যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিতর্কিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের কিছু শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউস দ্রুত এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ‘ব্যালেন্স-অফ-পেমেন্টস’ বা লেনদেন ভারসাম্যজনিত ঘাটতি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫০ দিনের জন্য এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। কংগ্রেস চাইলে সময়সীমা আরও বাড়াতে পারবে। এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টের আওতায় আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ফলে শুল্ক বাবদ সংগ্রহ করা প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এ রায়কে ট্রাম্প ‘হাস্যকর, দুর্বল ও চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ আখ্যা দিলেও আদালতের নির্দেশে পুরনো শুল্ক আদায় বন্ধ করে নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক আদায় শুরু করেছে মার্কিন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এই শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলো এই শুল্কের বাইরে থাকতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বাণিজ্যে কৌশলী আচরণ করবে, তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই একতরফা সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নতুন শুল্ক ঘোষণা এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয় ১৯ শতাংশ। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের Supreme Court of the United States ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি Trade Act of 1974–এর আওতায় প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। বিদায়ী বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। নির্বাচনের আগে চুক্তি না করে নির্বাচিত সরকারের জন্য সিদ্ধান্ত রাখা উচিত ছিল—এমন মতও প্রকাশ পেয়েছিল। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, সংসদীয় অনুসমর্থনের বাধ্যবাধকতার কারণে চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাই বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে সরকারকে কৌশলী হতে হবে। চুক্তি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না।” শুল্ক নীতির আইনি কাঠামো ট্রাম্প প্রশাসন আগে International Emergency Economic Powers Act ব্যবহার করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পরে আদালত বাতিল ঘোষণা করে। নতুন শুল্ক নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্য অনিয়ম তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত শুল্কহার পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। BKMEA–এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, “চুক্তির ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে না থাকলে ভবিষ্যতে এটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।” রপ্তানিকারকদের মতে, ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে শুল্ক পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রম পরিবেশ, উৎপাদন মান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিলে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social–এ দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় Supreme Court of the United States। আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করেছিলেন। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপে Trade Act of 1974–এর ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করেছে। এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে শুল্ক কার্যকর রাখার মেয়াদ ১৫০ দিনের বেশি বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প জানান, এই সময়কে তিনি এমন কিছু শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহার করবেন, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত। প্রশাসন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা এবং অসাধু বাণিজ্য চর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি অবিলম্বে বিশ্বজুড়ে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছি। অনেক দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যে ক্ষতির মধ্যে রেখেছে।” শুক্রবারের রায়ে ছয়জন বিচারপতি শুল্ক আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নেন, আর তিনজন সমর্থন করেন। রায়ের পরও ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে এবং চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার যুক্তি দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের এপ্রিল থেকে তাঁর ঘোষিত এ নীতির আওতায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়। তবে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক আমদানি শুল্কনীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। বর্তমানে ৯ সদস্যের বেঞ্চে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬-৩ ভোটে এই রায় দেওয়া হয়। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম স্তম্ভ ‘বৈশ্বিক ট্যারিফ’ কার্যত বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং আটজন সহযোগী বিচারপতি রয়েছেন। এই আদালত দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংবিধানের সঙ্গে কোনো আইন বা সরকারি পদক্ষেপের সামঞ্জস্য আছে কি না তা নির্ধারণ করে। বিচারপতিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; প্রেসিডেন্ট তাঁদের মনোনয়ন দেন এবং সিনেট অনুমোদন দেয়। তাঁরা সাধারণত আজীবন দায়িত্ব পালন করেন বা স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণের নজির ইতিহাসে একবার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। আজকের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিন উদারপন্থী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, এলেনা কাগান ও সোনিয়া সোটোমেয়র এবং দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গরসাচ। অন্যদিকে, রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত দেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ, স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এককভাবে বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের ক্ষমতার ওপর সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা টেনে দিল। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলে বড় ধাক্কা লাগল এবং ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপে কংগ্রেসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের দীর্ঘ ৯ মাসের অচলাবস্থা অবশেষে নিরসন হলো। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুই দেশের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ‘পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার পাশাপাশি পোশাক খাতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন থেকে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে। এর সাথে আগের নিয়মিত ১৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়ে মোট শুল্ক হার দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী শুরুতে এই হার ৩৭ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সফল আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। চুক্তির অন্যতম বড় দিক হলো—বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত যেসব বস্ত্র ও পোশাকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় ‘শূন্য শতাংশ’ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন একে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন ‘বোয়িং’ কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানি এবং বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ভারত (২৫%), পাকিস্তান (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%) ও মিয়ানমার (৪০%)-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করেছে। সেই তুলনায় ১৯ শতাংশ শুল্ক হার বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে শনিবার সকালে (ভারতের স্থানীয় সময় অনুযায়ী) যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। ঠিক তার আগেই ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ও প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আবার যদি ভারত রুশ তেল কেনে, আবার ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন তিনি! শুধু তা-ই নয়, ভারত রুশ তেল কিনছে কি না, তা নজরে রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনকে। শুক্রবারই (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) ভারতের পণ্যে ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ কমানোর নির্দেশপত্রে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। তার পরেই দুই দেশ অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়ে। পরে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৮ শতাংশ। অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প যে বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন, তাতে আমেরিকার বাণিজ্য দপ্তরকে ভারতের গতিবিধির উপর নজর রাখতেও বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ, বিদেশ এবং অর্থ দপ্তরের সঙ্গে যৌথ ভাবেই এই কাজ করবে বাণিজ্য দপ্তর। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “বিদেশ সচিব, অর্থসচিব-সহ যাঁদের উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্য সচিব দেখবেন, ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি করছে কি না।” বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যদি দেখা যায়, ভারত আবার রাশিয়ার তেল কিনছে, তা হলে বিদেশ সচিব উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সুপারিশ করবেন। তার মধ্যে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর বিষয়টিও থাকছে।”
ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের লক্ষে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই আদেশে সরাসরি কোনো শতাংশ উল্লেখ না থাকলেও, উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। মূলত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করাই এই আদেশের মূল উদ্দেশ্য। নির্বাহী আদেশের মূল দিকগুলো: শুল্কের আওতা: কোনো দেশ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় বা আমদানি করে, তবে সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর এই বাড়তি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না।" প্রভাবিত দেশসমূহ: এই আদেশের ফলে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং ভারত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ওমানে কূটনৈতিক তৎপরতা: "একটি সুন্দর শুরু" শুল্কের এই কঠোর বার্তার মধ্যেই ওমানের মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। প্রতিনিধি দল: ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনার পরিবেশ: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৈঠককে 'একটি সুন্দর শুরু' এবং 'ইতিবাচক' বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, "চুক্তি না হলে পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ।" প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা হোয়াইট হাউজের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যদিও ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে 'শান্তিপূর্ণ' বলে দাবি করে আসছে। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি ও নৌবহর বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।