আমেরিকা

আমেরিকায় ভালো আয়, তবু মাস শেষে টাকা থাকে না? জেনে নিন ৭ বড় ভুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৭:২৭
আমেরিকান ডলার। ছবি:সংগৃহীত
আমেরিকান ডলার। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবার ভালো আয় করলেও মাস শেষে সঞ্চয় করতে পারেন না। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো খরচ নয়; বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট ব্যয়ই মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। পরিকল্পিত ব্যয় ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে একই আয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

 

সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় বাইরে খাবার খাওয়া এবং খাবার ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহারে। সপ্তাহে কয়েকবার ডোরড্যাশ বা উবার ইটসের মতো সেবায় অর্ডার দিলে মাসিক ব্যয় কয়েকশ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা অনেক পরিবারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করে।

 

এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশনও অনেকের অজান্তেই নিয়মিত অর্থ কেটে নিচ্ছে। নেটফ্লিক্স, হুলু, ইউটিউব প্রিমিয়াম, স্পটিফাই, আইক্লাউড বা জিম সদস্যপদ—একাধিক সেবা চালু থাকলেও বাস্তবে অনেকগুলোই নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না।

 

গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক যাচাই না করায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে মনে করছেন আর্থিক পরামর্শকরা। একই ধরনের কভারেজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়ামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন কোটেশন তুলনা করলে ব্যয় কমানো সম্ভব।

 

খাদ্য অপচয়ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারের বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে বড় পরিমাণে বাজার করার পর সময়মতো ব্যবহার না করায় অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট খাদ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় হয়, যা পরিবারগুলোর জন্যও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ।

 

অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুধু ন্যূনতম কিস্তি পরিশোধ করলে উচ্চ সুদের কারণে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা তাই সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

দৈনন্দিন কেনাকাটায় পরিচিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য স্টোর ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমানো সম্ভব। একই ধরনের মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে ভোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত অনেকের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে আকস্মিকভাবে পণ্য কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।

 

ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক সব খরচ লিখে রাখা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার আগে অন্তত ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় হিসাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করলে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

 

তারা মনে করেন, আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতন ব্যয় ও পরিকল্পিত সঞ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চাকরির প্রতীকী। ছবি:সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরি হারানোর শঙ্কা

আগস্ট মাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো কর্মী কমানোর নোটিশ জমা দিয়েছে। এতে হাজারো কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জমা পড়া ‘ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেনিং নোটিফিকেশন (WARN)’ নোটিশের ভিত্তিতে আগস্টে অন্তত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এসব নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের আগে নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়।   ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফট, ওয়েলস ফার্গো, সিভিএস হেলথ, টার্গেট, নর্ডস্ট্রম, জেপি মরগান চেজ, অ্যামাজন ফ্রেশ, ওয়ালমার্ট, ম্যাকডোনাল্ডস, অ্যাকসেঞ্চার, ডিএইচএল, বায়োটেক ও ওষুধ শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই হবে না; কোথাও কয়েকজন, আবার কোথাও শত শত কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।    এসব ছাঁটাইয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, আবার কেউ ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো বা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে।    কর্মী ছাঁটাই বাড়লেও এর অর্থ সব খাতে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অনেক কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।    চলতি বছরজুড়েই প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, খুচরা বিক্রয় এবং উৎপাদন খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশেষ করে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনেক প্রতিষ্ঠানের জনবল নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। ([যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, শতাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানোর শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৮:৫
আটককৃত ব্যক্তি। ছবি:সংগৃহীত

গোপন অঙ্গে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় যাত্রী বিমানবন্দরে আটক

আমেরিকান ডলার। ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকায় ভালো আয়, তবু মাস শেষে টাকা থাকে না? জেনে নিন ৭ বড় ভুল

নাজমুননেসা। ছবি:সংগৃহীত

২০ বছর পর নাজমুননেসার নাগরিকত্ব কেন কেড়ে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!

লোহিত সাগরে টহলে হুথি যোদ্ধারা। সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (প্রতীকী ছবি)
সৌদির ৮ জাহাজকে আটকে দিলো ইরানের মিত্ররা, লোহিত সাগরে উত্তেজনা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবগামী বা সৌদি-সংশ্লিষ্ট আটটি জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তারা জানায়, সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।    এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠন করছে। ইতোমধ্যে একাধিক দেশ এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   অন্যদিকে রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা কয়েকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়।   হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অনেক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।   উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে "সৌদির ৮টি জাহাজ আটক" শিরোনামটি ব্যাপকভাবে ছড়ালেও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত ৮টি জাহাজ জব্দ হওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। বরং নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের নৌ অবরোধের কারণে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু জাহাজকে বিকল্প পথ নিতে হয়েছে। 

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৬:৪৪
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নাজুড়ে লুলুলেমন স্টোরে সংঘবদ্ধ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ চুরি হওয়া পোশাক; পুরো চোরচক্রকে শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। (প্রতীকী ছবি)

লুলুলেমন স্টোরে সংঘবদ্ধ চুরির অভিযোগে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থায়ী গৃহঋণের (মর্টগেজ) গড় সুদের হার এক বছরে সর্বোচ্চ ৬.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে নতুন বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের মাসিক কিস্তির চাপ বেড়েছে এবং আবাসন বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। (প্রতীকী ছবি)

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদ এক বছরে সর্বোচ্চ, বাড়ি কেনায় বাড়ছে কিস্তির চাপ

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে আইসিই (ICE) কর্মকর্তারা আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গবেষককে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। (সংগৃহীত/ফাইল ছবি)

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে জনস হপকিন্সের গবেষক আটক, উদ্বেগে বিশ্ববিদ্যালয়

বেভারলি হিলসে।ছবি:সংগৃহীত
ডেটিং অ্যাপে ধনীদের সঙ্গে সম্পর্ক, পরে চুরি, আবার গ্রেপ্তার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনফ্লুয়েন্সার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ও মডেল অ্যাডভা লাভি, যিনি ‘মিয়া ভেনচুরা’ নামেও পরিচিত। ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে ডেটিংয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে আগে থেকেই মামলার মুখোমুখি থাকা এই ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে এবার নতুন করে গুরুতর চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সী লাভিকে ২৮ জুলাই বেভারলি হিলস পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রিভারসাইড কাউন্টির একটি ফৌজদারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার পায়ে পরিয়ে দেওয়া ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর খুলে ফেলার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একটি মিসডিমিনর মামলা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।    নতুন মামলাটি ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্ডিও শহরে সংঘটিত একটি চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ ডলার মূল্যের একটি রোলেক্স ঘড়ি, লুই ভুইতঁর চশমা, একটি কার্ডহোল্ডার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হয়েছিল। তদন্তে ওই ঘটনায় লাভির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।    প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লাভি বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বয়স্ক ধনী পুরুষ এবং কিছু তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে প্রেমিকা বা ভ্রমণসঙ্গীর পরিচয়ে তাদের বাসায় প্রবেশ করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সামগ্রী চুরি করতেন। এ অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট ও আবাসিক চুরিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল।    মার্চ মাসে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আদালত তার বিরুদ্ধে আনা কয়েকটি অভিযোগ বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। তবে নতুন গ্রেপ্তারের ফলে তার আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে।    অ্যাডভা লাভি অতীতে প্লেবয় ও পেন্টহাউস সাময়িকীতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উল্লেখযোগ্য অনুসারী রয়েছে। তবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে দোষী প্রমাণিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৫:৪০
৪ জন মহিলাকে একসাথে । ছবি:সংগৃহীত

৪ জন মহিলাকে একসাথে বিয়ে করে বুঝলেন সবাই তারা ট্রান্সজেন্ডার! শুরু বিতর্ক

ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ

ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ, ডিএইচএস কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চুরি করা গাড়ি থামানোয়, পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0 Comments