- প্রচ্ছদ
- Topic
#বাংলাদেশি_প্রবাসী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানত না বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে আগে বা পরে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও পায়নি তারা। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। মসজিদে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রমকল্যাণ উইং। চিঠিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কিংবা পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে কোনো তথ্য জানায়নি। ফলে এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চেয়ে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আটক বাংলাদেশিদের একটি তালিকা পাওয়া যায়। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাদের মৃ ত্যুদণ্ডের সাজা বা তা কার্যকরের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। পরদিন, ২ আগস্ট সুইটি আক্তারকে কথিত পরকীয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। তারা দুজনই আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নজরুলকে জেদ্দার সংশোধনাগারে এবং সুইটিকে জেদ্দার নারী কারাগারে রাখা হয়েছিল। কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধ কিংবা পরকীয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে কোনো বাংলাদেশির মৃ ত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার নজির সম্পর্কে তাদের জানা নেই। এ কারণে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ ও সাজা কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে নৈতিকতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের সাজা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মধ্যে রয়েছে বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে আরও জানানো হয়, মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে। এতে দুই বাংলাদেশির মামলার রায়ের অনুলিপি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব নথি পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট। দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আগে থেকে না জানার বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরের ছেলে মো. নাসিম আল আওয়াল কবি। ছোটবেলায় প্রযুক্তির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই আগ্রহ পূরণ করা সহজ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে দেন তাঁর মা মোছা. নাজমা। সেই টাকায় কেনা মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু হয় নাসিমের প্রযুক্তি শেখার নতুন অধ্যায়। নানা বাধা, বিদেশের কঠিন জীবন আর একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। নাসিমের গল্পের শুরু অবশ্য আরও আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘মানুষের মতো মানুষ হয়েই তবে আমি বাড়ি ফিরব।’ সেদিনের সেই কিশোর হয়তো জানতেন না, তাঁর জীবনের পথ তাঁকে একদিন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জাপানের বড় একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। নাসিমের ডাকনাম কবি। গ্রামের আর দশটা শিশুর মতো মাঠে খেলাধুলা, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই কাটত তাঁর শৈশব। তবে ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আলাদা ছিল তাঁর একটি আগ্রহ। এলাকার কারও মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি খুলে দেখার চেষ্টা করতেন। যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কোথায় সমস্যা হয়—এসব জানার আগ্রহই তাঁকে প্রযুক্তির দিকে টেনে নেয়। নাসিমের বাবা মো. রবি সততার প্রশ্নে আপস করতে চাইতেন না। ১৯৯৬ সালে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করার সময় দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন বলে পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পরে মুদির দোকানসহ বিভিন্ন কাজ করেও সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেননি। ২০০৩ সালে শুরু করেন দলিল লেখার কাজ। পরিবারের অভাব নাসিমের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও বাবার সততার শিক্ষা তাঁর মনে গেঁথে যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সেই ঘটনাও ছিল কৈশোরের এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা। রেললাইন ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পায়ে ফোসকা পড়া, রাজশাহী স্টেশনে রাত কাটানো—সবই ঘটেছিল সেই যাত্রায়। দুই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে বই বিক্রি করার। শেষ পর্যন্ত বাড়ির টানেই ফিরে আসেন নাসিম। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোলার যে জেদ তাঁর মধ্যে ছিল, তা হারিয়ে যায়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুষ্টিয়ার আমলা স্কুলে ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কম্পিউটার শেখার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হতেন। কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি আর মাঠের আইল পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সেই দিনগুলো তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিভাইস প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ছেলের পাশে দাঁড়ান তাঁর মা। সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। সেই ফোনটিই হয়ে ওঠে নাসিমের শেখার প্রধান মাধ্যম। ফোনটিকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন। অনলাইনে ভিডিও দেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতেন, প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এভাবেই নিজের উদ্যোগে দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন তিনি। যে ডিনেটের কর্মসূচিতে একসময় শিক্ষার্থী হিসেবে কম্পিউটার শিখেছিলেন, ২০১২ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পান নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে নিজে শিখেছিলেন, পরে সেখানেই অন্যদের শেখানোর দায়িত্ব পান নাসিম। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্ত করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে ব্যাংকঋণ, ধার করা টাকা এবং পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। জাপানে পৌঁছে প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের কাজও। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২০ সালের মে মাসে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন নাসিম। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছর আট মাসের অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে তাঁর দক্ষতা আরও বাড়ে। চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি। অনলাইনে ৪০টির বেশি কোর্স ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। সিনেমা, গান ও বিভিন্ন অনলাইন উপকরণ ব্যবহার করে ইংরেজি শেখেন। টোয়েক পরীক্ষায় ৮৭৫ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষার এন৪ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাসিম। অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, ওরাকল ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর থেমে না গিয়ে নিজের ঘাটতি খুঁজেছেন। কোন দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার, কী শিখলে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে—সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফট জাপানে যোগ দেন নাসিম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস (CO+I) দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এই দল মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। অ্যাজুর ও মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো ক্লাউড সেবা সচল রাখতে এসব ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের যাত্রা সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, তিনি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলেন না, কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেষ হিসেবে না দেখে নতুন একটি প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছেন, যার উত্তর তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও রয়েছে তাঁর পরামর্শ। নাসিম মনে করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো শেখা এবং অনলাইনে থাকা শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চান নাসিম। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁদের শেখার পথ সহজ করা এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একসময় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে চিরকুটে নিজের জীবনের লক্ষ্য লিখে রাখা সেই কিশোরের পথচলা আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, নাসিমের গল্প শুধু মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শেখার চেষ্টা, মায়ের আত্মত্যাগ এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করার গল্প। মায়ের বিক্রি করা একটি ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোন থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে নতুন এক অধ্যায়ে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় মো. সজিব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ ত্যু হয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্য ও সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে। নি হ ত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কাজ করছিলেন সজিব। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি সজিবের মৃ ত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। একই এলাকায় কর্মরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী রোশন আলী সরকারও সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলাটি ঠিক কোথায় আঘাত হানে এবং এর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রবাসে ছিলেন সজিব। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শো কের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাগড়া গ্রামের এক প্রবাসীর সৌদি আরবে মৃ ত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সজিবের ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বজনেরা ম র দে হ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দা ফ নের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও প্রতিবেশী ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে জুবাইলে যে হামলায় সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে, সেটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলায় হ তা হ তের বিস্তারিত কিংবা সজিবের মৃ ত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উৎস ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই সজিবের মৃ ত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের এখন প্রধান প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সজিবের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
নিউইয়র্কে নতুন এসেছেন, পরিবার নিয়ে বাসা বদলাতে চান কিংবা একটু কম ভাড়ায় ভালো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছেন—বাংলাদেশিদের জন্য শুরুতেই বাসা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোন ওয়েবসাইটে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন আসে, ব্রোকার ফি কে দেবে, কত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া যাবে কিংবা অনলাইনে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি আসল কি না—এসব জানা না থাকলে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার জন্য কয়েকটি পরিচিত রেন্টাল ওয়েবসাইট রয়েছে। পাশাপাশি কম ও মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিজে থেকে হাউজিং কানেক্টে আবেদন করার বাধা নয়। তবে প্রতিটি বাসার জন্য আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ১. স্ট্রিটইজি নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার সবচেয়ে পরিচিত ওয়েবসাইটগুলোর একটি স্ট্রিটইজি। এখানে কোন বরো বা এলাকায় বাসা চান, কত ভাড়া দিতে পারবেন, কয়টি বেডরুম বা বাথরুম দরকার, পোষা প্রাণী আছে কি না—এসব অনুযায়ী সহজেই খোঁজ করা যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর স্ট্রিটইজির সার্চে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৬ হাজারের বেশি রেন্টাল লিস্টিং দেখা যাচ্ছিল। তবে এই সংখ্যা প্রতিদিনই বদলাতে পারে। পছন্দের এলাকার সার্চ সেভ করে রাখলে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন দ্রুত দেখা যায়। ২. জিলো জিলো শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া ও কেনার জন্য ব্যবহৃত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজের বাজেট ও পছন্দের এলাকা দিয়ে সহজেই বাসা খুঁজে দেখা যায়। কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের আশপাশের এলাকাও দেখতে চাইলে জিলোর ম্যাপ ফিচার বেশ কাজে আসতে পারে। এতে একাধিক এলাকার ভাড়া পাশাপাশি তুলনা করা সহজ হয়। ৩. অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম-এও নিউইয়র্কের অনেক রেন্টাল লিস্টিং পাওয়া যায়। এখানে বাসার ছবি, ভাড়া, বেডরুম, সুযোগ-সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল ট্যুরও দেখা যায়। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু একটি ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একই ঠিকানা অন্য সাইটেও খুঁজে দেখা ভালো। এতে ভাড়া, এজেন্টের তথ্য এবং বাসার বিজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখা যায়। ৪. হটপ্যাডস হটপ্যাডসও বাসা ভাড়ার একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি জিলো গ্রুপের অংশ। তাই জিলো গ্রুপের অন্য ওয়েবসাইটে দেখা কিছু বিজ্ঞাপন এখানেও পাওয়া যেতে পারে। ৫. ট্রুলিয়া ট্রুলিয়াতেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়া যায়। এটিও জিলো গ্রুপের প্ল্যাটফর্ম। ফলে জিলো, হটপ্যাডস বা অন্য প্ল্যাটফর্মে থাকা কিছু একই বিজ্ঞাপন এখানে আবার দেখা যেতে পারে। তাই পাঁচটি ওয়েবসাইটে খুঁজলেই পাঁচ রকম আলাদা বাসার বাজার পাওয়া যাবে—এমন নয়। একই অ্যাপার্টমেন্ট একাধিক সাইটে দেখলে ঠিকানা, ভাড়া, এজেন্টের নাম এবং অতিরিক্ত ফি মিলিয়ে দেখুন। কম ভাড়ার বাসার জন্য হাউজিং কানেক্ট সাধারণ রেন্টাল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল। এখানে পাঁচ বরোতে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট এবং কিছু বাড়ি কেনার সুযোগে আবেদন করা যায়। তবে হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবাসনের জন্য পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যার আলাদা শর্ত থাকে। যোগ্যদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় এবং অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে কেউ নিজে থেকেই হাউজিং কানেক্টের লটারি বা রি-রেন্টালে আবেদন থেকে বাদ পড়েন না। তবে নির্বাচিত হলে আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য আইডিএনওয়াইসি নিউইয়র্ক স্টেটের ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকলে আইডিএনওয়াইসি পরিচয়পত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সিটির বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে আইডিএনওয়াইসির জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি হাউজিং-সংক্রান্ত কাজেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রোকার ফি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিউইয়র্কে বাসা নেওয়ার সময় বড় অঙ্কের ব্রোকার ফি দিতে হবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। ফেয়ারনেস ইন অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টাল এক্সপেন্সেস বা ফেয়ার অ্যাক্ট ১১ জুন ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের অধীনে বাড়িওয়ালা যে ব্রোকার বা লিস্টিং এজেন্ট নিয়োগ করেছেন, তার ফি ভাড়াটিয়ার ওপর চাপানো যাবে না। বাড়িওয়ালা বা তার এজেন্টকে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া অন্যান্য ফিও আগে জানাতে হয়। তবে ভাড়াটিয়া নিজে যদি নিজের প্রয়োজনের জন্য আলাদা ব্রোকার নিয়োগ করেন, তাহলে সেই ব্রোকারের ফি তাকে দিতে হতে পারে। তাই টাকা দেওয়ার আগে জেনে নিন—ব্রোকারকে নিয়োগ করেছেন কে। আইনবহির্ভূত ব্রোকার ফি দাবি করা হলে নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করা যায় বা ৩১১-এ যোগাযোগ করা যায়। সিকিউরিটি ডিপোজিট কত? নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি সিকিউরিটি ডিপোজিট নিতে পারেন না। তাই কেউ যদি দুই বা তিন মাসের ভাড়ার সমান বড় ডিপোজিট দাবি করেন, টাকা দেওয়ার আগে নিয়মটি যাচাই করে নিন। অ্যাপ্লিকেশন ফি কত? লিজ সই করার আগে ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ ২০ ডলার নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট ইনভয়েসের কপি আবেদনকারীকে দিতে হয়। গত ৩০ দিনের মধ্যে করা গ্রহণযোগ্য ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক থাকলে সেটি ব্যবহার করার সুযোগও থাকতে পারে। এতে একই পরীক্ষার জন্য আবার টাকা দিতে নাও হতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করুন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কমিউনিটি গ্রুপ বা পরিচিতদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাসার বিজ্ঞাপন পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেখান থেকেও ভালো বাসা পাওয়া যেতে পারে। তবে পরিচিত কেউ বিজ্ঞাপন দিয়েছে বলেই যাচাই না করে টাকা পাঠানো ঠিক নয়। কেউ যদি বলেন, ‘অনেক মানুষ বাসাটি নিতে চাইছে, এখনই ডিপোজিট পাঠান’—তাহলে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। প্রথমে বাসার সঠিক ঠিকানা নিন। সম্ভব হলে নিজে গিয়ে বাসাটি দেখে আসুন। বাড়িওয়ালা বা এজেন্টের পরিচয় যাচাই করুন। একই ঠিকানা অন্য কোথাও অন্য নাম বা অন্য ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন। লিজ না পড়ে এবং টাকা কার কাছে যাচ্ছে তা নিশ্চিত না হয়ে নগদ টাকা, ওয়্যার ট্রান্সফার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাবেন না। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি লিজের সব শর্ত বুঝে নেওয়া খুব জরুরি। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে পরিচিত কাউকে দিয়ে পড়ে নিন বা প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন। আয় কম হলে সহায়তাও পাওয়া যায় হাউজিং কানেক্টের আবেদন বুঝতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অ্যাম্বাসেডরস কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রেডি টু রেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে আর্থিক কাউন্সেলিং এবং হাউজিং আবেদন প্রস্তুত করার সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বাসা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা বা গুরুতর আবাসন সমস্যায় থাকা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য আরও কিছু রেন্টাল সহায়তা ও হোমলেসনেস প্রিভেনশন কর্মসূচি রয়েছে। বাসা খোঁজার সহজ কৌশল প্রথমে ঠিক করুন, প্রতি মাসে সর্বোচ্চ কত ভাড়া দিতে পারবেন। এরপর কাজ, স্কুল, মসজিদ, গ্রোসারি, সাবওয়ে বা পরিবারের কাছে যাতায়াতের জন্য কোন এলাকা সুবিধাজনক হবে, সেটি ঠিক করুন। তারপর স্ট্রিটইজি, জিলো ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সেই বাজেট ও এলাকার ভিত্তিতে সার্চ সেভ করে রাখুন। নতুন লিস্টিং এলে দ্রুত যোগাযোগ করুন। একই সঙ্গে হাউজিং কানেক্টে প্রোফাইল তৈরি করে আপনার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার সঙ্গে মেলে এমন লটারিতে আবেদন করতে থাকুন। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু মাসিক ভাড়া দেখলেই হবে না। মোট কত টাকা দিতে হবে, অতিরিক্ত কোনো মাসিক ফি আছে কি না, ইউটিলিটি কে দেবে, লিজ কত দিনের এবং বাসাটি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড কি না—এসবও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে ভালো বাসা খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে নিয়মিত খোঁজ করা, সরকারি সুযোগ কাজে লাগানো এবং টাকা দেওয়ার আগে সবকিছু যাচাই করা গেলে অনেক ঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এনওয়াইসি ৩১১, ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, আইডিএনওয়াইসি, স্ট্রিটইজি
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার আনন্দের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিলের। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিলে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট চিকিৎসা ব্যয় দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। পরে নিজের হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা ও হিসাব সমন্বয়ের পর বিলের বড় একটি অংশ ইন্স্যুরেন্স বহন করে। তবে সব সমন্বয়ের পরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। এত বড় অঙ্কের অর্থ নিজেকে বহন করতে হওয়ায় বিষয়টি তার পরিবারের জন্যও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিয়াম জানান, হাসপাতালের বিলে এত বড় অঙ্কের খরচ দেখে শুরুতে তিনি সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে তার মূল উদ্বেগ ছিল, হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে এই ৪০ হাজার ডলারের বিল কীভাবে মোকাবিলা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সিয়ামের এই অভিজ্ঞতা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এনেছে। কারণ হাসপাতালের মোট চিকিৎসা ব্যয় এবং একজন রোগীকে শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে যে অর্থ দিতে হয়, দুটি এক বিষয় নয়। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চুক্তি ও কভারেজ অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন খরচ সমন্বয় হতে পারে। এরপর রোগীর নিজের বহন করতে হওয়া অর্থ নির্ধারিত হয়। কিন্তু হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। সন্তান জন্মের সময় হাসপাতালের চিকিৎসা, চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং অন্যান্য সেবার খরচ মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থের দায় তৈরি হতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর জন্য আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেই পুরো হাসপাতাল বিল নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা রয়েছে। অনেক পরিবার মেডিকেইড ও চিপের মতো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে পারে। এসব সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবারের আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মোট আয়, কোন স্টেটে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন অবস্থার মতো বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু ইন্স্যুরেন্স নেই বলেই কেউ সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা থেকে বাদ পড়বেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেদন করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারীদের জন্যও অনেক স্টেটে বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের আয় ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের মধ্যে থাকলে সন্তান জন্মের আগে থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম, আয়সীমা ও অন্যান্য শর্ত স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে স্টেটে পরিবারটি বসবাস করছে, সেই স্টেটের নিয়ম আগে থেকে যাচাই করা জরুরি। যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই এবং বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিল হাতে এসেছে, তারা হাসপাতালের বিলিং বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তার সুযোগ আছে কি না, তা জানতে পারেন। অনেক হাসপাতাল কম আয়ের বা আর্থিক সংকটে থাকা রোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা, বিল কমানোর ব্যবস্থা কিংবা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব সুবিধা হাসপাতাল ও স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। সিয়ামের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন প্রবাসী বাবার হাসপাতাল বিলের ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও। বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতা, নিজের পকেট থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা দিতে হতে পারে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসক ইন্স্যুরেন্সের আওতায় রয়েছেন কি না, সেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি। আর হঠাৎ বড় হাসপাতাল বিল হাতে এলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা, বিলের প্রতিটি খাত যাচাই করা এবং হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। কম আয়ের পরিবার হলে নিজের স্টেটের সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত। সিয়ামের ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সমন্বয়ের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট হাসপাতাল খরচের পুরোটা তাকে বহন করতে হয়নি। তারপরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের মতো বড় চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে আগে থেকেই সরকারি ও হাসপাতালভিত্তিক সহায়তার পথগুলো সম্পর্কে জানা কেন জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।