- প্রচ্ছদ
- Topic
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড বুক আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। ক্যারিয়ার জুড়ে গোল উৎসবের পাশাপাশি পেনাল্টি স্পট থেকে তাঁর নিখুঁত লক্ষ্যভেদ সবসময়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা ভালোবেসে বা কটাক্ষ করে তাঁকে 'পেনাল্ডো' ডাকলেও, ১২ গজের এই চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে যে সিআরসেভেন-ই আসল রাজা, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, রোনালদোর ক্যারিয়ারের বড় বড় সব মাইলফলকের প্রথম গোলটি এসেছে পেনাল্টি থেকেই! বর্তমানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সর্বমোট অফিসিয়াল ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৭৬টি। ১,০০০ গোলের এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পথে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা আর মাত্র ২৪টি গোল দূরে রয়েছেন। পর্তুগিজ মহানায়কের ক্যারিয়ারের সেই ৫টি ঐতিহাসিক 'প্রথম' পেনাল্টি গোল, যা তাঁর এই বিশাল গোলের রাজত্বে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে: ১. রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগায় প্রথম গোল: ২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ২৯ আগস্ট দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে রোনালদোর লা লিগা অভিষেক হয়। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি। ২. ইউরোপা লিগে প্রথম গোল: ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রাজত্ব করলেও ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলতে হয়েছিল তাঁকে। ১৫ সেপ্টেম্বর শেরিফ তিরাস্পোলের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন সিআরসেভেন। এটিই ছিল ইউরোপা লিগের ইতিহাসে তাঁর প্রথম গোল। ৩. আল নাসরের হয়ে প্রথম গোল: ইউরোপের অধ্যায় চুকিয়ে ২০২৩ সালের শুরুতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে পাড়ি জমান রোনালদো। ৩ ফেব্রুয়ারি আল-ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৩ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচান এবং এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি উদযাপন করেন। ৪. বিশ্বকাপে প্রথম গোল: ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে তরুণ রোনালদো নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি পেয়েছিলেন। ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যা ছিল বিশ্বমঞ্চে তাঁর সুদীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। ৫. বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোল: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার দীর্ঘ খরা অবশেষে কেটেছে রোনালদোর। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৬৮ মিনিটে ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ৪১ বছর বয়সে এসে করা এই গোলটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। সমালোচকরা পেনাল্টি নিয়ে যতই কথা বলুক না কেন, চাপের মুখে ১২ গজ দূর থেকে নার্ভ ঠিক রেখে বল জালে জড়ানো যে সবার কাজ নয়, তা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের প্রতিটি বড় বাঁকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা এবার মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে সরাসরি মহাকাশে পৌঁছে গেছে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র যদি চলতি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে তাদের ব্যবহৃত একটি অফিশিয়াল ফুটবল চাঁদে পাঠাবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী ‘এল’একিপ’ ও বার্তা সংস্থা এএফপির এক যৌথ প্রতিবেদনে এই রোমাঞ্চকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন নাসার বর্তমান প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মার্কিন ফুটবল দলের প্রতি বিশেষ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান দল, তোমরা এবার এটা করে দেখাও!’ আইজ্যাকম্যানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শিরোপা জিতলে সেই স্মরণীয় জয়কে অমর করে রাখতে নাসার আগামী কোনো রোবটিক চন্দ্রাভিযানে ফুটবলটি চাঁদের মাটিতে পাঠানো হবে। নাসার চন্দ্রাভিযান প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কার্লোস গার্সিয়া-গালান এই অভিযানের কারিগরি দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগতভাবে এই লক্ষ্য পূরণ করা নাসার জন্য মোটেও কঠিন কিছু নয়। ফুটবলটি ওজনে খুবই হালকা হওয়ায় মহাকাশযানের ভলিউম বা জায়গা নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাথে ফুটবলটি পাঠানোর সব প্রস্তুতি রয়েছে, এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মাঠের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর। মহাকাশের সাথে ফুটবল বিশ্বকাপের যুক্ত হওয়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল প্রচারণার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) একটি অফিশিয়াল ফুটবল পাঠিয়েছিল নাসা। তবে এবার মহাকাশ স্টেশন ছাড়িয়ে সেই ফুটবলকে সরাসরি চাঁদের ধূলিকণায় ছুঁইয়ে দেওয়ার এক অভিনব স্বপ্ন দেখছে মার্কিন এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। নাসার এই বড় ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন ফুটবল দলের ওপর প্রত্যাশা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তবে মাঠের বাইরে মহাকাশীয় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা এখন পুরোপুরি মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগী। চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল ভোর ৬টায় রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বসনিয়ার মুখোমুখি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশটির সেবা খাতের কর্মীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য আর্থিক আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। দেশটির বোস্টন শহরের এক নারী বারটেন্ডার মাত্র একটি দিনের শিফটে কাজ করে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার বকশিশ বা টিপস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় এটি অনেক গুণ বেশি অর্থ। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের ভিড়ের কারণে বারের সাধারণ একটি দিনের শিফট কীভাবে বিপুল আয়ের সুযোগে পরিণত হয়েছে, সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ক্যালে ম্যাটুলোনিস নামের ওই তরুণী বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শক এখন বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন সকালের শেষভাগ থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত ঘণ্টা তিনি একটানা কাজ করেন। ক্যালে ম্যাটুলোনিস সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, "আজ কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি ছিল অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের একটি দিন, তবে একই সাথে এটি বেশ মজাদারও ছিল।" একটি মাত্র কর্মদিবসে বকশিশ বা টিপস থেকে এত বিশাল পরিমাণ টাকা আয় করাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন ক্যালে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেছি। দিনে এক হাজার ডলার আয় করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।" বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বারে বেচাকেনা এবং গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি আগে থেকে ধারণা করলেও, আয়ের পরিমাণ যে এতটা আকাশচুম্বী হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি তাকে বেশ চমকে দিয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন আয়োজক শহরগুলোর বার, রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আনাগোনা এবং ভিড় অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা দেখা, বন্ধুদের বড় দল নিয়ে টেবিল বুকিং করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খরচ করার প্রবণতার কারণেই মূলত বারের কর্মীরা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বকশিশ বা টিপস পেয়ে থাকেন। ক্যালের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে। চলতি সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের বিপুল সংখ্যক ফুটবল সমর্থক বোস্টন শহরজুড়ে অবস্থান করছেন। ক্যালের বারে আসা গ্রাহকদের একটি বড় অংশই ছিল স্কটিশ নাগরিক। ক্যালে জানান, সেই নির্দিষ্ট দিনে তার মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক টাকাই এসেছে এই স্কটিশ সমর্থকদের পকেট থেকে। সাধারণত যেসব দেশে বকশিশ বা টিপস দেওয়ার নিয়ম নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে বিশ্বকাপের এই ব্যস্ত সময়ে বিলের সাথে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করার অনুমতি দিয়েছিল বারের মালিকপক্ষ। তবে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা সেই নির্ধারিত বিলের বাইরেও অত্যন্ত উদারভাবে আলাদা করে ক্যালেকে মোটা অঙ্কের বকশিশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই ফুটবল ভক্তদের উদারতা ও চমৎকার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ক্যালে ম্যাটুলোনিস এখন তাদের দেশের ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে গেছেন। তিনি আনন্দের সাথে জানান, যেহেতু ওই দিন আগত গ্রাহকদের বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন এবং তারা তাকে মন খুলে বকশিশ দিয়েছেন, তাই তিনি এখন মনেপ্রাণে ফুটবল মাঠে স্কটল্যান্ড দলের জয় কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আমেরিকার সাধারণ চাকরিজীবী ও সেবা খাতের কর্মীদের জীবনে যে এমন দারুণ অর্থনৈতিক জোয়ার নিয়ে আসবে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লাখ লাখ বিদেশি ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আমেরিকার একটি জনপ্রিয় সালাদ ড্রেসিং বা সস নিয়ে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ‘র্যাঞ্চ ড্রেসিং’ (Ranch Dressing) নামের এই সসটির স্বাদ পেয়ে বিদেশি পর্যটকেরা এতটাই দিওয়ানা হয়েছেন যে, দেশে ফেরার সময় তারা দলে দলে এই সসের বোতল ব্যাগে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তাতেই বিপাকে পড়েছে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (TSA) আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। টিএসএ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রিয় র্যাঞ্চ সসের বোতল কোনোভাবেই বিমানের ‘ক্যারিয়ন’ বা হাতের ব্যাগে নেওয়া যাবে না। নিয়মানুযায়ী বিমানে হাতের ব্যাগে ৩.৪ আউন্সের বেশি তরল বহন করা নিষেধ। তাই কেউ যদি এই সস দেশে নিয়ে যেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই সেটি বুকিং লাগেজ বা ‘চেকড ব্যাগে’ প্যাক করতে হবে। গত ১৬ জুন নিজেদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই সসের বোতলের ছবি শেয়ার করে টিএসএ রসিকতা করে লেখে, "আপনারা যারা একটি বিশাল ক্রীড়া ইভেন্ট উপভোগ করতে এসেছেন এবং এখানে এসে র্যাঞ্চ সসের সন্ধান পেয়েছেন... দয়া করে বাড়ি ফেরার সময় এটি আপনাদের চেকড ব্যাগে রাখুন।" রসিকতা করে তারা আরও যোগ করে, "বিমানবন্দরে র্যাঞ্চ সস নিয়ে শেষ ঝামেলা হওয়ার পর পার হওয়া দিন: ০।" সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ইউরোপীয় ভক্ত লিখেছেন, "আমাকে আগে কেউ কেন বলেনি যে র্যাঞ্চ সস আসক্তির মতো? ইউরোপে আমাদের দ্রুত র্যাঞ্চ সস দরকার!" ইউরোপের অনেক দেশেই এই সসটি সচরাচর পাওয়া যায় না শুনে অনেক মার্কিন নাগরিকও অবাক হয়েছেন। বিশ্বকাপের সুবাদে বিদেশি দর্শনার্থীরা কেবল আমেরিকান খাবারই নয়, এখানকার সংস্কৃতিকেও বেশ উপভোগ করছেন। এই যেমন চলতি সপ্তাহে বস্টনের এসকেলেটরে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ভক্তদের ঐতিহ্যবাহী 'ভাইকিং রোয়িং' (নৌকা বাইচের মতো অঙ্গভঙ্গি) করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া বস্টনের স্থানীয় বারগুলোতে স্কটিশ ফুটবল ভক্তদের তুমুল ভিড় ও বিয়ারের রেকর্ড চাহিদার কথাও জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী তেল অবরোধের কারণে যখন কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির জনগণের বড় একটি অংশ আশা করছে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হয়তো তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবে অথবা অন্ততপক্ষে আগামী ১৯ জুলাই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তি দেবে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাবের মুখে কিউবানরা এখন বিশ্বকাপকে তাদের এক ধরনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত কিউবার সাবেক রাষ্ট্রদূত কার্লোস আলজুগারে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, “বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে কিউবায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের খুবই কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে কিউবা ড্রোন বা অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার বহু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। যা এই বিশ্বমঞ্চের আয়োজনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ম্যাচসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা কিউবার উত্তর উপকূল থেকে মাত্র ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত মার্কিন শহর মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডসহ মোট আটটি দেশের ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও এই ফ্লোরিডাতেই অবস্থিত। আগামী ১৫ জুন মিয়ামিতে উরুগুয়ে বনাম সৌদি আরবের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যা দেখতে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল অনুরাগী ইতিমধ্যেই ওই শহরে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর নজর যেখানে এই অঞ্চলের দিকে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই ধারণা করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে কিউবার ওপর মার্কিন চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা নথির বরাতে জানা গেছে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার রাশিয়া ও ইরান থেকে প্রায় ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোনের পাল্লা ১,৫০০ মাইল পর্যন্ত। এই রিপোর্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গুয়ান্তানামো বে সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন যে, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে এমন অস্ত্র সংগ্রহ করা কিউবা সরকারের জন্য মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এর জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন সামরিক হামলার পরিণতি হবে এক ‘ভয়াবহ রক্তগঙ্গা’। বর্তমানে কিউবার ভেতরের পরিস্থিতি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাজধানী হাভানায় বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এই জনঅসন্তোষের মাঝেই মার্কিন নজরদারি বিমান দ্বীপটির ওপর চক্কর কাটছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস নিমিটজ কিউবার পশ্চিম উপকূলে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মাঝে হাভানার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা কার্লোস বুস্তামান্তে অবশ্য কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, “বিশ্বকাপের সময়েই কিউবায় আক্রমণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপযুক্ত সময়। কারণ এই বিশ্ব কিউবার চেয়ে ফুটবলকে অনেক বেশি ভালোবাসে এবং পরোয়া করে।”
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়। তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে। এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।
দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং 'দাই দাই'-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি। এবারের গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়। বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা ভিডিওটির একটি টিজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন শাকিরা। ভিডিওটিতে এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে একদল নৃত্যশিল্পীকে পারফর্ম করতে দেখা যায়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভিডিওতে শাকিরার আগের গাওয়া গানগুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলগুলো রাখা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন এই ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের ছন্দের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন ঘটিয়েছেন শাকিরা ও বার্না বয়। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ থিম সংটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে জার্মানিতে 'হিপস ডোন্ট লাই', ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী 'ওয়াকা ওয়াকা' এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে 'লা লা লা' গেয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন শাকিরা। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আসর শুরুর আগে শাকিরার এই গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন। ১৪ মে গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বকাপের বৈশ্বিক উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।