ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের
মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের

বেইজিংয়ের পারমাণবিক কৌশলে যুক্ত হলো নতুন ও ভয়ংকর এক মাত্রা। নিজেদের উপকূলীয় জলসীমা থেকেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘জেএল-৩’ (JL-3)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। শনিবার (১ আগস্ট) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই যুগান্তকারী পরীক্ষা চালায়। ৬ জুলাইয়ের ওই উৎক্ষেপণে একটি ডামি (নকল) ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা প্রায় আট হাজার কিলোমিটার (পাঁচ হাজার মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে নির্দিষ্ট স্থানে পতিত হয়। ১৯৮২ সালের পর এটিই চীনের প্রথম নিশ্চিত সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে পরিচালিত প্রথম প্রকাশ্যে আসা উৎক্ষেপণ। যদিও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরনটি সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-র মালিকানাধীন ‘গ্লোবাল টাইমস’ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পরীক্ষিত এই আধুনিক সমরাস্ত্রটি মূলত জেএল-৩।   ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া চীনের ‘জুলাং’ (গ্রেট ওয়েভ) কর্মসূচির সর্বশেষ ও সবচেয়ে বিধ্বংসী সংযোজন হলো এই জেএল-৩। এর আগে ১৯৮৬ সালের দিকে প্রথম প্রজন্মের জেএল-১ (যার পাল্লা ছিল মাত্র ১,৭৭০ কিলোমিটার) এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের জেএল-২ (৭,২০০ কিলোমিটার পাল্লা) পরিষেবায় যুক্ত হয়। তবে জেএল-২ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে হলে চীনা সাবমেরিনগুলোকে প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ অতিক্রম করতে হতো, যা চীনের জন্য বড় ধরনের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিবন্ধক। এই সীমাবদ্ধতা চিরতরে দূর করতেই জেএল-৩ তৈরি করা হয়েছে। এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর ঝুঁকি নিয়ে উন্মুক্ত জলসীমায় না গিয়ে নিজেদের নিরাপদ উপকূল থেকেই মার্কিন ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব হবে।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তৈরি হওয়া এই জেএল-৩ মূলত একটি তিন ধাপবিশিষ্ট কঠিন জ্বালানিচালিত (সলিড-ফুয়েল) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। কঠিন জ্বালানি হওয়ায় এটি তরল জ্বালানির তুলনায় বেশি নিরাপদ, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং সাবমেরিন থেকে যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো ‘মার্ভ’ (MIRV) প্রযুক্তির ব্যবহার। এর ফলে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক স্বাধীন লক্ষ্যভেদী পারমাণবিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা যায়। ধারণা করা হয়, এর প্রতিটি ওয়ারহেডের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ২৫০ থেকে ১,০০০ কিলোটন, যা দিয়ে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব।   ২০১৮ সালের নভেম্বরে বোহাই সাগরে জেএল-৩-এর কোল্ড-লঞ্চ ইজেকশন সিস্টেম পরীক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এরপর টাইপ-০৩২ ডিজেল-ইলেকট্রিক এবং টাইপ-০৯৪ পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে আরও কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়। বর্তমানে চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্রধান ভরসা হলো টাইপ-০৯৪ (জিন-শ্রেণি) সাবমেরিন। প্রচলিত সাবমেরিনের চেয়ে এগুলোর গোপন চলাচলের সক্ষমতা এবং সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষমতা অনেক বেশি। বর্তমানে চীনের অন্তত ছয়টি এমন পারমাণবিক সাবমেরিন সক্রিয় রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১২টি করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সফল পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিকতায় জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০২২ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের নৌবহরে যুক্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন উদ্বেগের কারণ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত I ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, জর্ডানের মাটিতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় শুক্রবার (স্থানীয় সময়) এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে।   সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত জর্ডানের একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত অন্য কয়েকজন সেনা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বেও ফিরেছেন।   বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুঃখজনক খবর অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। অঞ্চলজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত বড় একটি ধাক্কা এবং অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এর আগেও ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আরও ৫ জন মার্কিন সেনা নিহতের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছিল ওয়াশিংটন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হচ্ছে যে, তাদের হামলায় শত শত মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে আরও বেশি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১০, আহত ৮০

ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, এই অবিরাম হামলায় রাশিয়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র—যার মধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক—এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধসে পড়া নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   দ্য কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক শহরকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ‘ফ্যাব-২৫০’ গাইডেড এরিয়াল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত তিনজন।   হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সম্ভাব্য 'ডাবল ট্যাপ' বা দ্বৈত হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে রাশিয়া, যেখানে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি গাইডেড মিসাইল এবং ১১১টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে।   অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে সহায়তায় গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজেদের মাটিতেই ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল, যার ফলে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল।   ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি মার্কিন নীতির একটি অভাবনীয় পরিবর্তন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিয়েভকে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো সরবরাহ করত, কিন্তু ইউক্রেনকে তাদের নিজেদের মাটিতে এগুলো তৈরির অনুমতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মজুত কমে আসা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বারবার ইউক্রেনের এই লাইসেন্স পাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও সম্প্রতি ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন বা নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখানে ওই তিন নেতার মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
ইয়েমেন থেকে তৃতীয়বারের ব্যালিস্টিক হামলা ইসরায়েলে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে তৃতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে।   হুতিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে “ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু” নিক্ষেপ করেছে। যদিও হামলা চালানো হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এই গোষ্ঠী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তবে তিন ঘণ্টার মধ্যে হুতির বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির হয়ে উঠেছে।  

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: ১০ সেনা আহত, কাতারেও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা এবার ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েত ও কাতারে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) কুয়েতের একটি সেনাক্যাম্পে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলায় সামরিক বাহিনীর ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ‘বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় মোট ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। আহত সেনাদের বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কুয়েত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।   এদিকে কাতারেও হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন কাতারকে লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছিল। তবে কাতারি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সফলভাবে সমস্ত ড্রোন মাঝ আকাশেই প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো অঞ্চল জুড়ে এখন এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় পতিত একটি প্রতিহতকৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ | ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ ভারতীয় নাগরিক আহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস (কেজেডএডি) কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করলে এর ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে গুজব থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটনকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে যুক্তরাজ্যের ভূমিও নিরাপদ থাকবে না।   একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি উড্ডয়নকালেই ব্যর্থ হয়। অন্যটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ইন্টারসেপশন কতটা সফল হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার সময়কাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি।   ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে এই হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা তাদের পূর্বের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। এই ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

তাবাস্সুম মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০