আমেরিকা

বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আটলান্টাবাসীকে সতর্ক করল বেটার বিজনেস ব্যুরো

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৮:৮
ছবিঃ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ আমেরিকা বাংলা

আটলান্টা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে। আয়োজক ১৬টি শহরের অন্যতম আটলান্টায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে এই উন্মাদনাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। তাই বিশ্বকাপের টিকিট কেনা বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রেটার আটলান্টার বেটার বিজনেস ব্যুরো (বিবিবি)।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ হেয়ার্স বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফ্রি বিশ্বকাপ টিকিট’, ‘বিশেষ উপহার’ কিংবা ‘সীমিত সময়ের অফার’ ধরনের পোস্টগুলোর ব্যাপারে মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে।

 

জশ হেয়ার্স বলেন, প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফার গ্রহণ না করলে সুযোগ হাতছাড়া হবে। এ ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

 

বিশ্বকাপের টিকিট বা পুরস্কারের নামে পরিচালিত অনেক প্রতারণায় সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহও একটি বড় লক্ষ্য। প্রতারকরা কখনও দাবি করে, পুরস্কার পেতে হলে কর, প্রসেসিং ফি বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আবার কখনও ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে কিউআর কোডভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিবিবি। বিশ্বকাপের টিকিট ডাউনলোড, বিশেষ অফার গ্রহণ বা নিবন্ধনের কথা বলে অনেককে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রতারণাকে “কুইশিং” নামে চিহ্নিত করেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

জশ হেয়ার্স আরও জানান, অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা করে। ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় যে কোনো কারণে তারা বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবহার করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে চান। এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সরাসরি ফোন বা অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড বা নীল চিহ্নযুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জশ হেয়ার্স বলেন, শুধুমাত্র নীল চিহ্ন দেখেই কোনো অ্যাকাউন্টকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। প্রতারকরা অনেক সময় অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের অফার বা বিজ্ঞাপন যাচাই করতে হলে প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করা উচিত।

 

টিকিট কেনার ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিবিবি। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট কার্ড বা ক্রেতা সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে ওয়্যার ট্রান্সফার, সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো বা সীমিত সুরক্ষাযুক্ত অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হলে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

 

বিবিবি আরও জানিয়েছে, তাদের ‘স্ক্যাম ট্র্যাকার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন। সংস্থাটির মতে, অনেক প্রতারণার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট না হওয়ায় অন্যদের সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের মুখোমুখি হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে আটলান্টায়। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ধীরস্থির থাকার, তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত লিংক, কিউআর কোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। তাদের মতে, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিখোঁজ’ সাড়ে চার লাখ অভিবাসী শিশুর মধ্যে দেড় লাখের খোঁজ মিলেছে, দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে "নিখোঁজ" হওয়া সাড়ে চার লাখ অভিবাসী শিশুর মধ্যে অন্তত ১ লাখ ৪৬ হাজার শিশুকে খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বিপুল সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গিয়েছিল, যাদের মধ্যে এখনো প্রায় তিন লাখ শিশু সম্পূর্ণ অনধিসন্ধিত বা প্রশাসনিকভাবে নিখোঁজ রয়েছে।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল সংখ্যক শিশুকে 'নিখোঁজ' বা 'হারিয়ে যাওয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে মূলত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও নথিপত্রের ত্রুটি দায়ী। মূলত ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত ডিএইচএস-এর ইন্সপেক্টর জেনারেলের (ওআইজি) একটি অডিট রিপোর্টের সূত্র ধরে এই সংখ্যার হিসাব দেওয়া হয়েছে।   ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে আসা ৪ লাখ ৪৮ thousand বা প্রায় সাড়ে চার লাখ অনথিবদ্ধ শিশুকে কাস্টমস হেফাজত থেকে পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ না দেওয়া এবং ঠিকানায় গড়মিল থাকার কারণে বিশাল একটি অংশ সরকারি ফাইলের বাইরে চলে যায়।   ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এবং আইসিই কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে সশরীরে অনুসন্ধান ও স্পন্সরদের খোঁজ নিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার শিশুকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।   তবে মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা গেছে, এই শিশুদের একটি বড় অংশ কোনো অপরাধ চক্রের হাতে পাচার বা হারিয়ে যায়নি, বরং তারা তাদের প্রাথমিক স্পন্সরদের দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানাতেই সাধারণ জীবনযাপন করছিল। কেবল সরকারি আইনি নোটিশ বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে বিগত দিনে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।   যদিও এর মধ্যে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন ও শ্রম পাচারের শিকার হওয়ার মতো লোমহর্ষক অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএইচএস প্রধান।   এই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি স্পন্সরশিপ ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জালিয়াতির মাধ্যমে শিশুদের স্পন্সর সেজে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওহাইও থেকে তিন গুয়াতেমালান নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের ঘোষণা দেন।   একই সাথে ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন নিউ ইয়র্ক, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ বা অভিবাসীবান্ধব শহরগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা না করার কারণে এসব অঞ্চল অপরাধী ও মানবপাচারকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে, যা শিশুদের সুরক্ষাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৮:৩৪
ছবিঃ আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আটলান্টাবাসীকে সতর্ক করল বেটার বিজনেস ব্যুরো

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের দুই যমজ সন্তানকে হত্যার পর বাবার মর্মান্তিক আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টায় গ্যাং দমনে বড় পদক্ষেপ, পাঁচ সদস্যকে পাঠানো হলো ফেডারেল কারাগারে

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টি-বুলিং এআই চ্যাটবট তৈরি করে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থীরা

সাইবার বুলিং বা হয়রানি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন একদল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রথম 'প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ'-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।    ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যা সমাধানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ সময় তিনি এই তরুণ প্রতিযোগীদের জাতির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।    পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। মেধা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে এই শিক্ষার্থীদের তৈরি অ্যান্টি-বুলিং চ্যাটবটটি আগামী দিনে হয়রানি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৫:২৮
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

সাত সন্তানসহ নিখোঁজ মার্কিন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার মেক্সিকোতে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১২

বিশ্বকাপ দর্শকদের পরিবহনে ব্যবহারের জন্য বিশেষ নৌযান প্রস্তুত রাখছে নিউ জার্সি ট্রানজিট । ছবি: নিউ জার্সি ট্রানজিট

বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য বিশেষ ফেরি প্রস্তুত রাখছে নিউ জার্সি ট্রানজিট, ট্রেন সেবা ব্যাহত হলে নদীপথে যাতায়াত

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল খেলা শেষে ব্যাপক তাণ্ডব, গ্রেফতার ৫৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এনবিএ ফাইনালসের চতুর্থ ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক নিক্সের ঐতিহাসিক জয়ের পর শহরজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ও তাণ্ডব সৃষ্টি হয়েছে। খেলা শেষে হাজার হাজার নিক্স ভক্ত রাস্তায় নেমে এসে ব্যাপক ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিক্সের এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি উত্তেজিত সমর্থক ম্যানহাটনের রাস্তায় নেমে আসে এবং ম্যাচ যত গড়াতে থাকে ভিড় তত বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা চলন্ত ট্রাক, ট্যাক্সি এবং ভেতরে মানুষ থাকা বিভিন্ন যানবাহনের ওপর চড়ে বসে যাতায়াতে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি করে। একপর্যায়ে একদল উন্মত্ত সমর্থক একটি ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি ভাঙচুর করে এবং গাড়িটির ওপরে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে নাচানাচি করতে থাকে। কিছু যুবককে সরাসরি ক্যামেরার সামনে শহর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেও দেখা যায়।   এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশের বিশাল দল রাস্তায় নামলে সমর্থকদের সাথে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। উন্মত্ত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে কাঁচের বোতল, পাথর এবং বিভিন্ন ভারী বস্তু ছুড়ে মারে, যার ফলে এনওয়াইপিডির অন্তত ১০ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন অফিসারের মাথায় কাঁচের বোতলের আঘাত লেগেছে। সহিংসতা চলাকালীন বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সাদা ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে গেলে ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, যা প্রাথমিকভাবে পুলিশের টিয়ার গ্যাস বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি পুলিশের চারটি গাড়িও এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি; উপদ্রবকারীরা সেগুলোর উইন্ডশিল্ড ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।   এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির বাস্কেটবল ভক্তদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের সময় হলেও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষে একদল লোক অত্যন্ত বেপরোয়া এবং বিপজ্জনক আচরণে লিপ্ত হয়েছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা প্রমাণ করে যে কেন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের চারপাশে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১২:৫২
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনে বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক, আংশিক লকডাউন জারি

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের তোরণ বানাতে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করবেন শ্রমিকেরা

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর ভীমরুলের বাসা দেখলেই জানানোর নির্দেশ দিল জর্জিয়া

0 Comments