- প্রচ্ছদ
- Topic
শিশুরা
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে, দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা ১ হাজার ২১৪-তে পৌঁছেছে। একই দিনে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিলেটে এ সাতজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এক বিষয় নয়—স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোগটি নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হামের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে কোনো শিশু আগে টিকা না পেয়ে থাকলে বা নির্ধারিত ডোজ অসম্পূর্ণ থাকলে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, টিকাদানের বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের শনাক্ত করা, প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানানো সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। অভিভাবকদের নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকার ঘাটতি, অসম্পূর্ণ টিকাদান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা। তবে প্রকাশিত মোট সংখ্যার মধ্যে সন্দেহভাজন মৃত্যুও রয়েছে; সব মৃত্যুকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শিশুদের জীবনকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ১৬ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনেকেই তাঁবুতে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। আনুমানিক ৬০ হাজার শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন কিংবা দুজনকেই হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য যুদ্ধের ক্ষতি শুধু বাড়িঘর হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার শিশুদের দুর্ভোগ পুরোপুরি থামেনি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে গাজায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গুলির ঘটনায় পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছে। আরও অন্তত ৩৩ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। এর আগে আহত হওয়া আরও দুই ছেলে পরে মারা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, অপ্রতুল স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ছয়টি বর্জ্যপানি শোধনাগারই তখনো বন্ধ ছিল। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্যপানি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাদ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো নাজুক। শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শীত আসার আগে তাঁবু, কম্বল, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার কিছু খবর রয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশু আবার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির সহায়তায় ২০০টিরও বেশি শিক্ষা কেন্দ্রে শিশুদের শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু স্কুলে ফিরতে পারা মানেই তাদের সব সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। গাজার শিশুদের এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে: যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন? জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন এবং পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা কোনো যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় না, কিন্তু যুদ্ধের পরিণতি তাদের জীবনেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। গাজার শিশুদের জন্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে আনা এখন মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। গত ১৫ অক্টোবর সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষিকা। ঘটনার পর স্বজনদের কান্না, সহপাঠীদের আতঙ্ক এবং নিহতদের স্মরণে মানুষের জমায়েত পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ, আট ও এগারো বছর বয়সী তিন শিশু রয়েছে। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং যেসব শিশু বাড়তি সহায়তা চাইত, তাদের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন। সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম এই ঘটনায় আহত হয়েছে। শিশুটি আগে থেকেই বিরল জিনগত সমস্যার কারণে শারীরিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সে সাধারণত হুইলচেয়ার ব্যবহার করে এবং কথা বলার পরিবর্তে চোখ ও যোগাযোগের বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে। চিকিৎসার জন্য তাকে পোর্টল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সেলর শিশুদের সহায়তায় কাজ করা স্প্যারো ক্লাবসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন শিশুটির প্রাণবন্ত স্বভাব ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুদানের পরিমাণ প্রায় চার লাখ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ বছর বয়সী এক সাবেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। এক শিক্ষক তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিশুর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পদক্ষেপ হামলা থামাতে এবং আরও প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করে। তবে এই সাহসী পদক্ষেপের মধ্যেও চারটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, বেলুন ও অন্যান্য স্মারক রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বেন্ড শহরের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই শোক কাটিয়ে ওঠা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন সতর্কতা প্রকাশ করেছে রয়টার্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজন হামের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজারের বেশি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। নিয়মিত টিকাদানের হার কমে যাওয়া, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সীমিত উপস্থিতি এবং টিকাদানের তথ্যের ঘাটতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করেছে। এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার জরুরি কর্মসূচি চালানো হলেও অনেক শিশু বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সরকার নতুন করে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানো, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং অভিভাবকদের কাছে সময়মতো তথ্য পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত মোহাম্মদ সাবেরের পরিবার ছয় বছর আগে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া একটি বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছোট্ট এই সৌর প্যানেল পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবের জানান, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে তাঁদের মুঠোফোন চার্জ দেওয়া যায়, রাতে আলো জ্বালিয়ে রান্না ও অন্যান্য কাজ করা যায় এবং শিশুরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে। গরমের সময় পাখা চালাতেও এই ব্যবস্থা সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্যাপ্রবণ এলাকা, সংঘাতকবলিত অঞ্চল ও দুর্গম জনপদেও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হলে এসব ছোট ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে। তবে চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় বাধা। দাতাদের অর্থায়ন কমে গেলে শরণার্থী পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুৎ এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চালু রাখতে এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঘুমের পণ্য নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেবিজ ম্যাজিক টি ব্র্যান্ডের বেবি স্লিপ গ্রাইপ ওয়াটার নামের পণ্যটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পণ্যটিতে লেবেলে উল্লেখ না থাকা তিন ধরনের অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশ করেছে।পণ্যটি সাধারণত শিশুদের অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইথানল, শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ মিথানল এবং শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসোপ্রোপানল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান পণ্যের লেবেলে উল্লেখ ছিল না। বিশেষ করে মিথানল ও আইসোপ্রোপানল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিক কোনো উপাদান নয়। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলেছে, পণ্যটি কতটা খাওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স ও ওজনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে। প্রত্যাহার করা পণ্যটির ব্যাচ নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ডিসেম্বর ২০২৮। পণ্যটি চার তরল আউন্সের একটি বাদামি রঙের বোতলে ছিল এবং বোতলটি নীল রঙের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। সঙ্গে একটি মুখে খাওয়ানোর সিরিঞ্জও ছিল। এই ব্যাচের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি সিক্রেটস অব টি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার কাছে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অ্যামাজনও ছিল। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দোকানের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ ছিল না। এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার কোনো খবর কোম্পানি পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পরিবার এই পণ্য কিনেছে তাদের প্রথমে বোতলের ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ হয়, তাহলে শিশুকে এটি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘুম, গ্যাস বা অস্বস্তি কমানোর পণ্য সহজেই কেনা যায়। অনেক বাবা-মা পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিশুকে দেওয়ার আগে উপাদান, বয়সের উপযোগিতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, খাওয়ার সমস্যা, কান্না বা পেটের অস্বস্তির কারণ বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু কোনো অনলাইন পণ্য ব্যবহার করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা না করাই নিরাপদ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ঘরে থাকা পণ্যটি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যারা অ্যামাজন বা অন্য অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের পণ্য কেনেন, তাদের পুরোনো অর্ডারের তালিকা দেখেও যাচাই করা উচিত। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার কোম্পানির স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংস্থার জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য ব্যবহারের পর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে পরিচিত নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি তে আক্রান্ত হয়ে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, লেকে সাঁতার কাটার সময়ই শিশুটি এই প্রাণঘাতী অ্যামিবার সংস্পর্শে আসে। মৃত শিশুটির নাম লিলিয়ান স্মার্ট। লুইজিয়ানার রাস্টন এলাকার এই শিশুটি নিজের অষ্টম জন্মদিন পালনের পরদিন মারা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, শিশুটির সংক্রমণ সম্ভবত লেক ক্লেইবোর্নে সাঁতার কাটার সময় হয়েছিল। রাস্টন শহর থেকে লেকটি প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, রাজ্যে একজন বাসিন্দা নেগ্লেরিয়া ফাওলেরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তখন রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি একটি ক্ষুদ্র অ্যামিবা, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে বসবাস করে। দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে এটি মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস নামের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দূষিত পানি গিলে ফেললে এই সংক্রমণ হয় না। অ্যামিবাটি সাধারণত নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়ায়ও না। এই রোগ অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুঝুঁকি খুব বেশি। লুইজিয়ানা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাণঘাতী হয়েছে। অ্যামিবাটি সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণ মিঠা পানিতে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই গরমের সময় উষ্ণ হ্রদ, নদী, পুকুর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক মিঠা পানিতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। সংক্রমণের শুরুতে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। পরে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতনতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ দ্রুত বাড়তে পারে। লিলিয়ানের মৃত্যুতে তার পরিবার শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে এত গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যে চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। লুইজিয়ানার এই ঘটনা আবারও উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় সতর্ক থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে প্রাকৃতিক জলাশয়ে নাক দিয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী এক দম্পতিকে দেশত্যাগের পর নিজ দেশ গুয়াতেমালায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নিক্সন জিওভান্নি পেরেজ (৪৩) এবং তাঁর স্ত্রী গ্লেন্ডি মারিসল গনজালেস (২৫)। তাঁদের এক বছর বয়সী কন্যাশিশুকে ঘটনাস্থলে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দম্পতির তিন সন্তানই এখন স্বজনদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। গুয়াতেমালার প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেতালেউ এলাকার একটি আখক্ষেতে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের হাত বাঁধা ছিল। নিক্সনের ঘাড়ে গুলির আঘাত এবং গ্লেন্ডির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, একটি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং হত্যার উদ্দেশ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিক্সন গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে পরিবারকে একসঙ্গে রাখার উদ্দেশ্যে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকে গ্লেন্ডিও সম্প্রতি গুয়াতেমালায় ফিরে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্লেন্ডি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে মিসৌরির ওভারল্যান্ড এলাকায় প্রবাসী সম্প্রদায় ও শ্রমিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁদের স্মরণে একটি শোকসভা আয়োজন করা হয়েছে। গুয়াতেমালার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এদিকে দেশটিতে চলতি বছরে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সরকার নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো মানুষের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।