- প্রচ্ছদ
- Topic
বিলিয়নিয়ার
ইউরোমিলিয়ন্স লটারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জিতে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন ফ্রান্সেস কনলি। কিন্তু সেই অর্থ নিজের বিলাসী জীবনযাপনে খরচ না করে সম্পদের প্রায় অর্ধেকই দান করে দিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নীরবে এই অর্থ ব্যয় করছেন তারা। ২০১৯ সালে সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস কনলি এবং তার স্বামী প্যাডি ইউরোমিলিয়ন্সের বিশাল জ্যাকপট জেতেন। ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সেই অর্থ তৎকালীন ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকার সমান। লটারি জেতার পর প্রথমেই সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি। এরপর বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করতে শুরু করেন তারা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন ফ্রান্সেস ও প্যাডি। মানবসেবার কাজ আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য তারা একটি দাতব্য ট্রাস্টও গঠন করেছেন। ফ্রান্সেস জানান, সমাজসেবায় অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে খ্যাতনামা মার্কিন সংগীতশিল্পী ও সমাজসেবক ডলি পার্টনের কাজ তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার পরও জীবনযাপনে খুব একটা পরিবর্তন আনেননি ফ্রান্সেস ও তার স্বামী। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে নিজেদের বাড়িতে সাদামাটাভাবেই থাকেন তারা। প্রশস্ত বাড়ি ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করলেও অপ্রয়োজনীয় খরচ বা অর্থের অপচয় এড়িয়ে চলেন। এমনকি নতুন করে দামি গাড়ি বা ঘড়ি কেনার পরিবর্তে ভালো মানের ব্যবহৃত বিলাসবহুল সামগ্রী কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দান করছেন—এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফ্রান্সেস। তার মতে, মানুষ জীবনে কী চায়, তার ওপর অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে। কেউ যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া কিংবা ক্ষমতাবানদের প্রভাবিত করাকে লক্ষ্য হিসেবে নেন, তাহলে অর্থ নিজের কাছেই জমিয়ে রাখতে পারেন। তবে ফ্রান্সেসের বিশ্বাস, নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। লটারি জেতার সময় তার বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পর এত বিপুল অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ দেখেননি তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস ১৯৯০ সালে কাজের সূত্রে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে যান। এরপর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। ফ্রান্সেসের ভাষায়, নিজের অর্জিত বা পাওয়া সম্পদ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জন্য ‘পরম সৌভাগ্যের’ বিষয়।
মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে। তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়। প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়। জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন। সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে। সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স। জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার। হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে। বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল। বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস। হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।