সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মসজিদ নির্মাণ

৭৫ বছর বয়সী এক শিখ নারী বিবি রাজিন্দর কৌর
ভারতের পাঞ্জাবে মসজিদ নির্মাণে জমি দান, ফের আলোচনায় ৭৫ বছর বয়সী শিখ বৃদ্ধা

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী এক শিখ নারী। মুসলিম প্রতিবেশীদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে নিজের পাঁচ মারলা জমি দান করেছেন বিবি রাজিন্দর কৌর। শুধু তিনিই নন, মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া এই উদ্যোগ সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে।   পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। চণ্ডীগড় থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের গ্রামটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিখ, হিন্দু ও মুসলমানরা পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। গ্রামে গুরুদুয়ারা, শিবমন্দির ও দরগাহ থাকলেও মুসলমানদের জন্য কোনো মসজিদ ছিল না। ফলে নামাজ আদায় করতে তাঁদের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের মুল্লানপুর গ্রামে যেতে হতো।   মুসলিম প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের এই অসুবিধার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন রাজিন্দর কৌর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের পাঁচ মারলা জমি দানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বর্গফুট আয়তনের জমিটি স্থানীয় মসজিদ কমিটির নামে নিবন্ধন করা হয়। জমিটি গ্রামের অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার কাছেই অবস্থিত।   রাজিন্দর কৌর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিখ ধর্মের শিক্ষায় মানবসেবার গুরুত্ব রয়েছে। সেই আদর্শ থেকেই তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের জন্য জমি দিয়েছেন। তাঁর আশা, গ্রামের মুসলমানদের আর নামাজের জন্য অন্য গ্রামে যেতে হবে না। এই উদ্যোগে তিনি মানসিক প্রশান্তি পেয়েছেন বলেও জানান।   তাঁর নাতি মনু সিং স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য। তিনি জানান, গ্রামের মুসলমানদের জন্য মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সরকারি জমিতে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ না থাকায় ব্যক্তিগত জমি দানের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি। আরেক নাতি সতনাম সিং বলেন, গ্রামের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একে অপরের ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন।   মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্মাণকাজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান লুধিয়ানভি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।   স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি কালা খান বলেন, জাখওয়ালি গ্রামের মানুষের মধ্যে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ নেই। সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। মসজিদ নির্মাণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতাকে তিনি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।   এই ঘটনা নিয়ে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামে শিখ, হিন্দু ও মুসলমানদের সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণ এবং পুরোনো মসজিদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে জাখওয়ালির রাজিন্দর কৌরের জমি দানও সেই সম্প্রীতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   সংবাদসূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি ইসলামিক সংগঠন সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার ও নামাজের স্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা।   ভার্জিনিয়ার নর্টনে অবস্থিত সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটি ৩ লাখ ডলারে কিনেছে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি ইসলামিক অলাভজনক সংগঠন। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভবনটির ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজ জানিয়েছে, ভবনটির নির্ধারিত মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আইমান নাসার জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি দাতা সহায়তা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে শুধু মুসলিমদের নামাজের ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভবনটির প্রথম তলায় এসব কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নাসারের হিসাব অনুযায়ী, নর্টন ও ওয়াইজ কাউন্টিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন মুসলিম বসবাস করেন। বর্তমানে তাঁদের নিকটতম মসজিদে যেতে টেনেসির জনসন সিটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়।   নর্টনে এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শহরের কাউন্সিল সভায় এক ডজনের বেশি বাসিন্দা পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের কয়েকজন ইসলাম ধর্ম নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সভার আগে মেয়র জো ফাউবুশ জানান, ভবনটি শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার আওতাভুক্ত, যেখানে গির্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয় পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত কার্যক্রমের জন্য এখন পর্যন্ত নগর কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি।   শহরের ব্যবস্থাপক জেফ শুপে কার্ডিনাল নিউজকে বলেন, ভবনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় এর বিক্রয়প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের নেই। তবে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ব্যবহার শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র নিতে হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেল স্টাবলফিল্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবর আয়োজিত এক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ১৬ জন অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই তরুণদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।   আলবুকার্কের মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। শহরের নর্থ ভ্যালি এলাকায় সেকেন্ড স্ট্রিট এনডব্লিউ ও আলামেডা বুলেভার্ডের কাছে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন বহাল রেখেছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৪-১ ভোটে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হয়। নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি প্রতিবেশী সংগঠনের সভাপতি প্যাট হাউজার এই আপিল করেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পটির কারণে আশপাশের সড়কে যানজট বাড়তে পারে এবং এলাকাটির বিদ্যমান অবকাঠামো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি।   বর্তমানে আলবুকার্ক ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে জায়গার সংকট রয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত কমিশনারদের জানান, শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১২০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আসে, অথচ বর্তমান ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৬৪টি গাড়ির। নতুন স্থাপনায় ২৩৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আপিলকারী পক্ষের প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া আর্চুলেটা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের আপত্তি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে।   আপিল খারিজ হলেও মসজিদ নির্মাণের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অনুমোদনের সঙ্গে মোট ১৫টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখার পাশাপাশি সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং ভবনের বাইরে মাইকে শব্দ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার আগে বার্নালিলো কাউন্টি, আলবুকার্ক নগর কর্তৃপক্ষ এবং নিউ মেক্সিকো পরিবহন বিভাগের অনুমোদনসহ যানবাহন চলাচলের ওপর প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্পের কারণে সড়কের উন্নয়ন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে।   দুই শহরের ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ‘রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভূমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত মানতে হয়। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা অযৌক্তিকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করাও এই আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। ফলে ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর ঘটনাগুলো শুধু দুটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক বিধিমালার প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   সংবাদসূত্র: কার্ডিনাল নিউজ, নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা

মালাউইয়ের মাঙ্গোচি জেলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিকওয়ায়া কামুলোনি। প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মালাউইয়ান কোয়াচা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালাউই২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঙ্কি বে এলাকার চিলোম্বো গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন কামুলোনি। স্থানীয় মুসল্লিরা আগে একটি অস্থায়ী স্থাপনায় নামাজ আদায় করতেন। বিষয়টি দেখে তাদের জন্য স্থায়ী একটি উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।   কামুলোনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় তিনি নিজের অর্থ থেকেই বহন করেছেন। এ কাজে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি বলেও জানান তিনি।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সে সুস্থভাবে পৌঁছাতে পারার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবেও তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।   মসজিদটি নির্মাণের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের নামাজ আদায়ের জন্য দূরের এলাকায় যেতে না হয়। ফলে এটি স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নিয়মিত ইবাদতের একটি স্থায়ী জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকার মানুষ ছাড়াও কেপ ম্যাকলিয়ার, মসাকা ও মাঙ্কি বে এলাকার মুসলিম ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   নিজের অর্থ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর এই উদ্যোগ মালাউইয়ে প্রশংসা পেয়েছে। ৮৬ বছর বয়সেও কামুলোনি দেখিয়েছেন, বয়স বেশি হলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজ ও কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ আল-রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ।   নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।   তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা, অভিবাসন ইস্যুতে নতুন বিভাজনের আশঙ্কা

জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বিরোধিতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বাড়তে থাকা উদ্বেগ, সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় সহাবস্থান ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।    দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন মসজিদ নির্মাণের ফলে স্থানীয় সমাজের ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতো আরও অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই।    বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে জাপানের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যা সংকট। জন্মহার কমে যাওয়া এবং দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির কারণে দেশটি ক্রমেই বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কিন্তু অভিবাসন এখনও জাপানে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়। ফলে নতুন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনধারার মানুষের উপস্থিতি সমাজে নতুন ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।    চলতি বছরের শুরুতে ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিরোধীদের একটি অংশের দাবি ছিল, পাশের শিন্তো মন্দিরের চেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সরাসরি বিরোধিতার পরিবর্তে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাধ্যতামূলক ‘কমিউনিটি এগ্রিমেন্ট’ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যানজট, শব্দদূষণ বা অন্যান্য স্থানীয় উদ্বেগ নিয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা যায়।    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে ঘিরে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে অপমানজনক ফোনকল ও ই-মেইল পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। এর জবাবে মানবাধিকার ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনগুলো ‘ঘৃণা নয়’—এই বার্তা নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি শুরু করেছে।    ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফিশপ পরিচালনা করেন হিরোকি সুজুকা। তিনি বলেন, বিরোধ নয়, বরং একে অপরকে জানার মধ্যেই সমাধান রয়েছে।   তার ভাষায়, “আমি মসজিদ নির্মাণের বিপক্ষে নই, আবার খুব জোরালো সমর্থকও নই। আগে আমাদের জানা দরকার ইসলাম কী, মুসলমানরা কেমন মানুষ এবং তারা কী ধরনের মূল্যবোধ ধারণ করেন। বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সহাবস্থানের পথ তৈরি হতে পারে।”    জাপানে প্রায় চার দশক ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ী মোহামেদ মোহিদিন। ১৯৮৭ সালে ওসাকায় আসা এই মুসলিম ব্যবসায়ীর দাবি, আগে বিদেশিদের প্রতি স্থানীয়দের আচরণ তুলনামূলকভাবে আন্তরিক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলমানদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্টভাবে বেড়েছে।   তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই “জাপান ছেড়ে চলে যাও” বা “নিজের দেশে ফিরে যাও” ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সামনে গিয়ে অপমানজনক আচরণও করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তেজনার জবাব তারা ধৈর্য ও সৌজন্যের মাধ্যমেই দিতে চান।   মোহিদিনের মতে, “জাপানের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাই আমাদেরও সমাজের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং নিজেদের সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।”    সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহামেদও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান থেকে জাপানে আসা এই প্রবীণ মুসলিম বলেন, জাপানে বসবাস করতে হলে দেশটির আইন, সামাজিক রীতি ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তার ভাষায়, “আবর্জনা আলাদা করে ফেলা, পার্কিং আইন মেনে চলা কিংবা মানুষকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানানো, এসব ছোট ছোট বিষয়ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।”   ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক তাই এখন শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাপানের পরিবর্তিত জনসংখ্যা, বিদেশি শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনের পথে দেশটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০