ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ জামাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। ভোর থেকেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং সব ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় হয় ৩৯৬টি জামাত। বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক ও উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো নগরী।
দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে। সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ দেখা মাত্র ঘরে ঘরে বেজে উঠল ঈদের চিরচেনা সুর, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক বড় উপলক্ষ। রমজান মাসব্যাপী ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট উপভোগ করে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা, আজ তার পূর্ণতা পায়। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সকলের জন্য উৎসব নিশ্চিত করা হয়, যা ঈদের সাম্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। যাত্রী ও ভ্রমণকারীদের ভিড়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল তীব্র ব্যস্ততা। দীর্ঘ সময়ের যানজট ও ক্লান্তি আজ ম্লান হয়ে গেছে প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দে। ঘরে ফিরেই অনুভূত হয় পরিবার ও বাড়ির উষ্ণতা, মায়ের হাসি ও ভাইবোনের খুনসুটি। উৎসবের প্রস্তুতি ও প্রার্থনা রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল, সবখানেই এখন ঈদের আমেজ। পাড়ার দোকানগুলোতে ছিল আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি কেনার ভিড়। ভোর থেকেই গৃহিণীরা রান্নাবান্নার শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজধানীর বিউটি পার্লারগুলোয় লম্বা লাইন এবং রাতভর চলছিল মেহেদি আঁকার আয়োজন। দেশের নানা প্রান্তে বসেছে ঈদমেলা, যা চারপাশে আনন্দ ও রঙিন উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাসস জানিয়েছে, দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। আবহাওয়া বা অন্যান্য কারণে যদি জাতীয় ঈদগাহে জামাত সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে মানুষ একে অপরকে বলবেন “ঈদ মোবারক” এবং কবরস্থানে প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন। বিকেলে পরিবারসহ বেড়াতে যাওয়াও ঈদের আনন্দের অংশ। সম্প্রীতি ও আগামীর অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে উৎসবের আনন্দে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি। সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্ক্তিই আজকের ঈদের মর্ম—“যারা জীবন ভ’রে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী, সেই গরীব, এতিম, মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।” আজকের দিন শুধু আনন্দের নয়, বরং মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। ঈদ যেন সকলের জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও আনন্দ বয়ে আনে।
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট' বা 'বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬'-এ টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের অবস্থানের কিছুটা উন্নতি ঘটালেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সুখের সূচকে বেশ নিচের দিকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই বছরের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। শীর্ষ দশে যারা: প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের পর তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড এবং ডেনমার্ক। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কোস্টারিকা, যা গত বছর ২৩তম অবস্থানে ছিল। তালিকার শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হলো যথাক্রমে সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ এবং সুইজারল্যান্ড। বরাবরের মতোই সুখী দেশের তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (৯২তম) সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে পাকিস্তান (১০৯তম)। গত বছরের ১১৮তম অবস্থান থেকে সামান্য উন্নতি করে ভারত এবার ১১৬তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিবেদন সুখবর বয়ে আনেনি। এবারের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১২৯তম। অর্থাৎ, সুখের সূচকে বাংলাদেশ আরও পাঁচ ধাপ নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান (১৪৭তম) বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে। সুখ পরিমাপের মাপকাঠি: জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। মূলত মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক নিরাপত্তা, গড় আয়ু, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরোপকার এবং দুর্নীতির হারের মতো ছয়টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। ১৪০টিরও বেশি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার সন্তুষ্টির ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া: এবারের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা তাদের জীবন সম্পর্কে অতৃপ্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অসুখী দেশের তালিকায় তলানিতে যারা: তালিকার বিপরীত দিকে অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে কম সুখী বা ‘অসুখী’ দেশের তকমা পেয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। তালিকার একেবারে তলানিতে থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিয়েরা লিওন ও মালাউই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ড বা নর্ডিক দেশগুলোর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে সেখানকার শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, নাগরিকদের একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা। অন্যদিকে, কোস্টারিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসা প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা একটি জাতির সামগ্রিক সুখে বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও এই অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা কিছু পরিবর্তন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ, যা শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষা খাতের পরিবর্তনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- আজকের পত্রিকা: ‘মিত্ররা পাশে নেই, যুদ্ধে একা ট্রাম্প’ ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ন্যাটোর সহায়তা চাইলেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিস এতে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও একই অবস্থান নিয়েছে, আর জোটের অন্য দেশগুলো এখনো নীরব রয়েছে। এদিকে ইরানের পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। নয়াদিগন্ত: ‘সাহাবুদ্দিনকে আরো এক বছর রাষ্ট্রপতি রাখতে চায় বিএনপি!’ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অন্তত আরও এক বছর দায়িত্বে রাখতে চায় বিএনপি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করলে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সংসদের মেয়াদের সঙ্গে সমান হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রভাব রাখা কঠিন হতে পারে। তাই এক বছর পর পরিবর্তন করলে সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনীত ব্যক্তি বহাল থাকার সুযোগ থাকবে। তারা আরও বলছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কেউ থাকলে নির্বাচন ও প্রশাসনিক বিষয়ে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও এই কৌশলের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুগান্তর: ‘রাশিয়া থেকে ডিজেল আনার উদ্যোগ’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে প্রায় ৫ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে তবেই এই আমদানি কার্যকর করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করছে এবং রাশিয়াও সম্ভাব্য একটি উৎস। তুলনামূলক কম দামের কারণে রাশিয়ার তেলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশমুখী দুটি তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘Shady pilot licences expose Biman to risk’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া ফ্লাইট রেকর্ড, নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন এবং জবাবদিহিতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। কিছু পাইলট ভুয়া তথ্য দেখিয়ে পদোন্নতিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গুরুতর পরিচালনাগত ত্রুটি বা অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অনেক পাইলট দায়িত্বে বহাল ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে বিষয়টি সামনে এলে পাঁচজন পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠ: ‘ঈদযাত্রায় কঠিন চ্যালেঞ্জ’ এবারের ঈদযাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাসড়ক এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে শত শত কিলোমিটার সড়ক মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার হলেও ঈদের সময় প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়েন। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। নৌপথেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সদরঘাট থেকে ৩৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদ উপলক্ষে আরও পাঁচটি নতুন রুট যুক্ত করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় সরকার’ দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর এবং ২৬টি অফশোর ব্লকে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে এবং সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। মানবজমিন: ‘নানা শঙ্কায় দুবাই প্রবাসীরা’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দুবাইয়ে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগায় ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক তাদের মধ্যে কাজ করছে। সমকাল: ‘স্কুলে ভর্তির লটারি বাতিল, তীব্র প্রতিক্রিয়া’ সরকার স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এতে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং সারাদেশে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা তদারকি করাও কঠিন হবে। প্রথম আলো: ‘একসঙ্গে ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু’ দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। দিনাজপুরে একটি খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের বিকল্প নেই এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশ রূপান্তর: ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব’ সরকার গঠনের এক মাস পূর্তিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউ এইজ: ‘Fuel oil crisis persists across country’ সরকার জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা অভিযোগ করেছেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মজুত সীমিত রাখার কারণে সরবরাহে এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লিতে জন্ম নেওয়া এক শিশু থেকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ঘরে জন্ম নেওয়া এই নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু কৈশোর থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলের ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন, প্রথম কারাবরণ ঘটে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময়। পরে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সান্নিধ্যে এসে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৪৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া এবং ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে তার কালজয়ী ভাষণ স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে পুরো জাতিকে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় অর্জনের সময়ও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে লিপ্ত হন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার মাধ্যমে তার স্বপ্নপথ থমকে যায়। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু মোট ৪,৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন, যার মধ্যে আটটি জন্মদিন কেটেছে নিঃসঙ্গ কারাপ্রকোষ্ঠে। ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধু জন্মদিন উদযাপনে আড়ম্বর পছন্দ করতেন না। তিনি সাদামাটিভাবে পরিবারের সঙ্গে দিনটি কাটাতেন, আর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও নেতাকর্মীরাই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তার জন্মদিন উদযাপন করতেন। আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃতজ্ঞ জাতি তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছে।
সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা আপনারা কণ্ঠের পাহারাদারি করব, তবে এই দায়িত্ব সরকারকেও দিতে হবে। শফিকুর রহমান বলেন, “জাতীয় ইস্যু ও স্বার্থে আমরা আপস করব না। বিএনপি জাতীয় স্বার্থে অনড় থাকলে জামায়াত পাশে থেকে শক্তি জোগাবে।” তিনি July অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের অর্জিত মুক্তি রক্ষা করতে জোর দেন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে যারা কণ্ঠ বলেছিল, তাদের দমন করা হয়েছিল। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা আপনাদের কণ্ঠের পাহারাদারি করব। কিন্তু সরকারি দলও যদি একইভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে রাষ্ট্রের চার স্তম্ভ সঠিকভাবে কার্যকর হবে। ইফতার অনুষ্ঠানে জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রবীণ সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান ও আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-এর জীবনী সম্প্রতি মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া-তে প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধে তার জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শরীফ ওসমান বিন হাদি নামে জন্ম নেওয়া ওসমান হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝালকাঠির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন এবং পরে উচ্চশিক্ষা নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও বক্তব্যের মাধ্যমে ওই সময় তিনি আলোচনায় আসেন। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩২ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।' এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের চেষ্টা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ। নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। নাহিদ ইসলাম সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে রিপোর্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার ও অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন। এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত অবহিত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রবাসের মাটিতে আবারও ঝরল রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের রক্ত। মালদ্বীপের ধীগুরা আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন কোম্পানির লেবার কোয়ার্টারে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও দুই প্রবাসী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে সেহরি তৈরির প্রস্তুতির সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন—তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে সেহরি খাওয়ার জন্য রান্না করতে গেলে হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে লেবার কোয়ার্টারে। সেই সময় কোয়ার্টারের ভেতর মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি আগুনের গ্রাসে পড়েন। বাকিরা অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে থাকায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পান। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানী মালের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, হাইকমিশনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে আহতদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ তদারকি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লেবার কোয়ার্টারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। পবিত্র রমজানের শুরুতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সকল সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সমাজ উন্নয়নকর্মী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধিবেশনের সূচনা বক্তব্য শোনার পর প্রফেসর ইউনূস বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ দেশের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদের কার্যকর অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি আসে, তার বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি সহায়তা চেয়ে ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সাথে জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সম্বলিত চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের এই অতিরিক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে জ্বালানি তেল বা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই এবং এই মুহূর্তে এগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও রেশনিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সরকার এখনই দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরুর পর থেকেই সরকার জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।” গত সপ্তাহে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ দিনে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবুও মানুষের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘পেনিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই অস্বাভাবিক চাহিদার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। বরং মানুষের উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কই বেশি কাজ করেছে। আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।” প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান-এর সম্মতি ছাড়াই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর অভিযোগে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান-কে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাঠানো ওই চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে ভিন্নভাবে ব্রিফ করেছিলেন সাবেক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান। পরে যাচাই করে দেখা যায়, বাস্তবে চিঠির বিষয়বস্তুর সঙ্গে আমিরকে দেওয়া তথ্যের কোনো মিল ছিল না। বিশেষ করে চিঠিতে ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার যে অংশ উল্লেখ ছিল, সে বিষয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের কোনো সম্মতি ছিল না বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেন জামায়াত আমির। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তার স্থলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে দলের পক্ষ থেকে সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং জানানো হয় যে ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। দলের এক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চাকরির সুপারিশের কথা বলে ওই চিঠিতে জামায়াত আমিরের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি সামনে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, দলটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে দ্রুত সংশোধনের নীতিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চারটি আন্তর্জাতিক রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে আরও দুটি রুটে ১০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে আপাতত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। এছাড়া দুবাই ও আবুধাবি রুটেও ১০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস। শুধু রোববারই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস-এর বেশ কয়েকটি ফ্লাইট। ক্রমাগত ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মধ্য সৌদি আরবে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ড সৌদি আরবের আল-খারজসহ বিভিন্ন এলাকায় রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও তাদের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন কনস্যুলেটেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় এখন সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পবিত্র রমজানের শেষ দশকের নীরব এক আত্মিক প্রশান্তির নাম ইতিকাফ। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের মুসলিম সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই বিশেষ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ইতিকাফ করলে অন্যরা দায়মুক্ত হন। তবে কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহের অংশীদার হতে পারেন। ইতিকাফ শুরু করতে হবে ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে প্রবেশের মাধ্যমে। সূর্যাস্ত বা মাগরিবের পর মসজিদে প্রবেশ করলে তা সুন্নত ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে না; তখন তা নফল ইবাদত হিসেবে ধরা হবে। ইতিকাফ সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর শেষ হয়। ইতিকাফ তিন ধরনের— সুন্নত ইতিকাফ: রমজানের শেষ ১০ দিন, ওয়াজিব ইতিকাফ: মানত পূরণের জন্য, নফল ইতিকাফ: যেকোনো সময় করা যায়। ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পবিত্রতা বজায় রাখা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা জরুরি। সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখাও শর্ত। ইতিকাফ ভেঙে যাওয়ার কারণ ইতিকাফকারী প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যেতে পারে। অবশ্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন, ফরজ গোসল, জুমার নামাজ আদায় বা আজান দেওয়ার মতো শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাময়িক বাইরে যাওয়া যায়। তবে যেসব কারণে ইতিকাফ নষ্ট হতে পারে— অপ্রয়োজনীয়ভাবে মসজিদ ত্যাগ করা, নফল গোসলের জন্য বাইরে যাওয়া, জানাজা বা রোগী দেখতে শুধু এই উদ্দেশ্যে বের হওয়া, ব্যবসায়িক বা দুনিয়াবি কাজ করা, ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করা, টাকার বিনিময়ে অন্যকে ইতিকাফে বসানো (নাজায়েজ)। নারীদের ইতিকাফ নারীরা নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করতে পারেন। তবে মসজিদে ইতিকাফ করতে চাইলে পর্দা ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ বন্ধ করতে হবে। ইতিকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পরিষ্কার পোশাক, ধর্মীয় বই ও তসবিহ সঙ্গে রাখা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কথা, মোবাইল ব্যবহার এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় দেওয়াই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাম্পাসে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তাঁর নিজ কক্ষেই গলা কেটে হত্যা করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক কর্মচারী। ঘাতক কর্মচারীর নাম ফজলুর রহমান। শিক্ষিকাকে হত্যার পর ফজলুর নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা ও হামলাকারী কর্মচারীকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানের চিকিৎসা চলছে, তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস