সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনায় কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা। মঙ্গলবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শত শত মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে।   এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, পোশাক, কাগজ এবং দুগ্ধজাত সামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কের জবাবে কানাডার এই পদক্ষেপ বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও ভয়াবহ রূপ দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন অটোয়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি কানাডার ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ, তবে কানাডা এই পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডাও 'ডলারে ডলার এবং হারে হার' মিলিয়ে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক বসাবে।   এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ফলে প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্য সরাসরি প্রভাবিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্যমতে, এই পরিমাণটি কানাডায় মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৮ শতাংশ।   দুই দেশের মধ্যে এই চরম উত্তেজনা শুরু হয় মূলত গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, অটো পার্টস, ইস্পাত এবং ট্রাকের ওপর তিনি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করবেন।   ট্রাম্প আরও বলেন, কানাডার সাথে কাজ করা সবচেয়ে কঠিন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের প্রয়োজন নেই। এর আগে গত শনিবার কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরই কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য মার্কিন আলোচকদের একগুঁয়েমিকে দায়ী করে বলেন, তারা অযৌক্তিকভাবে অনেক বেশি সুবিধা চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব সামান্যই প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মেক্সিকোর পর কানাডাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, যেখানে মার্কিন রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত

সম্প্রতি বাতিল হওয়া একটি শুল্ক নীতি থেকে শতকোটি ডলার ফেরত পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে কোম্পানিটি অপ্রত্যাশিতভাবে বিপুল এই অর্থ লাভ করলেও, এর কোনো সুবিধা সাধারণ গ্রাহকদের পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাপলের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।   অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক একে তাদের ‘সর্বকালের সেরা জুন প্রান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে অ্যাপলের নিট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে এবং ত্রৈমাসিক নিট আয় বেড়ে ২৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৯ শতাংশ বেড়ে ২.০২ ডলার হয়েছে, যার মধ্যে শুল্ক ফেরত বাবদ ০.১১ ডলারের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই শুল্কগুলো আরোপ করা হয়েছিল।   কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার আমদানিকারক এই বাতিল হওয়া শুল্ক বাবদ প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন, যা এখন সরকারকে ফেরত দিতে হচ্ছে। জুন মাসের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শুল্ক ফেরতের অনুমোদন দেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে এর একটি বড় অংশ এখনো আটকে আছে। সিএনবিসি-এর তথ্যমতে, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাবদ অ্যাপল প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো অ্যাপল সেসময় পণ্যের দাম বাড়ায়নি, বরং তারা লবিংয়ের মাধ্যমে ছাড় পাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখী করা এবং খুচরা মূল্য না বাড়িয়ে নিজেদের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর কৌশল নিয়েছিল।   শুল্ক ফেরত পেতে অন্য অনেক বড় কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা করলেও, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী শুরু থেকেই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছিলেন। তবে শুল্ক ফেরত পেলেও তারা পণ্যের দাম কমিয়ে গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। গত এপ্রিলে এবং বৃহস্পতিবারের আয়ের হিসাবে টিম কুক পরিষ্কার জানিয়েছেন, ফেরত পাওয়া শুল্কের পুরো অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদন খাতে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। এটি মূলত তাদের চার বছর মেয়াদি ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ কৌশলের একটি অংশ। অথচ কস্টকো, ইউপিএস এবং ফেডেক্স-এর মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলো তাদের শুল্ক ফেরতের একটি অংশ গ্রাহকদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যারা মূলত পণ্যের বর্ধিত মূল্য হিসেবে এই শুল্কের বোঝা বহন করেছিলেন। ওয়ালমার্টও তাদের ফেরত পাওয়া অর্থ পণ্যের দাম কমানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ট্রাম্প
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অবৈধ ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক ওই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করেছিলেন এবং যাদের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।  অ্যামাজনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওলসাভস্কি কোম্পানির আয়-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব লেনদেনে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সরাসরি নির্ধারণ করা যাবে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান নিজেই যোগাযোগ করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না, সেখানে ফেরত পাওয়া অর্থ কম দামে পণ্য সরবরাহ ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।    তবে ঠিক কতজন গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন, কোন সময়ের কেনাকাটা এর আওতায় পড়বে বা কীভাবে ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি অ্যামাজন।  চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ওই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।  অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তুলনামূলক কম অর্থ ফেরত পেয়েছে, কারণ নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য মজুত করেছিল। এছাড়া তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের আমদানিকারক ছিল তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা, ফলে সেসব পণ্যের শুল্ক ফেরতের দাবিদারও অ্যামাজন নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেই বহন করেছে।      বিশ্লেষকদের মতে, বড় খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিরল। যদিও অন্যান্য বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের আবেদন করেছে, তাদের সবাই এখনো গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

Unknown জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র, স্বস্তিতে চীন

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এসে নতুন খসড়া বিলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত এই বিল অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। তবে আগের মতো ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিধান রাখা হয়নি।   দ্বিদলীয় এই বিলটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপের মুখে ফেলা। একই সঙ্গে ভারত, চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করাও বিলটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   নতুন খসড়ায় রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও আর্থিক খাতেও নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত 'শ্যাডো ট্যাংকার' বহর, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজির মতো বড় জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   তবে সংশোধিত বিলে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এই বিধানের আওতায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এ ছাড়া বিলে প্রেসিডেন্টকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করতে পারবেন।   বিশ্ববাজারে বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম।   মার্কিন সিনেটে বিলটির প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে বর্তমানে ২৬ জন সিনেটর সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেন সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।   এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা এই বিলে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিলটির সহ-উদ্যোক্তা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, আপাতত বিলের মূল উদ্দেশ্য পরিবর্তন না করাই ভালো। তার মতে, নতুন বিষয় যুক্ত করলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও সংশোধিত বিলটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর চাপ ধরে রাখার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছুটা নীতিগত নমনীয়তাও রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন কোম্পানির ওপর ডিজিটাল কর বসালে পাল্টা ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আগ্রাসী শুল্ক আরোপের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর কোনো দেশ 'ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স' বা ডিজিটাল সেবা কর বসালে, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে হলেও এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হবে।   নিজের পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অবিলম্বে ডিজিটাল সেবা কর বাস্তবায়নের আলোচনা করছে এবং কিছু দেশ ইতোমধ্যে এটি কার্যকর করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার এই বিবৃতিটি একটি সতর্কবার্তা।   যে দেশই এমন কর বসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের যেকোনো ও সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত বা বাস্তবায়িত অবস্থায় থাকলেও এই শুল্ক নীতি তার ঊর্ধ্বে থাকবে। দেশগুলো কর বসানোর পথে এগোলে তাৎক্ষণিকভাবে এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।   উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের একটি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭০-এর দশকের বাণিজ্য আইন অনুযায়ী এ ধরনের একচেটিয়া শুল্ক আরোপ সমর্থনযোগ্য নয়। তবে আদালতের এসব রায় তাকে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে মোটেও বিরত রাখতে পারেনি। চলতি মাসের শুরুতেও জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ এনে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অপহৃত নার্স এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো

সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, সাবেক স্বামীর হাতে পাঁচ দিন শেকলবন্দি তরুণী নার্স

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০