যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য কোন অঙ্গরাজ্যে জীবনযাত্রার খরচ কম, চাকরির সুযোগ ভালো এবং সঞ্চয়ের সম্ভাবনা বেশি, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ২০২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজ্য কর, কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি বিবেচনায় টেক্সাস, মিশিগান, টেনেসি, ফ্লোরিডা ও সাউথ ডাকোটাকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অঙ্গরাজ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কে বসবাস করেন। এছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে নিউইয়র্কে বাড়ি ভাড়া, দৈনন্দিন খরচ এবং করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাংলাদেশি কম খরচের অঙ্গরাজ্যে বসবাসের দিকে ঝুঁকছেন।
১. টেক্সাস
তালিকার শীর্ষে রয়েছে টেক্সাস। এই অঙ্গরাজ্যে কোনো রাজ্য আয়কর (স্টেট ইনকাম ট্যাক্স) নেই। জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল বাজার এবং বিভিন্ন পেশায় চাকরির সুযোগ থাকায় নতুন অভিবাসীদের কাছে টেক্সাস অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
২. মিশিগান
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশিগান। ডেট্রয়েট অঞ্চলে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হামট্রামেক শহরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও এ কমিউনিটির শক্ত অবস্থানের প্রমাণ। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং গাড়ি শিল্পে ভালো বেতনের চাকরি মিশিগানকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
৩. টেনেসি
টেনেসিতেও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতি মাসে বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব। যারা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৪. ফ্লোরিডা
ফ্লোরিডায়ও রাজ্য আয়কর নেই। যদিও কিছু শহরে বাড়ি ভাড়া তুলনামূলক বেশি, তারপরও করের সুবিধা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং কর্মসংস্থানের কারণে অনেক বাংলাদেশি এই অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন।
৫. সাউথ ডাকোটা
সাউথ ডাকোটায়ও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। জীবনযাত্রার খরচ কম এবং ট্রাক চালানো, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাতে ভালো আয়ের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম খরচের কথা বিবেচনা করলেই হবে না। কোথায় ভালো চাকরি পাওয়া যাবে, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এই প্রতিবেদনটি পিউ রিসার্চ সেন্টার, ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট এবং মিসৌরি ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাড়ি ভাড়া, চাকরির সুযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় সময় ও স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ স্থানীয় তথ্য যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, তাদের ভাতায় এখনই কোনো কাটছাঁট হচ্ছে না। রিপাবলিকান সিনেটর মাইক ক্র্যাপো বলেছেন, ভবিষ্যতে সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই দুই দলের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করা জরুরি। তার মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আগামী বছরগুলোতে ভাতায় উল্লেখযোগ্য কাটছাঁটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক ট্রাস্টিজ রিপোর্টেও বলা হয়েছে, বর্তমান আইন অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩২ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে। বরং তখন চলমান আয় থেকেই অধিকাংশ সুবিধা পরিশোধ করা হবে। এর আগেই কংগ্রেস প্রয়োজনীয় আইন পাস করবে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারী দীর্ঘদিন কাজ করে সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। তাই ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াশিংটনে এখন মূল আলোচনা হচ্ছে, কীভাবে কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা যায়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি বর্তমান সুবিধাভোগীরাও নিরাপদ থাকেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও, বর্তমানে ভাতা কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ? টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা
টেইলর ফার্মসের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ওপর পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান তিনি বাতিল করেছেন। কারণ, একটি সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্তাবলি বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং ইরান হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ওই অনুরোধে সম্মত হয়েছেন এই শর্তে যে, সম্ভাব্য চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও অবসান ঘটবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন এর আগের দিনই কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত শর্ত, আলোচনায় কোন কোন দেশ সরাসরি অংশ নিয়েছে কিংবা হামলা স্থগিতের সময়সীমা কতদিন, এসব বিষয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ইরানের সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
স্পোকেনের কাছে ভয়াবহ দাবানলে দুই হাজার একরের বেশি এলাকা পুড়ে ছাই
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনে বায়োমেট্রিক যাচাই, মুহুর্তেই গ্রেফতার মার্কিন নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা, নিহত একাধিক
মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমর্থন পেলেন প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ওয়েন কাউন্টি ডেপুটি শেরিফস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক মাধ্যমে জানান, এল-সায়েদের পক্ষে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠন মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি এনডোর্সমেন্ট রয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। এই নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। তার প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব, এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক প্রগ্রেসিভ নেতা। পাশাপাশি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও হাড্ডাহাড্ডি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় বড় এনডোর্সমেন্ট তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর একটি। ফলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আরেকটি কারণে। তিনি যদি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন জিতে পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনেও বিজয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। এই সম্ভাবনাই তার প্রচারণাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘সেক্সুয়ালি অ্যাডভেঞ্চারাস’ অঙ্গরাজ্য কোনটি? জানাল নতুন জরিপ
কোথায় সবচেয়ে সুখে থাকেন মার্কিনরা? নতুন তালিকায় চমক দেখাল সিয়াটল