- প্রচ্ছদ
- Topic
ভিসা বুলেটিন
আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন নাগরিক হওয়ার পরও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, “আমাকে এখনো আমেরিকায় নিয়ে যাচ্ছে না কেন?” বাস্তবে বিষয়টি সব সময় ইচ্ছা বা চেষ্টা না করার কারণে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট নিয়মে ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন করতে পারেন। তবে ভাই-বোনের আবেদন এফ-৪ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং এই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত। ফলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অক্টোবর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের এফ-৪ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ২২ অক্টোবর ২০১১-এর আগের প্রায়োরিটি ডেটের আবেদনগুলো ভিসার জন্য বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ এখন নতুন করে ভাই-বোনের জন্য আবেদন করলে অপেক্ষার সময় প্রায় ১৫ বছরের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অপেক্ষার সময় ভবিষ্যতে কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে। অনেকেই মনে করেন ভাই-বোনকে আনার আবেদন মানে শুধু একটি ফর্ম পূরণ করা। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি এত সহজ নয়। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে ফর্ম আই-১৩০ জমা দিতে হয় এবং ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। বর্তমানে আই-১৩০-এর সরকারি ফাইলিং ফি অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। এর বাইরে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের প্রমাণ, নাম পরিবর্তনের কাগজসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ডকুমেন্ট লাগতে পারে। অনেক আবেদনকারী নিজেরা ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। তখন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নিতে হয়, যার জন্য সরকারি ফি’র বাইরে আলাদা পেশাগত খরচ হতে পারে। ডকুমেন্ট সংগ্রহ, অনুবাদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খরচও থাকতে পারে। ফলে শুরু থেকেই এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী বাবা-মাকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ হিসেবে আনার সুযোগ পান। এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মতো বার্ষিক ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ভিসা কোটার দীর্ঘ অপেক্ষা থাকে না। তবে আবেদনকারী ও যার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, উভয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তান এফ-১ এবং বিবাহিত সন্তান এফ-৩ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়েন। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোন ক্যাটাগরিতে কত সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি, প্রায়োরিটি ডেট এবং ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে। ভাই-বোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ ও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক আবেদন করার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেউ ভাবেন, এত বছর পর ভাই-বোনের বয়স, পরিবার বা পরিস্থিতি বদলে যাবে। আবার কেউ মনে করেন, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে এখন আবেদন করে লাভ কী। ফলে কেউ আবেদন করেন না, আবার অনেকে আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ভাই-বোনের জন্য আবেদন করা এবং দ্রুত আমেরিকায় নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। একজন যোগ্য মার্কিন নাগরিক আবেদন করে প্রায়োরিটি ডেট তৈরি করতে পারেন, কিন্তু ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। তাই আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন আপনাকে দ্রুত নিয়ে আসতে পারছেন না মানেই তিনি চেষ্টা করছেন না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো দীর্ঘ ভিসা ব্যাকলগ ও সীমিত ভিসা সংখ্যা। পরিবারের কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা থাকলে তাই আগে বুঝতে হবে সম্পর্কটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে পড়ছে, সেই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বর্তমান ভিসা বুলেটিনে তার অবস্থান কোথায়। কারণ স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা, নাবালক অবিবাহিত সন্তান, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সবার জন্য একই নিয়ম বা একই অপেক্ষার সময় প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে। তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে। চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে। গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়। অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়। এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার বেশিরভাগ ক্যাটাগরি অপরিবর্তিত থাকলেও এফ-১ থেকে শুরু করে এফ-৪ পর্যন্ত পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভিসা পাওয়ার তারিখ অনেকটাই এগিয়েছে। ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো কলাম না থাকায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সাধারণত বৈশ্বিক সাধারণ তালিকার (All Chargeability Areas) ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সেই তালিকাতেই এবার বড় পরিবর্তনের দেখা মিলেছে। পরিবারভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে এফ-১ ক্যাটাগরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য এই ক্যাটাগরিতে ভিসার তারিখ ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এক ধাক্কায় এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি করা হয়েছে। গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ-২এ ক্যাটাগরির তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানদের এফ-২বি ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০ মাসের বিশাল অগ্রগতি হয়ে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য এফ-৩ ক্যাটাগরির তারিখ ২০১২ সালের মে মাস থেকে এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভাই-বোনদের জন্য প্রযোজ্য এফ-৪ ক্যাটাগরির তারিখ ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক লাফে এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক ভিসায় এমন বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ইবি-১ এবং ইবি-২ ক্যাটাগরি সেপ্টেম্বরেও 'কারেন্ট' বা বর্তমান অবস্থায় রয়েছে। ইবি-৩ ক্যাটাগরির তারিখ আগের মতোই ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যান্য কর্মী ক্যাটাগরির তারিখ ২০২২ সালের ১ এপ্রিলে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ইবি-৪ ক্যাটাগরিতে কিছুটা পরিবর্তন এসে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। এছাড়া ইবি-৫-এর সাধারণ ক্যাটাগরিসহ গ্রামীণ এলাকা ও উচ্চ বেকারত্ব অঞ্চলের বিশেষ ক্যাটাগরিগুলোও বাংলাদেশিদের জন্য 'কারেন্ট' রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকাতেও পরিবারভিত্তিক ভিসার বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ভিসার চাহিদা বেড়ে গেলে বার্ষিক নির্ধারিত সংখ্যা সামলাতে কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে তারিখ আবারও পিছিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে এশিয়া অঞ্চলের কাট-অফ র্যাঙ্ক ৪০ হাজার নির্ধারণ করা হলেও, দেশভিত্তিক যোগ্যতার নিয়মের কারণে বাংলাদেশিদের জন্য এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন পরিবারভিত্তিক ভিসায় অপেক্ষারত বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের আশার আলো দেখালেও, চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর পিটিশন ও অন্যান্য আইনি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার বেশিরভাগ শ্রেণির নির্ধারিত তারিখ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ভিসার চাহিদা ও ব্যবহারের হার বাড়তে থাকলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি বার্ষিক ভিসার সীমা পূরণ হলে এসব শ্রেণি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণির তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২। পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশও বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে উন্মুক্ত থাকার অর্থ এই নয় যে এসব শ্রেণির বর্তমান অবস্থা পুরো অর্থবছর একই থাকবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে আবেদনকারীর চাহিদা বাড়লে বা ভিসা ব্যবহারের হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বার্ষিক সীমা পূরণ হলে কোনো শ্রেণিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অনুপলব্ধ ঘোষণা করা সম্ভব। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি উন্মুক্ত থাকলেও চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে অথবা শ্রেণিটি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশ নিয়েও একই সতর্কতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি বর্তমানে উন্মুক্ত। তবে চাহিদা বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে দেওয়া বা ভিসার বার্ষিক সীমা পূরণ হলে শ্রেণিটি অনুপলব্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্ব এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত পঞ্চম শ্রেণির তিনটি অংশ সেপ্টেম্বরেও সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ভারতের জন্য এই শ্রেণিও অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ভারতের কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও অনুপলব্ধ রয়েছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের জন্য আলাদা চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণির তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘এ’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০২৬, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘বি’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০১৯, তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং চতুর্থ অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১১। ভিসা বুলেটিনে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ বলতে বোঝানো হয়েছে—কোনো আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ওই নির্ধারিত তারিখের আগের হলে তার ভিসা ইস্যুর জন্য সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে। আর নথি জমা দেওয়ার তারিখ আলাদা বিষয়। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখের তালিকা ব্যবহার করতে হবে বলে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিবারভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ২ লাখ ২৬ হাজার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বার্ষিক সীমার কারণে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের জন্য তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসী ভিসা কর্মসূচির ২০২৬ সালের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিতদের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হবে। তবে তার আগেই নির্ধারিত ভিসার সংখ্যা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে। ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের তাই নিজেদের ভিসার শ্রেণি, কোন দেশের কোটায় আবেদন করছেন এবং অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির আবেদনকারীদের সামনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তারিখ পরিবর্তন বা ভিসা অনুপলব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরবর্তী সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একাধিক পরিবারভিত্তিক ও চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১, এফ-২এ, এফ-২বি, এফ-৩ ও এফ-৪ শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। বাংলাদেশকে আলাদা কোনো দেশের তালিকায় রাখা হয়নি। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়েছে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর সাধারণ শ্রেণির তারিখ। আগস্টের তুলনায় এফ-১ শ্রেণিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি ২০২০ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৩ মাসের বেশি অগ্রগতি হয়েছে। এই শ্রেণিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত। এফ-২এ শ্রেণিতেও অগ্রগতি হয়েছে। আগস্টে যেখানে তারিখ ছিল ২২ জুলাই ২০২৬, সেপ্টেম্বরে তা এগিয়ে হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬। এই শ্রেণিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেপ্টেম্বরের আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় এফ-২এ শ্রেণি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এফ-২বি শ্রেণিতে আগস্টের ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে তারিখ এগিয়ে ২২ আগস্ট ২০১৯ হয়েছে। এফ-৩ শ্রেণিতে ১৫ মে ২০১২ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং এফ-৪ শ্রেণিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১১ হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অগ্রগতি দেখা গেছে। চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সাধারণ অংশে সেপ্টেম্বরে ভিসা নম্বর পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অপরিবর্তিত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির তারিখ আগস্টের ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ হয়েছে। তবে ভিসা বুলেটিনে তারিখ এগিয়ে যাওয়াকে সরাসরি ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একজন আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখের আগের হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এবারের বুলেটিনে কেন এত অগ্রগতি হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার হার কমে যাওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে অন্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকা ভিসা সংখ্যা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন অভিবাসী ভিসা শ্রেণির তারিখ এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে এসব তারিখ আবার পিছিয়েও যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, জানুয়ারি ২০২৬ সালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর যে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেটি আর কার্যকর নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক একাধিক শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ কয়েক বছর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিজের অগ্রাধিকারের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির সর্বশেষ তারিখ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায়, পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের চরম সতর্কতার সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত আপডেট নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি চার্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস'-এর ভিত্তিতে ভিসা নম্বর ইস্যু ও গ্রিন কার্ড চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। অন্যদিকে, ইউএসসিআইএস (USCIS) যদি 'ডেটস ফর ফাইলিং' চার্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে আবেদনকারীরা আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ইউএসসিআইএস সেপ্টেম্বরে কোন চার্টটি অনুসরণ করতে বলবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে এফ-২এ ক্যাটাগরি বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেট' ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এই তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫। ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে এফ-২এ ক্যাটাগরি বিশ্বব্যাপী 'কারেন্ট' বা উন্মুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ইউএসসিআইএস অনুমতি দিলে যোগ্য আবেদনকারীরা খুব দ্রুতই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ইবি-১ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য 'কারেন্ট' থাকলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করেছে যে, উচ্চ চাহিদার কারণে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-১ ইন্ডিয়া ক্যাটাগরি সাময়িকভাবে 'আনঅ্যাভেইলেবল' বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে ভারতের জন্য ভিসা নম্বর এরই মধ্যে আনঅ্যাভেইলেবল হয়ে গেছে। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বের এলাকা ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ইবি-৫ সেট অ্যাসাইড ক্যাটাগরিগুলো এখনো সব দেশের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর জন্য তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, চীনের জন্য ১ জানুয়ারি ২০২২, ভারতের জন্য ১ জানুয়ারি ২০১৪ এবং ফিলিপাইনের জন্য ১ আগস্ট ২০২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ ডেটের সঙ্গে নিজেদের প্রাইওরিটি ডেট মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর সেপ্টেম্বর মাসের চার্ট প্রকাশের পরপরই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সব ধরনের কাগজপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট ও আইনি প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন রাখতে হবে। মাসের মাঝামাঝি বা শেষভাগে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার বা সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারীদের নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর অক্টোবরে নতুন ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন বুলেটিনে পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, F2A ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। জুলাই মাসে যেখানে F2A ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি, সেখানে আগস্টে তা এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই হয়েছে। এর ফলে এই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অনেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থবছরের শেষের দিকে ভিসার বার্ষিক কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন এবং ভিসা ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই দেশভিত্তিক বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যাটাগরিকে "অনুপলব্ধ" (Unavailable) ঘোষণা করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরিতেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আরও পিছিয়ে যেতে পারে অথবা ক্যাটাগরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ এবং ইবি-৫ (অনির্ধারিত অংশ) ক্যাটাগরি ইতোমধ্যেই অনুপলব্ধ রয়েছে। আগস্ট ভিসা বুলেটিনে ভারতের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সর্বশেষ ফাইনাল অ্যাকশন ডেট হলো: ইবি-১: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-২: অনুপলব্ধ ইবি-৩: ১ জানুয়ারি ২০১৪ ইবি-৪: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-৫: অনুপলব্ধ মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কোন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের প্রায়োরিটি ডেট বুলেটিনে উল্লেখিত ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগের, তারাই সাধারণত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হলেও, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা হাজারো দক্ষ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।