নিউইয়র্কে আর টেকা দায়! স্বপ্নের শহর ছাড়ছেন হাজারো অভিবাসী, দিশেহারা বাংলাদেশিরাও
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বহু বছর ধরে হাজারো অভিবাসীর প্রথম পছন্দ ছিল নিউ ইয়র্ক সিটি। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে এই শহর ছিল সুযোগ, আয় এবং স্থায়ী ভবিষ্যতের প্রতীক।
তবে সময় বদলেছে। আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং করের চাপের কারণে এখন অনেকেই বলছেন—নিউইয়র্কে আর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরো পড়ুন: জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন। শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও।
আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ মিডটার্ম নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১ কোটি ৬০ লাখ অভিবাসী ভোটার
অনেক বাংলাদেশি পরিবার জানিয়েছেন, আগে যেখানে একটি পরিবারের একজন উপার্জন করেই সংসার চালানো যেত, এখন সেখানে দুইজন কাজ করেও খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাড়িভাড়া, গাড়ি বীমা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর ডে-কেয়ার ও মুদি বাজারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার সঞ্চয় করতে পারছে না।
আরো পড়ুন: মামদানির বক্তব্যে নিউইয়র্কের পর জাতীয় রাজনীতির আভাস
ফলে অনেকে নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং জর্জিয়া -এর মতো তুলনামূলক কম খরচের স্টেটে চলে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে চাকরির সুযোগ এখনও রয়েছে, তবে সেই আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ীও বাড়তি ভাড়া ও শ্রম ব্যয়ের কারণে দোকান বা রেস্টুরেন্ট টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে নতুন অভিবাসীদের জন্যও শহরে শুরুটা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই বলছেন, একসময় নিউইয়র্ক মানেই ছিল স্বপ্নের ঠিকানা। এখন সেই স্বপ্নের শহরে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বদলের।
সব মিলিয়ে, সুযোগের শহর হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক সিটি এখন নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন উঠছে—স্বপ্নের শহর কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
সূত্র: স্থানীয় অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, অভিবাসন প্রবণতা প্রতিবেদন, নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইউটিকা শহরে একটি পুরোনো গির্জা এখন মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর বসনীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে নতুন জীবন ফিরে পায়। এতে একদিকে যেমন মুসলিমদের জন্য উপাসনালয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি রক্ষা পেয়েছে শহরের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তরের এই ঘটনা ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অভিবাসী সম্প্রদায়ের সংগ্রাম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ইউটিকার ৩০৬ কোর্ট স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটি ১৮৬৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে এটি মেথডিস্ট খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সময়ের সঙ্গে ভবনটি সেন্ট্রাল মেথডিস্ট এপিসকোপাল গির্জা এবং ট্রিনিটি মেথডিস্ট গির্জা নামেও পরিচিতি পায়। উনিশ শতকের স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি ভবনটিতে ছিল ইটের দেয়াল, খিলানযুক্ত জানালা এবং উঁচু চূড়া। একসময় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থাকলেও পরবর্তী সময়ে গির্জাটিতে নিয়মিত উপাসনায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কমতে থাকে। একপর্যায়ে গির্জাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণও ব্যাহত হয়। ২০০৬ সালের দিকে এটি শহর কর্তৃপক্ষের মালিকানায় আসে। ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন অংশে পানি জমার সমস্যাও দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০০৮ সালে ইউটিকার বসনীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভবনটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তাঁদের সংগঠন বসনীয় ইসলামি সমিতি স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিল। পুরোনো গির্জাটি তাঁদের সেই প্রয়োজন পূরণের সুযোগ তৈরি করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি ভবনটি কিনে নেয় এবং সেটিকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ শুরু করে। ২০০৮ সালের মার্চে প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে ভবনটি বিক্রির বিষয়ে শহর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার তথ্য উঠে এসেছিল। সে সময় ইউটিকার মেয়র ডেভিড রোফারোও প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেন। পরিত্যক্ত স্থাপনাটিকে নতুনভাবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে শহরের রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত ব্যয় কমানোর সুযোগ ছিল, অন্যদিকে স্থানীয় একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় উপাসনাস্থলও তৈরি করা সম্ভব হতো। এই উদ্যোগের পেছনে বসনীয় মুসলিমদের বাস্তুচ্যুতির ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সংঘাতের কারণে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে চলে যান। তাঁদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিকায় নতুন জীবন শুরু করেন। নতুন পরিবেশে পরিবার গড়ে তোলা, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি ধরে রাখাও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি নিজস্ব মসজিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁরা নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্র হওয়ার জায়গা পান। ফলে পুরোনো গির্জাটির পুনর্ব্যবহার শুধু একটি ভবনের কার্যক্রম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি নতুন দেশে বসনীয় মুসলিমদের সামাজিক জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। ২০১২ সালের ৩১ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভবনটির সংস্কারকাজের বিস্তারিত উঠে আসে। তখন স্বেচ্ছাসেবীরা ভবনের বাইরের অংশে পরিবর্তন আনছিলেন। লাল ইটের দেয়ালে নতুন আবরণ ও ধূসর রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছিল। আগের গির্জার উঁচু চূড়াটিতেও নতুন পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন আনা হয়। ভবনের ভেতরেও সংস্কারকাজ চলছিল। নামাজ আদায়ের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছিল মূল কক্ষ। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ, খাবার পরিবেশনের জায়গা এবং শৌচাগার উন্নয়নের কাজও করা হয়। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল ভবনটিকে শুধু দেখতে সুন্দর করা নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর করে তোলা। সংস্কারকাজে বসনীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে প্রকল্পটিতে সহযোগিতা করেন। ২০১২ সালের প্রতিবেদনে সে সময় সংস্কারের জন্য প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ের একটি প্রাথমিক হিসাব উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ওই অঙ্ককে পুরো প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরবর্তী সময়ে মোট ব্যয় কত দাঁড়িয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ হিসাব নিশ্চিত করা কঠিন। পুরোনো গির্জাটির ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রী সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালের মে মাসে বসনীয় ইসলামি সমিতি গির্জাটির একটি ঘণ্টা ও খ্রিষ্টান ক্রুশ হোয়াইটসবোরোর একটি মেথডিস্ট গির্জার কাছে হস্তান্তর করে। এর মাধ্যমে ভবনটির নতুন ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগের ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রী অন্য একটি উপাসনালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনাটি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে ৩০৬ কোর্ট স্ট্রিটের ভবনটি বসনীয় ইসলামি সমিতির মসজিদ হিসেবে পরিচিত। সেখানে মুসলিমরা নামাজ আদায় করেন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। ইউটিকার বসনীয় মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক বন্ধন বজায় রাখতেও ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে শহরটিতে এটিই একমাত্র মসজিদ নয়; সেখানে আরও মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র রয়েছে। এই ঘটনার তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় স্থাপনার পরিচয় পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, পুরোনো ভবন সংরক্ষণের জন্য সব সময় সেটিকে আগের কাজেই ফিরিয়ে আনতে হয় না। যথাযথ সংস্কার, পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা থাকলে ঐতিহাসিক স্থাপনা নতুন প্রয়োজনেও ব্যবহার করা সম্ভব। ইউটিকার এই গির্জাটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ায় ভবনটির অস্তিত্ব টিকে গেছে। একই সঙ্গে একটি অভিবাসী সম্প্রদায় পেয়েছে নিজেদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপযুক্ত স্থান। অতীতের স্থাপত্যকে ধরে রেখে বর্তমানের প্রয়োজন পূরণের এই উদ্যোগ ইতিহাস সংরক্ষণ ও সামাজিক সহাবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা, কারা পাচ্ছেন এই শেয়ার?
ইরান যুদ্ধে ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও আহত ৮৬৫, পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ
ব্যাংক থেকে ফোন এলেই সাবধান! এআই দিয়ে কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা ৫৬ বছর বয়সী এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিও গ্র্যান্ডে প্রসেসিং সেন্টারে তাঁকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আটক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের দিকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্মীরা আন্দ্রাদেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ে তাঁর ময়নাতদন্ত চলছে। আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডালাসে বসবাস করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মেয়ে এস্তেফানি আন্দ্রাদের ভাষ্য, বাবার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগ ছিল। আটক হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিল, কিন্তু আটককেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে সেগুলো দেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। মেয়ের দাবি, অসুস্থ বোধ করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকে চাপ অনুভব করার কথা জানালেও তাঁর বাবা যথাযথ সাড়া পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। আইসিই জানিয়েছে, গত ২৬ জুন মেক্সিকো থেকে টেক্সাসে ফেরার সময় লারেডো সীমান্তে তাঁকে আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ২০০৪ সালে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনে প্রকাশ না করায় তাঁর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। তবে ওই ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কি না, তা আইসিইর প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল এবং আটক অবস্থায় তিনি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, আবেদনের সময় বাবার অতীতের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল এবং এরপরও তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন টেক্সাসের লারেডো এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেনরি কুয়েলার। তিনি ১৮ অক্টোবর আটককেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী দেখেছেন বলে জানান। তবে আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। কুয়েলার বলেন, একদিকে পরিবারের বক্তব্য, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বিবরণ, ফলে প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চেয়েছেন। আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাননি। তাঁর মেয়ে বলেছেন, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ডালাসে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ও টাউনহাউস রং করার কাজ করতেন এবং তাঁর তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। পরিবার বলছে, মেক্সিকোতে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করে একসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এখন মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং আটক অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। সূত্র: ফক্স ৪ নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন।
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের দাবি, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের
নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিতে ট্রাম্পের নির্দেশ, গঠন হচ্ছে বিশেষ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের নতুন এক মূল্যায়নে। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের এই মূল্যায়নে ১৮২টি শহরের অপরাধ পরিস্থিতি, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং আর্থিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে রয়েছে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের জুনো। দ্বিতীয় স্থানে রোড আইল্যান্ডের ওয়ারউইক এবং তৃতীয় স্থানে কানসাসের ওভারল্যান্ড পার্ক। ওয়ালেটহাবের মূল্যায়নে শহরগুলোর নিরাপত্তা ৪১টি সূচকের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। সূচকগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও সামাজিক পরিবেশের নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং আর্থিক নিরাপত্তা। প্রতিটি সূচকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অপরাধের হার, পথচারীদের মৃত্যুর হার, সড়ক দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনো প্রথম স্থান অর্জনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরটিতে হত্যাকাণ্ডের হার এবং পথচারীদের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি বন্যা, টর্নেডো ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও কম বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও শহরটির অবস্থান ভালো। কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি এবং বাসিন্দাদের ঋণসংক্রান্ত আর্থিক সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোও এই মূল্যায়নে ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ারউইক শহরটি কম সহিংস অপরাধ ও চুরির হারের কারণে এগিয়ে রয়েছে। মূল্যায়নে শহরটিতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমাহীন মানুষের হার ও দারিদ্র্যের হার কম হওয়ায় শহরটির সামগ্রিক নিরাপত্তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা ওভারল্যান্ড পার্কের ভালো অবস্থানের পেছনে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, কম বেকারত্ব, তুলনামূলকভাবে উচ্চ ঋণমান এবং কম দারিদ্র্যের হার। তালিকার প্রথম ২০টি শহরের মধ্যে রয়েছে ভারমন্টের বার্লিংটন ও সাউথ বার্লিংটন, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ, আইওয়ার সিডার র্যাপিডস, ওয়াইওমিংয়ের ক্যাসপার, আইডাহোর বোইসি এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইয়ংকার্স। এ ছাড়া মেইনের পোর্টল্যান্ড, উইসকনসিনের ম্যাডিসন, হাওয়াইয়ের হনলুলু, ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রিমন্ট, সাউথ ডাকোটার সিউক্স ফলস, নর্থ ডাকোটার ফার্গো ও বিসমার্ক, মন্টানার মিসুলা, মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া এবং ওরেগনের সালেমও তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে এ ধরনের তালিকাকে কোনো শহরে অপরাধ একেবারেই নেই, এমন নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নির্দিষ্ট কিছু সূচক ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি তুলনামূলক মূল্যায়ন। শহরের একেকটি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনও ভিন্ন হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য শহর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই তালিকার পাশাপাশি স্থানীয় অপরাধের তথ্য, আবাসন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স, ওয়ালেটহাব।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জানাজা চলাকালীন মসজিদের পাশে গোলাগুলি, নিহত এক