আমেরিকা

আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:৪৪
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা—ফুটবল, ট্যাঙ্গো নৃত্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে অনেকের অজানা, লাতিন আমেরিকায় মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ আজ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের অন্যতম বড় আবাসস্থল হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে।

 

ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমরা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের আশায় এখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের হাত ধরেই মুসলিম সমাজ আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত হয়ে ওঠে।

 

দেশটিতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ মূলত শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদকে আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে গড়ে ওঠে ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে গ্রন্থাগার, শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্মুক্ত পার্ক—যা মুসলিম সমাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

 

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়। নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ঐতিহ্যগত ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় মানসম্মত ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণার অভাব এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার ঘাটতি ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

 

তারপরও দীর্ঘ শতকের অভিজ্ঞতা, শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে এখনো দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ আরও সুসংহতভাবে বিকশিত হবে এবং আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মুসলমানদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা—ফুটবল, ট্যাঙ্গো নৃত্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে অনেকের অজানা, লাতিন আমেরিকায় মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ আজ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের অন্যতম বড় আবাসস্থল হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে।   ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমরা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের আশায় এখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের হাত ধরেই মুসলিম সমাজ আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত হয়ে ওঠে।   দেশটিতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ মূলত শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদকে আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে গড়ে ওঠে ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে গ্রন্থাগার, শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্মুক্ত পার্ক—যা মুসলিম সমাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়। নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ঐতিহ্যগত ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় মানসম্মত ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণার অভাব এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার ঘাটতি ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।   তারপরও দীর্ঘ শতকের অভিজ্ঞতা, শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে এখনো দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ আরও সুসংহতভাবে বিকশিত হবে এবং আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মুসলমানদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:৪৪
ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনারের সিনেট দৌড়ের ইতি

ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনারের সিনেট দৌড়ের ইতি, ১১ মিনিটের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি’—ট্রাম্প

টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের

টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের, পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা

হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো উদ্যোগ নিলে ইরানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।   ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। “এটাই চূড়ান্ত অবস্থান,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে একটি সমঝোতা হয়েছিল, যার মূল শর্ত ছিল—ইরান যদি জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে। কিন্তু সেই শর্ত মানা না হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   সাম্প্রতিক একটি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স বলেন, ইরান চাইলে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে। অন্যথায়, তারা সাম্প্রতিক ঘটনার মতোই কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। তার ভাষায়, যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হচ্ছে এবং জাহাজে হামলা বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।   বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজগুলোর বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১:৩৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘ইরানের হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’—ট্রাম্পের দাবি

টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জিনা হিনোজোসা( সংগৃহীত)

নির্বাচিত হলে টেক্সাসের প্রতিটি পরিবারকে ১,৫০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ সেনা

ছবি: ক্যানসার আক্রান্ত ১৭ বছর বয়সী সাহারা মোরকুয়েচো (বামে) ও তার বোন কালিনা মোরকুয়েচো (সংগৃহীত)
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ বছরের কিশোরীর ক্যানসার অপারেশন চলাকালেই হাসপাতাল কক্ষ থেকে উধাও পার্স-গয়না

ক্যালিফোর্নিয়া, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। ঘটনাটি তদন্ত করছে সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ।   ভুক্তভোগী সাহারা মোরকুয়েচো স্টেজ-৪ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত। সম্প্রতি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের হিলক্রেস্ট মেডিকেল সেন্টারে তার অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের কক্ষ থেকে পার্স, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র, নগদ অর্থ, গয়না, এয়ারপডস এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু স্মৃতিবিজড়িত ছবি চুরি হয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।   সাহারার বোন কালিনা মোরকুয়েচো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচার শেষে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘটনা প্রতিবেদন করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।   পরিবারের দাবি, পরে সাহারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হলে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান সান দিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ।   পরিবার আরও জানায়, অনুসন্ধানের সময় তারা জানতে পারেন, যে ঠিকানায় এয়ারপডসের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে সেখানে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের কর্মী। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।   ইউসি সান দিয়েগো হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে গোপনীয়তা আইন এবং চলমান তদন্তের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   সান দিয়েগো পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়া অর্থ বা গয়নার চেয়েও তাদের কাছে বেশি মূল্যবান ছিল সাহারার প্রয়াত বাবার স্মৃতিবিজড়িত ছবিগুলো। সেগুলো উদ্ধার হওয়াই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:১৭
দাদির ওপর হামলার ঘটনায় দণ্ডিত জর্ডান এলিংটন। ছবি: সংগৃহীত

৭৭ বছরের দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে হামলা, মিশিগানের যুবকের কারাদণ্ড

আয়রন লাংয়ের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পোলিও জীবিত মার্থা অ্যান লিলার্ড। ছবি: সংগৃহীত

৭৩ বছর ‘আয়রন লাং’-এর সহায়তায় বেঁচে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পোলিও রোগীর মৃত্যু

ছবি: অভিযুক্ত ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা(সংগৃহীত)

মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবারের কাছে ৪ লাখ ডলার দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ

0 Comments