- প্রচ্ছদ
- Topic
বিদেশে পড়াশোনা
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে গেলে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড থাকার খরচের জন্য দেখাতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বা পড়াশোনার খরচের বাইরে আলাদাভাবে থাকতে হবে। বর্তমানে লন্ডনে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে লন্ডনে মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ৪১ পাউন্ড এবং অন্যান্য এলাকায় ৩২ পাউন্ড। নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে লন্ডনে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ থেকে ২৮৮ পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদনকারীর নিজের অথবা মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের শেষ দিনের ব্যালান্সসহ আর্থিক নথি ভিসা আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। তবে অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব। তবে যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে টানা অন্তত ১২ মাস বসবাস করেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন করে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেই অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমাও ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের শর্তও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে নতুন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ভিসা আবেদনের তারিখের ভিত্তিতে পুরোনো ও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পুরোনো নিয়ম এবং ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে স্পনসরড স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রবণতা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করছে। নতুন আর্থিক শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও সতর্কভাবে হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালান্সের বিষয়টিও আগেভাগে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন আর্থিক শর্ত এবং ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালান্সের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত শহর বেছে নিতে শুধু ভালো বিশ্ববিদ্যালয় দেখলেই হয় না। পড়াশোনার খরচ, আবাসন, চাকরির সুযোগ, নিরাপত্তা, বিনোদন এবং শিক্ষাজীবনের সামগ্রিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ শহরের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশিগানের অ্যান আরবার। এরপর ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল, নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি এবং জর্জিয়ার আটলান্টা শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪১৫টি শহর নিয়ে করা এক গবেষণায় এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক পরিবেশ, উচ্চশিক্ষার মান এবং অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল মূল্যায়নের প্রধান বিষয়। সাম্প্রতিক প্রকাশিত এই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য শহর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। অস্টিনের শীর্ষে থাকার পেছনে রয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, তুলনামূলক ভালো কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং বিনোদনের বিস্তৃত সুযোগ। তবে তালিকার প্রথম স্থানে থাকা মানেই শহরটি সব দিক থেকে সবচেয়ে সস্তা, এমন নয়। বরং বিভিন্ন সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে অস্টিন অন্য শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন, হাস্টন-টিলটসন ইউনিভার্সিটি, সেন্ট এডওয়ার্ডস ইউনিভার্সিটি এবং কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে শহরটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও শিক্ষাজীবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উচ্চশিক্ষার মানের দিক থেকে অস্টিন যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে ২২তম অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহরটির বেকারত্বের হার দেশের অন্যতম কম। বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারেও অস্টিন ৩৪তম অবস্থানে রয়েছে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ খোঁজা কিংবা স্নাতক শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শহরটি আকর্ষণীয় হতে পারে। শুধু শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ নয়, অস্টিনে রয়েছে নানা ধরনের বিনোদনকেন্দ্র, ক্রীড়া ক্লাব এবং কেনাকাটার জায়গা। এসব সুবিধা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরেও সামাজিক জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এমন পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিশিগানের অ্যান আরবার। শহরটি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। উচ্চশিক্ষার মানের সূচকে অ্যান আরবার ১২তম অবস্থানে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য শহরটি বেছে নেওয়ার আগে ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সেখানে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারসহ বার্ষিক গড় ব্যয় ৩৬ হাজার ৯৩২ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যয়টি কম নয়, তবে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৯৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শহরটির উচ্চশিক্ষার সুনামের পেছনে ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষার জন্য পরিচিতি শহরটিকে তালিকার ওপরের দিকে নিয়ে এসেছে। চতুর্থ স্থানে থাকা নর্থ ক্যারোলাইনার রাজধানী র্যালি এবং পঞ্চম স্থানে থাকা জর্জিয়ার আটলান্টাও শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বিকল্প। এই দুই শহর শীর্ষ পাঁচে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহর উচ্চশিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগের সমন্বয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। শহর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে গবেষণার বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের শহরটি শিক্ষার্থীর জীবনযাপনের জন্য কতটা উপযোগী, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। জীবনযাত্রার ব্যয় কম, বিনোদনের সুযোগ বেশি এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য—এমন শহরে কলেজজীবন তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলে পড়াশোনার সময় কিংবা স্নাতক শেষ করার পর চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এই তালিকাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখা উচিত নয়। কোনো শহর সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও সেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার খরচ বেশি হতে পারে। আবার পছন্দের বিষয়ে ভালো সুযোগ থাকা কোনো শহর সামগ্রিক তালিকায় তুলনামূলক পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, আবাসন ব্যয়, বৃত্তি, যাতায়াত, পড়াশোনার বিষয় এবং স্নাতক শেষে চাকরির সম্ভাবনা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, অস্টিন, অ্যান আরবার, শার্লটসভিল, র্যালি ও আটলান্টা ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনের সুযোগ বিবেচনায় শহরগুলো শিক্ষার্থীদের নজর কাড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষাগত লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতিটি শহরের সুবিধা-অসুবিধা তুলনা করে নেওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে। তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।