সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনল অ্যাপল
বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনল অ্যাপল, মস্তিষ্কের সংকেত শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি স্টার্টআপ সোনেরা ম্যাগনেটিকস অধিগ্রহণ করেছে অ্যাপল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অ্যাপল বা সোনেরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি।    সোনেরা এমন একটি নন-ইনভেসিভ সেন্সর প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা শরীরে কোনো যন্ত্র বসানো বা ত্বকে ইলেকট্রোড লাগানো ছাড়াই মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংকেতভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খুলির মধ্য দিয়ে সংকেত দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখানো হয়েছে।    সোনেরা ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষণার পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিশিতা ডেকা, ডমিনিক লাবানোস্কি ও সায়ীফ সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি প্রকাশ্যে আসার সময় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্তের প্রযুক্তিকে আরও ছোট, বহনযোগ্য ও সহজলভ্য করা।    সোনেরার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এস১ চিপ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি পেশির কার্যকলাপ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, নিউরোমাসকুলার রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শরীরে পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইসে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।    অ্যাপলের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে স্বাস্থ্য ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধার ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচ বা অন্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে কোনো ইমপ্ল্যান্ট বসানো ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে সোনেরা অধিগ্রহণের পর অ্যাপল ঠিক কোন পণ্যে বা কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।    বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিভাগে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে চৌম্বকীয় সেন্সর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ম্যাটেরিয়ালস ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রয়েছে।    সায়ীফ সালাহউদ্দিনের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সম্মাননা দেন। প্রাথমিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।   অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সোনেরার নির্দিষ্ট সম্পদ অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ও ছিল। অধিগ্রহণের পর সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়।    সোনেরার প্রযুক্তি এখনো ব্যাপক ভোক্তা ব্যবহারের পণ্য হিসেবে বাজারে আসেনি। তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের চৌম্বকীয় সংকেত ছোট আকারের সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করার সক্ষমতা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের আগ্রহের বিষয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা

নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে।   এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে।    হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়।    কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়।    লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।    লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।   থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে।    ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।   পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়।    শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।   বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে।    ডোরাভিলের আল-আমিনের ও  জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে।   ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।   হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।    পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়।    এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে।   বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।   আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।    এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে।   নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক অভিযুক্তের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
শাপলা চত্বর মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ পলাতক ৩০ অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে এ আদেশ দেন। মামলায় মোট ৪১ জন অভিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন বর্তমানে পলাতক এবং তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলায় অভিযুক্ত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বুধবার সকালে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাঁর আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রুপাসহ ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার পলাতক অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য এর আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। পরে তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রিজভীর বক্তব্য
ব্রিকসে না গিয়ে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন তারেক রহমান: রিজভী

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না থাকায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান অংশ নেবেন না—এ কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির কথা বলে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিছক কারিগরি ত্রুটি নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। রিজভীর এই দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ফেরত আনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বিষয়টিকে তিনি গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশে যাদের বিচার চলছে, তাদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্ন তোলেন।   দেশের অর্থনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দল সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারছে এবং দেশে গুম বা জুলুমের মতো ঘটনা ঘটছে না। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নষ্ট করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন রিজভী। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এই স্থানের প্রতি অসম্মানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন।   মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল।    Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাঁধনের বার্তা, ‘দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবুন’

ইতালির ভেনিসে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়, জুলাই আন্দোলনে নিজের অবস্থান, পরিবারের সদস্যদের হয়রানি এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের আচরণ নিয়েও কথা বলেছেন।   বাঁধনের অভিযোগ, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার দাবি, তারা তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়েছিলেন। একপর্যায়ে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের কাছেও আঘাত করা হয় বলে জানান তিনি।   বাঁধন আরও বলেন, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাগুলোর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছিল বলেও তিনি জানান।   নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজের সেই ভূমিকা নিয়ে তিনি গর্বিত। তার অভিযোগ, ওই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই ইতালিতে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।   তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও ভাই, ভাবি ও ছোট শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণ তাকে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানান বাঁধন। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের পরিবারও তার সঙ্গে ছিল। ছোট শিশুটিকে ঘিরে হামলাকারীদের আচরণকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।   ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও দৃঢ় অবস্থান জানান বাঁধন। তিনি ইতালির পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং আট বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছেন। ইতালির পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে।   বাঁধন জানান, ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট তাকে সহযোগিতা করেছে। স্থানীয় পুলিশও তাকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনস্যুলেট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত শুনেছেন এবং ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।   ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার টিমের পক্ষ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং তাকে টিম থেকে দূরে রাখার এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে তার সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   বাঁধন আরও জানান, ইতালিতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সহায়তা দিয়েছে এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও তাকে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে, বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ইতালির স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: প্রথম আলো, নিউজ২৪

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।   বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।   স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অর্থ রয়েছে সুইস ব্যাংকেও

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তার বাবা এবং সাবেক দুই সহকারীকেও রাখা হয়েছে। তানজীর আহমেদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসিফ মাহমুদের প্রভাব ছিল কি না, অভিযোগ অনুযায়ী কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, অনুসন্ধানে সেসব বিষয় যাচাই করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি, বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ওঠা আর তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ পাচার, বিদেশে সম্পদ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা কেএল-ইয়েস কর্মসূচি। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির প্রাথমিক আবেদন বর্তমানে চলছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা।   ইয়েস কর্মসূচি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। বাংলাদেশে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে আইইএআরএন-বাংলাদেশ। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন এবং একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকবেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো, মার্কিন সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে মার্কিন কমিউনিটির মানুষকে জানার সুযোগ পাবেন।   ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে। তাকে বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজের অষ্টম, নবম, দশম অথবা একাদশ শ্রেণিতে পড়তে হবে। বেসরকারি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও বাসিন্দা হতে হবে।   শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর গড়ে কমপক্ষে বি গ্রেড বা সমমানের ফলাফল থাকতে হবে এবং কোনো বিষয়ে ফেল করা যাবে না। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত ফলাফলের নথি জমা দিতে হবে। গত তিন শিক্ষাবর্ষে কোনো বিরতি বা কোনো শ্রেণি পুনরায় পড়ার ইতিহাস থাকলেও আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের জে-১ বিনিময় ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং ইংরেজিতে কথা বলা ও পড়াশোনা করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।   আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে আবেদন করা যাবে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা মিশনে বর্তমানে কর্মরত কোনো অভিভাবকের সন্তান এবং ইয়েস কর্মসূচির বর্তমান অংশগ্রহণকারীর ভাই বা বোনও এই সুযোগের জন্য যোগ্য নন।   আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর বাছাই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা, তত্ত্বাবধানে লিখিত পরীক্ষা, পূর্ণাঙ্গ আবেদন এবং সাক্ষাৎকার দিতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক আবেদন জমা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।   আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি, জন্মসনদের পরিষ্কার কপি এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব নথির নির্ধারিত বৈদ্যুতিন কপি জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।   প্রাথমিক আবেদন শুরু করতে নির্ধারিত আবেদন ব্যবস্থায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় একটি যাচাইকরণ বার্তা পাঠানো হবে। ই-মেইল ঠিকানা যাচাই করার পর আবেদন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষাগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিটি অংশের তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর তা সংরক্ষণ করতে হবে।   সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনটি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। তথ্য নিশ্চিত করার পর আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। এরপর স্বাক্ষরের পাতা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিতে হবে এবং সেটির পরিষ্কার কপি জমা দিতে হবে। সবশেষে আবেদন জমা দিলে আবেদনকারীর ই-মেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে আবেদনকারীর পরিচিতি নম্বর এবং আবেদনপত্রের একটি কপি পাওয়া যাবে।   এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ, মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ বহন করা হয়। তবে পাসপোর্ট তৈরির খরচ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান এবং ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ কর্মসূচির আওতায় পড়ে না।   ইয়েস কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া নয়, বরং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা।   ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি, শিক্ষাগত ফলাফল, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে।   অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।   এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে।    সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।   চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্পিনার বা সুতাকল মালিকদের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়সীমা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে আগামী নভেম্বরে চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম। ‘অ্যামেরিবংলা ইউএস কটন ওয়্যারহাউস’ নামের এই গুদামটি ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইজারা নেওয়া একটি জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।   প্রাথমিকভাবে এখানে ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা মজুত থাকবে এবং পরবর্তীতে এটি আনোয়ারা ফ্রি ট্রেড জোনের স্থায়ী স্থাপনায় স্থানান্তরিত হবে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে প্রায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগে। গুদামটি চালু হলে দেশে বসেই কাঁচামাল পাওয়ার কারণে এই দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।   তবে তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য তুলার দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল জানান, স্পিনাররা দ্রুত তুলা পাওয়ার পাশাপাশি এই মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেতে পারে, যা দেশের পুরো পোশাক খাতের জন্যই ইতিবাচক।   অ্যামেরিবংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসওয়ার রহমান জানিয়েছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই দেশের বর্তমান ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।   এই লক্ষ্যে মার্কিন কাঁচা তুলা নিলামের জন্য তারা ‘কটনপোর্ট’ নামের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসও চালু করেছেন। আগামী ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে তাদের ‘অল আমেরিকান কটন সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রত্যয়িত তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে একসময় যেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত, আজ সেখানে আজানের ধ্বনি আর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সুর ভেসে আসে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম শান্তিতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান ও লন্ডনপ্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেলের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।   বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি একটি পুরোনো মদের বার কিনে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত করেছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রূপান্তরিত এই সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪৫ লাখ) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এই মসজিদটির নামকরণ করেছেন নিজের মায়ের নামে।   তবে শুধু পূর্ব লন্ডনের এই মসজিদ নির্মাণেই জিয়া বিন রাসেলের দাতব্য কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারের আড়ালে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে বহুমুখী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের গাজা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি।   পাশাপাশি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান প্রদান, দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ বিতরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনিক শিক্ষায় নিয়মিত সহায়তা করে আসছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তায় ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন।   বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অধীনে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   জিয়া বিন রাসেল বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির অসংখ্য মহৎ কাজই কোনো ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কেবল সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই তার সহকর্মীরা সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।   লন্ডনে বার থেকে মসজিদ নির্মাণ হোক কিংবা গাজা-সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তার প্রতিটি পদক্ষেপই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ

মালদ্বীপে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মো. বাবুল মিয়াকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।   ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাবুল মিয়ার নাম, বয়স ও নাগরিকত্বের তথ্য প্রকাশ করে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন। বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনকে জানাতে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে তাকে কেন ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   তথ্য দিতে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইলে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটির রেফারেন্স নম্বর IF-RM/2026/04।   তবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলার তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই; কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ শব্দটি শুধুমাত্র তাদের বিজ্ঞপ্তির ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। তবে কাজের জন্য H, L, O, P ও R শ্রেণির মতো পিটিশনভিত্তিক কিছু ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। E শ্রেণির ভিসায় ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য K শ্রেণির ভিসায় ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে।   ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও আলাদা ফি প্রযোজ্য। অনুমোদিত I-130, I-600 বা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ফি ৩৪৫ ডলার এবং অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ২০৫ ডলার নির্ধারিত রয়েছে।   ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার কোথায় হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ বা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অন্য দেশে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসই ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি। তবে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।   এদিকে ২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচিতে নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে চালু নয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, বর্তমান ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম এবং দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফি পরিশোধের পর তা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।   বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।   ১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।   ২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।   এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।   ৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।   আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।   ৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।   ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।   মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়।   এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।   ৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।   বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।   এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।   বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।   তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।   পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।   তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।   অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

অ্যামেরিকায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস—আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনার। এ উপলক্ষে মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডিট্রইট ডাউনটাউনের রেনেসাঁ সেন্টার ও হান্টিংটন প্লেইসে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের এই আয়োজন। মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া- আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনারে নর্থ অ্যামেরিকা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা সপরিবারে অংশ নেবেন। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ক্যারিয়ার ও স্টেম ফেয়ার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থী- তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেশন থাকবে বলে জানান, আবিয়ার প্রেসিডেন্ট মনির জামান ও সেক্রেটারি সাদেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। তিন দিনের আয়োজনে থাকবে মিট অ্যান্ড গ্রিট, গালা ডিনার ও সানসেট রিভার ক্রুয। সংগঠনটির মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফয়েজুল মোমেন জানান, এ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন সামিনা চৌধুরী, দিলশাদ নাহার কণা, প্রতীক হাসান ও ইমরানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও স্টেম পেশায় উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল হাসান শাহীন, জাকিরুল হক, গোলাম মর্তুজা, মাহমুদ সালাম, কাজী সোহেল আহমেদ ও মৌলি আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।   সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।   শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী।   দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন।   আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি
বাংলাদেশে ভ্রমণ না করতে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইসরায়েল ও ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়া। এসব দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, এই মূল্যায়ন নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি নয়। বরং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।  মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  আগামী অক্টোবর মাসে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে এবং একই সময়ে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর, বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপে, সর্বোচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ না করতে এবং অবস্থান করলে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ রয়েছে।  বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয়ের চিহ্ন প্রদর্শন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং সিনাগগ, কোশার রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ইহুদি সমাবেশস্থলের আশপাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

সুইজারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে খালি গায়ে মুখে টুথব্রাশ নিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বাজার করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সুইজারল্যান্ডপ্রবাসী এক বাংলাদেশির ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির বর্ণনা দেওয়া হয়। পোস্ট অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে একটি সুপারমার্কেটে বাজার করতে যান। বিষয়টি দেখে দোকানের একজন ম্যানেজার তার এমন অবস্থায় সুপারমার্কেটে আসার কারণ জানতে চান।   ম্যানেজার স্থানীয় ভাষায় তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি দাঁত ব্রাশ করতে করতে খালি গায়ে সুপারমার্কেটে এসেছেন। জবাবে ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে বলেন, “No problem. Our national dress.” অর্থাৎ, “কোনো সমস্যা নেই, এটি আমাদের জাতীয় পোশাক।”   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ছাড়া ঘটনাটির স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোন শহরের কোন সুপারমার্কেটে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন এবং প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ধরে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন এবং বিদেশের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সামাজিক রীতি, পোশাক ও শিষ্টাচার মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন।   আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী মনে করেন, লুঙ্গি বা গামছার মতো দেশীয় পোশাক পরা নিজে কোনো সমস্যা নয়; তবে কোথায় কোন পোশাক বা আচরণ উপযুক্ত, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।   ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা মূলত প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বিদেশি সমাজে প্রচলিত সামাজিক শিষ্টাচার—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে।   সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম

বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে ভিডিও দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। তবে এই বিশাল প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটি উদ্যোগের মাধ্যমে, যার নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তিবিদ জাওয়েদ করিম।   ২০০৫ সালে পেপ্যালের সাবেক দুই সহকর্মী স্টিভ চেন ও চ্যাড হার্লির সঙ্গে মিলে তিনি ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন। পেপ্যালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সাহায্য করেছিল।   ইতিহাসে জাওয়েদ করিম সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোডের জন্য। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। “Me at the zoo” শিরোনামের সেই ছোট্ট ভিডিওটিই ইউটিউবের ইতিহাসে আপলোড হওয়া প্রথম কনটেন্ট। তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিই একদিন পুরো বিশ্বের ভিডিও দেখার সংস্কৃতিকে আমূল বদলে দেবে।   জাওয়েদ করিমের শিকড় বাংলাদেশে। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা জার্মান নাগরিক। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জাওয়েদ পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার পর তিনি কোম্পানিতে পূর্ণকালীন কাজ করার পরিবর্তে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দেন এবং ইউটিউবের পরামর্শক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।   ২০০৬ সালে গুগল ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউবকে কিনে নেয়। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী হিসেবেও করিম সফল। তার সহপ্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ফার্ম 'Y Ventures'-এর মাধ্যমে তিনি এয়ারবিএনবি (Airbnb), রেডিট (Reddit) ও প্যালানটিরের (Palantir) মতো সফল প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। ছোট্ট একটি ভিডিও দিয়ে শুরু হওয়া সেই ইউটিউব আজ শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, সংবাদ ও যোগাযোগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দেশের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার নির্মাণের পথে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন এই শোধনাগার চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল শোধন করা যাবে এবং দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।    বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইআরএলের বার্ষিক শোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। নতুন ইউনিটে আরও ৩০ লাখ টন সক্ষমতা যুক্ত হলে ইআরএলের মোট শোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। এর ফলে ডিজেল, অকটেনসহ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।    প্রকল্পটির অর্থায়নের বড় বাধাও এখন দূর হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, নতুন শোধন সক্ষমতার কারণে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন এবং ১৫ ধরনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।    দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটি ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব একাধিকবার সংশোধন হলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।    ট্যাগ: ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল শোধনাগার, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, চট্টগ্রাম, জ্বালানি তেল, বাংলাদেশ, তেল আমদানি

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০