ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি কোটি মানুষের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা ও পরিচয়ের অংশ। তাই প্রিয় দল হারলে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সমর্থক ম্যাচের পর হতাশ হয়ে পড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন বা দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ের কষ্ট বয়ে বেড়ান।
১. কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক, সেটি মেনে নিন
প্রিয় দল হারার পর মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে কিছুটা সময় দিন। আবেগকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
২. মনে রাখুন, ফুটবল একটি খেলা
জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। বিশ্বের সেরা দলগুলোও নিয়মিত হার-জিতের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়। একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এ কথা মনে রাখুন।
৩. কিছু সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন
পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ বা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের মন্তব্য চোখে পড়তে পারে। এসব বিষয় মন আরও খারাপ করতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া ভালো।
৪. বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান
মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষদের সঙ্গ অনেক স্বস্তি দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে হতাশা কমে এবং মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে।
৫. ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন
হার মানেই সবকিছু খারাপ ছিল না। ম্যাচে দলের ভালো কিছু মুহূর্ত, খেলোয়াড়দের চেষ্টা বা লড়াইয়ের মানসিকতা মনে করার চেষ্টা করুন। এতে হতাশার পরিবর্তে আশাবাদ তৈরি হয়।
৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন
সিনেমা দেখা, বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় কাটান। নতুন কাজে মনোযোগ দিলে পরাজয়ের কষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে।
৭. সামনে নতুন ম্যাচের অপেক্ষা করুন
একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই মৌসুম শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।
ফুটবলের আসল আনন্দ কোথায়?
ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, গোলের আনন্দে উল্লাস করা কিংবা কঠিন সময়ে দলকে সমর্থন করাও এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই নিঃস্বার্থ সমর্থনই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
খেলাধুলা
View moreদীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে তাদের বহু প্রতীক্ষিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *দ্য সান* জানিয়েছে, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে রোনালদোর জন্মশহর ফুঞ্চালের ঐতিহাসিক ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় সময় বিকেলে এই আয়োজন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনা ও ভোজের আয়োজন করা হবে মাদেইরার পাঁচ তারকা ‘সাভয় প্যালেস’ হোটেলে। হোটেল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের আয়োজনের কারণে আগামী শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা সাধারণ অতিথিদের জন্য বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি বারসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা শুধুমাত্র বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের ঐতিহাসিক রেনেসাঁ যুগের এস্টেট ‘কুইনতা দা রেগালেইরা’য় বসবে এই তারকা জুটির বিয়ের আসর। তবে চলতি সপ্তাহে ওই স্থাপনাটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর থেকে তারা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং তাদের পরিবারে কয়েকটি সন্তানও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক মুহূর্ত নিয়মিত ভাগ করে নিলেও আনুষ্ঠানিক বিয়ে নিয়ে এতদিন কোনো ঘোষণা দেননি এই তারকা জুটি। ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়া রোনালদো এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে আলোচিত এই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিণতি দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্ত।
বিশ্বমঞ্চে ফেন্সিংয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে ৭৫ বছর পর ব্রোঞ্জ জয় মিশরের
ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন হলে বিশ্বকাপ খেলবে না ইউরোপের ৫৫ দেশ
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি
ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও নেদারল্যান্ডসের ফরচুনা সিতার্দের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও সংঘাত সামাল দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় তীব্র আঘাত পান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, আঘাতের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা বা 'কনকাশনে' আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার (২৫ জুলাই) ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় ফরবাখ শহরের শ্লসবের্গ স্টেডিয়ামে নতুন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ। খেলার মাঠে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ২৬ বছর বয়সী সহকারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে এক অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। জার্সি টানাটানিকে কেন্দ্র করে উভয় দলের দুজন খেলোয়াড় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নিমেষের মধ্যেই সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। মাঠে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে যান মাথিলদে দেমোঁসে। তবে খেলোয়াড়দের প্রবল ঠেলাঠেলির মাঝে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শক্ত মাটিতে সজোরে আছড়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, মাঠের যে স্থানটিতে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও রেফারির পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, ঠিক তার পাশেই বড় অক্ষরে লেখা ছিল "রেফারিকে সম্মান করুন"। ঘটনার পর কয়েক মিনিট দেমোঁসে মাঠেই নিথর হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের হাত চেপে ধরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে মূল রেফারি, অন্য সহকারী রেফারি, ক্লাবের চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। সামান্য সুস্থ বোধ করলে খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং ২৬ বছর বয়সী এই রেফারি সাময়িকভাবে লাইনে ফিরে নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। তবে প্রথমার্ধের বিরতির সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য একজন কর্মকর্তা সহকারী রেফারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার 'কনকাশন' ধরা পড়ে। ম্যাচটিতে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ম্যাচ প্রতিবেদনে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটিকে 'ব্যতিক্রমী এক মুহূর্ত' হিসেবে উল্লেখ করলেও কোনো বাড়তি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব মেৎজ তাদের প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিই এড়িয়ে গেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের এমন অপেশাদার আচরণ ও ম্যাচ অফিশিয়ালের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা চলছে।
বিশ্বকাপের শোতে বিটিএস, জাস্টিন বিবারসহ তারকারা কত পারিশ্রমিক পেলেন!
থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!
মাঠে গোল উদযাপন করতে গিয়ে সেজদা দেওয়ায় মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার স্পেনের ফুটবলার লামিন ইয়ামাল
সৌদি আরব ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে এমন একাধিক অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা আধুনিক স্থাপত্যের নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো নিওম (NEOM) শহরের জন্য পরিকল্পিত একটি ভবিষ্যতধর্মী স্টেডিয়াম, যা ‘স্কাই স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওম অঞ্চলে একটি বিশেষ নকশার স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির উচ্চাভিলাষী নিওম স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অংশ, যেখানে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নিওম স্টেডিয়ামটি ‘দ্য লাইন’ নামে পরিচিত সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ নগর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার উচ্চতায় নির্মিত হওয়ার ধারণা সামনে এসেছে এবং এতে প্রায় ৪৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নিওম প্রকল্প সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অন্যতম বড় অংশ। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই দেশটি এই ধরনের বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আকাশে ভাসমান স্টেডিয়াম’-এর কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কাল্পনিক ছবি, যা বাস্তব নির্মাণ পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সৌদি আরবের প্রকৃত পরিকল্পনায় নিওমে একটি বিশ্বকাপ ভেন্যুর কথা থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিশাল আকাশে ঝুলে থাকা স্টেডিয়ামের দৃশ্যগুলোকে বাস্তব নকশা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরব মোট ১৫টি স্টেডিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রিয়াদে নির্মাণাধীন কিং সালমান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম অন্যতম বড় প্রকল্প, যার ধারণক্ষমতা ৯২ হাজারের বেশি হতে পারে এবং এটি উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে পরিকল্পনায় রয়েছে। সৌদি আরবের এই বিশাল ক্রীড়া অবকাঠামো পরিকল্পনা দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পরিবর্তনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় আকারের ক্রীড়া বিনিয়োগ নিয়ে মানবাধিকার ও ব্যয়ের বিষয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সৌদি আরবের এই প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রীড়া অবকাঠামোর চিত্রকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। তবে পরিকল্পনাগুলোর কতটা বাস্তব রূপ পাবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরের নির্মাণ অগ্রগতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
বিশ্বকাপের পর মুখের সার্জারি করালেন ব্রাজিল ফুটবল তারকা ভিনিসিউস
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারলেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের