ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনায় একটি দাতব্য ফটোশুটে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন মাত্র কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজ স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফুটবল বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। আর প্রায় দুই দশক পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তারা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই পুরোনো ছবিটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের উত্তরাধিকার বহনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ২০০৭ সালে ইউনিসেফ, এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। লামিনে ইয়ামালের পরিবার একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় এবং সেই সুযোগেই বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে তরুণ মেসির সঙ্গে শিশুপুত্রের ছবি তোলেন। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের বয়স মাত্র কয়েক মাস। ছবিটি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেনি। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্তও নিশ্চিত করেন, এটি কোনো সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি নয়; বরং বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত সেই দাতব্য আয়োজনেরই একটি বাস্তব মুহূর্ত। এরপর থেকেই ছবিটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন ফ্রেম হিসেবে পরিচিতি পায়। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হওয়ায় সেই ছবির তাৎপর্য আরও বেড়ে গেছে। একদিকে আছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে আছেন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি অল্প বয়সেই ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতীকী লড়াই। একসময় যে কিংবদন্তির কোলে ছিলেন ইয়ামাল, আজ সেই কিংবদন্তির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ছবি রয়েছে। তবে একটি ছবিতে একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এত সুন্দরভাবে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাই ২০০৭ সালের সেই ছবিটি এখন শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার দাবি, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা হয়েছে এবং ম্যাচে তার দলই সব দিক থেকে ভালো খেলেছে। মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু মনে হয়েছে, মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চাওয়া হচ্ছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার দল ন্যায্য বিচার পায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তীব্র প্রতিবাদ জানান। ইনজুরি সময়ে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল এবং পেনাল্টির দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশরের গোলরক্ষক কোচকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং হোসাম হাসানও সতর্কবার্তা (ইয়েলো কার্ড) পান। তবে হোসাম হাসানের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত ফিফা বা অন্য কোনো স্বাধীন সংস্থা কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে ম্যাচ-পরবর্তী কোচের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও হতাশার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তুলে ধরেছে। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে জয় পাওয়ার পর শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে।
ফিফা বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর উৎসবে মেতে উঠেছে নরওয়ে। সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীতেও। জাতীয় দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স উদযাপন করতে নরওয়ের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ পরিবেশন করেছেন। সামরিক পোশাকে তাদের এই সমন্বিত আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সবুজ পাহাড়ি ঢালে সেনাসদস্যরা সারিবদ্ধভাবে বসে একসঙ্গে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করছেন। একই ছন্দে যুদ্ধজাহাজে নৌবাহিনীর সদস্যদের অংশ নিতে দেখা যায়। বিমানবাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক বিমানের পাশে দাঁড়িয়ে এই উদ্যাপনে শামিল হন। ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকে তারা প্রাচীন ভাইকিংদের দীর্ঘ নৌযাত্রার প্রতীকী অনুকরণে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন এবং একযোগে স্লোগান তোলেন। ‘ভাইকিং রো’ এখন নরওয়ের জাতীয় উদযাপনের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শুধু আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং দেশটির ঐক্য, দলীয় চেতনা, সাহস এবং প্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একে জাতীয় গর্বের অনন্য প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নরওয়ের এই উচ্ছ্বাসের পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপের বড় এক চমক। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি। এই জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। জয়ের পরপরই দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। রাস্তাঘাট থেকে জনসমাগমস্থল—সবখানেই সমর্থকদের ঢল নামে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর থেকেই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়মিত উদযাপনের অংশ হয়ে ওঠে ‘ভাইকিং রো’। দলের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ডকে সতীর্থদের নেতৃত্ব দিয়ে এই উদযাপন করতে দেখা গেছে, যা সমর্থকদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে প্রায় ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্টেডিয়ামে খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা একসঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী উদযাপন করেছিলেন। ‘ভাইকিং রো’-তে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা একসঙ্গে বসে বা নিচু হয়ে প্রাচীন ভাইকিং জাহাজে বৈঠা চালানোর মতো ছন্দময় ভঙ্গি করেন, যা ঐক্য ও সম্মিলিত শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সড়ক, ফ্যান জোন, এমনকি চলন্ত এস্কেলেটরেও নরওয়ের সমর্থকদের এই দৃশ্য দেখা গেছে। নকআউট পর্বে ওঠার আগেই নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হাজারো প্রবাসী নরওয়েজিয়ান একসঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ পরিবেশন করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠের সাফল্যের সঙ্গে সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন নরওয়ের জাতীয় পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদযাপন শুধু একটি খেলার জয় নয়, বরং একটি জাতির ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক সিটির একটি সাবওয়ে ট্রেনে ইরানের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি নকশা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বিষয়টি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সিদ্ধান্তের ফল। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। মূলত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকার আদলে একাধিক সাবওয়ে ট্রেন সাজানো হয়েছে। ইরানের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের পতাকার নকশাও একই কর্মসূচির আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ট্রেনটিতে ইরানের পতাকার নকশা থাকলেও সেটি কোনো রাজনৈতিক সমর্থন বা নির্দিষ্ট দেশের প্রতি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়। এরপরও ট্রেনটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী মেয়র জোহরান মামদানিকে সরাসরি দায়ী করে সমালোচনা করেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন বা মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বলা হয়েছে যে মেয়র ব্যক্তিগতভাবে ইরানের পতাকার নকশাযুক্ত ট্রেন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন বা এ উদ্যোগ তার একক সিদ্ধান্ত ছিল। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর নিউইয়র্ক। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিবহন, পর্যটন ও জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চলছে। বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার লক্ষ্যেও বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের পতাকার আদলে সাজানো ট্রেনটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক একটি প্রচারণামূলক উদ্যোগ, রাজনৈতিক কোনো অবস্থান বা বার্তা নয়।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। ইতিহাস গড়ার এই জয়ের পর মাঠেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন মরক্কোর ফুটবলাররা। আবেগঘন সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল কানাডা। একের পর এক আক্রমণে মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে ফেললেও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত সেভে গোলের দেখা পায়নি সহ-আয়োজকরা। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০তম মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নিচু পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহি। এই গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় আফ্রিকার দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনি ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে দুই গোল করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি আরও একটি গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে একাধিকবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তিও গড়ে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। অন্যদিকে, শেষ হয় কানাডার স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযান। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মরক্কোর খেলোয়াড়রা। এরপর তারা মাঠেই সারিবদ্ধভাবে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগঘন এই দৃশ্য দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স। আগামী ৯ জুলাই দুই দল শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।
ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম। তাঁর অধীনে বিশ্বকাপে ১৮তম জয়ের দেখা পেয়েছে ফ্রান্স, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো কোচের সর্বোচ্চ জয়। একই ম্যাচে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। মঙ্গলবার (১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশমের কৌশল মাঠে দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেন তাঁর শিষ্যরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৫৭ বছর বয়সী দেশম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নিজের ১৮তম জয় তুলে নিলেন। এর আগে গত সপ্তাহে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শনের ১৭ জয়ের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। তবে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ায় সেই ম্যাচে ডাগআউটে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। এবার মাঠে ফিরে দলের আরেকটি জয় দেখলেন স্বচক্ষে। ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের আগে, ৪৫তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিরতির পরও আধিপত্য ধরে রাখে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪তম মিনিটে অলিসের আরেকটি রক্ষণচেরা পাস ধরে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। তাঁর জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন দিদিয়ের দেশম।
নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ উপলক্ষে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ট্রাফিকসংক্রান্ত একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। তাঁর নিয়মিত ভিডিও বার্তা ‘দ্য মর্নিং পিচ’-এ তিনি নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অত্যন্ত বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের শেষভাগ থেকে ১০০ ডিগ্রিরও বেশি হতে পারে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে এবং শুক্রবার পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর হতে পারে। গত ৩০ জুন মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল পার্কে ২০১২ সালের ১৮ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরের হিট ইমার্জেন্সি প্ল্যান কার্যকর করার ঘোষণা দেন মেয়র। বুধবার থেকে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে শত শত কুলিং সেন্টার চালু করা হবে। এসব কেন্দ্রের তালিকা ও অবস্থান শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন আগেভাগেই নিজেদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করেন। কর্মস্থল ও শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করা, কোথায় গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকা যাবে তা ঠিক করা এবং বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কিংবা যাদের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, এমন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়র বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও কর্মীদের জন্য গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করেনি, তাদের এখনই তা করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিশ্রামের জন্য শীতল স্থান, অতিরিক্ত বিরতি এবং ভারী কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ জীবন রক্ষা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেউ অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাউকে দেখা গেলে ৩১১ নম্বরে ফোন করতে হবে। আর কারও শরীরে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক ত্বক, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পেতে NOTIFYNYC লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে বার্তা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি। মেয়র জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও সুইডেন মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগম এবং তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকবে এবং সন্ধ্যায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, স্টেডিয়ামে একটি ডিসপোজেবল প্লাস্টিক পানির বোতল নেওয়ার অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি ব্যাগ অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্ধারিত আকারের হতে হবে। স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, বাস শাটলের টিকিট শেষ হয়ে গেলেও নিউ জার্সি ট্রানজিট ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের আগেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষভাবে তিনি নিউইয়র্কবাসীকে ওই দিন মিডটাউনে ব্যক্তিগত গাড়ি না আনার অনুরোধ জানান। কারণ সেখানে তীব্র যানজট এবং দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সাবওয়ে, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিডটাউনের বিভিন্ন সড়কে বাস ও শাটল চলাচলের জন্য বিশেষ লেন চালু থাকবে বলেও জানান মেয়র। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বারে খেলা উপভোগকারীদের জন্য ৯০০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ ও বারে ২৬ ডলারের বিশেষ খাবার ও পানীয় অফার চালু রয়েছে বলে জানান মেয়র। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এনওয়াইসি ট্যুরিজমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বক্তব্যের শেষ অংশে ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, জিদান একজন অসাধারণ ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রতিভা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির গর্বে পরিণত হয়েছেন। মেয়র বলেন, জিদানের উত্তরাধিকার আজও ফরাসি জাতীয় দলে বিদ্যমান। বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড়ই অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হলেও তারা সবাই ফ্রান্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন জিদানের মতো কিংবদন্তিরা। নিরাপদে বিশ্বকাপ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।
ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন মানবপাচার এবং দুর্বল বা অরক্ষিত মানুষদের শোষণ রোধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ। 'অপারেশন রেড কার্ড' নামের এই বহুমুখী অভিযানটি ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (এনসিআইএস), রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যৌন ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া, শিশু নির্যাতন এবং মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের লক্ষ্য করেই মূলত এই অভিযানটি চালানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আয়োজক দেশগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা বয়ে আনলেও, এটি মানবপাচারকারী এবং অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। চলমান এই তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের নাম ও অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের রেহোবোথের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী রিচার্ড ল্যালিয়ারকে ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালকদের প্রলোভন দেখানো এবং অশ্লীল সামগ্রী প্রেরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া রোড আইল্যান্ডের নর্থ প্রভিডেন্সের ২৭ বছর বয়সী জোশুয়া লিংকন, ক্র্যানস্টনের ২৬ বছর বয়সী জ্যাকব পালাজো, জনস্টনের ৬০ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মিকোলি, টিভারটনের ৩৮ বছর বয়সী ট্র্যাভিস শ এবং সেন্ট্রাল ফলসের ৩৮ বছর বয়সী রকি জোসেফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনতা ক্রয়, নাবালকের কাছে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচার এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অনেককেই ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো সাধারণ জনগণকে এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মানবপাচার অনেক সময়ই প্রকাশ্যে ঘটে এবং ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিয়ন্ত্রিত বা জোরজবরদস্তির শিকার হয়ে থাকেন, যার ফলে তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। মানবপাচার সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা ন্যাশনাল হিউম্যান ট্রাফিকিং হটলাইনে (১-৮৮৮-৩৭৩-৭৮৮৮) যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই হটলাইনে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে তথ্য প্রদান করা যাবে।
ফিফা বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ৮৯ বছর বয়সী চিকো মেন্ডেজের। দাদার সেই স্বপ্ন পূরণে ৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন ২৬ বছর বয়সী নাতনি পাওলা হার্নান্দেজ। কিন্তু স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে গিয়ে সেই আনন্দ রূপ নেয় চরম হতাশায়। টিকিট সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামেই ঢোকা হয়নি তাঁদের। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার একটি হোটেল থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের এই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন পাওলা। পাওলা জানান, প্রিয় দলের খেলা দেখতে ম্যাচের দিন সকালেই তাঁরা গুয়াদালাজারায় পৌঁছান এবং উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে খেলা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা আগেই জাপোপানের এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হন। জনপ্রিয় টিকিট রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাবহাব’ থেকে ৬ হাজার ডলারে কেনা টিকিটগুলো অ্যাপে লোড না হওয়ার পরই মূলত সমস্যার সূত্রপাত হয়। পাওলা জানান, পেমেন্ট সফল হওয়ার মেসেজ এলেও টিকিটগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভেবে স্টাবহাবের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে বলা হয়, ফিফা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ট্রান্সফার করতে বিক্রেতার কিছুটা সময় প্রয়োজন, তাই হাফটাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রতীক্ষিত টিকিট আর কখনোই তাঁদের হাতে আসেনি। মাঠের ভেতর ৪৫ হাজার ৫২২ জন দর্শকের গগনবিদারী উল্লাস যখন বাইরে ভেসে আসছিল, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্টেডিয়ামের বাইরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন মেক্সিকোর জার্সি, জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত ৮৯ বছরের মেন্ডেজ। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি নাতনি পাওলা। স্টেডিয়ামের বাইরে মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে দাদার খেলা দেখার সেই করুণ দৃশ্যটি ভিডিও করে টিকটকে শেয়ার করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টাবহাবকে এর দায়ভার নেওয়ার জোর দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্টাবহাব পাওলার পুরো অর্থ ফেরত দেয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী যেকোনো একটি ম্যাচের টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে মেক্সিকোর পরবর্তী ম্যাচগুলো মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পাওলা। তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই শহরে গেলে তাঁর দাদার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। স্টাবহাব কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেও একজন বৃদ্ধের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
নিজেদের জনপ্রিয় বাস্কেটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ক্রীড়া উন্মাদনায় ভাসছে নিউইয়র্ক। একদিকে এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের খেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকানদের পাশাপাশি বাঙালিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষও অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে। জানা গেছে, গত ১৩ জুন এনবিএ ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসানে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আবেগ ও আনন্দ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। ম্যানহাটন, টাইমস স্কয়ার এবং ব্রুকলিনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের ঘিরে তৈরি হয় নতুন ক্রীড়া নায়কত্বের আবহ। শহরের বাস্কেটবল ইতিহাসে এই সাফল্যকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য প্যারেডও। একই সময়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১১ জুন শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভেন্যু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউট রাউন্ডের খেলা এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্যান জোন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা এবং ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক বৈশ্বিক ক্রীড়া মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তবে এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকে জার্সি, পতাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ফুটবল সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়েছে। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলারের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক দোকানে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সিতে নাম ও নম্বর সংযোজনের সেবাও দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার জ্যাকসন হাইটসে জার্সির দোকান পরিচালনাকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্সির এমন চাহিদা আমরা আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর এমবাপ্পের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।” একই এলাকার ফুটবল সমর্থক রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। খেলা শুরু হলেই পুরো এলাকা যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হবে।” প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠক নাজনীন আক্তার বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একত্র করছে। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করছে।”
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগেই অপ্রত্যাশিত এক সমস্যায় পড়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর জানা গেছে, দলের কিছু অনুশীলন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনের পথে চুরি হয়ে গেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ, আর ইতোমধ্যে দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেনসে বিশ্বকাপ-পূর্ব প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করে বৃহস্পতিবার সেখান থেকে রওনা দেয় ইংল্যান্ড দল। খেলোয়াড়দের একদিনের বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং শনিবার তারা কানসাস সিটিতে পৌঁছান, যেখানে বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে সোপে সকার ভিলেজ। দলের আগমনের আগেই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লজিস্টিক টিম নতুন ক্যাম্পের প্রস্তুতি নিতে কাজ শুরু করে। সরঞ্জামবাহী একটি ভ্যান থেকে মালামাল নামানোর সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, ট্রেনিং কিটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সেখানে নেই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ইএসপিএনের সূত্র জানিয়েছে, ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা হারিয়ে যাওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরির কাজ করছেন। পাশাপাশি চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে দলের অনুশীলন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কানসাস সিটি, মিসৌরি পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, একটি ক্রীড়া দলের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাড়িটি কানসাস সিটিতে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, ভেতরে থাকা কিছু সামগ্রী অনুপস্থিত। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পরিচয় বা সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা ঘটনাটির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে দলগুলোর সরঞ্জাম পরিবহন ও নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। খেলোয়াড়দের অনুশীলন কিট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশ্লেষণমূলক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ একটি দলের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এমন ঘটনা বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড শিবিরে কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলে তারা আশা করছেন। প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এদিকে শনিবার বিকেলে কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড দলের একটি কমিউনিটি অনুশীলন সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আগামী বুধবার ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে মাঠের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ইংল্যান্ড সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করলেও দলটির মূল লক্ষ্য এখন টুর্নামেন্টে সফল সূচনা করা। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চুরি হওয়া সরঞ্জাম এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক মা ছেলের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে গিয়ে ভুলবশত প্রায় ৮ হাজার ১০০ ডলারের একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছেন। ভুক্তভোগী এলিজাবেথ সাইটা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউইয়র্ককে জানান, তিনি অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম স্টাবহাবের মাধ্যমে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের টিকিট কেনেন। দুইটি আসনের জন্য তিনি ৭৭২ ডলার এবং অতিরিক্ত বিমা খরচ পরিশোধ করেন। কিন্তু কেনাকাটা শেষ করার পরই তিনি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে ৮ হাজার ১০০ ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি ভুল করে একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছিলেন, যার দাম ছিল কয়েক হাজার ডলার। তিনি জানান, ভুল বুঝতে পারার “কয়েক সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ এক মিনিটের মধ্যে” তিনি স্টাবহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরতের আবেদন করেন। শুরুতে কোম্পানিটি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও পরে গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো টাকা ফেরত দেয়। স্টাবহাবের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গ্রাহকের বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে না পারলেও তারা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়েছে মেক্সিকো সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসগুলোতে ১১টি অঙ্গরাজ্যের ৭০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে টিকিটের উচ্চমূল্য ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ এখনো বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজার হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা টুর্নামেন্টের টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২–১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায়। তবে এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাল আসন ফাঁকা দেখা যায়, যা দর্শক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টিকিটের “ডায়নামিক প্রাইসিং” বা পরিবর্তনশীল মূল্যনীতির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে মাঠে দর্শক উপস্থিতির এই চিত্র সেই নীতিকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে কয়েকটির টিকিটের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। একই সময়ে ফিফার অফিশিয়াল রিসেল পোর্টালে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টিকিট অবিক্রীত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা দাবি করেছিল, টিকিটের জন্য ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি বুকিং অনুরোধ এসেছে। তবে বাস্তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দর্শক মাঠে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বিরত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ফাইনালসহ কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে সমালোচকদের দাবি। এই প্রাইসিং নীতি নিয়ে অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং চূড়ান্ত দামের অস্পষ্টতা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির রাজনীতিকরা আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করেছেন। তবে খালি আসন থাকা সত্ত্বেও ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রাণবন্ত ছিল। ম্যাচে লাদিস্লাভ ক্রেজসি চেক প্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে নিলেও হোয়াং ইন-বমের সমতা ফেরানো গোল এবং ওহ হিয়ন-গিউয়ের জয়সূচক গোলে দক্ষিণ কোরিয়া জয় নিশ্চিত করে।
ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে মেক্সিকো। ঐতিহাসিকভাবে, শক্তিমত্তায় এবং সাম্প্রতিক ফর্মে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। অন্যদিকে, তিন লাল কার্ডের এই নাটকীয় ম্যাচে দীর্ঘ সময় কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইটি বেশ একপেশে হয়ে ওঠে। ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, তবে সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিলেও এবার মেক্সিকোর মাঠে তারা পেরে ওঠেনি। এই জয়ের ফলে আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে নিজেদের অজেয় থাকার রেকর্ডটি (৬ জয়, ২ ড্র) আরও একবার অক্ষুণ্ণ রাখল হাভিয়ের আগিরের দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দোসহ প্রায় ৮৩ হাজার দর্শকের উন্মাদনা স্বাগতিকদের আরও চাঙা করে তোলে। মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামসের নৈপুণ্যে সে যাত্রায় বেঁচে যায় সফরকারীরা। তবে গোলের জন্য স্বাগতিকদের খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ম্যাচের ৯ মিনিটেই ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে এবারের আসরের প্রথম গোলটি করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ২৫ মিনিটে পানি পানের বিরতির পর মেক্সিকো আরও ছন্দময় ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি। খেলার মূল নাটকীয়তা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো এই ম্যাচে মোট তিনবার লাল কার্ড বের করেন। ৫০ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করে প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল, যার ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় সফরকারীরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৭ মিনিটে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হিমেনেজ। এর ঠিক এক মিনিট আগে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরা, যিনি এবারের আসরের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। এরপর ৮৪ মিনিটে টেম্বা জোয়ানেও লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে খুলিসো মুদাওকে বাজেভাবে ফাউল করে মেক্সিকোর সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। যদিও এই ঘটনা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।
আটলান্টা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে। আয়োজক ১৬টি শহরের অন্যতম আটলান্টায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে এই উন্মাদনাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। তাই বিশ্বকাপের টিকিট কেনা বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রেটার আটলান্টার বেটার বিজনেস ব্যুরো (বিবিবি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ হেয়ার্স বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফ্রি বিশ্বকাপ টিকিট’, ‘বিশেষ উপহার’ কিংবা ‘সীমিত সময়ের অফার’ ধরনের পোস্টগুলোর ব্যাপারে মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। জশ হেয়ার্স বলেন, প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফার গ্রহণ না করলে সুযোগ হাতছাড়া হবে। এ ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বকাপের টিকিট বা পুরস্কারের নামে পরিচালিত অনেক প্রতারণায় সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহও একটি বড় লক্ষ্য। প্রতারকরা কখনও দাবি করে, পুরস্কার পেতে হলে কর, প্রসেসিং ফি বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আবার কখনও ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউআর কোডভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিবিবি। বিশ্বকাপের টিকিট ডাউনলোড, বিশেষ অফার গ্রহণ বা নিবন্ধনের কথা বলে অনেককে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রতারণাকে “কুইশিং” নামে চিহ্নিত করেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জশ হেয়ার্স আরও জানান, অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা করে। ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় যে কোনো কারণে তারা বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবহার করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে চান। এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সরাসরি ফোন বা অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড বা নীল চিহ্নযুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জশ হেয়ার্স বলেন, শুধুমাত্র নীল চিহ্ন দেখেই কোনো অ্যাকাউন্টকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। প্রতারকরা অনেক সময় অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের অফার বা বিজ্ঞাপন যাচাই করতে হলে প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিবিবি। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট কার্ড বা ক্রেতা সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে ওয়্যার ট্রান্সফার, সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো বা সীমিত সুরক্ষাযুক্ত অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হলে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিবিবি আরও জানিয়েছে, তাদের ‘স্ক্যাম ট্র্যাকার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন। সংস্থাটির মতে, অনেক প্রতারণার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট না হওয়ায় অন্যদের সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের মুখোমুখি হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে আটলান্টায়। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ধীরস্থির থাকার, তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত লিংক, কিউআর কোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। তাদের মতে, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ এ’-এর এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচ শুরুর আগে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়। তারা যৌথভাবে পরিবেশন করবেন এবারের আসরের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’। এছাড়া মঞ্চে থাকবেন জে বালভিন এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড মানার সদস্যরাও। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনেকের কাছেই ২০১০ সালের আসরের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ বছর আগে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এবারও দুই দল উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হলেও পার্থক্য হলো, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেক্সিকোর ঘরের মাঠে। মেক্সিকো দলকে এবারের উদ্বোধনী ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। দলের অন্যতম বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া মেক্সিকো দল সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাদের শেষ আট ম্যাচের ছয়টিতে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও আত্মবিশ্বাসী। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সক্ষমতার জন্য পরিচিত দলটি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ নয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোলের দেখা পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন শুধু মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় একই সময়ে কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং আলিসিয়া কারা। এরপর শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে হবে উদ্বোধনী আয়োজনের শেষ পর্ব। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ক্যাটি পেরি, ব্ল্যাকপিংকের লিসা, ফিউচার এবং আনিত্তার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে এক মাসব্যাপী মহারণ।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। নির্দেশনা অনুযায়ী, ইরান দলকে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না; বরং প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ইরান দল বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। তাদের বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানান, ইরান দলের ক্ষেত্রে ম্যাচের দিনই প্রবেশ ও একই দিনে প্রস্থান করতে হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরান দলকে শুধু ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে এবং একই দিনে দেশ ত্যাগ করতে হবে। এই তথ্যের কারণে দলটির লজিস্টিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবোলফজল পাসানদিদেহ জানান, দলের কিছু সদস্যের ভিসা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, টিম ম্যানেজার, দুইজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ভিসা পাননি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলে তিনি দাবি করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল দলের সব খেলোয়াড়কে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ সদস্য এখনো ভিসা পাননি বলে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে। ইরান বিশ্বকাপে তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে দলের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের অবস্থান তাদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব’ কেনার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৭তম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট) বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। সভায় জানানো হয়, ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) থেকে সরাসরি এই সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হবে। বিশ্বকাপের ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কেনার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন টেলিভিশন সম্প্রচারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সুযোগ পাবে। আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসর হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে আগত লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের ঘাড়ে নতুন করে বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ক্রীড়া আসর চলাকালীন মার্কিন রেস্তোরাঁগুলো বিদেশি দর্শনার্থীদের খাবারের বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ‘টিপস’ বা বকশিশ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় টিপস দেওয়ার তেমন কোনো প্রচলন না থাকায় রেস্তোরাঁকর্মীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁ শিল্পের কর্মীদের আয়ের এক বিশাল অংশ নির্ভর করে ক্রেতাদের দেওয়া টিপসের ওপর। দেশটির বেশিরভাগ সার্ভার বা খাবার পরিবেশনকারী এবং বারটেন্ডারদের ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশ কম বেতন দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা ক্রেতাদের এই বকশিশের ওপরই প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বকাপের সময় বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক দর্শকের সমাগম হবে, যারা মার্কিন এই টিপস সংস্কৃতির সাথে মোটেও পরিচিত নন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়োজক শহরগুলোর রেস্তোরাঁগুলো কর্মীদের পাওনা নিশ্চিত করতে মূল বিলের সঙ্গেই টিপস যোগ করার কথা ভাবছে। এমনিতেই আকাশছোঁয়া দামের টিকিট, ফ্লাইট এবং হোটেল ভাড়ার চাপে দিশেহারা ভক্তদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ মালিক এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টার ‘টি’জ ব্রাঞ্চ বার’ তাদের খাবারের বিলের সাথে আগে থেকে কাটা ১৮ শতাংশ টিপস বাড়িয়ে এবার ২০ শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক তেনেশিয়া মারে বাটলারের মতে, এটি কোনো সংস্কৃতির দোষ নয়, বরং বিদেশিরা এই নিয়মে অভ্যস্ত না হওয়ায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বোস্টন এবং কানসাস সিটির অনেক রেস্তোরাঁও একই পথে হাঁটছে। ম্যাসাচুসেটস রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মেম্বার এবং ‘ড্যাভিওস’ রেস্তোরাঁর মালিক স্টিভ ডিফিলিপ্পো জানিয়েছেন, কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এই নীতির বিষয়ে মেনু কার্ডে বিস্তারিত উল্লেখ করে দর্শকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মিসৌরি রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বারিস শহরের রেস্তোরাঁগুলোকে এই ছয় সপ্তাহের টুর্নামেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস নীতি কার্যকর করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই নীতির সাথে সব ব্যবসায়ী পুরোপুরি একমত নন। ম্যান্সফিল্ডের ‘জিমিস পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক জর্জ পান্টোস মনে করেন, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে রেস্তোরাঁয় নোটিশ টাঙিয়ে অতিথিদের টিপসের বিষয়টি বিনয়ের সাথে স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাই বেশি যৌক্তিক। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় আমেরিকানদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্য গবেষণা সংস্থা টেকনোমিক-এর জ্যেষ্ঠ অধ্যক্ষ ডেভিড হেনকেসের মতে, নানাবিধ অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা রেস্তোরাঁর এই অতিরিক্ত খরচে ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ক্রেতাদের পূর্বানুমতি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপস কেটে নেওয়ার এই নীতি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা আরও কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।