বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখেই ৫০ হাজার ডলার পাচ্ছেন দুই ফুটবল ভক্ত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে।
নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ।
কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে।
কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।”
ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।
বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়।
তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন।
এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য।
ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ।
তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে।
তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
খেলাধুলা
View moreবিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শেষ পর্যন্ত শনিবার আর্জেন্টিনার রোজারিওতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ নিজ শহরে পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সময়ে লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে গোল করে সেই গোল মেসিকে উৎসর্গ করেছেন তার সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো ডি পল। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে, রাত ২টার দিকে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল থেকে উড়ে এসে শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিও বিমানবন্দরে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান। বিমানবন্দর থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তারা রোজারিওর পাশের শহর পেরেজে যান, যেখানে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কবরস্থানের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। তারা মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং এই কঠিন সময়ে মানসিক সমর্থন জানাতেই সেখানে উপস্থিত হন। লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হোর্হে মেসি ছিলেন তার অন্যতম বড় সমর্থক ও অভিভাবক। অনেক সময় তিনি ছেলের প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফুটবলজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও হোর্হের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বাবার মৃত্যুর কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ থেকে মেসিকে অব্যাহতি দেয় ক্লাব। শেষকৃত্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানা গেছে। ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা 'ফোর্সা, লিও' অর্থাৎ 'শক্ত থাকো, লিও' লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে মেসির প্রতি সমর্থন জানান। ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে গোল উদযাপনের সময় তিনি জার্সি খুলে ভেতরে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি গোলটি শোকাহত বন্ধু ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে উৎসর্গ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইন্টার মায়ামি। হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব, খেলোয়াড় ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল এবং নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি
বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস হলো এফবিআইয়ের গোপন নিরাপত্তা নথি
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিল মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা
পোল্যান্ডের অলিম্পিক জ্যাভেলিন থ্রোয়ার মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজের টোকিও অলিম্পিকের রুপার পদক নিলামে তুলে এক অচেনা শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছিলেন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত আট মাস বয়সী মিওশেক মালিশার অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহে এই পদক্ষেপ নেন তিনি। ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া এই মানবিক উদ্যোগটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। টোকিও অলিম্পিকে নারীদের জ্যাভেলিন থ্রো ইভেন্টে রুপার পদক জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মারিয়া জানতে পারেন, পোল্যান্ডের এক শিশু বিরল হৃদরোগে ভুগছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে অস্ত্রোপচারের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এরপর তিনি নিজের জীবনের প্রথম অলিম্পিক পদক নিলামে তোলার ঘোষণা দেন। নিলামে পোল্যান্ডের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঝাবকা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারে পদকটি কিনে নেয়। তবে মানবিক এই উদ্যোগকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধের পর পদকটি আবার মারিয়া আন্দ্রেইচিকের কাছেই ফিরিয়ে দেয়। ফলে শিশুটির চিকিৎসার অর্থও জোগাড় হয়, আবার অলিম্পিক পদকটিও নিজের কাছেই রাখতে পারেন এই অ্যাথলেট। মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজেও জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। তিনি হাড়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে আসেন। পরে তিনি বলেন, একটি পদক আলমারিতে পড়ে থাকার চেয়ে যদি কারও জীবন বাঁচাতে পারে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। মারিয়ার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকের মতে, অলিম্পিক পদক একজন ক্রীড়াবিদের বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতীক হলেও, অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য সেই পদক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
রেসলিংকে বিদায় বললেন ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার
সাঁতরে স্পেন যাওয়ার পথে মরক্কোর নারী ফুটবলারের মৃত্যু
অবশেষে বিয়ে করছেন রোনালদো! চূড়ান্ত বিয়ের দিনক্ষণ
হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মিশর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩৯-৩৮ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ব ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্টে ৭৫ বছর পর পদকের দেখা পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একপর্যায়ে স্কোর ৩৮-৩৮ সমতায় পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘গোল্ডেন টাচ’-এ নির্ণায়ক পয়েন্ট এনে মিশরকে ৩৯-৩৮ ব্যবধানে জয় উপহার দেন দেশটির তারকা ফেন্সার মোহাম্মদ এল-সায়েদ। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে পদক জিতল মিশর। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর এমন সাফল্য দেশটির ফেন্সিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ এল-সায়েদ ও তার সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত উদযাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরীয় খেলোয়াড়রা আবেগঘন উদযাপনে মেতে ওঠেন। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে ম্যাচ শেষে এল-সায়েদ ইসরায়েলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ফেডারেশন (এফআইই) বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হংকংয়ে ২২ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের শীর্ষ ফেন্সাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করে হংকং, যেখানে ব্যক্তিগত ও দলগত—উভয় বিভাগেই পদকের জন্য লড়েছেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফেন্সিংয়ে মিশরের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফেন্সাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এবার দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়ল মিশর।
ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন হলে বিশ্বকাপ খেলবে না ইউরোপের ৫৫ দেশ
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি