- প্রচ্ছদ
- Topic
ম্যাসাচুসেটস
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টনটন শহরের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জননী ডেবরা মেলোর রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ২৫টিরও বেশি বছর। ২০০০ সালের ২০ জুন মাত্র ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ আড়াই দশক পরও পুলিশ ও তার পরিবার এই রহস্যের জট খুলতে পারেনি, তবে হাল ছাড়েননি ডেবরার স্বজনরা। ডেবরার ছোট বোন প্যাট্রিসিয়া হোয়াইট জানান, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংগীতশিল্পী টিনা টার্নারের একটি কনসার্টে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে ডেবরাকে বেশ অন্যমনস্ক ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। পর্তুগাল থেকে আসা লুইস মেলোর সাথে কৈশোরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ডেবরা এবং ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মায়ের অনুমতি নিয়ে তাকে বিয়ে করেন। তারা দুজনে মিলে স্থানীয় একটি ‘ডানকিন ডোনাটস’-এ কাজ করতেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে ডেবরা বেশ চুপচাপ ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। প্যাট্রিসিয়ার দাবি, লুইস অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং ডেবরার ফোনের কথাবার্তায় আড়ি পাততেন। এমনকি সন্তানদের নিয়ে লুইসকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বোনকে জানিয়েছিলেন ডেবরা। ব্রিস্টল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের হোমিসাইড ইউনিটের ডেপুটি চিফ জেসন মোহন জানান, ২০০০ সালের ২০ জুন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডানকিন ডোনাটসে কাজ করেন ডেবরা ও লুইস। এরপর বিকেল ৩টায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকায় তারা গাড়িতে করে ঘুরতে বের হন। ডাক্তারের চেম্বার থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিম কিনে ফেরার পথে ওয়েমাউথের রুট ১৮-তে গাড়ির ভেতর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। লুইসের দাবি অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে ডেবরা গাড়ি থেকে নেমে যেতে চাইলে তিনি তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান। কয়েক মিনিট পর লুইস সেখানে ফিরে এসে ডেবরাকে আর খুঁজে পাননি। তবে লুইসের এই দাবির পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২১ জুন সকালে ডেবরার মেয়ের ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন প্যাট্রিসিয়া। ততক্ষণেও লুইস পুলিশে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করেননি। পরে ওই দিনই পরিবার ও লুইস আলাদাভাবে ওয়েমাউথ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ২৩ জুন পুলিশ দম্পতির বাড়ি ও গাড়ি তল্লাশি করে গাড়ির ভেতর থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিমটি উদ্ধার করে। তবে ডেবরার হাতব্যাগ, স্বর্ণের ব্রেসলেট, গলার চেইন, সবুজ পাথরের আংটি এবং বিয়ের আংটিটি নিখোঁজ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে লুইসের দুইবার পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার পরীক্ষা) টেস্ট নেওয়া হলে তিনি দুবারই অকৃতকার্য হন। পুলিশ বিমান, ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বনাঞ্চলসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ডেবরার কোনো চিহ্ন পায়নি। এমনকি ২০১৭ সালে এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টনটনের একটি স্থানে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হলেও তা নিষ্ফল হয়। ডেপুটি চিফ মোহন জানান, এই ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (ফাউল প্লে) ঘটেছে বলেই পুলিশের ধারণা এবং স্বামী লুইস মেলোকে এখনো সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। যদিও লুইস শুরু থেকেই স্ত্রীর নিখোঁজের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ভৌত প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তদন্ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রহস্য উদঘাটনের আশায় ২০২২ সালে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এক অভিনব উদ্যোগ নেয়। অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ও তথ্য দিয়ে তাসের (প্লেয়িং কার্ড) সেট তৈরি করে কারাগারের বন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যাতে কেউ কোনো তথ্য জানলে সামনে আসে। সেই তাসের সেটে ‘কুইন অব ডায়মন্ডস’ কার্ডে স্থান পায় ডেবরার ছবি। ২০২৫ সালে ডেবরা নিখোঁজের ২৫ বছর পূর্তিতে টনটনের মেমোরিয়াল পার্কে এক স্মরণসভার আয়োজন করে তার পরিবার। ডেবরার বোন প্যাট্রিসিয়া এবং সাবেক ভগ্নিপতি স্টিভেন ডিমৌরা জানান, তারা কেবল জানতে চান ডেবরার সাথে আসলে কী ঘটেছিল এবং তিনি কোথায় আছেন। পুলিশও বর্তমানে ২০০০ সালে ডেবরা ও লুইসের সাথে কাজ করা সাবেক সহকর্মীদের খুঁজে বের করে নতুন তথ্যের সন্ধান চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ৭২ বছর বয়সী বুকস্টোর মালিক ভিকি টিটকম্বের কাছে ২০২৫ সালের মার্চ মাসটি ছিল আর দশটা সাধারণ সময়ের মতোই। ছেলেকে দেখতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার আগে 'ম্যাস জেনারেল ব্রিগ্যাম' হাসপাতালে একটি রুটিন হার্ট স্ক্যান করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সাধারণ পরীক্ষাতেই তার অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, যা পরে অন্যতম প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হিসেবে শনাক্ত হয়। এর আগে ২০১২ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও এবার তিনি ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্টারনেটে এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে পড়াশোনা করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখেন। অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সাধারণত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার পরই ধরা পড়ে, ফলে এর পাঁচ বছর মেয়াদি বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩ শতাংশ। তবে ভিকির ক্ষেত্রে রুটিন পরীক্ষার কারণে রোগটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছিল। একইসঙ্গে তার শরীরে স্তনের ক্যানসার এবং ডিম্বাশয়ে একটি টিউমারও ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের টিউমারটি অপসারণ করেন, যা পরবর্তীতে নিরীহ (বিনাইন) বলে প্রমাণিত হয়। এরপর ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ক্ল্যান্সির তত্ত্বাবধানে তার অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ক্যানসারের মূল চিকিৎসা শুরু হয়। টিউমারটিকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে তাকে নিবিড় কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের পর টিউমারের আকার ছোট হয়ে এলে গত বছরের নভেম্বরে ‘বিশ্ব অগ্ন্যাশয় ক্যানসার দিবসে’ ভিকির শরীরে জটিল 'হুইপেল' (Whipple) সার্জারি করা হয়। রোবোটিক পদ্ধতিতে করা এই আধুনিক অস্ত্রোপচারটি সফল হয় এবং মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। ক্যানসার যেন ফিরে আসতে না পারে সে জন্য সতর্কতা হিসেবে তাকে আরও দুই মাস কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চিকিৎসকরা ভিকিকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে ক্যানসারকে জয় করে আবারও স্বাভাবিক ও হাসিখুশি জীবনে ফিরেছেন ভিকি টিটকম্ব। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিজের বুকস্টোর সামলাতে আবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের এই ভয়াবহ কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন এই বৃদ্ধা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, "১০ বছর আগে ক্যানসার ধরা পড়লে হয়তো এর পরিণতি ভিন্ন হতো। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি, কারণ ভাগ্য সত্যিই সবকিছু বদলে দেয়।"
ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারির সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট ছেলে ক্যালানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে প্রার্থনা করেছিলেন বাবা প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। দুই বড় সন্তান কোরা ও ডসনকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা যখন ক্যালানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন প্যাট্রিকের একটাই আকুতি ছিল, অন্তত তার একটি সন্তান যেন বেঁচে থাকে। কিন্তু চার দিন হৃদস্পন্দন চলার পর ক্যালানও মারা যায়। সম্প্রতি সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ সময়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যাট্রিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে ফিরে সন্তানদের দেখতে পান এবং ক্যালানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যালানের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালান এবং তাকে বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ক্যালানের হৃদস্পন্দন চার দিন চলেছিল। সেই সময়টুকু প্যাট্রিকের কাছে ছিল একদিকে আশার, অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তার। তিনি জানান, তখন তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন, অন্তত একজন সন্তান যেন তার কাছে ফিরে আসে। ক্যালানকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতের কথাও ভাবছিলেন এবং বড় দুই ভাইবোনের কথা তাকে একদিন বলবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। প্যাট্রিক জানান, ক্যালানের শেষ দিনগুলোতে তিনি তার পাশে ছিলেন, তাকে কোলে নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবার কোলে থাকা অবস্থাতেই মারা যায়। প্যাট্রিক বলেন, ওই কয়েকটি দিন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল, কারণ তিনি শেষ সময়টুকু সন্তানের সঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন। সন্তানদের মৃত্যুর পর প্যাট্রিক তিন সন্তানের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের নিয়ে লিখতে শুরু করেন। ক্যালানের হাত ধরে এক হাতে লেখা এবং অন্য হাতে সন্তানের হাত ধরে থাকার সেই সময়ের কথাও তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে না লিখলে তাদের স্মৃতি হারিয়ে যাবে, এমন একটি ভয় তার মধ্যে কাজ করছিল। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্যাট্রিকের সাবেক স্ত্রী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার আইনজীবীরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থার কারণে তিনি অপরাধের জন্য আইনগতভাবে দায়ী ছিলেন না। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিচার শেষে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং মামলাটি মিস্ট্রায়ালে শেষ হয়। পুনর্বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে প্রসিকিউটররা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। মামলার বিচার চলাকালে প্যাট্রিক নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। ‘৬০ মিনিটস’-এর সাক্ষাৎকারে তিনি এসবকে নিজের ও সন্তানদের স্মৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, অনলাইনে ছড়ানো নানা দাবি মূল ঘটনার পরিবর্তে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে। প্যাট্রিক জানান, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তার গুরুতর আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। এরপরও তিনি আদালতে ফিরে গিয়ে নিজের সাক্ষ্য শেষ করেন। সন্তানদের হারানোর পর ডাক্সবারিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় প্যাট্রিক নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান। সেখানে তিনি নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে চিকিৎসক র্যাচেল ড্যানিসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা বিয়ে করেন। ড্যানিসও ‘৬০ মিনিটস’-এ প্যাট্রিকের সঙ্গে তাদের জীবন ও সন্তানদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। বর্তমানে প্যাট্রিক ও র্যাচেল নতুন করে পরিবার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাদের সন্তানকে কোরা, ডসন ও ক্যালানের কথা কীভাবে বলবেন, সে প্রশ্নের জবাবে প্যাট্রিক জানান, তিনি একদিন তাদের বড় ভাই ও বোনের গল্প অবশ্যই বলবেন। তার কাছে সন্তানদের স্মৃতি এখনো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেপ কড এলাকায় একটি বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের ছানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ব্যতিক্রমী এই প্রাণীটিকে দেখে অবাক হয়েছেন স্থানীয় পশু চিকিৎসকরা। বার্নস্টেবলে অবস্থিত কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার বৃহস্পতিবার এই ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন প্রজাতির কচ্ছপটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। মাত্র ৫ দশমিক ২ গ্রাম ওজনের এই সদ্য জন্ম নেওয়া ছানাটিকে ওয়েলফ্লিটের একটি সংরক্ষিত বাসা তৈরির স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দুই মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়ার এই বিরল শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় বাইসেফালি। ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তারা এমন আরও মাত্র দুটি কচ্ছপ দেখেছেন। ফলে পশু চিকিৎসকদের দলটির কাছে এটি এখনও একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দুই মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া এই কচ্ছপটির আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চিকিৎসক দলটি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে তারা এমন বিরল প্রাণীর দেখা পেলেও প্রতিটি নতুন ঘটনাই তাদের এসব প্রাণীর শারীরস্থান ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেয়। আপাতত কচ্ছপটির ক্ষুধা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং আচরণের দিকে কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। নিউ ইংল্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক মের্টজ জানিয়েছেন, তাদের পশু চিকিৎসক দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কচ্ছপটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ করছে এবং এর দুটি অংশই বেশ সুস্থ ও সক্রিয় দেখাচ্ছে। তারা এই ব্যতিক্রমী কচ্ছপটি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। ম্যাসাচুসেটসে ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিনকে একটি সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পশু চিকিৎসকদের জন্য অদ্ভুত প্রাণী নিয়ে কাজ করা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। গত বছর তারা বার্নস্টেবলের একটি বাড়ির বাথরুমে আটকে পড়া একটি প্যাঁচার চিকিৎসা করেছিলেন। এর আগে ২০২২ সালে এক পরিবার ভুল করে একটি নেকড়ের ছানাকে হারিয়ে যাওয়া কুকুরছানা ভেবে তাদের কাছে নিয়ে এসেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালে সঙ্গীর কড়া পাহারার মধ্যে একটি রাজহাঁসের পায়ের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছিলেন এখানকার চিকিৎসকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।
ম্যাসাচুসেটসের সালেমের একটি সৈকতে ১৯৬৫ সালে ডুবে যেতে বসা চার বছরের শিশু রজার লসিয়ারকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন অ্যালিস ব্লেইজ। নয় বছর পর, ১৯৭৪ সালে, একই সৈকতে পানিতে ডুবে যাওয়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে ছুটে যান ১৩ বছরের সেই রজার। পরে জানা যায়, উদ্ধার করা ব্যক্তিই ছিলেন অ্যালিস ব্লেইজের স্বামী বব ব্লেইজ। একই সৈকতে নয় বছরের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই জীবনরক্ষার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত কাকতালীয় ঘটনার উদাহরণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। ঘটনাটির শুরু ১৯৬৫ সালে। তখন রজার লসিয়ার মাত্র চার বছরের শিশু। সালেমের একটি সৈকতে পানিতে গিয়ে বিপদে পড়ে সে। সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে ফিরতে না পেরে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অ্যালিস ব্লেইজ শিশুটিকে দেখতে পান। কোনো দ্বিধা না করে তিনি পানিতে এগিয়ে গিয়ে রজারকে উদ্ধার করেন। সেদিন অ্যালিসের কাছে এটি ছিল একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর ঘটনা। কিন্তু তিনি তখন জানতেন না, প্রায় এক দশক পর সেই একই শিশুর সঙ্গে তার পরিবারের এমন এক সম্পর্ক তৈরি হবে, যা সাধারণ কাকতালীয় ঘটনার অনেক বাইরে চলে যাবে। নয় বছর পর ১৯৭৪ সালে রজারের বয়স তখন ১৩ বছর। সেই একই সৈকতে সে পানিতে থাকা একটি ভেলায় ছিল। এ সময় পানিতে এক ব্যক্তিকে বিপদে পড়তে দেখে রজার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়। প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, লোকটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিলেন। রজার তার কাছে পৌঁছে তাকে পানির ওপরে ধরে রাখে এবং পরে সাহায্য আসা পর্যন্ত তাকে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। তবে তখনও রজার জানত না, সে কাকে বাঁচাচ্ছে। উদ্ধারের পর যখন পরিচয় জানা গেল, তখন ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। পানিতে ডুবে যাওয়া সেই ব্যক্তি ছিলেন বব ব্লেইজ। আর ববের স্ত্রী অ্যালিস ব্লেইজই ছিলেন সেই নারী, যিনি নয় বছর আগে চার বছরের রজারকে একই সৈকতে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে অ্যালিস যে শিশুটির জীবন রক্ষা করেছিলেন, ১৯৭৪ সালে সেই শিশুই অ্যালিসের স্বামীর জীবন রক্ষা করে। দুই ঘটনার স্থান একই, ব্যবধান মাত্র নয় বছর এবং দুই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন একই পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল রজারের জন্যও। উদ্ধার করার সময় সে জানত না বব কে। পরে বিষয়টি জানার পরই ১৯৬৫ সালের সেই ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৪ সালের ঘটনাটির যোগসূত্র স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, পরে রজারকে তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিতও করা হয় এবং তখনই ঘটনাটির এই অসাধারণ যোগসূত্র আরও আলোচনায় আসে। রজার লসিয়ার ও অ্যালিস-বব ব্লেইজের এই ঘটনা বহু বছর ধরে অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন শিক্ষামূলক বই ও প্রকাশনায়ও একই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য কাকতালীয়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন অচেনা নারী চার বছরের একটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। নয় বছর পর সেই শিশুই না জেনে ওই নারীর স্বামীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। একই সৈকত, দুইটি আলাদা দুর্ঘটনা এবং দুইটি জীবনরক্ষার ঘটনা যেন একটি অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ করে। মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা কেবল কাকতালীয় হলেও, রজার লসিয়ার ও ব্লেইজ পরিবারের এই গল্পটি সেই বিরল ঘটনাগুলোর একটি, যা সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষের মনে বিস্ময় জাগায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ওয়েলেসলিতে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের ‘প্রোবাবেল কজ’ বা সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আদালতে এই শুনানি হয়। জ্যানেটের বিরুদ্ধে তার ৭ বছর বয়সী ছেলে কাই এবং ৬ বছর বয়সী মেয়ে এলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত এপ্রিলে নিজ বাড়িতে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী ভারমন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে এই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুনানিতে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য আদালতের কাছে আরও সময় প্রার্থনা করে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও চিফ মেডিকেল এক্সামিনার অফিস এখনো শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি খুনের দুটি অভিযোগ আনা হলেও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা ইন্ডিক্ট করা হয়নি। বিচারক প্রসিকিউশনের সময় বাড়ানোর এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং আগামী অক্টোবরের শেষদিকে উভয় পক্ষকে আবারও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জ্যানেটের এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন লিন্ডসে ক্ল্যান্সি নামের আরেক মার্কিন মায়ের বিচার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। লিন্ডসে প্রসবোত্তর মানসিক বিষণ্ণতার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস) কারণে নিজের সন্তানদের হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, যার বিচার সম্প্রতি বাতিল (মিসট্রায়াল) ঘোষণা করা হয়েছে। জ্যানেটের আইনজীবী জোসেফ ক্রোস্কি স্বীকার করেছেন যে তার মক্কেলের সন্তানদের বয়স লিন্ডসের সন্তানদের চেয়ে বেশি ছিল, তবে ওই মামলাটি তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত কি না, তা নিয়ে বর্তমানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে নিজের তিন শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত বিচারকাজ স্থগিত (মিসট্রায়াল) ঘোষণা করা হয়েছে। টানা সাত দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে জুরি বোর্ড আসামির অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত শুক্রবার বিচারক এই নির্দেশ দেন। এই আদেশের ফলে মামলাটি এখন অমীমাংসিত রয়ে গেল। তবে প্রসিকিউটররা চাইলে ৩৬ বছর বয়সী সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে পুনরায় বিচারকাজ শুরু করতে পারবেন। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে লিন্ডসে ক্ল্যান্সি তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে কোরা, তিন বছরের ছেলে ডসন এবং আট মাস বয়সী শিশু ক্যালানকে এক্সারসাইজ ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তিনি দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যার ফলে তিনি বর্তমানে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত। প্রসিকিউটরদের দাবি, লিন্ডসে পুরোপুরি সজ্ঞানে এবং পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার দিন স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সিকে ওষুধ ও রাতের খাবার আনার কথা বলে সুকৌশলে বাড়ির বাইরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার না করলেও দাবি করেন যে, তার মক্কেল সেই সময় 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস' নামক এক বিরল মানসিক রোগে ভুগছিলেন। সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে এই চরম মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। বিচার চলাকালীন ২১ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে, কীভাবে ছোট সন্তান ক্যালানের জন্মের পর লিন্ডসের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন সাইক্রিয়াট্রিক ওষুধ সেবন করছিলেন এবং জানুয়ারির শুরুতে একটি মানসিক হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। বিচারকাজটি শেষ পর্যায়ে এসে মূলত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের যুক্তিতর্কে পরিণত হয়। প্রসিকিউশনের এক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, লিন্ডসে তীব্র সাইকোসিসে ভুগছিলেন না; বরং আত্মহত্যার পর সন্তানরা যেন কষ্ট না পায়, সেই ভাবনা থেকেই তিনি তাদের হত্যা করেছিলেন। বিপরীত দিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের চিকিৎসকদের মতে, লিন্ডসে সেসময় পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর লিন্ডসের সাবেক স্বামী প্যাট্রিক জানিয়েছিলেন, তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন মানসিক অসুস্থতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। মামলাটির ভবিষ্যৎ এখন প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি হারাতে বসেছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছেন মার্ক ও জোন হেনডেল দম্পতি, যারা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেপ কড এলাকায় নিজেদের অবসরের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িতে ওঠার মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারি এক নোটিশে তাদের জানানো হয়, নতুন সাগামোর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের নবনির্মিত বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। ‘এমিনেন্ট ডোমেইন’ বা জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হেনডেল দম্পতির মতো আরও অনেক পরিবারকে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দম্পতি জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন এবং দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তারা নতুন বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর জীবন যখন গুছিয়ে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের ওই চিঠি তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। জানা যায়, কেপ কডের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাগামোর ও বর্ন নামের প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো দুটি জরাজীর্ণ সেতুর বদলে নতুন সেতু নির্মাণের জন্যই এই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রিপ বহনকারী এই সেতুগুলোর ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা ও হারিকেন থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মতে, অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি বাড়ি ও তিনটি বাণিজ্যিক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির মালিকানা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের শিকার সম্পত্তির মালিকদের ন্যায্য বাজারমূল্য ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলেও, বর্তমান তীব্র আবাসন সংকটের যুগে এই ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাসাচুসেটস একটি 'কুইক টেক' অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সরকার চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগেই সম্পত্তির আইনি দখল নিতে পারে, যার ফলে ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মালিকরা এক ধরনের ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েন। এছাড়া কেপ কড এলাকার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নতুন নির্মিত বাড়ির ব্যাপক সংকট রয়েছে এবং দামও আকাশছোঁয়া। মার্ক হেনডেলের মতে, সরকার যদি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় কোনো বাড়িও দেয়, তারপরও বাড়তি সম্পত্তি কর ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বোঝা তাদেরই টানতে হবে, যা তাদের অবসর জীবনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে সারাজীবনের জমানো অর্থে গড়া স্বপ্নের বাড়ি হারানোর এই অপরিসীম মানসিক ও বাস্তবিক ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।" অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।" ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"
ম্যাসাচুসেটসের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতের একটি ‘হট মাইক’ মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিজের আট মাস বয়সী ছেলে ক্যালানের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে ক্ল্যান্সি কান্নায় ভেঙে পড়ার সময় প্রসিকিউশনের টেবিলের দিক থেকে আসা একটি মন্তব্যকে তার আইনজীবী ‘শাট হার আপ’ বা ‘ওকে চুপ করাও’ বলে দাবি করেছেন। তবে প্রসিকিউশন বলছে, কথাটি ছিল ‘শাট ইট অফ’, অর্থাৎ স্ক্রিন থেকে ময়নাতদন্তের ছবি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ। শুক্রবার প্লাইমাউথ সুপিরিয়র কোর্টে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। ক্ল্যান্সির ডিফেন্স অ্যাটর্নি কেভিন রেডিংটন আগের দিনের আদালতের ভিডিওতে ধরা পড়া ওই মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, যখন মেডিকেল এক্সামিনার ডা. কিম্বারলি স্প্রিঙ্গার আদালতে ক্ল্যান্সির তিন সন্তানের ময়নাতদন্ত নিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। এ সময় জুরিদের সামনে শিশুদের ময়নাতদন্তের ছবিও দেখানো হয়। নিজের আট মাস বয়সী ছেলে ক্যালানের ছবি স্ক্রিনে আসার পর ক্ল্যান্সি দৃশ্যত ভেঙে পড়েন। আদালতের ভিডিওতে তাকে কাঁদতে দেখা যায়। সেই সময়ই একটি মাইক্রোফোনে নিচু স্বরের একটি মন্তব্য ধরা পড়ে, যা পরদিন আদালতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। রেডিংটনের দাবি, প্রসিকিউশনের টেবিল থেকে কেউ ‘শাট হার আপ’ বলেছিলেন। তিনি আদালতে এ ধরনের মন্তব্যকে অসম্মানজনক বলে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি বিচারকের সামনে তোলেন। তবে প্লাইমাউথ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস রেডিংটনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য, কথাটি ছিল ‘শাট ইট অফ’। তাদের দাবি, ময়নাতদন্তের ছবি স্ক্রিন থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, ক্ল্যান্সিকে চুপ করানোর কথা নয়। ফলে অডিওতে আসলে কী বলা হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। বিচারক উইলিয়াম সুলিভান বিষয়টি নিয়ে আদালতে সতর্কতা জারি করেন। বিচারক জানান, বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী মন্তব্য সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতকক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তার তিন সন্তান, পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ক্ল্যান্সি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এমনটি নয়, বর্তমানে তার বিচার চলছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ক্ল্যান্সি পরিকল্পিতভাবে এক্সারসাইজ ব্যান্ড ব্যবহার করে সন্তানদের শ্বাসরোধ করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়ির জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। গুরুতর আঘাতের কারণে বর্তমানে তিনি কোমরের নিচের অংশে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ডিফেন্সের মূল বক্তব্য, ঘটনার সময় ক্ল্যান্সি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। তার আইনজীবীরা দাবি করছেন, সন্তান জন্মের পর তিনি পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং একাধিক ওষুধের প্রভাবও তার মানসিক অবস্থার ওপর পড়েছিল। প্রসিকিউশন অবশ্য এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করছে। তাদের বক্তব্য, ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ড ও ঘটনার আগে-পরে তার আচরণ বিশ্লেষণ করলে তিনি নিজের কাজ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই কারণেই মামলাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন এখন শুধু তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নয়। হত্যাকাণ্ডের সময় ক্ল্যান্সির মানসিক অবস্থা কী ছিল এবং আইন অনুযায়ী তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী কি না, সেটিই বিচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলমান বিচার ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটসসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পোস্টপার্টাম মানসিক স্বাস্থ্য, গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মায়েদের চিকিৎসা এবং ফৌজদারি মামলায় মানসিক অবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যেই আদালতের ‘হট মাইক’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক মামলাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে অডিওতে ‘শাট হার আপ’ নাকি ‘শাট ইট অফ’ বলা হয়েছিল, সে বিষয়ে দুই পক্ষের দাবি পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কোনো একটি বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।
ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সম্ভাব্য নতুন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৪৯টি পার্কিং স্পেসের ব্যবস্থা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ তথ্য প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিক, অভিবাসী অধিকারকর্মী এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত একটি ‘সোর্সেস সট’ বা বাজার যাচাই-সংক্রান্ত নোটিশে দেখা যায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আওতাধীন আইসিই দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিদ্যমান বা পরিকল্পিত অফিসের কাছাকাছি গাড়ি রাখার জায়গা খুঁজছে। সেই তালিকায় বোস্টনের জন্য ২৪৯টি পার্কিং স্পেসের চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত লিজ চুক্তি বা নির্মাণ প্রকল্প নয়; ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বাজারে কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা যাচাই করার প্রাথমিক ধাপ বলে নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, এসব পার্কিং স্পেস টানা পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম তিন বছর হবে নির্ধারিত বা ‘ফার্ম’ মেয়াদ। পার্কিংয়ের স্থানগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে এবং একই স্থানে অবস্থিত হওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে। বোস্টনের পাশাপাশি ডালাস, ফিলাডেলফিয়া, ফিনিক্স, লাস ভেগাস, ডেনভার-সংলগ্ন এঙ্গেলউডসহ আরও কয়েকটি শহরের জন্যও একই ধরনের পার্কিং চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সামনে আসার পর বোস্টনজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, আইসিই যদি শহরের কেন্দ্রস্থলে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে, তাহলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, ফেডারেল সংস্থার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা সরকারি কার্যক্রমেরই অংশ। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোস্টন সিটি প্রশাসন ও আইসিইর মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে। শহরের মেয়র মিশেল উ আগেও সিটি সম্পত্তিতে আইসিইর বেসামরিক অভিযান সীমিত করার লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান নোটিশকে অনেকেই নতুন আইসিই অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি কেবল বাজার যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আলাদা দরপত্র, লিজ প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসেচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে নিজের তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালতে পেশ করা প্রাথমিক বক্তব্যে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, লিন্ডসে এই অপরাধের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী নন; কারণ ঘটনার সময় তিনি প্রসূতিপরবর্তী তীব্র মানসিক রোগ বা 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস'-এ ভুগছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সি বোস্টনের একটি হাসপাতালের সাবেক লেবার অ্যান্ড ডেলিভারি নার্স। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজের তিন সন্তান ৫ বছরের কোরা, ৩ বছরের ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালাংকে তাদের ঘরের নিচতলায় ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লিন্ডসে নিজের কবজি ও গলা কেটে দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পর তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আদালতে লিন্ডসে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগেই নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে লিন্ডসের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে। তবে আদালতে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনার সময় তার মানসিক সুস্থতা ও অপরাধের দায়ভার গ্রহণ করার ক্ষমতা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, লিন্ডসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং চরম নৃশংসতার সাথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে, আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী কেভিন রেডিংটন যুক্তি দেখান যে, লিন্ডসে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে করা এক দেওয়ানি মামলায় লিন্ডসে জানান, ঘটনার সময় তার মাথার ভেতরে একটি অদৃশ্য কণ্ঠস্বর তাকে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। লিন্ডসের ভাষ্যমতে, "আমি সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার শরীর আমার নির্দেশ ছাড়াই কাজ করছিল। আমি কেবল সেই আদেশের দাসত্ব করছিলাম।" আদালতে এই মামলার শুনানিতে মূল দৃষ্টি থাকবে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের বক্তব্যের ওপর। বিশেষজ্ঞরা লিন্ডসের গর্ভাবস্থা-পরবর্তী মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। ছয় থেকে আট সপ্তাহব্যাপী এই বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে লিন্ডসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ম্যাসেচুসেটসের তিউকসবারি স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। মামলায় অন্যতম মূল সাক্ষী হতে যাচ্ছেন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। ২০২৩ সালের সেই মর্মান্তিক দিনে তিনি টেক-আউট খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। তবে নিজের স্ত্রীর প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে প্যাট্রিক মনে করেন, লিন্ডসে এক মারাত্মক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি কোনো রাক্ষস বা দানবকে বিয়ে করিনি—আমি এমন একজনকে ভালোবেসেছিলাম যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।" মামলার নথি থেকে জানা যায়, তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই লিন্ডসের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং তাদের নির্দেশে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, সেডেটিভ ও অ্যান্টিসাইকোটিকসহ প্রায় এক ডজন ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ সেবন করেন। তিনি মানসিক চিকিৎসার জন্য দু'বার হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরবর্তীকালে চিকিৎসকরা তাকে 'পোস্টপার্টাম সিভিয়ার বাইপোলার ডিসঅর্ডার'-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। লিন্ডসের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও মানসিক রোগের সঠিক নির্ণয় না হওয়ায় আজ তাকে এই ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে 'ইনস্যানিটি ডিফেন্স' বা 'অপরাধমূলক দায়মুক্তির' পক্ষে রায় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ড. জনি জনস্টন জানান, অপরাধের বিচারে উন্মাদনার অজুহাত খুব বিরল ক্ষেত্রেই আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়। তবে আদালত যদি লিন্ডসেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও দায়মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে, তবে তাকে কারাদণ্ডের বদলে আজীবন রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও হেফাজতে রাখা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০১ সালে টেক্সাসের অ্যান্ড্রিয়া ইয়েটস নামে এক মা তার পাঁচ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছিলেন। প্রথমে সাজা হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের পুনর্বিচারে মানসিক অসুস্থতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মানসিক হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে গুলি করা জন হিঙ্কলি জুনিয়রকেও মানসিক অসুস্থতার কারণে আদালত খালাস দিয়েছিল। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অগ্রগতি সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন বা গর্ভাবস্থা-পরবর্তী চরম মানসিক বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধি কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার প্রক্রিয়াটি পুনরায় তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শুরুতে একটি সাবওয়ে স্টেশনের এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের এক বাবার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে পড়ে যাওয়ার পর তার পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাসাচুসেটস অফিস অব দ্য মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাসাচুসেটস বে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমবিটিএ) ডেভিস স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে নিচে নামার সময় ম্যাকক্লাসকি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পরে তার পোশাক এসকেলেটরের যন্ত্রাংশে আটকে গিয়ে গলায় চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসরোধ হয় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'হাইপক্সিক ইস্কেমিক এনসেফালোপ্যাথি' বলা হয়। পাশাপাশি শরীরে ভোঁতা আঘাতও তার মৃত্যুর একটি সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে তিনি এসকেলেটর দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন। নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পড়ে গিয়ে এসকেলেটরের নিচের অংশে আটকে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই আটকে থাকলেও আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী বহু মানুষ তাকে উপেক্ষা করে চলে যান। কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য থামলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেননি। ভিডিও অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর এমবিটিএর এক কর্মী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে জরুরি 'স্টপ' বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তখন তার শরীরে কোনো স্পন্দন ছিল না। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের বোন শ্যানন ফ্ল্যাহার্টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনা মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তার ভাষায়, এত মানুষ একজন অসহায় মানুষকে এভাবে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেন, একজন মানুষ এত দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় সাহায্য না পেয়ে পড়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার পর এমবিটিএ একে একটি 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি এসকেলেটরের ওপর ও নিচে লাল রঙের 'স্টপ' বোতাম থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে যে কেউ ওই বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করতে পারেন। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সেবা ডাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং দুই ছেলের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা এবং দ্রুত সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক গবেষণায় অর্থনৈতিক শক্তি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সমন্বিত মূল্যায়নে ম্যাসাচুসেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থনীতি ও ভোক্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিকে ২৮টি অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেকারত্বের হার, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রবণতা, উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবন সক্ষমতার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ম্যাসাচুসেটস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক বিনিয়োগ রাজ্যটির অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে রাজ্যটিতে উদ্ভাবনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাথাপিছু আবিষ্কার-সংক্রান্ত পেটেন্টের সংখ্যার বিচারে ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রেও রাজ্যটি এগিয়ে। উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে কর্মরত মানুষের অনুপাত দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) খাতে কর্মরত জনশক্তির হারেও ম্যাসাচুসেটস তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ‘টেকনোলজি ফাস্ট ৫০০’-এ অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির হারও ম্যাসাচুসেটসে সবচেয়ে বেশি। এর ফলে রাজ্যটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে উটাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবনমুখী পরিবেশ এবং দক্ষ কর্মশক্তির সমন্বয় এসব অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই যে প্রতিটি নাগরিক আর্থিকভাবে সফল হবেন, এমন নয়। তবে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি মানুষের জন্য আর্থিক সাফল্যের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। তার মতে, কম বেকারত্ব, বেশি গড় আয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নাগরিকদের বাড়ি কেনা, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে। চিপ লুপো আরও বলেন, সফল অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাও তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতি এত বড় যে সেগুলোকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির মধ্যেই স্থান পেত। তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকারের বাইরে গিয়ে প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনায় ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।