বাংলাদেশ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
চীনের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চরম উদ্বেগে ভারত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত এই মেগা চুক্তিকে কেবল একটি সাধারণ সামরিক কেনাকাটা হিসেবে দেখছে না; বরং নয়াদিল্লি একে ভারতের চারপাশে চীনের সামরিক বেষ্টনী বা ‘কৌশলগত ঘেরাও’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে প্রথম গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে। মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবেই এই মেগা চুক্তিটি করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।   জানা গেছে, প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় চাপ ছাড়াই সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করার সুযোগ মিলছে ঢাকার। আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করবে বেইজিং, যা দুই দেশের সামরিক নির্ভরতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।   জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শিত হওয়ার পরই মূলত এই বিমানের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত এবং চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।   এদিকে, বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংকীর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।   ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চীন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ট্রানজিট, তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে। এমন সময়ে চীনের সাথে এই মেগা চুক্তি বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ঝুঁকে পড়াকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ঢাকা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো জোটে শামিল হওয়া এর উদ্দেশ্য নয় বলে স্পষ্ট করেছে। বাণিজ্য ও সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও, এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন একটি নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৭৪

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ শিশু। শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন।   এ সময়ে নতুন করে ৯৭২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯৩ জন।   অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯।   এ পর্যন্ত মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নয় বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, কক্সবাজারে মানবিক সংকট গভীরতর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয় বছর পার হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।   কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অন্যতম।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় সহায়তা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   ক্যাম্পগুলোতে সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে মানবপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।   শিবির এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাঝে মাঝে জটিল হয়ে উঠছে।   স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কম মজুরিতে শ্রম দিতে রাজি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনসংখ্যার চাপের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।   পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। শরণার্থী বসতি স্থাপনের কারণে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় কাটার ঘটনা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।   সরকার কক্সবাজারের চাপ কমাতে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাসানচরে আবাসন, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।   এদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং যাচাইকৃত তালিকাও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে।   তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকট বহন করায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ জরুরি।   ততদিন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল, হামাস ইস্যুতে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

দক্ষিণ এশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর গভীর নজরদারি চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল। সম্প্রতি ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য যাবতীয় তৎপরতা কড়া নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল।   এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন রিউভেন আজার। তিনি সরাসরি জানান যে, ইসরায়েল কোনোভাবেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির চলমান কূটনৈতিক অবস্থানকে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে শুধু পাকিস্তানই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে কাতারের ভূমিকাও ইসরায়েলের কাছে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত।   সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ছিল হামাসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ঘিরে। আজারের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তাদের নানামুখী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নীতি-নির্ধারকেরা। এই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের হাতে থাকা এসব তথ্যের কিছু অংশ মূলত প্রকাশ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশ দুটিতে এমন আরও কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনও জনসমক্ষে আসেনি বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে আজার আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোও ৭ অক্টোবরের হামলাকে নিজেদের অঞ্চলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি সফল মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’ আর এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যই চরম উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাংলাদেশ–নেপাল সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ–নেপাল সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ, স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) কাঠমান্ডুতে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।   সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন পৌঁছে দেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র থাকলেও তার অনেকটাই এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল একই ধরনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। এ সময় তিনি জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।   আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।   জবাবে নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের উন্নয়ন যাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে খেলাধুলার গুরুত্বও তুলে ধরেন স্পিকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বাড়াতে ক্রীড়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি যৌথ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে বাংলাদেশে চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসাও করেন নেপালের স্পিকার।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে বহুমুখী সহযোগিতার পথ সুগম করতে সহায়ক হবে।  

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য নিশ্চিতে জাইমা রহমানের যুগান্তকারী প্রস্তাব

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শন শেষে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং প্রতিভা বিকাশের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানিয়েছেন জাইমা রহমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তরুণ অ্যাথলেটদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।   জাইমা রহমান জানান, দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া তারকাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, খেলাধুলার প্রতি আনন্দ এবং দৃঢ় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিকেএসপি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।   প্রতিষ্ঠানটির নিবেদিতপ্রাণ কোচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করলেও একটি আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এত সম্ভাবনা ও অবকাঠামো থাকার পরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে পদক জয়ে বাংলাদেশ কেন এখনো এতটা পিছিয়ে আছে? এই ঘাটতি পূরণে এবং বিশ্বমঞ্চে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত করতে তিনি বেশ কিছু পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন।   তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক খরা কাটাতে তরুণ অ্যাথলেটদের একদম ছোটবেলা থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোতে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে তারা বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। এর পাশাপাশি আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের (স্পোর্টস সায়েন্স) সহায়তা বৃদ্ধি এবং এমন একটি যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে উন্নতমানের অ্যাথলেটিক প্রশিক্ষণের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।   জাইমা রহমানের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা আগামীতে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য স্বল্প প্রশিক্ষণে সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ l ছবি: সংগৃহীত
উবার বা পিজা ডেলিভারি নয়: ৩-৬ মাসের প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার ৫ বাস্তব সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে এসে অনেক বাংলাদেশিকেই প্রথম দিকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা ভালো চাকরি থাকলেও নতুন দেশে এসে ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণে অনেকেই শুরুতে উবার বা লিফট চালানো, ফুড ডেলিভারি, গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোর কিংবা অন্যান্য খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।   ▶️ ভিডিও দেখুন...আমেরিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা পাঁচটি পার্ট-টাইম চাকরি   তবে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু পেশা রয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছাড়াই কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করে একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশ করা সম্ভব। এসব পেশায় একবার প্রবেশ করতে পারলে ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি এবং আরও বড় সুযোগের পথ তৈরি হয়।   ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করেন আমিনুর রহমান বলেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একটি পেশা নির্বাচন করা, যেখানে প্রবেশের সময় কম, খরচ তুলনামূলক কম এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ বেশি।   আরও পড়ুন.... যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই এখন সাশ্রয়ী, টানা ৩৪ মাস কমছে ভাড়ার দাম   বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবেশের অন্যতম জনপ্রিয় পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বা কিউএ টেস্টিং। সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করাই এ পেশার মূল দায়িত্ব। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নতুন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন। এই সেক্টরে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের মতে, এন্ট্রি-লেভেলে একজন কিউএ টেস্টারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।   অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউএ অ্যানালিস্ট থেকে সিনিয়র কিউএ ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ লিড, টেস্ট ম্যানেজার কিংবা সফটওয়্যার প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।   স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন অভিবাসীদের জন্য রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। এর মধ্যে ফ্লেবোটোমিস্ট পেশা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফ্লেবোটোমিস্টদের কাজ হলো রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রস্তুত করা। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ব্লাড ব্যাংকে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই একজন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন।   আরও পড়ুন... যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে    এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ল্যাব সুপারভাইজার বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ পেশাটিও নতুন অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের দৈনন্দিন পরিচর্যা, চলাফেরায় সহায়তা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন তারা। সাধারণত এক থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণেই এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব। একজন সিএনএর বার্ষিক আয় সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে। তবে এ পেশার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নার্সিং পেশায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান।   অনেকেই সিএনএ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স বা নিবন্ধিত নার্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।   আরও পড়ুন... ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন   স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল পেশা হলো মেডিকেল বিলিং ও কোডিং। রোগীদের চিকিৎসা তথ্য, স্বাস্থ্যবিমা দাবি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এই পেশায় সরাসরি রোগী সেবা দিতে হয় না। ফলে যারা অফিসভিত্তিক কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে প্রবেশ করা যায়। এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।   অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রেভিনিউ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন কিংবা বীমা খাতেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।   অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের আরেকটি কার্যকর পথ হলো আইটি হেল্প ডেস্ক সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করা। কম্পিউটার, সফটওয়্যার, ইমেইল, নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করাই এ পেশার মূল কাজ। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ এবং কিছু আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে অনেকেই এ খাতে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। একজন আইটি হেল্প ডেস্ক কর্মীর বার্ষিক আয় সাধারণত ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।   পরবর্তীতে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড বিশেষজ্ঞ কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।   ▶️ ভিডিও দেখুন....আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম কেসের বর্তমান অবস্থা ও নিয়মাবলি!!   কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান আরও মনে করেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিন অস্থায়ী বা স্বল্প আয়ের কাজে আটকে থাকা। তিনি বলেন, সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একজন ব্যক্তি একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক সফল পেশাজীবীর অভিজ্ঞতাও একই বার্তা দেয়। তাদের অনেকেই কর্মজীবনের শুরুতে সাধারণ চাকরিতে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্পোরেট খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো দক্ষতা অর্জন। সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায় থাকলে নতুন অভিবাসীদের জন্য পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিকেএসপি ঘুরে বিভিন্ন বিভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন জাইমা রহমান। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
এত প্রতিভা ও দক্ষ কোচ থাকার পরও কেন আন্তর্জাতিক পদক কম? প্রশ্ন তুললেন জাইমা রহমান

প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও নিবেদিতপ্রাণ কোচ থাকার পরও বাংলাদেশ কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি পদক জিততে পারছে না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেছেন।   জাইমা রহমান লিখেছেন, ফুটবল, ক্রিকেট, জুডো, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া শাখায় বাংলাদেশের অসংখ্য জাতীয় ক্রীড়াবিদ বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আনন্দময় পরিবেশ এবং চারিত্রিক গুণাবলি তাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষক, কোচ, চিকিৎসক দল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন।   তবে এত প্রতিভা ও দক্ষ প্রশিক্ষক থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসার বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   জাইমা রহমানের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন পরিবেশে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলে তাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।   তিনি আরো লিখেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তারা বিশ্বের সেরাদের বিরুদ্ধে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা বহন করে সাফল্য বয়ে আনতে আগ্রহী।   পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, স্পোর্টস সায়েন্স এবং পুনর্বাসন সহায়তা।   একই সঙ্গে শিক্ষা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে যেন একাডেমিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়। বরং উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একাডেমিক মান বজায় রেখেও অ্যাথলেট-কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশেরও নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা প্রয়োজন।   পোস্টের শেষে বিকেএসপির শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হওয়ার আরও একটি কারণ এনে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী।   মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে।   বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।   সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।   ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।   সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়: যে ক্যাম্পাসগুলোতে পড়ার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশিরা

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হয়ে আছে।   বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের বিভিন্ন তালিকায় নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরাদের মধ্যে স্থান পেয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়।   বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বিশ্বজুড়ে। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছেই এমআইটি উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্বপ্নের নাম।   একইভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা, আইন, চিকিৎসা, জননীতি এবং মানবিক বিষয়ে হার্ভার্ডের খ্যাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনায়ক, নোবেল বিজয়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।   ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সিলিকন ভ্যালির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গুগল, নেটফ্লিক্স, ইয়াহু এবং আরও অনেক সফল প্রযুক্তি উদ্যোগের পেছনে স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, ছোট ক্লাস সাইজ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। পাশাপাশি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় মানবিক বিজ্ঞান, আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।   বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা ক্যালটেক একটি বিশেষ আকর্ষণের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।   পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে বার্কলে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।   এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ও বিশ্বের সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিয়মিতভাবে স্থান পেয়ে থাকে। বিশেষ করে জনস হপকিন্স চিকিৎসা বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণায় অংশগ্রহণ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততাও ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের সন্তানদের মিডিল স্কুল থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করেন জাতে এসব আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।   বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি শুধু উচ্চশিক্ষার সনদ নয়; এটি বিশ্বমানের গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে। আর সেই পথের অন্যতম বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো এখনও হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি:সংগৃহীত
দিল্লি বিমানবন্দরকাণ্ডে ভারতের কাছে জবাব চাইল বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।   ঘটনার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্বে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়।   জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার নাম বিশেষ পর্যবেক্ষণ তালিকায় আসায় তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর অব্যাহত না রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।   ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতের কিছু বক্তব্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি, কথিত ‘পুশ-ইন’, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সীমান্ত-সংক্রান্ত কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও মাঝে-মধ্যে উদ্ভূত এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয় এবং দুই দেশ পরবর্তী সময়ে কী বার্তা দেয়, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।   অন্যদিকে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে।   মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ।   আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা স্থান, জলাশয় ও উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দুবাইয়ের শপিং সেন্টার থেকে আটক বেনজির আহমেদ, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) -কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার সময় আটক হন। তবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেনজির আহমেদকে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।   জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ ১২ জুন তাকে আটক করে হেফাজতে নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।   নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেনজির আহমেদ সিঙ্গাপুর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি একাধিকবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কাতার ও সৌদি আরবে যাতায়াত করেন।   তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে স্পেনে যান এবং একই বছরের ১৩ মার্চ স্পেন থেকে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে আসেন। ওই দিন ভোর ৫টায় দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।   এছাড়া তার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসা রয়েছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।   বর্তমানে তাকে দুবাই পুলিশের উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।   সূত্র আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।   তবে এ বিষয়ে দুবাই পুলিশ বা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। একইভাবে বেনজির আহমেদ বা তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

বায়জিদ হাসান জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ এলেই কেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা জ্বরে কাঁপে বাংলাদেশ, কখনো কখনো কেন তৈরি হয় সংঘাত?

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতেই আবারও রঙিন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চল। বাড়ির ছাদ, অলিগলি, বাজার, সড়কের মোড় কিংবা খেলার মাঠ, সর্বত্রই চোখে পড়ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। যদিও এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো অংশগ্রহণ নেই, তবুও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম এবং বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে বিশ্বকাপ শুরু হলেই ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগের অংশ হয়ে ওঠে।   রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে দেখা গেছে বিশাল আকারের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। কোথাও কোথাও তৈরি করা হয়েছে ফুটবল তারকাদের বিশাল কাটআউট। বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদাও। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi এবং ব্রাজিলের তারকা Neymar-এর জার্সি কিনতে ভিড় করছেন সমর্থকেরা।   বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সম্পর্ক না থাকলেও কয়েক প্রজন্ম ধরে এই দুই দেশের ফুটবল দলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসাধারণ এক আবেগ। বিশ্বকাপের সময় বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়দের মধ্যেও দেখা যায় মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে কখনো কখনো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি করে।   সম্প্রতি হবিগঞ্জে স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার খবর আলোচনায় আসে। আবার শরীয়তপুরে কিছু তরুণ ঘোষণা দিয়েছেন, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা ব্রাজিল শিরোপা না জেতা পর্যন্ত তারা বিয়ে করবেন না। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবল আবেগের ব্যতিক্রমী দিকগুলোই তুলে ধরে।   তবে শুধু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নয়, মাঝে মাঝে অন্য দেশগুলোকেও ঘিরে তৈরি হয় আগ্রহ। সম্প্রতি এক প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী নিজের জমির একটি অংশ বিক্রি করে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় আসেন। তার আশা, একদিন এই বিশাল পতাকা জার্মানির কোনো জাদুঘরে স্থান পাবে।   এবারের বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর জায়গা করে নেওয়া নরওয়েও বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের তাদের দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নরওয়ের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।   বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন ঘটে। পরে পূর্ব পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক পরিবর্তনের সময় তরুণদের কাছে ফুটবল হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস।   ষাট ও সত্তরের দশকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি Pelé বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার সাফল্য এবং ব্রাজিলের আধিপত্য অনেককে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করে। পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনের প্রসার ঘটার পর আশির দশকে বিশ্বকাপ আরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়।   বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই আসরে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি Diego Maradona-র নৈপুণ্য ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স অসংখ্য দর্শকের হৃদয় জয় করে। অনেকের কাছে সেটি ছিল কেবল ফুটবল নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের এক প্রতীকী মুহূর্ত।   ম্যারাডোনার অবসরের পর নতুন প্রজন্মের কাছে সেই আবেগের জায়গা দখল করেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় মুখ নেইমার। ফলে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি বড় অংশ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা বিশ্বকাপ এলেই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   তবে এই আবেগ কখনো কখনো বিপজ্জনক রূপও নিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৮ সালেও ব্রাজিলের পতাকা লাগাতে গিয়ে এক কিশোর প্রাণ হারায়।   বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল মানুষের আনন্দ, পরিচয় ও আবেগের জায়গা হলেও সেটি যেন সুস্থ প্রতিযোগিতা ও উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার মধ্যেই নিহিত।   এবারের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, ছাদ ও আড্ডায়ও চলবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিতর্ক, যা বিশ্বকাপের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে বহু বছর ধরেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দক্ষিণ এশিয়ায় ‘জেন জি’ অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের সামনে কঠিন বাস্তবতা

বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যুবসমাজ এবং ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারগুলো বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবল জনসমর্থন ও পরিবর্তনের বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা এখন তাদের সামনে দৃশ্যমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ এই নতুন সরকারগুলোর যাত্রাপথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।   বিগত কয়েক বছরে এই তিন দেশেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় দেউলিয়া অবস্থা ও নিত্যপণ্যের চরম সংকটে গণ-বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিপ্লবে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে নেপালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সৃষ্ট ‘জেন জি’ বিপ্লবের জোয়ারে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন ঘটে। দেশগুলোর আইএমএফ নির্ভরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুবসমাজের জনসংখ্যাগত চাপ এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উসকে দিতে এই আন্দোলনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছিল।   গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তিন দেশের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। নেপালে উগ্র পরিবর্তনের পথে হেঁটে সাবেক র‍্যাপার বালেণ শাহ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপি নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কায় মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী জোটের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সরকারগুলোকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও অনভিজ্ঞতা ও ধীরগতির কারণে সেই আশাবাদ দ্রুতই ফিকে হতে শুরু করেছে। নেপালে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মাসেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   অভ্যন্তরীণ এই সংকটগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যা নতুন সরকারগুলোর স্বস্তির সময়কে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একধরনের আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর খামখেয়ালি আচরণ দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন এই সরকারগুলো যদি বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশগুলোতে আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণ-বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বায়জিদ হাসান জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, নজর কাড়লেন সঞ্জয় দেব

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার দেখা গেল বাংলাদেশের এক অনন্য উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। শুধু পারফরম্যান্সই নয়, নিজের পোশাকের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।   শুক্রবার রাতে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সঞ্জয় দেব। কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচের আগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তিনি পারফর্ম করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী Nora Fatehi এবং Vegedream–এর সঙ্গে।   তবে অনুষ্ঠানে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তার বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেট। জ্যাকেটটির ডান হাতার অংশে সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকগুলো। সেখানে ছিল জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজ পটভূমিতে লাল বৃত্তসংবলিত বাংলাদেশের পতাকার নকশা।   বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এমন উপস্থাপনাকে অনেকেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরার অভিনব উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। পারফরম্যান্স চলাকালে সঞ্জয় দেবকে বারবার নিজের জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়, যাতে দর্শকরা বাংলাদেশের প্রতীকগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।   অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী সঞ্জয় দেবের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং তার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।   ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি। প্রতি আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোটি কোটি দর্শক সরাসরি ও সম্প্রচারের মাধ্যমে উপভোগ করেন। সেই মঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকগুলোর উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিশেষ উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।   জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি ছাড়াও পারফর্ম করেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী Michael Bublé, Alanis Morissette এবং Alessia Cara। এছাড়া মঞ্চে গান পরিবেশন করেন Jessie Reyez এবং Elyanna। অনুষ্ঠানের শিল্পী তালিকায় আরও ছিলেন William Prince।   বহুসাংস্কৃতিক কানাডার পরিচয় তুলে ধরতে আয়োজকেরা বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও পটভূমির শিল্পীদের একত্র করেছিলেন। সেই আয়োজনে বাংলাদেশি শিকড়ের একজন শিল্পীর অংশগ্রহণ এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতীকী উপস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের উপস্থিতি একটি দেশের সফট পাওয়ার বা সাংস্কৃতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো উচ্চপ্রচারিত আসরে বাংলাদেশের প্রতীকগুলো তুলে ধরা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বদর্শকের সামনে উপস্থাপনের একটি অনন্য উদাহরণ।   বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের আলোচিত মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, শাপলা ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি তাদের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের অ্যাট-লার্জ আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাদওয়ান চৌধুরী ক্রমেই আলোচনায় আসছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি কাউন্টির সব বাসিন্দার প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।   মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল হলো কাউন্টির আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী সংস্থা। কাউন্টির বাজেট অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নীতিমালার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই পরিষদ। অ্যাট-লার্জ সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বরং পুরো কাউন্টির ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেন।   প্রচারণার শুরু থেকেই রাদওয়ান চৌধুরী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি জবাবদিহিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল মন্টগোমারি কাউন্টির চাহিদা পূরণে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে সমর্থন জানানো স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং মন্টগোমারি কাউন্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি যৌথ স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।   তিনি আরও বলেন, তার প্রচারণা কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং পুরো কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।   রাদওয়ান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছে। তার সমর্থকদের মতে, অভিবাসী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।   ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান, লাতিনো এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচন শুধু স্থানীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই প্রেক্ষাপটে রাদওয়ান চৌধুরীর প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।   নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মন্টগোমারি কাউন্টির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিকল্পনা ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। এর মধ্যেই রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: নাবিলাহ পার্কস
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ, এবার লড়ছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে

আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ছেন। আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক রানঅফ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই আইনসভায় প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   জর্জিয়ার সপ্তম সিনেট জেলার প্রতিনিধিত্বকারী নাবিলাহ পার্কস চলতি বছর তাঁর সিনেট আসন থেকে পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি চার লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে রানঅফে জায়গা করে নেন। আগামী ১৬ জুনের রানঅফে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন।   নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ পার্কস জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেইড কর্মসূচির বিস্তার, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নারীদের প্রজনন অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বিপুল বাজেট উদ্বৃত্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিশুযত্নের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির মজুরি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মনে করেন।   প্রচারণার অংশ হিসেবে নাবিলাহ নিজেকে একজন দৃঢ় ও আপসহীন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। যদিও এসব সমালোচনার বিষয়ে জশ ম্যাকলরিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   নাবিলাহর প্রচারণা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান হ্যাঙ্ক জনসন, আটলান্টার সাবেক মেয়র শার্লি ফ্র্যাঙ্কলিন, ফুলটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস এবং ডিকাল্ব কাউন্টির কমিশনার টেড টেরি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। ফলে আসন্ন রানঅফ নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পদে ডেমোক্র্যাটরা আবারও জয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এমন বাস্তবতায় নাবিলাহ পার্কসের প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।   আগামী ১৬ জুনের রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন সম্ভাব্য অর্জন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
না ভারত, না বাংলাদেশ—বন্দুকের মুখে অনাহারে শূন্যরেখায় ঘুরছেন এক বৃদ্ধ

বাংলাদেশ-ভারতের জামালপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্যরেখায় আটকে পড়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। বিএসএফের পুশইন চেষ্টার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর পাহারায় তিনি কোনো দিকেই যেতে পারছেন না। একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বন্দুকের নল, অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কড়া নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। বাঁচার তাগিদে তিনি যেদিকেই একটু পা বাড়াচ্ছেন, সেদিক থেকেই তাকে ধাওয়া দেওয়া হচ্ছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ভোররাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে সাতজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুশইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতে ফিরে গেলেও আটকা পড়েন এই বৃদ্ধ। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে শূন্যরেখাতেই উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখা যায়। এই মুহূর্তে তিনি কার্যত কোনো রাষ্ট্রেরই নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।   এই চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও মানবিকতার খাতিরে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামবাসীরা। বিজিবির নজরদারির ফাঁকে তারা বৃদ্ধের কাছে সামান্য পানি ও শুকনা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, যা খেয়েই কোনো রকমে তার প্রাণ টিকে আছে। স্থানীয় বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল এই নির্মমতার বিবরণ দিয়ে বলেন, নিছক মুসলিম হওয়ার কারণেই একজন বৃদ্ধকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়েছে। লোকটি না পারছে ভারতে যেতে, না পারছে বাংলাদেশে আসতে। অনাহারে থাকা মানুষটির এই অমানবিক পরিণতি দেখে স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।   সীমান্তের এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে নিজেদের দেশের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে এবং ফিরিয়ে নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয় দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক। এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়ে তা প্রতিহত করেছে। লোকটি এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করলেও বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও বিজিবির কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের সদস্যপদে রাশিয়ার সমর্থন চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মস্কো সফরকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।   সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার কাছে ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টায় সমর্থন চেয়েছেন। বর্তমানে ব্রিকস বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অন্যতম প্রভাবশালী জোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে এসসিও ইউরেশীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।   বৈঠকে উভয় নেতা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তারা চার দশকেরও বেশি আগে জাতিসংঘে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণও করেন।   বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।   ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই দেশই ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।   জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।   এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্যও রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।   তিনি রাশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।   আলোচনায় ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও কথা হয়। বাংলাদেশ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান ইইসির সদস্য।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।   দুই দেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি ও জনশক্তি নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনবল নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই মন্ত্রী। একই সঙ্গে পুনর্বাসন চুক্তি ও মানবসম্পদ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন বিচারাধীন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বৈঠকে রাশিয়ায় বিভিন্ন কারণে আটকে পড়া কয়েকজন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও উত্থাপন করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে রাশিয়া সরকার প্রয়োজনীয় বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন সের্গেই ল্যাভরভ।   এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ল্যাভরভ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে রাশিয়া সহযোগিতা করতে আগ্রহী।   বৈঠকের শেষে মস্কো সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানোর দাবি, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রোববার (৭ জুন) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।   তবে কখন, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে এই ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এমনকি তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।   বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্তের ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকায় এখনো বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি ইতোমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় না পড়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্ত এলাকার ফ্লাডলাইট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।   সীমান্তে এমন ঘটনাগুলো নতুন নয়। অতীতেও ‘পুশইন’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নানা সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নীলুফা নিশাত জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0