- প্রচ্ছদ
- Topic
ফেডারেল রিজার্ভ
তিন বছর পর আবারও নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বুধবার সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৩ সালের পর এটিই ফেডের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। ফেডের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব। এসব বিষয় মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু পর্যায়ে রাখার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে ফেডের কর্মকর্তারা মনে করছেন। ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। তবে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু জ্বালানি বা আমদানি ব্যয়ের সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বিস্তৃত হচ্ছে। ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসে আরও সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিতও রয়েছে। ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছর অন্তত আরও এক দফা সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে সুদহার স্থিতিশীল রাখার এবং পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ সরকারি তথ্যও ফেডের সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগস্টে মাসিক ভিত্তিতেও ভোক্তা মূল্যসূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্য জুলাইয়ের তুলনায় ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি। আগস্টে জ্বালানির দাম মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দামও এক বছরে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ফেডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। ইরানকে ঘিরে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়েছে। এর একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি দামের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি মূল্যও বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফেডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনায় এসেছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। বুধবার ফেড সুদহার বাড়ানোর পর তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কম সুদহার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নীতিগত অবস্থানের পার্থক্যও এখন আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঋণের ব্যয় কমানোর জন্য কম সুদহার চান। অন্যদিকে ফেডের বর্তমান নেতৃত্বের প্রধান উদ্বেগ মূল্যস্ফীতিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা। সুদহার বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ, ব্যবসায়িক ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বেশি সুদহার মানুষের ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত সময় ধরে সুদহার উঁচু থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির কিছু সূচক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। আগস্টে দেশটির খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এই তথ্য থেকে অর্থনীতিতে ভোক্তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফেডের নতুন পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ধীরে কমে ২০২৯ সালের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও দীর্ঘ সময় কঠোর নীতি ধরে রাখতে হতে পারে। ফেডের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন সুদহার বাড়লে সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং অন্যান্য দেশের মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুদের কারণে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পুঁজিপ্রবাহ, বিনিময় হার এবং ঋণের খরচেও প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, তিন বছর পর ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বড় উদ্বেগ হয়ে ওঠার বিষয়টি সামনে এনেছে। চলতি বছর আরও একবার সুদহার বাড়ানো হয় কি না এবং জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ আগামী মাসগুলোতে কতটা স্থায়ী হয়, তার ওপর ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে। সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সামাল দিতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড কর্মকর্তারা সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারেন। আগস্ট মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর ধারাবাহিক আহ্বান সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশটিতে জ্বালানির দাম সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রিপল-এ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং গ্যাসোলিনের দাম ৪ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। জনসন ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যান্ডন জুরেইক জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি এমন শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে আগামী কয়েক মাসে আরও এক-দুটি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে জ্বালানির দাম কমে আসতে পারে, যা ফেডকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সাহায্য করবে। ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। সুদের হার বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে মিশ্র প্রভাব পড়বে। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বা এপিআর (APR) এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচ কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হলেও সঞ্চয়কারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে এই সিদ্ধান্ত। উচ্চ-ফলনশীল সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সিডি (CD) থেকে সঞ্চয়কারীরা এখন আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ফেডের এই পদক্ষেপে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম, কারণ বাজার আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কয়েকদিন আগে দেশটির সুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ফেডের নীতিনির্ধারকরা চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াবেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে ফেডের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তিনি। গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকে দেখা যায়, চার মাসের মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবারের বৈঠকে ফেড তাদের সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫%-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারে। ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি যত বেশি সময় ধরে চড়া থাকবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সুদের হার বাড়ানো হলে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। টানা মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সুদের হারের কারণে মূলত অন্য দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কারও চেয়ে ফর্মুলা বেশি ভালো বুঝি এবং বিশ্বের সেরা ক্রেডিটের অধিকারী হয়েও আমরা অন্য দেশগুলোকে ধনী করছি।” নিজের মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমানো না হলে যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, ফেড সুদের হার নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শের কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ দেশের আবাসন খাতের মূল্য বৃদ্ধি, ভাড়া বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের একটি সাম্প্রতিক কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। "ইউএস লেবার অ্যান্ড হাউজিং মার্কেটস"-এর ওপর অননুমোদিত অভিবাসনের প্রভাব শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মার্চ মাসে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে, যা আইনি অভিবাসনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকেরা নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন। এই অবৈধ অভিবাসন ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী। একই সময়ে আবাসন খাতে বাড়িঘরের দাম বাড়ার পেছনেও ৩০ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে এই অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়া সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়ার খরচ বৃদ্ধির পেছনেও ২০ শতাংশ প্রভাব ফেলেছে এই একই সমস্যা। আরভিং এলাকার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বেথ ভ্যান ডুইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে আমাদের বহিষ্কারের ওপর জোর দিতে হবে। ভ্যান ডুইন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে বা তারা নিজেরাই দেশ ছেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আবাসন বাজারে দাম এখন কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ভ্যান ডুইন টেক্সাসে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এইচ-ওয়ানবি ভিসার জালিয়াতি তদন্তের জন্য প্রশাসন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্টেট সেক্রেটারির প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ভুয়া ভিসা ধারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কম বেতনের বিদেশী কর্মীদের কারণে মজুরির হার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী ৬ই আগস্ট আর্লিংটনের গ্লোব লাইফ ফিল্ডে দেশের বৃহত্তম চাকরি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান ও আধুনিক মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক অ্যালান গ্রিনস্প্যান আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। গ্রিনস্প্যানের মৃত্যুর বিষয়টি তার স্ত্রী আন্দ্রেয়া মিশেল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পারকিনসন রোগজনিত জটিলতার কারণে এই অর্থনীতিবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অ্যালান গ্রিনস্প্যান ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রেসিডেন্টের আমলে কয়েক দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নিজের সিদ্ধান্ত ও ভুল স্বীকারে সবসময় সৎ ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালান গ্রিনস্প্যানকে মার্কিন অর্থনীতির “মায়েস্ত্রো” হিসেবে অভিহিত করা হতো। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে দীর্ঘ সময়ের প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যান। ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময় পার করে বলে অর্থনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ কর্তৃক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ হঠাৎ করেই কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মাত্র এক দিনেই স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২২.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তা দ্রুত নিম্নমুখী হয়। এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসী হামলা চালিয়ে যাবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পথে রয়েছে। এই বক্তব্যে যুদ্ধ থামার আশা করা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করলে টানা চার দিনের দরবৃদ্ধির প্রবণতা থমকে যায়। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মন্দা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৫.৪ শতাংশ কমে ৭১.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় ভারতের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও, চীনের ক্রেতারা দাম আরও কমার অপেক্ষায় থাকায় সেখানে কেনাবেচায় ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলত ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নীতি অনুসরণ করছেন। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উপস্থাপনায় পাওয়েল বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রভাবে ইরান, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে—তা দেখার জন্য সময় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের নীতিগত অবস্থান এমন জায়গায় রয়েছে, যা আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তেলের দামের মতো আকস্মিক ধাক্কা সাধারণত সময়ের সঙ্গে অর্থনীতিতে শোষিত হয় এবং নীতিনির্ধারকেরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ফেডের দুই প্রধান লক্ষ্য—পূর্ণ কর্মসংস্থান ও মূল্য স্থিতিশীলতা—চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাওয়েল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে এই মাসের শুরুতে দুই দিনের নীতি বৈঠক শেষে ফেড তার ওভারনাইট বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।