সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শি জিনপিং

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আগ্রহ
শি-ট্রাম্প মুখোমুখি, বৈঠকের বাইরেও যে প্রশ্নে নজর বিশ্বের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন শি জিনপিং। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথা রয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, সামরিক প্রদর্শনী এবং বিশেষ উড়োজাহাজ মহড়া। ফলে দুই নেতার বৈঠক কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে।   এই সফরের আগে দুই নেতার বয়স ও শারীরিক সুস্থতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিংকে ঘিরে সম্প্রতি স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের একটি নৈশভোজে তিনি উপস্থিত না থাকায় এবং পরে কয়েক দিন প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুরুতর অসুস্থতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শি অসুস্থ হওয়ার দাবি নাকচ করে এসব পোস্টকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে।   অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল্টার রিডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ বলে দাবি করেছেন। তার বয়স নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, একই ধরনের যাচাই-বাছাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল।   দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক যতটা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই সামনে আসছে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতারা যখন বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তারা ভবিষ্যতে কখন নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব কেমন হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।   আর এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক, এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব

আসন্ন ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠকের আগে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন একটি ‘নোটিফিকেশন মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাব উঠেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের প্রায় আট ঘণ্টার আলোচনায় এআইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।   বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘এআই ডায়ালগ’ চালুর মাধ্যমে এমন কোনো এআই ঘটনা, যা জাতীয় নিরাপত্তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে অবহিত করার একটি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য এআই প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।   বৈঠকের পর বেসেন্ট আলোচনাকে ‘খুবই সফল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যে সাধারণ ঝুঁকি ও অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।   বাণিজ্য নিয়েও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ ‘বোর্ড অব ট্রেড’ নামে একটি প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল নয় এমন কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। সম্ভাব্য পণ্যের মধ্যে চীনের ভোক্তা ও কম প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে পারে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য বিরতির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। ১০ নভেম্বর বর্তমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শুল্ক কমানো ও বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি তাই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।    এই বৈঠকের পর এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকে। নিউইয়র্কের আলোচনায় এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর কোনোটি শীর্ষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    Source: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ভারত-চীন সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের বরাতে বলা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় চীন নতুন ভবন, সড়ক ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।   তবে এসব স্থাপনা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলোর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের দাবির মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ভারত বা চীন কেউই সাম্প্রতিক এসব উপগ্রহচিত্রকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি যে চীনা সেনারা নতুন করে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণকে দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।   হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলের এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে উল্লেখ করে। ভারত অবশ্য চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নথিতেও বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে চীন প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের দাবি করে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা, বিশেষ করে গেলেমো ও তাকসিংয়ের আশপাশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চীনা বাহিনী ও অবকাঠামোর উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত চারণভূমি ও শিকারের এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। তার দাবি, চীনা বাহিনী সীমান্তের ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার দিকে এগিয়ে এসেছে। তবে তিনি ঠিক কতটা এলাকা দখল করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করতে পারেননি।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানও চালানো হয়েছে। অরুণাচলের তাগিন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি দল আগস্টের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে। দলটি স্থানীয় বাসিন্দা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং সেনাবাহিনীর রসদ বহনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।   তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, আগে যেখানে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত টহল দিত, এমন কিছু এলাকায় চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আপার সুবনসিরির জেলা প্রশাসন এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতিকে শুধু স্থানীয় উন্নয়ন সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণেও সীমান্তের চীনা নিয়ন্ত্রিত অংশে অবকাঠামো সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জেনসের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিব্বতের লহুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের আশপাশে বেশ কিছু নতুন নির্মাণকাজ শনাক্ত হয়েছে।   কিছু এলাকায় জমি সমতল করা, নির্মাণযন্ত্রের উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের সহায়ক স্থাপনা দেখা গেছে। একটি এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢাল কেটে রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ বা সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনার কিছু সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের নকশা, আশপাশে সামরিক ধরনের যানবাহন এবং প্রশিক্ষণ এলাকার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য তাদের এমন ধারণার দিকে নিয়ে গেছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে কোনো স্থাপনার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। ফলে এগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক অবকাঠামো হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।   চীন ও ভারতের সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ভারতীয় ও চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলেছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ে। চলতি সেপ্টেম্বরেই অরুণাচল সেক্টরে ভারত ও চীনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচা এবং চীনের দিকের দামাই এলাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এরপরই দিল্লিতে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলন। ১২ সেপ্টেম্বর সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি ছিল শির প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পক্ষ থেকেও দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একদিকে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন অভিযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে। ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন অংশের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি করে আসছে। এ কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা সেনা অবস্থানকে কোন দেশের ভূখণ্ডে পড়ছে, তা নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে জটিল।   অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক, হেলিপ্যাড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ তাই শুধু স্থানীয় উন্নয়ন নয়, দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত। নতুন উপগ্রহচিত্রে চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে ভারত চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হতে পারে মোদি-শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর পর নাথু লা পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলো থেকে ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে চীনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত শুল্ক আরোপ করে, যা চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠকে চীনে ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো চীন থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। পোশাক, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্যে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন, সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে চীনের বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় ব্যবসার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখনো বড় বাধা। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে করমর্দন করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
সাত বছর পর ভারতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সঙ্গে ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারতে আসতে পারেন। এ সফর হলে সাত বছর পর এটি হবে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও সম্ভাব্য এই সফরকে দেখা হচ্ছে।   আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি শুধু ব্রিকসের আলোচনার জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ভারতের সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা হোটেল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। আরও দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা থাকতে পারেন। ২০১৯ সালে তাঁর শেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা ২০০ জনেরও কম ছিল।   সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য কীভাবে সামলানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।   তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং চলতি বছরের সম্মেলনের আয়োজক ভারতকে সফলভাবে সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানানো হয়েছে।   ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নয়। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।   ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মুখোমুখি হওয়ার খবর প্রকাশের পরও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের কথা জানিয়েছিল ভারত।   এদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের খবর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিও ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি দুই দেশই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নিজেদের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আগ্রহী কি না, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়/সংগৃহীত
শি জিনপিংয়ের আশ্বাস, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।   শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে বলেও জানান।   বৈঠকে দুই দেশ 'অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়' গঠনের ঘোষণা দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয়। শি জিনপিং বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় চীন।   জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি চীনের উন্নয়নকে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর অনুরোধও জানান।   প্রধানমন্ত্রী আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ 'এক চীন' নীতিতে অটল রয়েছে। তিনি বলেন, তাইওয়ানকে বাংলাদেশ চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে আজ (শুক্রবার) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বহুমাত্রিক হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ দিনের কর্মসূচিতে আরও রয়েছে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চীনের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন।   চার দিনের সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা।   উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার রাতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বেইজিংয়ে যান তিনি। সফরের শেষ দিনে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তার এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হচ্ছে। সূত্র: বাসস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকায় শি জিনপিং ও পুতিনকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের বিষয়ে তার প্রচেষ্টায় তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি।   ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়েছে।’   ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞ।   ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তিনি নিরপেক্ষ, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন এবং আমি এর প্রশংসা করি। আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই; তিনি খুবই নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরো অনেক কঠিন করে তুলতে পারতেন।’   মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও রাশিয়া চাইলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। তবে তারা তা না করে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
চীন–উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ

চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় এগিয়ে নিতে ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এই সফরের সময় দুই দেশ ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।   শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।   কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিনের এই সফরে চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়।   সফর শেষে কিম জং উনকে পাঠানো এক চিঠিতে শি জিনপিং বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন।   চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।   সূত্র: বিএসএস

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্ক আরও বাড়াতে উত্তর কোরিয়া গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে দুই দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা ঘোচাতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলে কিম ইল-সুং স্কয়ারে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়।   কুুমসুসান রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শি জিনপিং এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন সবসময় বজায় থাকবে। একই সাথে তিনি দুই দেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং বিমান ও আন্তর্জাতিক ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা এবং মস্কোর সাথে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার মাধ্যমে পুতিনের বেশ কাছাকাছি চলে গেছে উত্তর কোরিয়া। বেইজিং মনে করে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার এই মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এ অঞ্চলে চীনের নিজস্ব প্রভাবকে কিছুটা ম্লান করতে পারে। তাই ঐতিহাসিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের বলয়ে ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের মূল লক্ষ্য।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে: ট্রাম্প

ইরানকে কোনো ধরণের মরণাস্ত্র সরবরাহ না করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং এটি হরমজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিতে সহায়তা করবে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে দ্বিতীয় মেয়াদে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে শি জিনপিংয়ের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সাথে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা। পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া তেহরান কোনো সমঝোতা করতে পারবে না। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চাইলেই খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে ইরানকে বুঝতে হবে যে তাদের কাছে পারমাণবিক মরণাস্ত্র রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু তারা তা চায় না। ন্য্যাটোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে এই যুদ্ধে মিত্ররা আমেরিকাকে কোনো সহায়তা করেনি। ইউরোপের এই জোটের পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিপদের সময় ন্যাটো মিত্ররা তাদের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এমনকি যুদ্ধের সময় অনেক দেশ মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সাথে ট্রাম্পের এই কথিত সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় নতুন দিকে ঘুরতে পারে এবং হরমজ প্রণালীর সংকট নিরসনে পথ সুগম হবে।  

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০