সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সংক্রমণ

হামের সংক্রমণ
হামের সংক্রমণ বাড়ায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্ত প্রায় চার হাজার

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ৫ অক্টোবর জারি করা এই ঘোষণার লক্ষ্য হলো সংক্রমণ শনাক্ত করা, পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা।   ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে চলতি বছরে ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯২ জনের সংক্রমণ ১৫ জুলাইয়ের পর দেখা যায়। আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকার, যেখানে টিকা নেওয়ার হার তুলনামূলক কম।    নিউইয়র্ক নগরীতে এ পর্যন্ত সাতটি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ আক্রান্ত নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষার ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   জরুরি ঘোষণার আওতায় নিবন্ধিত নার্সদের হাম পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ এবং ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার অনুমতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি অবশ্যই প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলতি বছর হামের সংক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে। পেনসিলভানিয়ায় এক হাজারের বেশি সংক্রমণের খবরও পাওয়া গেছে।    হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়াতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দেখা দিতে পারে। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুদের টিকার নথি যাচাই করা। পরিবারের কারও মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে আগে ফোন করে চিকিৎসাকেন্দ্রকে জানানো ভালো, যাতে অপেক্ষাকক্ষের অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
সংক্রমণের তীব্র গতি।
নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল

নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল সরকারের সহায়তা চেয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা না নেওয়া বা পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়া মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।   নিউইয়র্ক রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জুলাইয়ের পর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার ১৮টি জেলার বাসিন্দা।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের জন্য টিকা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।   গভর্নর হোকুলের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ফেডারেল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের গভর্নরকে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলেও টিকা না নেওয়া মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য তাই শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে যাওয়া শিশু, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি এবং টিকা না নেওয়া মানুষের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্কের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কারও টিকা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত না থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় টিকা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   এদিকে নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যেও হামের সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। ফেডারেল ও রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।   সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুজবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক ও সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা। বিশেষ করে শিশুদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা
ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের একটি বড় অংশের পেছনে রয়েছে এমন কিছু সংক্রমণ, যেগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৩ লাখ নতুন ক্যান্সারের ঘটনা বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই সংখ্যা ওই বছরে শনাক্ত হওয়া মোট নতুন ক্যান্সারের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বে প্রায় প্রতি আটটি নতুন ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।   আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসির এই গবেষণাটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য ল্যানসেট অনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ক্যান্সার পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে—এমন ১২টি সংক্রমণকারী এজেন্টের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি আইএআরসির গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া ১২টি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ পাইলোরি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এপস্টেইন-বার ভাইরাস বা ইবিভি, কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস, শিস্টোসোমা হেমাটোবিয়াম, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস টাইপ-১, অপিসথোরকিস ভিভেরিনি, ক্লোনোরকিস সিনেনসিস, মার্কেল সেল পলিওমাভাইরাস এবং এইচআইভি।   তবে সব সংক্রমণের ভূমিকা সমান নয়। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে এইচ পাইলোরির। ২০২৪ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক ৭ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে বলে হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে এইচপিভি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা সম্পর্কিত ছিল। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার, এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল।   অর্থাৎ এই পাঁচটি সংক্রমণ—এইচ পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি, এপস্টেইন-বার ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস সি—মিলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় পুরো বোঝার জন্য দায়ী। গবেষণার এই ফলাফল দেখাচ্ছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাপন ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিকে নজর দিলেই হবে না; কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় অঞ্চলভেদেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় বোঝা ছিল পূর্ব এশিয়ায়। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার এমন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৪২ শতাংশ। পূর্ব এশিয়ায় এইচ পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝায় বড় ভূমিকা রেখেছে।   সাব-সাহারান আফ্রিকাতেও সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। সেখানে এইচপিভি ও কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এইচআইভিও ওই অঞ্চলের সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশেই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে। টিকা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ সব জায়গায় সমান না হওয়ায় এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এপস্টেইন-বার ভাইরাসের বিষয়টিও গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী এটি চতুর্থ বৃহত্তম সংক্রমণকারী কারণ। গবেষণায় সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের একটি অংশের সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে যেসব হিসাব করা হয়েছিল, নতুন গবেষণায় তার তুলনায় সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্কের আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের একটি বড় অংশ প্রতিরোধের সুযোগ রয়েছে। এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা রয়েছে। এইচ পাইলোরি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এইচআইভি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এইচপিভি-সম্পর্কিত কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিংও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থের অভাব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কাঠামোগত বাধার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকরা বিশেষ করে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের মতো সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর টিকা নেই। তাই ভবিষ্যতে নতুন টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক বোঝা আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে গবেষণার এই ফলাফলকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে ক্যান্সারের বেশিরভাগ ঘটনাই সংক্রমণের কারণে হয়। গবেষণাটি নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংক্রমণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্যান্সারের আরও অনেক কারণ ও ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। গবেষণার মূল বার্তা হলো, ক্যান্সার প্রতিরোধের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে পরিচিত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী সংক্রমণগুলোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ
৩ হাজার ৪০০ ছাড়াল হাম আক্রান্ত, বিমানবন্দর ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন।   ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি।   অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।   তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।   গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় ‘ভিব্রিও’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চলতি বছরে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ১৪

ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে।   গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়।   এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।”   সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হামের প্রকোপে কাঁপছে দেশ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।  গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০