কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে।
কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন।
নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে।
এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা।
ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে।
নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী যেসব কর্মীর কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের বেকারত্বের হার গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিপরীতে একই বয়সী কলেজ গ্র্যাজুয়েটরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় কঠিন সময় পার করছেন। শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের নতুন বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছে এন্টারপ্রেনার। দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ডিগ্রিধারী ও ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্বের প্রবণতা মোটামুটি একই দিকে চলেছে। অর্থনীতি ভালো থাকলে দুই পক্ষেরই বেকারত্ব কমেছে, আর অর্থনৈতিক দুর্বলতার সময়ে বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডিগ্রি না থাকা তরুণদের চাকরির বাজার শক্তিশালী হলেও কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভানন মনে করেন, এই পরিবর্তনকে শুধু সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, শ্রমবাজারে সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তন এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর একটি কারণ দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি। নির্মাণ, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন হাতে-কলমে দক্ষতা নির্ভর কাজে অভিজ্ঞ কর্মীদের বড় একটি অংশ অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছেন। ফলে এসব পেশায় নতুন কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। একই সময়ে অভিবাসন কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কলেজ গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা বাড়ছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এমন কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের অফিসের কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে, যেগুলো আগে নতুন কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগের মাধ্যমে করানো হতো। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কিছু সাদা কলারের চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন গ্র্যাজুয়েটরা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে কলেজ ডিগ্রিধারীরা সংখ্যাগতভাবে ডিগ্রিবিহীন কর্মীদের চেয়ে বেশি বেকার। এন্টারপ্রেনারের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হিসাবে কলেজ ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে শুধু হাইস্কুল ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক বেকারত্বের দিক থেকে উচ্চশিক্ষিত কর্মীরা এখনও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। মূল পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে ঐতিহাসিক তুলনায়। অতীতে কলেজ ডিগ্রি থাকা ও না থাকা দুই শ্রেণির তরুণের চাকরির বাজারের গতিপথ অনেকটা কাছাকাছি ছিল। এখন ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্ব যেখানে দীর্ঘ সময়ের তুলনায় নিচের দিকে, সেখানে কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করা তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে। বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের আগের গবেষণাতেও তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি নিয়ে চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, টার্মিনাল ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের ৫২ শতাংশ গ্র্যাজুয়েশনের এক বছর পর এমন কাজে ছিলেন, যেখানে তাদের ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল না। ১০ বছর পরও ৪৫ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট আন্ডারএমপ্লয়েড ছিলেন। অর্থাৎ ডিগ্রি অর্জন করলেই প্রত্যাশিত মাত্রার চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেজ শিক্ষার আর্থিক সুবিধা এখনও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ৫৭৮ ডলার। একই তথ্য দেখায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ার সঙ্গে সাধারণত বেকারত্ব কমে এবং আয় বাড়ে। তাই বর্তমান প্রবণতাকে কলেজ ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে এবং কোন ধরনের এন্ট্রি লেভেল কাজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তার এবং দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি একই সময়ে শ্রমবাজারের দুই ভিন্ন অংশে ভিন্ন ধরনের প্রভাব তৈরি করছে। বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ তাই যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কলেজ ডিগ্রি এখনও উচ্চ আয় ও কম বেকারত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। একই সময়ে ডিগ্রিবিহীন তরুণদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক কিছু পেশায় সুযোগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে শিক্ষা, দক্ষতা এবং চাকরির চাহিদার সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি
ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে। সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে। সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা
কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যেও ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, অর্থাৎ মাত্র একটি রাজ্যের ঋণের বোঝা ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম। ওয়ালেটহাবের করা এই বিশ্লেষণে বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থী ঋণের পরিস্থিতি তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা রয়েছে শুধু হাওয়াই ও উটাহতে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল রাজ্য হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়া। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষার্থীদের ঋণ কম থাকার অন্যতম কারণ হলো সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি। রাজ্যের কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৩ শতাংশ পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য বেছে নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি বা সিএসইউ এবং ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজেস বা সিসিসি—এই তিনটি বড় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রায় ১৫০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম টিউশন ফি থাকায় বড় অঙ্কের শিক্ষার্থী ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও কম হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নীতিরও এতে ভূমিকা রয়েছে। পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কলেজ শিক্ষার্থীদের ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ কম। রাজ্যের ইউসি ও সিএসইউ ব্যবস্থায় নতুন শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী ঋণ নেয়। বেসরকারি অলাভজনক কলেজে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং বেসরকারি লাভজনক কলেজে প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ক্যাল গ্র্যান্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা পরে ফেরত দিতে হয় না। শিক্ষার্থী ঋণের ক্ষেত্রে পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি রাজ্য তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান ৪৮তম এবং ওরেগনের ৪১তম। অন্যদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে অনেক রাজ্যে ঋণের বোঝা বেশি দেখা গেছে। বিশ্লেষণে মিসিসিপিকে শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বোঝা বহনকারী রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ রাজ্যের মধ্যম আয়ের ৫৪ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে রাজ্যটিতে শিক্ষার্থী ঋণ পরিশোধে খেলাপির হারও সবচেয়ে বেশি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগের দিক থেকেও এটি নিচের সারির রাজ্যগুলোর একটি। ওয়ালেটহাব তাদের র্যাংকিং তৈরিতে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের গড় ঋণের পরিমাণ, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার এবং যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ বকেয়া রয়েছে তাদের অনুপাত। বিশ্লেষণে ইউএস সেন্সাস ব্যুরো, ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস, ইনস্টিটিউট ফর কলেজ অ্যাকসেস অ্যান্ড সাকসেস এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত