সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিদেশি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিসার আবেদনে নতুন ফি
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি আদায়ের নিয়ম সম্প্রসারণ করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও এই ফি দিতে হবে। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। এখন থেকে নিয়োগকর্তা নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়লে, কর্মীর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ফি প্রযোজ্য হবে।   ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট চূড়ান্ত নিয়মটি প্রকাশ করা হয়। এটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবে সব এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনকারীর ওপর নতুন করে এই ফি আরোপ করা হয়নি। নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ফি আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে।   এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ফি ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ এবং তাঁদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়মের ফলে শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।   কোন প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হবে   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ‘আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শর্তটি হলো, প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ অথবা এল-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আওতায় থাকতে হবে।   এইচ-১বি ভিসা সাধারণত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এল-১ ভিসার মাধ্যমে কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তার বিদেশি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এল-১এ ভিসা মূলত ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এল-১বি ভিসা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন কর্মী থাকলে এবং তাঁদের ৫১ জন বা তার বেশি এইচ-১বি, এল-১এ কিংবা এল-১বি ভিসার আওতায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ফি দেওয়ার শর্তের মধ্যে পড়তে পারে। তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা বেশি হলেই হবে না; ভিসার ধরন ও কর্মীদের অনুপাতও নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে হবে।   যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুধু এই নিয়মের কারণে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। তাই নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা এবং কর্মীদের ভিসার ধরন পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোন আবেদনে ফি দিতে হবে না   চূড়ান্ত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বিদ্যমান এইচ-১বি বা এল-১ স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে শুধু সংশোধিত পিটিশন জমা দেন, তাহলে সেই আবেদনের জন্য এই বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে না।   সাধারণত কর্মীর চাকরির শর্ত, দায়িত্ব বা অনুমোদিত আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিবর্তন জানাতে সংশোধিত পিটিশন জমা দেওয়া হয়। তবে সংশোধিত আবেদনের সঙ্গে যদি কর্মীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও থাকে, তাহলে শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না। তবে ৯ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে।   কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে   ৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থানব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই, ভ্রমণসংক্রান্ত নথির জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই ফি চালুর ব্যবস্থা করে। পরবর্তী সময়ে ফি-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ করা হয়। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। নতুন চূড়ান্ত নিয়মে সেই ব্যতিক্রমের পরিধি কমিয়ে আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রাসঙ্গিক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও ফি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে বিশেষ করে প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে, যাদের কর্মীদের বড় অংশ এইচ-১বি বা এল-১ ভিসায় কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে।   নিয়োগকর্তারা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ফি তালিকা থেকে যাচাই করতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা, কর্মীদের ভিসার ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের মজুরি নিয়ে নতুন তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের কত বেতন দিতে হবে, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের এলাকার প্রচলিত মজুরির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়।   এই নিয়মকে বলা হয় ‘প্রিভেইলিং ওয়েজ’ বা প্রচলিত মজুরি। কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত যে গড় মজুরি পান, সেটিই ওই কাজের প্রচলিত মজুরি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় শুধু ভিসার যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য মজুরি নিয়মও মানতে হবে।   এই নিয়ম শুধু এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিতে প্রচলিত মজুরি সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিইআরএম, এইচ-২বি, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-৩ এবং সিডব্লিউ-১ কর্মসূচি।   তবে এইচ-১বি, এইচ-১বি১ ও ই-৩ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা রয়েছে। এসব ভিসায় কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে দুটি মজুরি হারের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হবে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশা ও এলাকার প্রচলিত মজুরি। অন্যটি হলো একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতার কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের যোগ্যতার কর্মীরা প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি বেতন পেলে এইচ-১বি কর্মীকেও সেই উচ্চতর হার দিতে হতে পারে।   প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের জন্য নিয়োগদাতারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ন্যাশনাল প্রিভেইলিং ওয়েজ সেন্টারে (এনপিডব্লিউসি) মজুরি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া শ্রম দপ্তরের অনলাইন মজুরি অনুসন্ধান ব্যবস্থায় থাকা তথ্য এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়।   এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত স্বাধীন জরিপ বা অন্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিলে নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা পান।   বর্তমান মজুরি তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। শ্রম দপ্তরের বিদেশি শ্রম সনদবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মজুরি বছরের জন্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পেশাভিত্তিক মজুরি তথ্য কার্যকর হয়েছে। এসব তথ্য বিদেশি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হয়।   এই নিয়মের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঠেকানো। মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়।   এইচ-১বি কর্মীদের জন্য শুধু নির্ধারিত মজুরি দেওয়াই নয়, কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মতো এইচ-১বি কর্মীদেরও কর্মঘণ্টা, শিফট, ছুটি ও নির্দিষ্ট সুবিধার ক্ষেত্রে সমান ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগদাতাকে শ্রম শর্তসংক্রান্ত আবেদন বা এলসিএর একটি কপিও সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি কর্মীকে দিতে হয়।   এ ছাড়া নিয়োগদাতা এইচ-১বি কর্মীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত খরচ বা আবেদন ফি বহনের দাবি করতে পারেন না। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তাকে ভয় দেখানো, চাকরি থেকে সরানো বা বৈষম্যের শিকার করাও নিষিদ্ধ।   কোনো এইচ-১বি কর্মীকে প্রয়োজনীয় মজুরির চেয়ে কম দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে শ্রম দপ্তরের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগটি তদন্তের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে কর্মীর প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে।   এদিকে ২০২৬ সালের মার্চে শ্রম দপ্তর এইচ-১বি ও পিইআরএম কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের মজুরি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বর্তমান প্রচলিত মজুরি নিয়মের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন।   যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের প্রচলিত মজুরি, একই প্রতিষ্ঠানে তুলনীয় কর্মীদের বেতন এবং নিয়োগদাতার শ্রমসংক্রান্ত দায়বদ্ধতাও জানা গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন বিলে। ছবি: সংগৃহীত
H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন করা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি বিলে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।   টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডাইন ১ অক্টোবর ‘এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর এইচআর ১০৬৪৩। সরকারি কংগ্রেশনাল রেকর্ড অনুযায়ী, ভ্যান ডাইনের সঙ্গে টেক্সাসের আরও পাঁচ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল, পিট সেশনস, কিথ সেলফ, ব্রায়ান বাবিন ও প্যাট ফ্যালন এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি একই দিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে গুরুতর এইচ-১বি লঙ্ঘনের একটি শ্রেণিতে জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়োগদাতাকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বিরত রাখার পরিবর্তে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। আরও গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে।   বিলে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট ধরনের নথি জালিয়াতির জন্য ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নতুন প্রস্তাবে সেই সীমা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। আরেক শ্রেণির লঙ্ঘনে বর্তমান ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের জরিমানার সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   ভ্যান ডাইনির দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মসূচির নিয়ম ভেঙে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এইচ-১বি কর্মসূচি ব্যবহার করা হলেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভ্যান ডাইনি এর আগে উত্তর টেক্সাসে সম্ভাব্য এইচ-১বি জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিতে পারে।   নতুন বিলটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয় এবং প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। একই সময়ে বার্ষিক সীমার আওতাভুক্ত এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি প্রস্তাবিত ফি নিয়েও আলোচনা চলছে।   তবে নতুন বিলটি সরাসরি এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা কমানো, বেতনসীমা নির্ধারণ বা যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে না। এর প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানো। ফলে বিলটি পাস হলে এইচ-১বি কর্মীদের তুলনায় নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।   এই বিলই এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচিত একমাত্র উদ্যোগ নয়। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন নতুন এইচ-১বি ভিসা তিন বছরের জন্য স্থগিত, বার্ষিক ভিসার সংখ্যা কমানো এবং ন্যূনতম ২ লাখ ডলারের বেতনসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে আলাদা একটি বিল এনেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয়ও এইচ-১বি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ এবং ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন।   তবে ভ্যান ডাইনের প্রস্তাব এখনো কেবল প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি বিল। এটি বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এখনো প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে পাস হয়নি। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। তাই প্রস্তাবিত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জরিমানা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।   এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে।   ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।   এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে।   অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।   এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে।   ১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল।   H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে।   H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।   তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে।   জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়।   উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।   ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়।   পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স

কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নেওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ‘অল ইন’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন এবং নতুন এইচ-১বি আবেদনে এক লাখ ডলার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   ভ্যান্সের ভাষ্য, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা, যাঁরা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কম বেতনের কর্মী নিয়োগের পথ হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।   ভ্যান্স আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে, অন্যদিকে তাঁদের বদলে বিদেশি কর্মী খুঁজবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের নিয়োগ ঠেকানোর উপায়ও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানান।   এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রযুক্তিসহ বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। কর্মসূচির অপব্যবহার ও মার্কিন কর্মীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভ্যান্সের মন্তব্য এল।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার দেওয়ার শর্ত ঘোষণা করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সেই শর্তের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে শর্তটি সব এইচ-১বি আবেদন বা বর্তমানে এই ভিসায় থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।   এক লাখ ডলারের শর্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে ওই অর্থ আদায় থেকে বিরত রাখার রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিল বিচারাধীন। ফলে হোয়াইট হাউস মেয়াদ বাড়ালেও অর্থ আদায়ের শর্তটি বর্তমানে কার্যকর করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে বিদেশি কৃষিশ্রমিকের ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে কৃষি খাতে জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের কিছু ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি আলাদা কোনো নতুন কৃষি ভিসা চালুর ঘোষণা নয়। ইতোমধ্যে Working Holiday Maker (WHM) ভিসার জন্য আবেদন করা এবং নির্দিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানে কাজের চুক্তি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় আসা প্রয়োজন, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতের সংগঠন গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গম, বার্লি ও ক্যানোলার ফসল কাটার মৌসুম শুরু হবে। এই সময়ে দেশের অনেক খামার অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে।   অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনার পর জরুরি ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠন ও পণ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠনগুলো জরুরি আবেদনগুলো চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র বিভাগে পাঠাতে সহায়তা করবে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী ইতোমধ্যে Working Holiday Maker ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো খামারে কৃষিকাজের জন্য নিয়োগ বা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তার সময়মতো অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি খাতে বিশেষ দক্ষতা থাকা এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজন এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করবে।   তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। একইভাবে, নতুন প্রক্রিয়ার আওতায় আবেদন পাঠালেই দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ বা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকছে না।   কৃষি খাতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ধীরগতির কারণে। অস্ট্রেলিয়ায় Working Holiday Maker ভিসায় আসা বিদেশিরা বিশেষ করে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ এলাকায় ফল সংগ্রহ, ফসল কাটা এবং অন্যান্য মৌসুমি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমে তাদের ওপর অনেক খামারের নির্ভরতা বেড়ে যায়।   সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া Working Holiday Maker কর্মসূচির নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের গতি কমে যাওয়ায় কৃষি খাতের সংগঠনগুলো শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। কিছু দেশের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিতও রাখা হয়েছিল।   এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ফল ও শস্য সংগ্রহের মতো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়া গেলে ফসল সময়মতো বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষি সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জরুরি আবেদনগুলো আলাদা করে দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানায়।   গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা একটি সমাধানের পথ তৈরি করেছে এবং এখন কৃষকদের কাছে ফসল কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার একটি কার্যকর উপায় তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, প্রতিদিন কতটি আবেদন প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত অনুমোদনের নিশ্চয়তা কতটা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এনএফএফের প্রধান নির্বাহী মাইকেল গুয়েরিনও বলেছেন, জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। কৃষি খাতে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে Working Holiday Maker ভিসাধারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় কৃষি খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতা নিয়ে কাজ করা কিছু বিদেশি কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কর্মীদের প্রয়োজনের সময় অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, Working Holiday Maker ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কৃষি খাতে কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট কৃষিকাজের সময়সীমা পূরণ করলে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মেয়াদের ভিসার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   তবে বর্তমান বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত ইতোমধ্যে আবেদন করা এবং জরুরি কৃষি শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিকাজের জন্য নতুন করে ভিসা আবেদন করলেই এই বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   ফসল কাটার মৌসুম যত এগিয়ে আসছে, অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে এই অগ্রাধিকার ব্যবস্থা কতটা শ্রমিক সংকট কমাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন কৃষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার মেয়াদ আরও বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। হোয়াইট হাউস ১৮ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।   এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।   ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালু করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসনের ভাষ্য, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।   নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে ১ লাখ ডলার পরিশোধের প্রমাণ থাকতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগ প্রয়োজন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   তবে ১ লাখ ডলারের এই অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে। চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ফি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী শাখা এই ধরনের অর্থকে কর হিসেবে আরোপ করার ক্ষমতা রাখে না।   সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলস মামলাটি পর্যালোচনা করছে। ২৪ জুলাই আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আইনি অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   এর পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা আবেদনের যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরকে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আদেশ অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি পরিচালনায় মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিয়ে আসছে, বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।   হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।   তবে এই পরিসংখ্যান ও নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা হয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।   ফলে নতুন ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।   সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ভাঙায় যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৫ প্রতিষ্ঠান, বিপাকে পড়তে পারেন বিদেশি কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন ও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম ভঙ্গের কারণে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে নতুন কর্মী নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগ (WHD) প্রতি মাসে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ বা অযোগ্য ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর সর্বশেষ তালিকায় রয়েছে গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনক., শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক. এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক.   শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ারাটেক এলএলসিকে ১২ মে ২০২৫ থেকে ১১ মে ২০২৭ পর্যন্ত, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসিকে ৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত এবং সিলোজ ইনক.-কে ৪ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক., যা শেরউড একাডেমি নামে ব্যবসা করে, ২৬ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৮ পর্যন্ত এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক., যা দা ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত, ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।   নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গোয়ারাটেকের ক্ষেত্রে ছয়টি এবং রেনোটেকের ক্ষেত্রে ৩৪টি এইচ-১বি আবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি নথিতে পাওয়া যায়। সিলোজের ক্ষেত্রে চারটি এইচ-১বি আবেদন ছিল। সর্বশেষ দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য থেকে সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের সংখ্যা স্পষ্ট নয়। তবে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলেও শ্রম বিভাগের আলাদা ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ বা গুরুতর নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনেক বড়। সেখানে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ারাটেক, রেনোটেক, সিলোজ, শেরউড একাডেমি এবং দা ভিঞ্চি একাডেমিও রয়েছে। অন্যদিকে সব ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ থাকে না। দুটি তালিকা তাই এক নয়।   এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটি সাধারণভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব বিদেশি কর্মীর ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিয়োগকর্তা নতুন এইচ-১বি অনুমোদন নিতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিতে পারে না।   ফলে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনা করা বিদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি চলে এলে তাকে অন্য যোগ্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার পথ খুঁজতে হতে পারে। তবে কোনো নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়তে হবে বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নিয়ম নেই। শ্রম বিভাগের বিধিতে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর জরিমানা, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লঙ্ঘনের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণত এক থেকে দুই বছর হতে পারে, আর কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে তা তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে।   কেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয় এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রম বিভাগ বলছে, এইচ-১বি নিয়োগদাতাদের সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রচলিত মজুরি বা নিজেদের একই ধরনের কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি, যেটি বেশি, সেটি দিতে হয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। গুরুতর নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের জন্য প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত সব অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান রয়েছে।   মার্কিন কর্মীদের চাকরি কি বাড়ে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হয় কি না, সেটি নিয়ে পরিষ্কার সরকারি তথ্য নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে না পারলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে পারে, আবার কাজের ধরন পরিবর্তন, অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, বিদেশে কাজ সরিয়ে নেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করার পথও বেছে নিতে পারে।   ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের এইচ-১বি সুবিধা বন্ধ হলেই একই সংখ্যক চাকরি মার্কিন কর্মীদের কাছে চলে যাবে, এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কির্ক ডোরান, আলেকজান্ডার গেলবার ও অ্যাডাম আইসেনের গবেষণায় এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অন্য কর্মীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে গবেষকেরা এটিও দেখেছেন যে এই প্রভাব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় ২০০৭ সালের এইচ-১বি লটারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশি এইচ-১বি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ, ব্যবসার আকার ও টিকে থাকার হার বেড়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে জন্মসূত্রে মার্কিন কলেজশিক্ষিত কর্মীদের সরাসরি স্থানচ্যুত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছোট, দক্ষতানির্ভর এবং উচ্চ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব আরও বেশি ছিল।   শুরু ও নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল একমুখী নয়। ২০২১ সালে ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এইচ-১বি লটারিতে বেশি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া স্টার্টআপগুলো বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহ, বেশি পেটেন্ট এবং অধিগ্রহণ বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল।   মজুরি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচিকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক হলো বিদেশি কর্মীদের মজুরি। ২০২৬ সালে অর্থনীতিবিদ জর্জ বোরহাসের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষা, পেশা, বয়স ও অবস্থানের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে এইচ-১বি কর্মীরা তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে কম আয় করেন। গবেষণায় গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ মজুরি ব্যবধানের হিসাব পাওয়া গেছে। তবে এই ফলকে পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়। সমর্থকেরা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এমন বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মী খুঁজে পায় না, যাদের জন্য এইচ-১বি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। শ্রম বিভাগের নিয়মেও নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সরকারি তালিকায় সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ। সংখ্যাটি পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির তুলনায় খুবই ছোট হলেও, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ ভিসা নবায়ন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের হাতে যাচ্ছে কি না, তা পরিমাপ করার মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য এখনো নেই।   এই কারণেই এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করার নীতির প্রভাব শুধু কতটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করা কঠিন। এর প্রভাব বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান, নতুন ভিসা গ্রহণ, গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ নীতির পরিবর্তনও দেখতে হবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ, নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’।   তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে।   এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়।   প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।   তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়।   প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।   এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ।   এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০