গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মকভাবে দিন-রাত কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে দেশে উন্নয়ন হয়নি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নানাবাড়ির স্মৃতির কথা উল্লেখ করে দিনাজপুর এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিগগিরই দেশের শিল্প কারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে সারা দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করে কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দিনাজপুরে শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ সারা দেশের পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি জমিতে সেচের জন্য পানির সংকট কমবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যাও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
দেশের আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনই রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, মাহফুজুর রহমান, রুকুনোজ্জামান রোকন, মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং মো. ইউসুফ মোল্লা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয়: বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন (বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিভাগ)। রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি)। ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন (সদস্যসচিব, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি)। রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (সদস্যসচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি)। কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি)। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী, এই প্রশাসকেরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আজকের নিয়োগসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস (এমপি)। তিনি বলেন, সরকার মাত্র কাজ শুরু করেছে, তাই ধৈর্য ধরে তাদের সময় দেওয়া উচিত। রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন তারা সাবধান হয়ে যান। ক্ষমতায় আসা এত সহজ নয়। যারা আসবেন তারাও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। তাই সামান্য চাপ বা টোকায় এই দলকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি অযথা কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তবে কেউ উসকানি দিলে তার জবাব দিতে দল প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোটা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই চাকরি পাওয়ার আশায় ওই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতার মোহে পড়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাকারীদেরও সতর্ক করেন মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সুবিধা দিতে সরকার একদিন অতিরিক্ত ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এই ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিষয়টি ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৬ মার্চ অফিস করার পর থেকেই কার্যত ঈদের ছুটিতে যোগ দিতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায়, যদি ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়, তবে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি হবে। এছাড়া, ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি রয়েছে। পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি ২৭ ও ২৮ মার্চ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ২৪ ও ২৫ মার্চ ব্যক্তিগত ছুটি নেন, তবে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সম্ভব হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। পবিত্র রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৮ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন এই বিন্যাসে বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের পরিধি সংকুচিত ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিস্তারিত চিত্র: মো. শরীফুল আলম: বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন থেকে তিনি শুধুমাত্র বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও এখন তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ: তাকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর আগে তিনি সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। মো. রাজিব আহসান: সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন থেকে সরিয়ে তাকে এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন। ফারজানা শারমীন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন থেকে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মো. নুরুল হক: শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ববি হাজ্জাজ: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই প্রতিমন্ত্রীকে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সে লক্ষ্যেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের তুলনায় দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়েছে। পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজ আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর অব্যাহত সমর্থনে তিনি সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং এই ভালোবাসার কাছে তিনি ঋণী। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন। নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামেও সরকারি বাংলো বরাদ্দের কাজ শেষ করেছে আবাসন পরিদফতর। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন। এরপর দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয় ও কার্যালয়ে অফিস করছেন। তবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং রমজানের ইফতার অনুষ্ঠান যমুনাতেই করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরবর্তীতে সেটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্তের ফলে সেটি এখন আর বসবাসের উপযোগী নয়। তাই সোয়া তিন একর আয়তনের যমুনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো দুটিও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা কে কোথায় থাকছেন: সরকারি আবাসন পরিদফতরের তালিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কিছু বরাদ্দ নিচে দেওয়া হলো: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী): ৩৫ হেয়ার রোড। সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী): ২৪ বেইলি রোড। হাফিজ উদ্দিন আহমদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী): ৫ হেয়ার রোড। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী): গুলশান। আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী): ৩৪ মিন্টো রোড। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (পানিসম্পদমন্ত্রী): ৬ হেয়ার রোড। খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী): ৩৩ মিন্টো রোড (পূর্বের বাসভবন বহাল)। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের পরেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অধিকাংশ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নতুন বাসভবনে উঠতে পারবেন।
দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের অনুকরণে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই এ পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের এ উদ্যোগের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণ ছিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। নীতিগত সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। পাইলট প্রকল্পের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জানান, বড় পরিসরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে কাঠামোগত ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নতুন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর নামে তোলা চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থ’ হিসেবে দেখার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি জোরপূর্বক আদায় করা হয় না, তাই সাধারণ চাঁদা হিসেবে গণ্য করা যায় না। গত বৃহস্পতিবার নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই অর্থ তাদের কল্যাণে ব্যয় করে। এখানে বিতর্কের বিষয় হতে পারে, কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করবে যে, এই সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনস্বার্থে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা নিয়ে বলা হয়— রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর পদক্ষেপ। ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস বিশেষ লেন (বিআরটি) প্রকল্প পুনঃপর্যালোচনা। পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা এই মনোভাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, পরিবহন খাতে যেকোনো ছায়া খরচ বা চাঁদা অপ্রকাশ্য চাপ তৈরি করে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু নিয়োগপত্র ও বেতন যথেষ্ট। ২০২৪ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে প্রায় ১,০৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত।
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও যথাযথ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতির প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং ‘মব জাস্টিস’ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সচিবালয়ে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস প্রসঙ্গ গত দেড় বছরের মব জাস্টিস সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সরকার এখন এটি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, আগের তুলনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এটি আরও সুসংহত করা হবে। সরকারের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ‘দেশ পুনর্গঠন’ বা 'টু বিল্ড দ্য নেশন'-কে চিহ্নিত করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনমানুষের সমস্যার সমাধান এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততায় আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অর্থনীতি ও নির্বাচন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছিল এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তারা গণতন্ত্রে উত্তরণের যে মূল দায়িত্বটি পেয়েছিল, তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই আলাদা করে কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলটির মিডিয়া সেল থেকে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পূর্ণমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী — অর্থ সালাহউদ্দিন আহমদ — স্বরাষ্ট্র ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) — পররাষ্ট্র মো. আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ইকবাল হাসান মাহমুদ — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ আব্দুল আওয়াল মিন্টু — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ — ধর্ম বিষয়ক মিজানুর রহমান মিনু — ভূমি নিতাই রায় চৌধুরী — সংস্কৃতি খন্দকার আব্দুল মোকতাদির — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন— আরিফুল হক চৌধুরী — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান জহির উদ্দিন স্বপন — তথ্য ও সম্প্রচার আফরোজা খানম রিতা — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি — পানি সম্পদ আসাদুল হাবিব বুলু — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মো. আসাদুজ্জামান — আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক জাকারিয়া তাহের — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত দীপেন দেওয়ান — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আ ন ম এহসানুল হক মিলন — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন — ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি শেখ রবিউল আলম — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— এম রশিদুল জামান মিল্লাত — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মো. শরিফুল আলম — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট শ্যামা ওবায়েদ — পররাষ্ট্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকু — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল — ভূমি ফরহাদ হোসেন আজাদ — পানি সম্পদ আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া মীর হেলাল উদ্দীন — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন মো. আব্দুল বারী — জনপ্রশাসন মীর শাহে আলম — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি — অর্থ; পরিকল্পনা ইশরাক হোসেন — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ফারজানা শারমিন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ শেখ ফরিদুল ইসলাম — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মো. নুরুল হক নুর — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ইয়াসের খান চৌধুরী — তথ্য ও সম্প্রচার এম ইকবাল হোসেইন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এম এ মুহিত — স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ববি হাজ্জাজ — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম — সংস্কৃতি নতুন সরকার শিগগিরই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকার চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক গেজেটের মাধ্যমে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) অর্ডিনেন্স, ২০২৬’ জারি করার বিষয়টি প্রকাশ করে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ১৪১ ধারার (সি) উপ-দফায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে, চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে সেই মামলাটি শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি করা যাবে। অন্য সব চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন হবে। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথগ্রহণের দিন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পতাকাবাহী গাড়িতে করে শপথস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে শপথ অনুষ্ঠান শেষে তারা একই গাড়িতে নিজ নিজ বাসায় ফিরলেও, সে সময় গাড়িতে কোনো পতাকা থাকবে না। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপদেষ্টাদের শপথ-সংক্রান্ত প্রটোকল ও দায়িত্ব বিষয়ে এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টারা সবাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তারা সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর নিয়ে শনিবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই তাঁর দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ পেলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কারও ‘প্রথম সেফ এক্সিট’ বলেও মন্তব্য করেন। চলমান বিতর্কের মধ্যেই রোববার রাত একটার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সেখানে তিনি লেখেন, গত সপ্তাহে কর্মক্ষেত্র থেকে ‘আনুষ্ঠানিক বিদায়’ নিয়েছেন। একই সঙ্গে জানান, তিনি ‘ছুটি চেয়ে যথাযথভাবে পরিবারের কাছে’ যাচ্ছেন এবং দেশে ফেরার জন্য ‘রিটার্ন টিকিট’ কাটা রয়েছে। অভিযোগ ও বিতর্ক এর আগে তাঁর অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া অবস্থায় হঠাৎ দেশত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কারণে ‘একচেটিয়া ব্যবসায়ী, মাফিয়া ও চোরাকারবারিরা’ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গেও আগেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তাঁর দেশত্যাগকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠাকে তিনি ‘যৌক্তিক’ বলেও মনে করেন। নিয়োগ ও দায়িত্ব ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নভেম্বরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এরপর ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সবশেষ পদত্যাগ ও দেশত্যাগের আলোচনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বেই ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসে, তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছেন। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করলেও তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি। ফেসবুক পোস্টেও তিনি গন্তব্য উল্লেখ করেননি। স্ট্যাটাসে দ্বৈত ভাষ্য? দেশত্যাগ নিয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। একদিকে তিনি ‘আনুষ্ঠানিক বিদায়’ নেওয়ার কথা বলেন, অন্যদিকে ‘ছুটি চেয়ে পরিবারের কাছে যাচ্ছি’ বলে উল্লেখ করেন। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি লেখেন, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। ওই দিন সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ী অনুষ্ঠানও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি নিজের আর্থিক ক্ষতি, নতুন চাকরির খোঁজ এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দাবি করেন, তিনি ‘এক টাকাও দুর্নীতি’ করেননি। তাঁর ভাষায়, “একটি শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা এনেছি। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে পাগলের মতো কাজ করেছি। বিশ্বাস না হলে পেশাদার গবেষণা সংস্থা ও অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই করুন।” পূর্ববর্তী বিতর্ক তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক বিতর্ক সামনে আসে। গত বছরের মাঝামাঝি একটি বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ থাকা প্রকল্প চালু রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ চিঠি পাঠিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি তখন দাবি করেন, এটি ছিল সহযোগিতা চাওয়া, কোনো নির্দেশ নয়। এ ছাড়া মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা তিনি স্বীকারও করেন। ১০ ডিসেম্বর তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে মোবাইল ব্যবসায়ীরা অবরোধ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে। দেশত্যাগ: স্বাভাবিক না প্রশ্নবিদ্ধ? নির্বাচনের দুই দিনের মধ্যে দেশত্যাগ করায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগগুলোর মুখোমুখি না হয়ে কেন তিনি বিদেশে গেলেন। বিবিসির প্রশ্নের জবাবে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি জানান, ‘আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েই’ দেশ ছেড়েছেন। তিনি দাবি করেন, “সব আইন ও নীতিতে পরিবর্তন আনার কারণে একচেটিয়া ব্যবসায়ী ও মাফিয়ারা আমার পেছনে লেগেছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ‘মন্ত্রী’ যিনি কোনো লাইসেন্স দেননি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশ থেকে এসে দায়িত্ব নেওয়া কেউ মেয়াদ শেষে বিদেশে গেলে তাকে ‘পালানো’ বলা ঠিক নয়। তবে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাঁর বিরুদ্ধে যদি নির্ভরযোগ্য অভিযোগ থাকে, তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে প্রয়োজন হলে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা না থাকলে কেবল অভিযোগের কারণে কাউকে আটকানো যায় না। তবে ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার খবরটি এখন টক অব দ্য সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার আকস্মিক বিদেশ যাত্রাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি নিজেই। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি তুলে ধরেছেন নেপথ্যের কারণ। বিতর্কের মুখে ফয়েজ আহমদের ব্যাখ্যা: নেদারল্যান্ডস প্রবাসী এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষককে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম ছিল ফেসবুক। নেটিজেনদের একাংশ তার দেশত্যাগকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে মন্তব্য করলেও, তিনি বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এমনকি গত ১০ ফেব্রুয়ারি সহকর্মীদের সাথে আনন্দঘন পরিবেশে ডিনার ও গানের মাধ্যমে তাকে বিদায় জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পারিবারিক কারণ নাকি অন্য কিছু? নিজের পোস্টে তিনি দুইটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। একদিকে বলছেন এটি ছিল ‘অফিসিয়াল ফেয়ারওয়েল’, অন্যদিকে বলছেন এটি একটি ‘জরুরি পারিবারিক ছুটি’। সন্তানের স্কুলে মিটিং এবং স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার পর এখন তাদের সময় দেওয়াটাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অনিয়মের অভিযোগ ও তার অবস্থান: দায়িত্ব পালনকালে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনের পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। গত ৫ মার্চ ২০২৫-এ নিয়োগ পাওয়া এই বিশেষ সহকারীকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে লক্ষ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার অথবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সিইসিকে দিয়ে শপথ পড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারি সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে আসেননি। অন্যদিকে, বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ অবস্থায় বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আপত্তি রয়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে সিইসির মাধ্যমে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি এগোচ্ছে। গেজেট প্রকাশের পর সংবিধান অনুযায়ী তিন দিনের একটি সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সিইসি শপথ পড়াতে পারেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে সময়ের আগেও শপথ আয়োজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফলাফল এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল বিবরণী পাওয়ার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই অধিকাংশ ফলাফল কমিশনের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। দলটির শরিকেরা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিধান উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তা না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। তবে আইন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়নি, যা শপথের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ১২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে তা বাদ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেহেতু একটি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে। শুক্রবাভ ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ঠাকুরগাঁও নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়, এটি জনগণের দল। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল একে ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে উগ্রবাদের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যখনই গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয় এবং মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই এ ধরনের শক্তির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন এবং বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার কারণেই জামায়াতেরএই অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। জনগণ সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সব অপপ্রবণতা রুখে দিতে সক্ষম হবে। নির্বাচনী জয় প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফার প্রতি জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছিল বলেই এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বা ভূমিধস বিজয় সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের নিয়েই ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করা হবে। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ফখরুল জানান,সনদের যেসব অংশে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ৩১ দফাও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১১টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয়ী হয়েছে, সেখানে জামায়াত একটি আসনও পায়নি। আমরা যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিকও সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে পারি, তবে যেকোনো উগ্রবাদী প্রবণতা দূর করা সম্ভব।
শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ—এমন মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্র কেবল জ্ঞানার্জনের পরিসর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার মঞ্চে রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতার পর শিক্ষার লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিক নীতির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিক্ষানীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যক্রম পুনর্লিখন, ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা কিংবা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষাগারে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য গুরুত্ব পেলে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন, তবে শ্রেণিকক্ষও মুক্তচিন্তার জায়গা হয়ে উঠতে পারে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব থাকলেও, দলীয় রাজনীতির প্রভাব বাড়লে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কোন গবেষণা ‘সংবেদনশীল’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’—এ ধরনের অলিখিত সীমারেখা গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, কারণ রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতে হয়। তবে সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। এজন্য পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বদলীয় ঐকমত্যভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ হতে পারে। কারণ শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের পেছনেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নিশীথ সিংহ রায় কলকাতা (ভারত)
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব এ তথ্য জানান। আজ অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আপনারা পাবেন। আমি যতুটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের স্টেটমেন্ট (বিবরণী) দিয়েছেন। এক-দুই দিনের মধ্যে এটি পাবলকি করা হবে।’ ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলে আসছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদবিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস