- প্রচ্ছদ
- Topic
#সতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে। ফেডারেল সরকার বলছে, বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে যারা আইন ভাঙছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই উদ্যোগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, বিচার বিভাগ, ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এইচএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ক্রসরোডস অব আমেরিকা’ নামে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে সিডিএল জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয়পত্র, অননুমোদিত কর্মসংস্থান, অর্থপাচার, শ্রমিক শোষণ এবং অন্যান্য অপরাধ শনাক্ত করা। এইচএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহযোগী পরিচালক জন এ. কনডন বলেছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীরা শুধু আইন ভাঙছে না, তারা আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি বলেন, এইচএসআই তাদের তদন্ত, আর্থিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট একদিনে ২৩টি অঙ্গরাজ্যের ২০০টির বেশি ড্রাইভিং স্কুলে সমন্বিত অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি সিডিএল-সংক্রান্ত ব্যবসার বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ২৮ হাজারের বেশি চালককে বিভিন্ন কারণে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ইস্যু করা ৩০ হাজারের বেশি সিডিএল বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশি অযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ফেডারেল রেজিস্ট্রি থেকে সরানো হয়েছে বলে পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে। এই অভিযানের আওতায় শুধু চালকরাই নয়, ট্রাকিং কোম্পানি, সিডিএল প্রশিক্ষণ স্কুল, ক্যারিয়ার এবং নিয়োগদাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র, ভুয়া লাইসেন্স, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে ফেডারেল সরকারের প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই তদন্ত, অভিযোগ ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে। তাই কোনো নির্দিষ্ট চালক বা কোম্পানিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করে তদন্তের অবস্থান উল্লেখ করাই সঠিক।
সন্তানদের স্কুলে ফেরার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলো। তাদের মতে, একটি সাধারণ স্কুলের ছবিতেও এমন ছোট ছোট তথ্য থাকতে পারে, যা একত্র করে শিশুর পরিচয়, পরিবারের অবস্থান ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি সাসেক্স পুলিশের একটি সচেতনতামূলক প্রচারণায় দেখানো হয়েছে, সাধারণ পারিবারিক ছবিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপব্যবহার করে ভুয়া ও ক্ষতিকর ছবি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনে প্রকাশিত শিশুদের ছবি নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবির পেছনে থাকা রাস্তার সাইনবোর্ড, বাড়ির নম্বর, গাড়ির নম্বরপ্লেট কিংবা স্কুলের পোশাকে সেলাই করা শিশুর নাম-এর মতো তথ্য থেকেও পরিবারের ঠিকানা বা পরিচয় শনাক্ত করা যেতে পারে। একটি ছবিতে থাকা এমন অসংখ্য ছোট তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করলে পরিবারের চলাফেরা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করা সম্ভব। গার্নসি পুলিশের গোয়েন্দা পরিদর্শক টম লো বলেন, সন্তানদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করতে পুলিশ বলছে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার আগে ছবির মধ্যে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মানুষের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ সহজ করেছে। গার্নসি, জার্সি ও আইল অব ম্যানের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের যৌথ পরামর্শেও এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গার্নসির ডেটা প্রোটেকশন কমিশনার ব্রেন্ট হোম্যান বলেন, সম্মতি ছাড়া ভুয়া বা ডিপফেক ছবি তৈরিতে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এখন শুধু তারকা বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ মানুষও এর শিকার হতে পারেন। ওডিপিএর উপ-ডেটা প্রোটেকশন কর্মকর্তা র্যাচেল মাস্টারটন বলেন, ছবিতে থাকা সামান্য তথ্যও অপরাধীদের কাজে লাগতে পারে। এমনকি কোনো কফির কাপের ওপর লেখা অভিভাবকের নামও শিশুর আস্থা অর্জনের মতো প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানের ছবি পোস্ট করলে অজান্তেই বাড়িটি ওই সময়ে খালি থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হতে পারে। ছবির পেছনে থাকা অন্যান্য তথ্য থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট বৃদ্ধির খবরের পর যুক্তরাজ্যে এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক আইনগত পদক্ষেপের আওতায় এআই ব্যবহার করে মানুষের পোশাক সরিয়ে দেওয়ার মতো ভুয়া ছবি তৈরির ‘নুডিফিকেশন’ টুল এবং এ ধরনের বিশেষায়িত ইমেজ জেনারেটরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ইন্টারনেট ম্যাটার্সও ছবি পোস্টের আগে গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, ছবির পেছনে থাকা স্কুলের লোগো, রাস্তার সাইনবোর্ড বা অন্য কোনো শনাক্তকারী তথ্য সরিয়ে বা ছবি ক্রপ করে প্রকাশ করা উচিত। সংস্থাটি শিশুদের বয়স, শ্রেণি বা শিক্ষাবর্ষ, প্রিয় কাজ কিংবা শখের মতো তথ্য প্রকাশ্যে অতিরিক্তভাবে না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। এসব তথ্য একত্র করে অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তি শিশুর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করতে পারে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শ সন্তানদের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করা নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে ছবিতে বাড়ি, স্কুল, রাস্তা, নাম বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দৃশ্যমান আছে কি না এবং পোস্টটি কারা দেখতে পারবে - তা যাচাই করাই মূল সতর্কতা।
অনলাইনে পরিচয়, দ্রুত ঘনিষ্ঠতা, প্রেমের কথা, এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি। এরপর হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া। এভাবেই ভুয়া পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে রোমান্স স্ক্যামের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই নতুন করে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। এফবিআই বলছে, প্রতারকরা সাধারণত ডেটিং সাইট, অ্যাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে। তারা দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। কেউ কেউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত বলে পরিচয় দেয় এবং চিকিৎসা খরচ, ভ্রমণ, আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে সামনাসামনি দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাতে সেই সাক্ষাৎ আর হয় না। এ ধরনের প্রতারণায় শুধু অর্থই নয়, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এফবিআই সতর্ক করেছে, অনলাইনে পরিচিত কেউ যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ করে অন্যত্র পাঠাতে বলে, তাহলে ওই ব্যক্তি অজান্তেই অন্য একটি প্রতারণামূলক অর্থ স্থানান্তর চক্রের অংশ হয়ে যেতে পারেন। প্রতারকরা কখনো গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়্যার ট্রান্সফার বা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বলে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফবিআইয়ের নরফোক ফিল্ড অফিস জানিয়েছিল, ভার্জিনিয়ায় আগের বছর রোমান্স স্ক্যামের ২০২টি অভিযোগে মোট ২০ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও অভিযোগ করেন না। এফবিআইয়ের পরামর্শ, অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত গভীর হলে সতর্ক হতে হবে। ব্যক্তিটির ছবি ও পরিচয় যাচাই করা, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা এবং সামনাসামনি দেখা হয়নি এমন কাউকে কখনোই টাকা বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সম্পর্কের শুরুতেই কেউ যদি টাকা চায়, ব্যক্তিগত তথ্য নিতে চায় বা বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেয়, সেটিকে বড় ধরনের সতর্কসংকেত হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। এফবিআই আরও জানিয়েছে, প্রতারকরা এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, প্রোফাইল ও বার্তা তৈরি করায় এসব প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। তাই অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই না করে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ রোমান্স স্ক্যামের শিকার হলে দ্রুত যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে অভিযোগ করার পাশাপাশি অর্থ পাঠানো হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা লেভেল ৩ ‘পুনর্বিবেচনা করে ভ্রমণ’ থেকে লেভেল ২ ‘অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ভ্রমণ’ এ নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ ইতিবাচক অগ্রগতি আসে। বৈঠক শেষে সার্জিও গর বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটির কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রমণ সতর্কতার এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। সরকারের ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও এ সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এখনো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করছে না। সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সফরে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পার্বত্য এলাকার জন্য ‘লেভেল ৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।