সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১০, আহত ৮০

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ১৬:৪২
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, এই অবিরাম হামলায় রাশিয়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র—যার মধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক—এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধসে পড়া নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

দ্য কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক শহরকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ‘ফ্যাব-২৫০’ গাইডেড এরিয়াল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত তিনজন।

 

হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সম্ভাব্য 'ডাবল ট্যাপ' বা দ্বৈত হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে রাশিয়া, যেখানে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি গাইডেড মিসাইল এবং ১১১টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে।

 

অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে সহায়তায় গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজেদের মাটিতেই ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল, যার ফলে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল।

 

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি মার্কিন নীতির একটি অভাবনীয় পরিবর্তন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিয়েভকে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো সরবরাহ করত, কিন্তু ইউক্রেনকে তাদের নিজেদের মাটিতে এগুলো তৈরির অনুমতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মজুত কমে আসা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বারবার ইউক্রেনের এই লাইসেন্স পাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও সম্প্রতি ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন বা নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখানে ওই তিন নেতার মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের পুলিশ ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া তাদের ভূখণ্ডে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, রসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি বিশাল ভূমিধসের কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এটি ৫.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিধস ছিল, যা প্রাথমিকভাবে ভুলবশত ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।   ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে অন্তত ৪০৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অন্তত ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটক রয়েছেন।   ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল নামের একটি নেপালি পর্যটন সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ তিন মার্কিন নাগরিক তাদের ব্যবস্থাপনায় ভ্রমণ করছিলেন। এছাড়াও নিখোঁজদের তালিকায় ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসের পর্যটকরা রয়েছেন।   নেপালের পর্যটন বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা পর্যটকদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।   বিপর্যয়ের পরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে ইতোমধ্যে ৬৫৬ জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।   তবে নেপালের পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাঠমান্ডু ও বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।   আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে আকাশপথে উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও কাঠমান্ডুস্থ মার্কিন দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি প্রয়োজনে তাদের নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৬:২০
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক

মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক

প্রায় ৭ কোটি বছর আগের এক সমুদ্রজগতের অস্তিত্বের প্রমাণ

মরুভূমির নিচে ৭ কোটি বছরের প্রাচীন হাঙরের জগতের সন্ধান

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পিআইএমএস হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় ফেলে যাওয়া চার্লস ফয়ের ল্যাব্রাডর কুকুর। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশকে ফাঁকি দিতে ল্যাব্রাডরকে ফেলে পালালেন, কুকুরই ধরিয়ে দিল মালিককে

ইংল্যান্ডের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় নিজের একটি ল্যাব্রাডর কুকুরকে ফেলে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী চার্লস ফয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কুকুরই পুলিশকে সরাসরি তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির চিলেকোঠায় ইনসুলেশনের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ফয়কে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চলতি আগস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফয় তখন দুটি কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ই-স্কুটারে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি তা উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি সরু গলি ও বন্ধ সড়ক দিয়ে ই-স্কুটার চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়ের কাছ থেকে গাঁজার তীব্র গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। পালানোর সময় ই-স্কুটারের গতি ধরে রাখতে না পেরে একটি ল্যাব্রাডর পিছিয়ে পড়ে। ফয় কুকুরটিকে সেখানেই রেখে চলে যান। এরপর এক পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নেমে কুকুরটির পিছু নেন।   কুকুরটি সরাসরি বিখনফিল্ড রোডের একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশও তাকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে যায়। বাড়িটি বাইরে থেকে খালি মনে হলেও ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় কর্মকর্তারা খোলা একটি চিলেকোঠার দরজা দেখতে পান। পরে ইনসুলেশনের কয়েকটি স্তরের নিচে লুকিয়ে থাকা ফয়কে খুঁজে বের করা হয়।    পুলিশের কাছে ফয় দাবি করেন, তিনি চিলেকোঠায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং ওই রাতে ই-স্কুটার চালাননি। তবে আদালতে তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো, ইন্স্যুরেন্স ছাড়া মোটরযান ব্যবহার এবং ড্রাগ টেস্টের নমুনা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন।    ওয়ারিংটন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ৭ আগস্ট শুনানি শেষে ফয়কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার বছর তিন মাসের জন্য তার ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করা হয়।    চেশায়ার পুলিশ পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা কুকুরটির সঙ্গে কথা বলছেন এবং সেটিকে অনুসরণ করে তার মালিকের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন।   পুলিশ কর্মকর্তা মাইক স্মিথ বলেন, পালানোর সময় ফয় নিজের কুকুরকে ফেলে গেলেও কুকুরটি শেষ পর্যন্ত পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের সরাসরি মালিকের বাড়িতে নিয়ে যায়।    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির আনুগত্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মালিক পুলিশকে ফাঁকি দিতে চাইলেও, তার ফেলে যাওয়া সঙ্গীই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে তার অবস্থান প্রকাশ করে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৪:৩৭
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাকার্তার পালমেরাহ এলাকায় জব্দ করা ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা পুড়িয়ে বিপাকে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ, ধোঁয়ায় ‘হাই’ বাসিন্দারা

চীনের শানডং প্রদেশের নাইট মার্কেটে প্রথাগত স্যুট-টাই পরে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ লু। ছবি: সংগৃহীত

স্যুট পরে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করে মাসে আয় প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ডলার! তরুণ রাঁধুনি ভাইরাল

অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাদামা গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙলেন উগ্র ডানপন্থী আইনপ্রণেতা

যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা

সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া এক কিশোরও চাইলে মিউনিসিপ্যাল বা নগর অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় অনায়াসেই হ্যাক করতে পারে। এর জন্য তাকে খুব উঁচু মাপের কোনো সাইবার বিশেষজ্ঞ হতে হবে এমন নয়, বরং শুধু জানতে হবে দুর্বলতাগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে।   ঠিক এমনভাবেই সাধারণ ডিফল্ট পাসওয়ার্ড আর উন্মুক্ত পোর্টের সুযোগ নিয়ে চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা।   তারা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষকে ম্যানুয়াল পাম্প ও ভালভ ব্যবহারের দিকে ফিরে যেতে হয়। সাবেক হ্যাকার এবং সাইবার সিকিউরিটি স্টার্টআপ 'রিমেডিও'-এর সিইও তাল কোলান্ডার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি মোটেও বিস্মিত হননি, বরং এটি হতে এত বেশি সময় কেন লাগল, সেটাই তার আশ্চর্যের বিষয়।   এই সাইবার হামলার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, পানির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে খুব বেশি উন্নত বা জটিল কোনো প্রযুক্তিরও প্রয়োজন হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এসব সাইবার দুর্বলতা রয়েই গেছে। তবে ইরানের সাথে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এই হামলার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের দৈনন্দিন নির্ভরতার জায়গাগুলোতে—যেমন: ট্যাপের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কিংবা ট্রেনের সময়সূচিতে—অস্থিরতা তৈরি করে জনগণের আস্থায় চিড় ধরানো।   এটি এক ধরনের অসম যুদ্ধ, যেখানে সরাসরি সীমান্তে যুদ্ধ না করেও বহুগুণ ক্ষতিসাধন করা যায়। কোনো ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক না করে বা সীমান্ত অতিক্রম না করেই তারা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, যেন মানুষ খোদ নিজেদের পানযোগ্য পানির নিরাপত্তা নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের তুলনায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি অরক্ষিত। কারণ, এই ব্যবস্থাগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় সরকারের অধীন, যাদের সীমিত বাজেটের বড় অংশ স্কুল, যাতায়াত ব্যবস্থা ও অন্যান্য স্থানীয় অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করতে হয়।   হামলাকারীরা এখন জেনে গেছে ঠিক কোন উপায়ে আঘাত করতে হবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সাইবার হামলা কেবল পানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিদ্যুৎ, গণপরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সম্পূর্ণ মিউনিসিপ্যাল অবকাঠামোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   বর্তমানে হ্যাকাররা তাদের সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করছে। তারা অনুভূমিকভাবে একসঙ্গে হাজার হাজার সিস্টেমে দুর্বলতা খুঁজতে পারে, যা কোনো মানুষের পক্ষে এককভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। অথচ সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এখনো সনাতন পদ্ধতিতে একটির পর একটি ডিভাইসের সমস্যা উলম্বভাবে সমাধান করে যাচ্ছেন।   এ অবস্থায়, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) এবং এফবিআই যতই সতর্কবার্তা দিক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না দুর্বলতাগুলো মেরামত করা হচ্ছে, ততক্ষণ ঝুঁকি থেকেই যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে বিরাট কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই, বরং 'সাইবার হাইজিন' বা সাইবার স্বাস্থ্যবিধিকে একটি সার্বক্ষণিক পরিকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।   নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করে তা দ্রুত সমাধান করাই হতে পারে এই সাইবার যুদ্ধের মোক্ষম হাতিয়ার।   ইরান যেহেতু তাদের পরবর্তী সাইবার আক্রমণের জন্য যুদ্ধের সমাপ্তির অপেক্ষা করবে না, তাই যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৮:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র I  গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র

ইরানের শীর্ষ ৫ কমান্ডারের খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের  I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ইরানের শীর্ষ ৫ কমান্ডারের খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান

ইরান ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের

0 Comments