সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এবং শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি-র যৌথ পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, আগামী ২০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস এবার ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। ১৮ মার্চ রমজানের ২৯তম দিনে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাওয়ায় সেদিন আকাশে নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৯ মার্চ ভোরে নতুন চাঁদের সংযোগ ঘটলেও সূর্যাস্তের সময় এর অবস্থান ও বয়স এমন থাকবে যে, খালি চোখে এমনকি টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি ধারণের ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ পর্যবেক্ষণে তা দৃশ্যমান হবে না। ফলে ১৯ মার্চ রমজান ৩০ পূর্ণ হবে এবং তার পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত একই দিনে ঈদ পালন করে থাকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরিতে ভয়াবহ একাধিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আগমুহূর্তে জনবহুল এলাকাগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় যখন স্থানীয়রা রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে শহরের প্রধান ডাকঘর (পোস্ট অফিস), বাজার এলাকা এবং মাইদুগুরি বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে পর পর বিস্ফোরণগুলো ঘটে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সানি উবা এক বিবৃতিতে বলেন, "সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে জনাকীর্ণ এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যাতে সর্বোচ্চ হতাহত এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়।" যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ এই নৃশংস ঘটনার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠী 'বোকো হারাম'কে দায়ী করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় অনেককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। নাইজেরিয়ান রেড ক্রসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এক সময় মাইদুগুরি বোকো হারামের কেন্দ্রস্থল থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে শহরটিতে এক ধরণের আপেক্ষিক শান্তি বজায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও বড় ধরণের নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এপ্রিলেই বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম সতর্ক করেছিলেন যে, জিহাদিরা আবারও সংগঠিত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য সফরে থাকা নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে মাইদুগুরিতে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিদ্রোহে নাইজেরিয়ায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। আজকের এই ভয়াবহ হামলা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আবারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।
ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি। রমজানের শেষ সময়েও তারা মসজিদের ভেতরে যেতে না পেরে আশপাশের রাস্তায় জামাতে নামাজ আদায় করছেন। গত বছরগুলোতে রমজানের এই সময়টায়, বিশেষ করে জুমার নামাজে, লাখো মানুষের সমাগম হতো আল-আকসা প্রাঙ্গণে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। নিরাপত্তার অজুহাতে জেরুজালেমের পুরনো শহর ও পবিত্র স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। সব বাধা সত্ত্বেও অনেক ফিলিস্তিনি আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকতে না পেরে নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন। ৬৫ বছর বয়সী জেরুজালেমের বাসিন্দা ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান, গত পাঁচ দশক ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবির নামাজ মিস করেননি। তিনি বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে প্রতি রমজানে এখানে আসছেন, কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। শেষ দশ দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভেতরে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করার সুযোগ না পেয়ে মনে হচ্ছে মূল্যবান কিছু হারিয়ে গেছে। ৪০ বছর বয়সী রামি মোহাম্মদ বলেন, পুরনো শহরের বাইরে শত শত মানুষকে জায়নামাজ বিছিয়ে একসঙ্গে নামাজ পড়তে দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষ ভেতরে ঢুকতে না পারলেও যতটা সম্ভব মসজিদের কাছেই থাকতে চায়। রাস্তায় নামাজ পড়ার কষ্টের মধ্যেও আল-আকসার প্রতি মানুষের টান ও সংহতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেরুজালেমভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াদি হিলওয়েহ ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, গত বুধবার বাব আল-সাহিরার কাছে নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনী চড়াও হয়। অনেককে তল্লাশি করা হয়, কয়েকজনকে মারধর করা হয় এবং অনেককে পুরনো শহরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা মসজিদ এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই বিধিনিষেধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইসরাইল। রমজানের প্রথম জুমায় অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ মুসল্লির সমাগম হতো। জর্ডান পরিচালিত পবিত্র আল-আকসা পরিচালনা পরিষদ (ওয়াকফ) জানিয়েছে, রমজানের আগে থেকেই তাদের পাঁচজন কর্মীকে প্রশাসনিকভাবে আটক করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। পাশাপাশি ৩৮ জন কর্মী ও ৬ জন ইমামের ওপর মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে আটটি মুসলিম ও আরব দেশ যৌথভাবে ইসরাইলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলকে এই নীতি থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেটও সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, রমজানের শেষ জুমার নামাজেও আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
পবিত্র রমজান এবং সামনে আসা ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৪১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসী আয় আসার গতি বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে ৫ থেকে ৭ মার্চ এই তিন দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই বাড়তি প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রায় ৩৭ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৯২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। একই সঙ্গে এদিন ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা, জোহরের নামাজ ১২টা ১০ মিনিট, আসরের নামাজ ৪টা ২৫ মিনিট, মাগরিবের নামাজ ৬টা ৫ মিনিট এবং এশার নামাজ ৭টা ১৯ মিনিটে। দেশের অন্যান্য জেলায় সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কক্সবাজারে সেহরির শেষ সময় ৪টা ৫৩ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৫টা ৫৯ মিনিট। চট্টগ্রামে সেহরি শেষ হবে ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা। খুলনায় সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা ৯ মিনিটে। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো— কিশোরগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুড়িগ্রাম: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট কুমিল্লা: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুষ্টিয়া: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট খাগড়াছড়ি: সেহরি শেষ ৪টা ৫৪ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট গাইবান্ধা: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট গাজীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৯ মিনিট, ইফতার ৬টা ৫ মিনিট গোপালগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট চাঁদপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৪ মিনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ১৩ মিনিট চুয়াডাঙ্গা: সেহরি শেষ ৫টা ৬ মিনিট, ইফতার ৬টা ১১ মিনিট জয়পুরহাট: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট হবিগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সুনামগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সিলেট: সেহরি শেষ ৪টা ৫২ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৮ মিনিট সিরাজগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট সাতক্ষীরা: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট লক্ষ্মীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট মৌলভীবাজার: সেহরি শেষ ৪টা ৫৩ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট মাগুরা: সেহরি শেষ ৫টা ৪ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেহরি ও ইফতারের সময়ে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
পবিত্র রমজানের শেষ দশকের নীরব এক আত্মিক প্রশান্তির নাম ইতিকাফ। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের মুসলিম সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই বিশেষ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ইতিকাফ করলে অন্যরা দায়মুক্ত হন। তবে কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহের অংশীদার হতে পারেন। ইতিকাফ শুরু করতে হবে ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে প্রবেশের মাধ্যমে। সূর্যাস্ত বা মাগরিবের পর মসজিদে প্রবেশ করলে তা সুন্নত ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে না; তখন তা নফল ইবাদত হিসেবে ধরা হবে। ইতিকাফ সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর শেষ হয়। ইতিকাফ তিন ধরনের— সুন্নত ইতিকাফ: রমজানের শেষ ১০ দিন, ওয়াজিব ইতিকাফ: মানত পূরণের জন্য, নফল ইতিকাফ: যেকোনো সময় করা যায়। ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পবিত্রতা বজায় রাখা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা জরুরি। সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখাও শর্ত। ইতিকাফ ভেঙে যাওয়ার কারণ ইতিকাফকারী প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যেতে পারে। অবশ্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন, ফরজ গোসল, জুমার নামাজ আদায় বা আজান দেওয়ার মতো শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাময়িক বাইরে যাওয়া যায়। তবে যেসব কারণে ইতিকাফ নষ্ট হতে পারে— অপ্রয়োজনীয়ভাবে মসজিদ ত্যাগ করা, নফল গোসলের জন্য বাইরে যাওয়া, জানাজা বা রোগী দেখতে শুধু এই উদ্দেশ্যে বের হওয়া, ব্যবসায়িক বা দুনিয়াবি কাজ করা, ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করা, টাকার বিনিময়ে অন্যকে ইতিকাফে বসানো (নাজায়েজ)। নারীদের ইতিকাফ নারীরা নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করতে পারেন। তবে মসজিদে ইতিকাফ করতে চাইলে পর্দা ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ বন্ধ করতে হবে। ইতিকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পরিষ্কার পোশাক, ধর্মীয় বই ও তসবিহ সঙ্গে রাখা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কথা, মোবাইল ব্যবহার এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় দেওয়াই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।
রমজান মাসে রোজা রাখা সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য ফরজ। যেসব পেশার মানুষ কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত—যেমন রিকশা চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক বা মাটি কাটার কাজের লোক—তাদের জন্যও রোজা রাখা ফরজই। তবে পরিশ্রমের অজুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই। যারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পেশায় যুক্ত, তাদের উচিত রমজানে কাজের চাপ সামঞ্জস্য করা। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ দিনে পুরো দিন কাজ করা হলেও রমজানে অর্ধদিবস কাজ করা এবং অবশিষ্ট সময় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে রোজা রাখা সহজ হয়। তবু যদি কোন দিন এমন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যার কারণে প্রাণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে, সেই দিনের রোজা খোলা যায় এবং পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আধিকারিক ও অধীস্তদের জন্যও দায়িত্ব রয়েছে। অধীস্তদের কাজ হালকা করে দিলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারীতা অর্জন কর’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩) এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ, তবে অতিরিক্ত নফল রোজা রাখতে পারো। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখা গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা রোজা ভেঙে দেয় পূর্ণ করার আগে, তাদের কঠোর শাস্তি হবে।
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবারে বিশাল সংখ্যক মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক লাখ মুসল্লি সকাল থেকেই প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। দখলদার ইসরায়েল বাহিনী শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালিয়ে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করলেও মুসল্লিরা প্রবেশ করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে পশ্চিম তীর থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের কিছু অংশ প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে। রমজানের এই সময় আল-আকসায় নামাজ আদায়ের গুরুত্ব মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ। চলমান উত্তেজনার মধ্যে মুসল্লিদের উপস্থিতিকে ধর্মীয় অনুরাগ ও প্রতীকী গুরুত্বের চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, যদিও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট না নিয়ে, বরং নানা কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল দেখলেও ইসলামি আদর্শের সরকার দেখেনি। এবার যুবসমাজসহ দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও ডিজিটাল কারচুপি ও কায়দা করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।” তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বন্ধ করে ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ‘সব ঘাটে শক্ত পাহারা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কয়েকটি আসনের মধ্যেই সংসদে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, জনগণের ভোটের ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে তারা সংসদে যাচ্ছেন। সেখানে নিজের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার প্রস্তাব সরকার অনুসরণ করেছে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সরকারি খরচে আনার সিদ্ধান্তও স্বাগত জানান। মিরপুর-কাফরুল এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন, “রমজানে কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের জানান, আমরা সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।” পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে মাসে একদিন সরাসরি জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমালোচনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল ২০০৭ সালে ‘মিস বাংলাদেশ’ খেতাব অর্জনের মাধ্যমে বিনোদন জগতে পরিচিতি পান। গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম পর্যন্ত তিনি ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখেন। সম্প্রতি জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার একটি মা হারানো বানরের বাচ্চার ভিডিওতে তার মনোযোগী হন। ভিডিওতে দেখা যায়, বাচ্চা বানরটি একটি নরম খেলনা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে অসহায় প্রাণীর কষ্টকে বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা অভিনেত্রীকে অপ্রীতিকর মনে হয়েছে। পিয়া জান্নাতুল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “দেখলাম ও একটা নরম খেলনা জড়িয়ে ধরে আছে। সত্যি বলছি, ভিডিওটা দেখে খারাপ না লাগা সম্ভব নয়। কিন্তু এরপর অনেক ব্র্যান্ড ওর নাম ট্যাগ করে নিজের প্রোডাক্টের সঙ্গে ওর গল্প জুড়ে দিয়েছে। এটা আমার কাছে স্বার্থপর মনে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এখন তো রমজান। আমরা নিজেরাই রোজা রেখে বুঝি পেটের কষ্ট কী। তাহলে ভাবুন, রাস্তায় থাকা প্রাণীগুলো কেমন কষ্ট পায়।” অভিনেত্রী ভক্ত-অনুরাগীদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দয়া করে একটু মানবিক হই। সম্ভব হলে কিছু খাবার দিই, খেয়াল রাখি। রমজান আমাদের শুধু নিজের ইবাদত নয়, অসহায় প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্ব মনে করিয়ে দিক।” এর আগে তিনি হিজাব পরিহিত ছবি শেয়ার করে নিজের ধর্মচর্চা ও দায়িত্বের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। পিয়া বলেন, “ইবাদত আমার কাছে শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্ব ও চর্চা। আমি যেমন ফ্যাশন মডেল, তেমনই পেশাদার আইনজীবীও। আধুনিক চিন্তাভাবনা ও ধর্মীয় বিশ্বাস আমার ব্যক্তিত্বের অংশ।” তিনি আরও বলেন, “আমার বা অন্য কারো কাজ পছন্দ হতে পারে বা নাও হতে পারে। তবে সম্মান সবসময় থাকা উচিত—সব মানুষের জন্য, সব ধর্মের জন্য, সবার বিশ্বাসের জন্য।” অভিনেত্রী সকলকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, যা মানুষের কর্মজীবন ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানুষের মানবসম্পদে রূপান্তর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, প্রেসক্লাবের আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন মাহিন বলেন, রমজান মাস সততা, সংযম ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা সারাবছর অনুসরণীয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাবি প্রতিনিধি: রাফসান আলম
শুধু রমজান মাস এলেই ধর্মীয় অনুশীলন সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ইবাদতের পরিবেশ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আমির হামজা। তিনি বলেন, শুধু রমজান এসেছে বলেই মাথায় টুপি তুলবেন না। এই পরিবেশ যেন বাকি ১১ মাসও বজায় থাকে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর জেলা শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা বলেন, বর্তমানে অনেকের মাথায় টুপি দেখে মনে হয় তারা ইবাদতে নিয়োজিত। তিনি সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ন্যায় ও সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার কাজকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। ইফতার মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দার এবং শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন। ইফতার মাহফিলে গণমাধ্যমকর্মীসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় বা তার পর অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় উপবাসে থাকলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যাঁরা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজার সময় হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হলে মাথাব্যথার প্রবণতা বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা এবং মানসিক চাপও এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলতে পারে। উপবাসজনিত মাথাব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার হয় এবং কপালজুড়ে অনুভূত হয়। এটি সাধারণ মাইগ্রেনের মতো দপদপে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও, যাঁদের মাইগ্রেনের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা এই ব্যথাকে উসকে দিতে পারে। খাবার গ্রহণের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যা কমে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সেহরিতে সুষম খাবার গ্রহণ, ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেহরি বাদ না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, তীব্র বমি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, জ্বর, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদকঃ সিদ্দিকুর রহমান
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দ্রুত খালাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর কার্যক্রমে গতি ফিরলে পণ্য খালাস দ্রুত হবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারে মূল্যচাপ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। শুক্রবার বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবাদানকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ–কে ঘিরে চলমান কার্যক্রমের মধ্যেও ব্যয় বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। আমদানি করা পণ্য খালাসে বিলম্ব, অতিরিক্ত চার্জ এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ব্যয় বাড়ছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প উৎপাদনে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। বৈঠকে কয়েকটি তাৎক্ষণিক সমাধানের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন এমন কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার শফিউদ্দিন, এডিশনাল কমিশনার তাফসির উদ্দিন ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এবং পোর্ট ইউজারস ফোরামের আহ্বায়ক আমির হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা এবং খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার তদারকিতে অভিযান পরিচালনা করলে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন। বৈঠকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সিএনজি স্টেশন বন্ধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানের শুরুতে প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদের আগে ও পরে টানা ১১ দিন সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়, রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতারের সময় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে স্বল্প-চাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথম রমজান থেকে ১৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, মোট ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার যে নিয়ম রয়েছে, তা এই সময়ে স্থগিত থাকবে। অন্যদিকে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ঈদের ছুটি শেষে ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে আবারও আগের নিয়মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হতে না হতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে চিরাচরিত অস্থিরতা শুরু হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি আর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আজ শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, পবিত্র রমজানের প্রথম জুমা ও ছুটির দিনে বাজারে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজার পরিস্থিতি: আকাশচুম্বী দাম সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ শসা ও বেগুনের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১২০ টাকা ও গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ১২০ টাকা এবং লেবুর হালি ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৫০–৬০ টাকা, সিম ৬০–৮০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। বিক্রেতাদের অজুহাত বনাম ক্রেতাদের ক্ষোভ খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। তবে ক্রেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন। আমাদের দেশে রমজান এলেই অতি মুনাফা লোটার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দিদারুল ইসলাম নামে অন্য এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে রমজানে পণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে চিত্র ঠিক উল্টো। যথাযথ বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু চক্র এই সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সমন্বয়হীনতা এই অস্থিরতার মূল কারণ। তাদের মতে: নিয়মিত তদারকি: পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জরুরি। সরবরাহ নিশ্চিতকরণ: পণ্য আমদানি ও মজুত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখতে হবে। আইনি ব্যবস্থা: অতি মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসা সম্ভব। রমজানের বাকি দিনগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা।
পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম নগরীর জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একজন ক্রেতা ৯০ টাকায় এক ডজন ডিম, ৮০ টাকায় এক লিটার দুধ এবং ৭০০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কিনতে পারছেন। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া পুরো রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন দুটি ট্রাকে করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভোক্তা এই সুবিধা পাবেন। কম দামে নিত্যপণ্য পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। এদিকে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান সংলগ্ন সড়কের পাশেও সুলভ মূল্যে ডিম, মুরগি ও গরুর মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৭৫ টাকা এবং ডিম প্রতি হালি ৩২ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনাজপুরে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি গরুর মাংস, দুটি মুরগি এবং তিন হালি ডিম কিনতে পারবেন।
রমজানের প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে জমে উঠেছে ইফতারির বাজার। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোজাদাররা ছুটে এসেছেন ইফতারের স্বাদ নিতে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই বাজার বৈচিত্র্যময় ইফতারির জন্য বরাবরের মতোই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, জোহরের নামাজের পর থেকেই সার্কুলার রোডজুড়ে দোকানিরা ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেন। হাঁকডাকে মুখর পুরো এলাকা। দুপুর গড়াতেই বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়, যা ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই তীব্র হয়। ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি ও পেঁয়াজুর পাশাপাশি চকবাজারে পাওয়া যায় প্রায় ১০০ রকমের ইফতারি। এর মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। বাজারে চিকেন আচারি, শাহী রুটি, দই বড়া, চিকেন সাসলিক, তন্দুরি চিকেন, শাহী পরোটা, খাসির লেগপিস, কোয়েল পাখি, সমুচা, সুতি কাবাব, শাহী জিলাপিসহ নানা ধরনের ইফতারি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ছোলা, মুড়ি, ঘুঘনি ও বিভিন্ন ভাজাপোড়া ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংস, কাবাব, ডিম, ঘি, বুটের ডাল, কিমা ও বিশেষ মসলা দিয়ে তৈরি এই খাবারটি স্বাদের বৈচিত্র্যের জন্য রোজাদারদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। বিক্রেতা মোহাম্মদ জানান, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এটি কিনতে আসেন এবং ১২ ধরনের উপকরণ দিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। আরেক বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, রোজার প্রথম দিন থেকেই বাজারে ভালো ভিড় দেখা গেছে এবং মানসম্মত ইফতারি বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে। চকবাজারের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হলেও, মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও রমজানে এখানে ইফতারি বিক্রি করেন। ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। খিলগাঁও থেকে আসা তাহেরুল বলেন, চকবাজারে এমন অনেক মুখরোচক ইফতারি পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও সহজে মেলে না। তবে খোলা অবস্থায় খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রমজানের প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড় আবারও প্রমাণ করে, ঐতিহ্য ও স্বাদের টানে চকবাজার এখনো রোজাদারদের অন্যতম প্রিয় ঠিকানা।
পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে রীতিমতো আগুন লেগেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মাছ, মাংস ও সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজার পরিস্থিতির এমন এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে যেখানে মাত্র এক হালি লেবু কিনতে যে অর্থ খরচ হচ্ছে, তা দিয়ে অনায়াসেই কেনা যাচ্ছে এক ডজন ডিম। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল, আগারগাঁও তালতলা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ গত বুধবারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পবিত্র এই মাসে অতিরিক্ত মুনাফা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই বাজারে চলছে সিন্ডিকেট ও উচ্চমূল্যের দাপট। বর্তমানে ঢাকার বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অন্যদিকে, এক ডজন বাদামি ডিমের দাম ১১০ টাকা। অর্থাৎ, এক হালি লেবুর দাম এখন এক ডজন ডিমের সমান। এছাড়া বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও খেজুরের দামও আকাশচুম্বী। আমিষের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন দেশি মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিক্রেতারা চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকার অজুহাত দিলেও সাধারণ ক্রেতারা একে স্রেফ কৃত্রিম সংকট ও অতি-মুনাফার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দারা এখনও যুদ্ধ ও গণহত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। শরণার্থী মাইসুন আল-বারবারাউই তার ৯ বছরের ছেলে হাসানের জন্য তাঁবু সাজিয়ে রেখেছেন, রঙিন আলপনা ও রমজানের লণ্ঠনের মাধ্যমে শিশুর জন্য কিছু খুশি মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন। মাইসুন বলেন, “আমি চাইছিলাম, এই সাজসজ্জা গত দুই বছরের যুদ্ধ ও দুঃখের পরিবেশ থেকে মুক্তির এক ছোট উপায় হোক। প্রতিদিনও যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।” গত দুই বছরের সংঘাতের সময় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি এনেছে, তবে এখনও গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তার শঙ্কা রয়ে গেছে। খাদ্য সংকটও চলমান; অনেক ফিলিস্তিনি মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রমজানের প্রথম দিনে হানান আল-আত্তার একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে খাবারের পার্সেল পেয়েছেন। আল আকসা মসজিদে উত্তেজনা প্রতিবারের মতো এবছরও রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার ফলে হামাস প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদে নিষিদ্ধ করার আদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। প্রতি রমজানেই মসজিদে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু দেশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে, তবে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান এখনও অংশ নিচ্ছে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার দক্ষিণ গাজায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যদিও নিজেদের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে। ফিলিস্তিনিরা এই রমজানে শান্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছেন। মাইসুন বলেন, “যুদ্ধ থামেনি, ভয় ও শঙ্কা রয়ে গেছে। তবুও আমরা আশা করি, এই রমজান কিছু শান্তি নিয়ে আসবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।