বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে এবং চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার যুক্তি দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের এপ্রিল থেকে তাঁর ঘোষিত এ নীতির আওতায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়।
তবে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক আমদানি শুল্কনীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।
বর্তমানে ৯ সদস্যের বেঞ্চে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬-৩ ভোটে এই রায় দেওয়া হয়। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম স্তম্ভ ‘বৈশ্বিক ট্যারিফ’ কার্যত বাতিল হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং আটজন সহযোগী বিচারপতি রয়েছেন। এই আদালত দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংবিধানের সঙ্গে কোনো আইন বা সরকারি পদক্ষেপের সামঞ্জস্য আছে কি না তা নির্ধারণ করে। বিচারপতিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; প্রেসিডেন্ট তাঁদের মনোনয়ন দেন এবং সিনেট অনুমোদন দেয়। তাঁরা সাধারণত আজীবন দায়িত্ব পালন করেন বা স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণের নজির ইতিহাসে একবার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
আজকের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিন উদারপন্থী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, এলেনা কাগান ও সোনিয়া সোটোমেয়র এবং দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গরসাচ।
অন্যদিকে, রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত দেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ, স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এককভাবে বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের ক্ষমতার ওপর সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা টেনে দিল। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলে বড় ধাক্কা লাগল এবং ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপে কংগ্রেসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে এবং চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার যুক্তি দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের এপ্রিল থেকে তাঁর ঘোষিত এ নীতির আওতায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়। তবে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক আমদানি শুল্কনীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। বর্তমানে ৯ সদস্যের বেঞ্চে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬-৩ ভোটে এই রায় দেওয়া হয়। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম স্তম্ভ ‘বৈশ্বিক ট্যারিফ’ কার্যত বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং আটজন সহযোগী বিচারপতি রয়েছেন। এই আদালত দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংবিধানের সঙ্গে কোনো আইন বা সরকারি পদক্ষেপের সামঞ্জস্য আছে কি না তা নির্ধারণ করে। বিচারপতিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; প্রেসিডেন্ট তাঁদের মনোনয়ন দেন এবং সিনেট অনুমোদন দেয়। তাঁরা সাধারণত আজীবন দায়িত্ব পালন করেন বা স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণের নজির ইতিহাসে একবার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। আজকের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিন উদারপন্থী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, এলেনা কাগান ও সোনিয়া সোটোমেয়র এবং দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গরসাচ। অন্যদিকে, রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত দেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ, স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এককভাবে বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের ক্ষমতার ওপর সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা টেনে দিল। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলে বড় ধাক্কা লাগল এবং ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপে কংগ্রেসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় লেক টাহোর কাছে ব্যাককান্ট্রি স্কিয়ারদের উপর ধস নেমে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার থেকে তিনদিনব্যাপী স্কি ট্রিপে অংশ নেওয়া এই দলের ছয় সদস্যকে “বিভিন্ন ধরনের আহত অবস্থায়” উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ধসটি ঘটে যখন স্কিয়াররা ট্রেইলহেডের দিকে ফেরার পথে ছিলেন। হিমবাহ, পাথর ও আবর্জনার ধস এক মুহূর্তে সব কিছু ঢেকে দেয়। ধসের পরে বেঁচে থাকা স্কিয়াররা তাদের দলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং রেসকিউ-এর জন্য অপেক্ষার সময় আশ্রয় improvisation করেছেন। উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ কাস্টল পিক এলাকায় ধসের খবর পাওয়া মাত্রই ৪৬ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মী উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে ঘন তুষারপাত ও ঝোড়ো বাতাসে অভিযান দীর্ঘায়িত হয়েছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফ শান্নান মুন জানান, উদ্ধার অভিযান চলমান আছে, তবে আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। সতর্কতার পূর্বাভাস ঘটনার সময় এলাকা “৪/৫” স্তরের উচ্চ ধস ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করেছে, প্রাকৃতিক ধস সম্ভব, এবং মানুষজনের ক্রিয়ার কারণে বড় ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত সম্ভাব্য। এই সময়ে ব্যাককান্ট্রি যাত্রা সুপারিশযোগ্য নয়। Blackbird Mountain Guides, যারা এই ট্রিপ পরিচালনা করছিল, দুই দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। তারা জানিয়েছিল, তুষারের দুর্বল স্তর অপ্রত্যাশিত ধস ঘটাতে পারে। বেঁচে থাকা স্কিয়ারদের পরিস্থিতি বেঁচে থাকা স্কিয়াররা জরুরি সিগন্যাল ব্যবহার করে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁরা টার্প দিয়ে আত্মনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা মনে করান, এমার্জেন্সি বীকন বা জিপিএস কমিউনিকেটর ব্যাককান্ট্রিতে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস ও সতর্কতা কাস্টল পিক, ডোনার সামিট এলাকার ৯,১১০ ফুট উঁচু চূড়া, ব্যাককান্ট্রি স্কিয়ারদের জনপ্রিয় গন্তব্য। ডোনার সামিট তার অকালপ্রবেশের ইতিহাসের জন্য পরিচিত, যেখানে ১৮৪৬–৪৭ সালের শীতে একদল প্রকৃতই বিপদের মুখোমুখি হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাককান্ট্রি ট্র্যাভেলারেরা সবচেয়ে বেশি ধস-ফলিত মৃত্যুর শিকার। নেভাদা কাউন্টি শেরিফের অফিস বুধবার সকাল ১১টায় উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করবে। Blackbird Mountain Guidesও পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করবে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নতুন প্রাণের সঞ্চার ও মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে এক বিশাল অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য দেশগুলো গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিলের ঘোষণা দেবেন বলে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, এই তহবিলের অর্থ সরাসরি গাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ-অনুমোদিত স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে এই বিশাল সহায়তার পেছনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে হলে হামাসকে অবশ্যই পূর্বে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। বোর্ড অব পিস সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, “এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।” উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে এই ‘বোর্ড অব পিস’ যাত্রা শুরু করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত এই সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। গাজা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত এই বোর্ডে আর্জেন্টিনা, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সংস্থার উত্থানকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি