সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বেতন ও আয়

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গাড়ি ব্যবহার, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর জীবনের ব্যয়সহ আমেরিকান ড্রিম পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণ করতে একজন মানুষের জীবনে মোট ব্যয় হতে পারে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানের লালন-পালন ও উচ্চশিক্ষা, অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর খরচ হিসাব করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জীবনযাপনের এসব ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না মানুষের বেতন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন পূরণ ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রকাশনা ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের খরচ দ্রুত বাড়ছে।      আমেরিকান ড্রিম বলতে সাধারণত এমন একটি জীবনকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা অর্জন করবেন, নিজের বাড়ির মালিক হবেন, সন্তানদের ভালো শিক্ষা দিতে পারবেন এবং অবসরে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাবেন। ধারণাটি শুধু সম্পদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তিস্বাধীনতা, সমান সুযোগ এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও এর সঙ্গে জড়িত। তবে জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয়ের সঙ্গে তার ব্যবধান এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামসের লেখার মধ্য দিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। তিনি এমন একটি দেশের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রায় এক শতাব্দী পরও ধারণাটি মার্কিন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই জীবন অর্জনের সামর্থ্য নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপ সংস্থা গ্যালাপের ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৬৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার চার শতাংশীয় পয়েন্ট কম। একই জরিপে ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষের এই স্বপ্ন অর্জনের সুযোগ রয়েছে।      ইনভেস্টোপিডিয়ার হিসাবে, আমেরিকান ড্রিমের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাড়ির মালিক হওয়া, দুটি নতুন গাড়ি ব্যবহার এবং অবসর জীবনের অর্থ জোগাড় করা। এই তিন খাতেই মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ চলে যায়। বাড়ি কেনার পাশাপাশি বন্ধকের সুদ, সম্পত্তির কর, বিমা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত। সন্তানদের লালন-পালন ও কলেজের শিক্ষাব্যয়ও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নিজের বাড়ির মালিক হতে একজনের জীবনে আনুমানিক ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশ্লেষণে একটি একক পরিবারের বাড়ির গড় দাম ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ধরা হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি গৃহঋণের সুদসহ মূল অর্থ পরিশোধে প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার খরচ হতে পারে। এর সঙ্গে সম্পত্তির কর, বাড়ির বিমা এবং তিন দশকের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যোগ হয়ে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ ৭৬ হাজার ডলার। হিসাবটিতে গৃহঋণের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরা হয়েছে। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও প্রায় একই রকম বেশি। এ খাতে আজীবন খরচের হিসাব ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন এবং জ্বালানি খরচ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাবের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা শুধু কেনার সময়ের ব্যয় নয়, বরং কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা একটি বড় আর্থিক দায়। অবসর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও ১২ লাখ ডলারের বেশি। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে, এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসর-পরবর্তী ২০ বছরের স্বচ্ছন্দ জীবন চালানোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। অবসরকালীন সঞ্চয়, নিয়মিত আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে না পারলে অবসরের পর জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খাতে ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শিশুদের পরিচর্যা বা ডে-কেয়ারের খরচ বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক ব্যয় প্রতি শিশুর জন্য ১৩ হাজার ডলারের বেশি। এর সঙ্গে চার বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ব্যয় যোগ হয়ে পরিবারের মোট খরচ আরও বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আজীবন গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। ২০২৫ সালের তুলনায় এই খরচ প্রায় ৯০০ ডলার কমেছে, যা আটটি খাতের মধ্যে একমাত্র ব্যয়হ্রাসের উদাহরণ। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব অর্থ থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই হিসাবের অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের চিকিৎসায় সমান খরচ হবে। ব্যক্তির স্বাস্থ্য, বিমা সুবিধা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। প্রতিবছর একবার ছুটি কাটানোর জন্য পুরো জীবনে আনুমানিক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত বছরে একটি ভ্রমণের হিসাব ধরে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পোষার জন্য খাবার, পশুচিকিৎসা এবং বিমাসহ আজীবন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এর মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান ও অভ্যর্থনার পাশাপাশি বাগদানের আংটির খরচও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মজীবী মানুষের আয় দিয়ে এই জীবনযাপনের ব্যয় মেটানো কতটা সম্ভব, তারও একটি হিসাব দিয়েছে ইনভেস্টোপিডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম আয়ের ভিত্তিতে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার উপার্জন করতে পারেন। অবসরের পর গড়ে ২০ বছরের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা যোগ করলে তাঁর মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তারপরও আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। তবে এই হিসাবকে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট ব্যয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, বসবাসের এলাকা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মজীবনের দৈর্ঘ্য এবং অবসরকালীন সুবিধার ওপর প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে। একইভাবে, প্রত্যেক পরিবারের দুটি নতুন গাড়ি, পোষা প্রাণী বা প্রতিবছর ভ্রমণের প্রয়োজনও নেই। ফলে ৫৩ লাখ ডলারের বেশি ব্যয়ের হিসাবটি মূলত একটি প্রচলিত মধ্যবিত্ত জীবনধারার বিভিন্ন পর্যায়কে একত্র করে তৈরি করা অনুমান। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যকার ব্যবধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে শুধু ব্যক্তিগত পরিশ্রম যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। গ্যালাপের জরিপে আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টাকে অধিকাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও, সবার জন্য সমান সুযোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তুলনামূলক কমসংখ্যক উত্তরদাতা। অর্থাৎ, স্বপ্নটির গুরুত্ব এখনো অটুট থাকলেও সেটি অর্জনের বাস্তব সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সূত্র: ইনভেস্টোপিডিয়া, গ্যালাপ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০