বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মার্কিন করদাতার অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ট্যুরিস্ট (পর্যটন) বা স্টুডেন্ট (শিক্ষা) ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (Vetting process) আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পর্যালোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিশর, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৭৫টি দেশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী: জামিনের পর নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুও নিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি জানান তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি লিখেছেন, “আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই, ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন।”   এর আগে শুক্রবার ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।   পুলিশ জানায়, লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত হয়।   পুলিশের হেফাজতে থাকা হিশাম আবুঘারবিয়া, যিনি ইউএসএফ-এর সাবেক শিক্ষার্থী, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রয়েছেন।   নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।   উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউএসএফ-এ পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে জামিল লিমনও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যেও এই খবর তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।   আরেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই ক্যাম্পাসকে সবসময় নিরাপদ মনে হতো। কিন্তু এমন ঘটনার পর এখন ভয় কাজ করছে।”   জামিল লিমন ক্যাম্পাসের উত্তরে ‘অ্যাভালন হাইটস’ অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তার এক প্রতিবেশী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন নিখোঁজ দুজন হয়তো কোথাও গেছেন।   কিন্তু পরে ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে সবাই শোকাহত হয়ে পড়েন।   ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট তৌহিদ দেওয়ান
যৌন হেনস্থার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ম্যানহাটন ডিএ অফিসের বাংলাদেশী কর্মকর্তা

খোদ অপরাধ দমন ও প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) অফিসের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট তৌহিদ দেওয়ানকে (২৮) সাবওয়ে ট্রেনে এক নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কুইন্সের জংশন বুলেভার্ড স্টেশনে ৭ নম্বর ট্রেন থেকে নামার সময় ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই এনওয়াইপিডি ট্রানজিট ব্যুরো তাকে হেফাজতে নেয়। তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ করা, তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নির্যাতন এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারে এমন আচরণেরও (acting in a manner injurious to a child) অভিযোগ আনা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ঘটনার সময় আশেপাশে কোনো শিশু উপস্থিত ছিল। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর তৌহিদ দেওয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তৌহিদ ২০২২ সাল থেকে ডিএ অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং অপরাধ দমন কৌশল ইউনিটের অংশ হিসেবে বড় বড় অপরাধীদের বিচারিক কাজে সহায়তা করে আসছিলেন। গত বছর একটি বড় ধরনের অস্ত্র পাচার মামলার তদন্তেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত বুধবার কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করা হয়। ডিএ অফিসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হয়ে নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্কের প্রবাসী কমিউনিটি ও প্রশাসনের ভেতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: এআই
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে

তারেক রহমানের সরকারকে ক্ষমতায় আনা যে বিপ্লব, তা কোনোভাবেই একটি স্বৈরাচারের পরিবর্তে আরেকটি করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছিল না যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে। ইতিহাসে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের অধীনস্থতার অংশীদার হয়ে যায়।   বাংলাদেশ, যা এখনো একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে, তাড়াহুড়ো করে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আরেকটি শক্তির প্রভাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচিত নন এমন এক তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যিনি এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেননি দেশকে এমন এক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছেন, যা জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করতে পারে।   ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade (ART) এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে সরকার “সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে এটি এক ধরনের আনুগত্যের প্রকাশ।   অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক প্রশ্ন   বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫এ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না, বিশেষ করে যেগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে।   তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ১৫ বছরের জ্বালানি নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের আমদানি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে “ডকট্রিন অব নেসেসিটি” বা ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে- যার মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়। তবে ইতিহাস বলছে, এই তত্ত্ব প্রায়ই সাময়িক ব্যবস্থাকে স্থায়ী করে তোলে।   এই চুক্তির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক চাপ। বাংলাদেশকে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।   কিন্তু চুক্তির মাত্র ১১ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক আরোপকে আইনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ, যে কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে, সেই কারণই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।   ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এমন এক সমস্যার সমাধানে বড় মূল্য দিয়েছে, যা হয়তো আইনগতভাবে টেকসইই ছিল না।   গোপন শর্ত    চুক্তির গোপন বা সূক্ষ্ম শর্তগুলো আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে “নন-মার্কেট ইকোনমি” দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পণ্য যেমন LNG, সয়াবিন ও বিমান ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের চুক্তি আধুনিক বিশ্বে সরাসরি দখলদারিত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক ও নীতিগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি।   সংসদের ভূমিকা    এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আগামী সংসদ এই চুক্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।   বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের উচিত এই চুক্তি পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া।   বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, তা কোনোভাবেই আরেক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরতার জন্য ছিল না। যদি এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশকে এমন এক অবস্থায় পড়তে হতে পারে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু স্বাধীনতা থাকবে না।   আব্দুল্লাহ রুবাইয়াত চৌধুরী একজন সমাজবিজ্ঞানী এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল নলেজ ইনিশিয়েটিভ-এর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোক্টর। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে: robin.chw@gmail.com। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
স্বপ্নের শহর ছাড়ছেন হাজারো অভিবাসী
নিউইয়র্কে আর টেকা দায়! স্বপ্নের শহর ছাড়ছেন হাজারো অভিবাসী, দিশেহারা বাংলাদেশিরাও

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বহু বছর ধরে হাজারো অভিবাসীর প্রথম পছন্দ ছিল নিউ ইয়র্ক সিটি। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে এই শহর ছিল সুযোগ, আয় এবং স্থায়ী ভবিষ্যতের প্রতীক।   তবে সময় বদলেছে। আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং করের চাপের কারণে এখন অনেকেই বলছেন—নিউইয়র্কে আর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।   আরো পড়ুন: জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য   সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন। শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও।   আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ মিডটার্ম নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১ কোটি ৬০ লাখ অভিবাসী ভোটার   অনেক বাংলাদেশি পরিবার জানিয়েছেন, আগে যেখানে একটি পরিবারের একজন উপার্জন করেই সংসার চালানো যেত, এখন সেখানে দুইজন কাজ করেও খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাড়িভাড়া, গাড়ি বীমা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর ডে-কেয়ার ও মুদি বাজারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার সঞ্চয় করতে পারছে না।   আরো পড়ুন: মামদানির বক্তব্যে নিউইয়র্কের পর জাতীয় রাজনীতির আভাস   ফলে অনেকে নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং জর্জিয়া -এর মতো তুলনামূলক কম খরচের স্টেটে চলে যাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে চাকরির সুযোগ এখনও রয়েছে, তবে সেই আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ীও বাড়তি ভাড়া ও শ্রম ব্যয়ের কারণে দোকান বা রেস্টুরেন্ট টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে নতুন অভিবাসীদের জন্যও শহরে শুরুটা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই বলছেন, একসময় নিউইয়র্ক মানেই ছিল স্বপ্নের ঠিকানা। এখন সেই স্বপ্নের শহরে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বদলের।   সব মিলিয়ে, সুযোগের শহর হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক সিটি এখন নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন উঠছে—স্বপ্নের শহর কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?   সূত্র: স্থানীয় অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, অভিবাসন প্রবণতা প্রতিবেদন, নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যায় রেকর্ড বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই হার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম দ্রুততম বর্ধনশীল অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। সম্প্রতি মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের এই প্রবৃদ্ধির হার অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের পরে তালিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং নেপাল। বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি মার্কিনী অর্থনীতি ও সমাজে বাঙালিদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমশক্তির প্রায় ১৮ শতাংশই অভিবাসী। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মার্কিন শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অভিবাসী পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় (৮২,৪০০ ডলার) বর্তমানে মার্কিন বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর গড় আয়ের (৮১,৪০০ ডলার) তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক কারণে দেওয়া সুরক্ষা (Humanitarian protections) বাতিল এবং অস্থায়ী ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কমে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে জ্বালানি টানাপোড়েন: কোন দেশ কীভাবে সামাল দিচ্ছে

২০২৬ সালের ‘হরমুজ সংকট’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ কৌশলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।   সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে রয়েছে জাপান। দেশটি তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে ইতোমধ্যে ৪৫ দিনের সরবরাহ ছেড়েছে এবং আরও ২০ দিনের রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।   ভারত তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে কর কমানো, এলপিজি রেশনিং এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।   অন্যদিকে পাকিস্তান গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল রেশনিংয়ের পরিকল্পনাও করছে সরকার।   মালয়েশিয়া বিশাল ভর্তুকির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকটে পড়েছে; নাগরিকদের বিকল্প জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   তুরস্ক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আফ্রিকায় মরক্কো আমদানি নির্ভরতার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্র বড় উৎপাদক হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং কৌশলগত মজুত কমে এসেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে রপ্তানিতে কর আরোপ করেছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে এবং কর কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশ-এর মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম চুক্তি (হেজিং), এবং কৃষিতে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো।   বিশ্ব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।”   তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।”   অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারপ্রণয় ভার্মার এর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।   আলোচনায় স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে। সে সময় ভারত সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী।   এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে তিনি দুই দেশের আন্তরিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।   অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।   এ সময় হাইকমিশনার স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশমুখী জাহাজ চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান ঢাকার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে ১ এপ্রিল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে তেহরান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়ে ইরান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, সেখানে এখন তা কমে দিনে মাত্র ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও বাংলাদেশীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিন পার্টি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগর থেকে বাংলাদেশীসহ ১৮ নাবিককে উদ্ধার করলো পাকিস্তানের নৌবাহিনী

উত্তর আরব সাগরে এক ভয়াবহ বিপদ থেকে ১৮ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী। যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ 'গোল্ড অটাম' (GOLD AUTUMN) থেকে এই নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।  অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে জরুরি সংকেত পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার করা নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃত ১৮ জন নাবিককেই ইতিমধ্যে করাচি বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার (প্রত্যাবাসন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।   পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে।   কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম।   তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাবমেরিন কেবল রক্ষণাবেক্ষণ: তিন দিন ধীর হতে পারে দেশের ইন্টারনেট

দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ (SEA-ME-WE-5)-এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে টানা প্রায় ৮০ ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি ধীর হতে পারে। এ সময় ব্যবহারকারীরা আংশিক সেবা বিঘ্ন বা ধীরগতির সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে কুয়াকাটায় অবস্থিত এই কেবলে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে।   এই সময় ‘ট্রাফিক অ্যাফেক্টিং’ কাজ চলায় সি-মি-উই-৫ কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ—বিশেষ করে সিঙ্গাপুরমুখী ডেটা ট্রান্সমিশন—সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।   তবে বিকল্প হিসেবে কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৪ (SEA-ME-WE-4) সচল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।   বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। ফাইল ছবি
ফেনী সীমান্তে শিরীন শারমিন আটক—ফটোকার্ড নিয়ে যা জানা গেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—ফেনী সীমান্ত থেকে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ আটক করা হয়েছে। ফটোকার্ডটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নামে প্রচার করা হয়, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ দাবি সঠিক নয়। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হলেও তা ফেনী সীমান্ত থেকে নয় এবং তার কাছে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি।   তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।   অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটি Channel 24-এর নামে তৈরি করা হলেও সেটি বিকৃত। মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিতে পুলিশ সদস্যদের হাতে স্বর্ণের বারভর্তি একটি ব্যাগ যুক্ত করা হয়েছে, যা আসল ছবিতে ছিল না।   বিষয়টি যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করা হলে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।   এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের আসল পোস্ট ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকেই আটক করা হয়েছে।   পরে আদালতে তাকে একটি মামলায় হাজির করা হলে রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   সব মিলিয়ে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ফেনী সীমান্ত থেকে স্বর্ণসহ আটক করার যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে নতুন অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।   বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও জোরদার করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।   এদিকে, সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।   জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এই সফরে অংশ নিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নিউইয়র্কের সড়কে ঝরল চার প্রাণ: বাবা-ছেলের মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি

এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি নয়, আপাতত ক্রিকেটেই মনোযোগ: বিতর্কের জবাবে সাকিব আল হাসান যা বললেন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বর্তমান সংসদ সদস্যদের; অর্থমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।   কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে আবারও নৌকাডুবি: নিখোঁজ ৭০, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। এ ছাড়া দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইতালির কোস্টগার্ড ও ইতালীয় এনজিও মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান-এর বরাতে গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।   উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। জীবিতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়।   জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তারা একটি পর্যবেক্ষণ বিমান পাঠায়। সেই বিমানের ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযানের তলদেশে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী।   এনজিও সূত্রে জানা যায়, নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউরা উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরুষ সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোনে, বৌরি অয়েল ফিল্ডের উত্তর-পূর্বে ডুবে যায়।   উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও মরদেহগুলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসা-এ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।   এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান নিখোঁজদের প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।   উল্লেখ্য, ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম।   এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।   চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।   এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।   এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0