি যাতায়াত এবং সিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লিওনেল মেসি মানেই যেন এক জাদুর কাঠি। আবারও তার প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে মায়ামি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বার্টরাম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো। ৫৯ এবং ৬২ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা সাত ম্যাচে নিয়ে গেল। বর্তমানে লিগে ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন মেসি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলারমো হোয়োসের অধীনে এটি মায়ামির প্রথম জয়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই এখন তুঙ্গে। আগামী রোববার ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। লিগ টেবিলের সমীকরণ যখন অত্যন্ত জটিল, তখন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা একে 'চাপ' হিসেবে না দেখে 'সুযোগ' এবং 'মর্যাদা' হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও আর্সেনালের চেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এক ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে রোববারের এই ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লিগ কাপের ফাইনাল এবং এফএ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় আর্সেনালের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও, আর্তেতা আত্মবিশ্বাসী। আর্তেতা বলেন, "বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং সেরা কোচের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে থাকাটা আমাদের জন্য বড় এক সুযোগ ও সম্মানের। আমরা এই অবস্থানে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন সময় লড়াই উপভোগ করার।" অন্যদিকে, সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এই ম্যাচটিকে দেখছেন 'ফাইনাল' হিসেবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ম্যাচে হারলে তাদের লিগ শিরোপার আশা শেষ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের এই মহরণটির দিকে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যাতায়াত খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের সময় ট্রেন ও বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যানহাটনের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম (যেখানে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে) পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া ১০০ ডলারের বেশি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটের ফিরতি টিকিট মাত্র ১২.৯০ ডলারে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সময় ভক্তদের সাধারণ ভাড়ার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ম্যাসাচুসেটসেও। বোস্টন থেকে জিলেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাতায়াত খরচ ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফরাসি সমর্থকদের একটি সংগঠনের মুখপাত্র গুইলাম আউপ্রেত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে যাতায়াত খরচ টিকিটের সাথেই যুক্ত থাকত অথবা বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু এবার ভক্তদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ ভক্তদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিশাল খরচ স্থানীয় করদাতা ও সমর্থকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলও এই ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর সাথে আগের চুক্তিতে যাতায়াত বিনামূল্যে রাখার কথা থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ফিফা অবাক হয়েছে যে, নিউ জার্সির মতো জায়গায় কেন যাতায়াত খরচের জন্য ফিফাকেই অর্থ দিতে বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আনন্দ যখন ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন যাতায়াতের এমন ব্যয়বহুল চিত্র সাধারণ সমর্থকদের হতাশ করে তুলেছে। অনেকের মতে, ফুটবল এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় জনপরিবহন বা যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ঘোষণায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও ফুটবল প্রেমীদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিবিদরা। তবে এই ঘটনায় উল্টো ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ভাড়া ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। অর্থাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ছে প্রায় ১০ গুণ! একইভাবে বোস্টন থেকে ফক্সবরো পর্যন্ত বাস ভাড়া ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ নিউ জার্সির সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য কোটি কোটি ডলারের বোঝা বইতে হবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিফাকেই এই খরচ বহন করতে হবে।" সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিফাকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে এবং আয়োজক শহরগুলোর পরিবহন খরচ ভর্তুকি দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এভাবে শোষিত হতে দেওয়া যাবে না।" এই সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন আচরণে অত্যন্ত বিস্মিত। ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৮ সালের প্রাথমিক চুক্তিতে ভক্তদের জন্য যাতায়াত ফ্রি রাখার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে আয়োজক শহরগুলোর আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে ফিফা নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকদের 'মূল্য পরিশোধ' করেই যাতায়াত করতে হবে। ফিফার দাবি, তারা এর আগে ফেডারেল ফান্ডিংয়ের জন্য লবিং করে আয়োজকদের সহায়তা করেছে। এছাড়া আগে নিউ জার্সিতে হওয়া কোনো কনসার্ট বা ক্রীড়া ইভেন্টে আয়োজকদের পরিবহন খরচ দেওয়ার নজির নেই বলেও তারা দাবি করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যাতায়াত খরচের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে সাধারণ দর্শকদের কাছে।এখন দেখার বিষয়, ফুটবল প্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ফিফা শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয় কি না।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নাটকীয় ও বিতর্কিত এক বিদায়ে বিদায় নিল রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে (অ্যাগ্রিগেটে ৬-৪) হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। তবে হার ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সেই বিতর্কিত লাল কার্ড। ম্যাচের শেষ দিকে যখন দুই দলের লড়াই সমতায় ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় কামাভিঙ্গাকে। হ্যারি কেনকে ফাউল করার পর বল হাতে ধরে রেখে খেলা শুরু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। মাত্র ২৪ মিনিট মাঠে থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় এই ফরাসি মিডফিল্ডারকে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের পুরো সিজনটাই নষ্ট হয়ে গেল। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন তুচ্ছ কারণে লাল কার্ড দেখানো অবিশ্বাস্য।" জুড বেলিংহ্যাম রেফারির এই সিদ্ধান্তকে 'একটি জোক' বলে অভিহিত করেছেন। ম্যাচটিতে রিয়ালের হয়ে আর্দা গুলার দুটি গোল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে এক গোল করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কামাভিঙ্গার লাল কার্ডের পরপরই লুইস ডিয়াজ এবং মাইকেল অলিসের গোলে জয় নিশ্চিত করে বায়ার্ন। এই হারের ফলে টানা দ্বিতীয় মৌসুম বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ করার শঙ্কায় পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ এখন মুখোমুখি হবে পিএসজি-র।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে রায়ো ভায়েকানো। এই জয়ের অন্যতম নায়ক মরক্কান তারকা ইলিয়াস আখোমাচ মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এখন আলোচনার তুঙ্গে তার অদম্য মানসিকতার জন্য। সম্প্রতি স্পেন বনাম মিশর ম্যাচে তার উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসা ইসলামোফোবিক স্লোগান নিয়ে মুখ খুলেছেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'এল লারগুয়েরো'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখোমাচ জানান, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা "মুসলিম হলে লাফাও" শীর্ষক বিদ্বেষমূলক স্লোগানগুলো তার কানেও পৌঁছেছে। তবে এসব তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। বরং বিষয়টিকে বেশ হাস্যরসের সাথেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আখোমাচ বলেন, "আমার এক আত্মীয় আমাকে গ্যালারির কিছু ভিডিও পাঠিয়েছে। সত্যি বলতে, এর আগে আমি কখনো এমন কিছু শুনিনি। মানুষ কেন এমন করে আমি জানি না, তবে আমি এসবে একদমই পরোয়া করি না। কেউ যদি সরাসরি আমার সামনে এসে এই কথা বলত, আমি স্রেফ হাসতাম আর বলতাম— আপনি দেখতে তো বেশ সুন্দর!" সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত অবস্থানের পাশাপাশি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মত জানান বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের সাবেক এই উইঙ্গার। তার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতেই হওয়া উচিত। এছাড়া সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যকার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে ড্রেসিংরুমের ভেতরেই সতীর্থদের সাথে মিটিয়ে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। মাঠের লড়াই আর বাইরের বিতর্ক— সব জায়গাতেই নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখছেন এই উদীয়মান তারকা।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের নাটকীয় লড়াইয়ে ইতালিকে হারিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হিসেবে মাঠের ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন একজনের নাম পুরো বলকান রাষ্ট্রজুড়ে মুখে মুখে ফিরছে— তিনি হলেন ১৪ বছর বয়সী এক ‘বল বয়’, আফান সিজমিক। ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার পেনাল্টি শ্যুটআউটের গোপন নোট সরিয়ে ফেলে এখন বসনিয়ার জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন এই কিশোর। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? গত ৩১ মার্চ জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি ও বসনিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার এই বাঁচা-মরার লড়াই গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শ্যুটআউটের ঠিক আগে ডোনারুম্মা একটি কাগজে লেখা নোট বারবার পড়ছিলেন এবং সেটি তার তোয়ালের নিচে লুকিয়ে রাখছিলেন। ওই কাগজে বসনিয়ার পেনাল্টি শ্যুটারদের শট নেওয়ার ধরন ও দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিল। মাঠের পাশেই অবস্থান করা বল বয় আফান সিজমিক বিষয়টি লক্ষ্য করেন। ডোনারুম্মা যখন পোস্টের দিকে এগিয়ে যান, আফান ক্ষিপ্র গতিতে এসে তোয়ালের নিচ থেকে সেই নোটটি তুলে নিয়ে দৌড়ে দূরে সরে যান। পরবর্তীতে শ্যুটআউট শুরু হলে ডোনারুম্মা তার নোটটি খুঁজে না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি তিনি প্রতিপক্ষ বসনিয়ান গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের নোট কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। ডোনারুম্মার এই অস্থিরতার সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগায় বসনিয়া। চারটির মধ্যে একটি পেনাল্টিও সেভ করতে পারেননি ডোনারুম্মা, অন্যদিকে ইতালি তিনটি শট মিস করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইতালি। বীরোচিত সংবর্ধনা ও মহানুভবতা ম্যাচ পরবর্তী সময়ে আফান সিজমিককে নিয়ে বসনিয়ায় উন্মাদনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন টকশো এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই কিশোর। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফান বলেন, “আমি দেখছিলাম ও বারবার কাগজে কী যেন পড়ছে। তখন মনে হলো এটি সরিয়ে ফেলা উচিত। আমি যা করেছি, ইতালিতে খেলা হলে হয়তো তাদের কোনো বল বয় আমাদের সাথে এটাই করত।” তবে কেবল মাঠের চালাকি নয়, আফান তার মহানুভবতা দিয়েও মানুষের মন জয় করেছেন। ঐতিহাসিক সেই চিরকুটটি তিনি একটি প্লাস্টিক কভারে যত্ন করে রেখেছেন এবং জানিয়েছেন এটি নিলামে তোলা হবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ আর্তমানবতার সেবায় দান করবেন তিনি। বসনিয়ার ফুটবল ভক্তরা এখন দাবি তুলেছেন, বিশ্বকাপে জাতীয় দলের সাথে আফানকেও যেন আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এনকে চেলিক ক্লাবের যুব দলের এই খেলোয়াড় স্বপ্ন দেখেন একদিন নিজেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার আগেই ‘বুদ্ধিমান’ এক বল বয় হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকি (Nike) তাদের নতুন জার্সি উন্মোচন করেছে। তবে উচ্চপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় তৈরি এই জার্সি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন অন্যরকম এক আলোচনা শুরু হয়েছে। নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক টেকনোলজির কথা বলা হলেও, খেলোয়াড়দের কাঁধের অংশে একটি অদ্ভুত ত্রুটি বা 'বুলজ' (উঁচু হয়ে থাকা অংশ) দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে যখন নাইকি যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং উরুগুয়ের মতো দেশগুলোর জার্সি সামনে আনে, তখন ভক্তরা সেটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিরতিতে খেলোয়াড়রা যখন প্রথমবারের মতো এই জার্সি পরে মাঠে নামেন, তখন কাঁধের সেলাইয়ের অংশে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য ধরা পড়ে। বিশেষ করে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উরুগুয়ের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জার্সিতে এই সমস্যাটি সবচেয়ে প্রকটভাবে দেখা গেছে। জার্সির কাঁধের সেলাইগুলো এমনভাবে ফুলে ছিল যে, অনেক সমর্থক একে জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ 'টিনএজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস'-এর ভিলেন 'শ্রেডার'-এর বর্মের সাথে তুলনা করছেন। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কানাডার এক ভক্ত রেডিতে (Reddit) লিখেছেন, "এটি একটি অত্যন্ত নিম্নমানের ডিজাইন। আমি প্রায় ২০০ ডলার দিয়ে জার্সি কিনেছি, কিন্তু কাঁধের এই বিশ্রী সেলাইয়ের কারণে এটি পরলে অদ্ভুত লাগে।" কেউ কেউ আবার আয়রন বা স্টিমার ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নাইকি তাদের এই নতুন জার্সিতে 'Aero-FIT' প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং কম্পিউটেশনাল ডিজাইনের মাধ্যমে তৈরি। উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের শরীর ঠান্ডা রাখাই ছিল এই ডিজাইনের মূল লক্ষ্য। তবে পারফরম্যান্স ঠিক থাকলেও এর বাহ্যিক রূপ বা 'অ্যাস্থেটিক' যে মানসম্মত হয়নি, তা স্বীকার করে নিয়েছে খোদ নাইকি। গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাইকি কর্তৃপক্ষ জানায়, "সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতির সময় আমরা জাতীয় দলের জার্সিতে, বিশেষ করে কাঁধের সেলাইয়ের অংশে একটি ছোট সমস্যা লক্ষ্য করেছি। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে এটি কোনো প্রভাব না ফেললেও, এর দৃশ্যমান সৌন্দর্য আমাদের নির্ধারিত মানের নিচে রয়েছে।" বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যে কয়েক লাখ জার্সি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় নকশা পরিবর্তন বা বাজার থেকে জার্সি ফিরিয়ে নেওয়া নাইকির জন্য একটি বিশাল লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছে যাতে খেলোয়াড় এবং ভক্তরা বিশ্বকাপের গর্বিত অংশ হতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম আধুনিক এই আসরে নাইকির মতো বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডের এমন 'ডিজাইন বিভ্রাট' ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ব্রাজিল ফুটবলে কার্লো আন্সেলোত্তি অধ্যায়ের মেয়াদ বাড়ছে আরও কয়েক বছর। ২০২৬ বিশ্বকাপ তো বটেই, ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডের ওপর ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আস্থা রাখছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। একটি নামী স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আন্সেলোত্তির কোচিং দর্শনে মুগ্ধ হয়ে সিবিএফ তাকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে এবং শর্তাদিও প্রায় চূড়ান্ত। গত বছরের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে সেলেকাওদের দায়িত্ব নেন 'ডন কার্লে'। শুরুতে দল কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও আন্সেলোত্তির জাদুতে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট। তার এই সাফল্যে খুশি হয়েই বছরে ১ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ২০৩০ পর্যন্ত তাকে রেখে দিচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে ট্রফি খরা কাটেনি ব্রাজিলের। সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে আন্সেলোত্তি এখনই তার মহাপরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। আগামী মে মাসে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করবেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, ১১ জন খেলোয়াড়কে তিনি ইতিমধ্যে তার মূল পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন— গোলকিপার অ্যালিসন বেকার; রক্ষণভাগে মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াঁইস; মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস ও কাসেমিরো। আর আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এস্তেভাও, রদ্রিগো, ম্যাথেউস কুনিয়া এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। বিশ্বজয়ের এই মিশনে আন্সেলোত্তির হাত ধরে ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি ফুটবল প্রেমী।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।