কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে একটি আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস হামলায় আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নামের এক কথিত পীর নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে’ এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ধারণকৃত একটি বিতর্কিত ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে শামীম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে দরবার শরিফটি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। হামলায় শামীমসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে পিটুনি ও কোপের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দফায় দফায় হামলা চলে। বিকেল নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত শামীম ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তিন মাস কারাবরণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা কোনো প্রকার আইনি জটিলতায় জড়াতে চান না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ করার জন্য তাদের সদিচ্ছা রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপে এই মন্তব্য করেন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র সংবাদ প্রতিবেদক জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, খবর প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক ইরানের এই সদিচ্ছাকে পুরোপুরি আশার আলো হিসেবে দেখছেন না। জন সাডওয়ার্থ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ‘সদিচ্ছার’ সঙ্গে কঠোর শর্তও জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না এ ধরনের নিশ্চয়তা ইরান চাচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানও একই ধরনের আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিল। একই সময়ে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন হুমকি জারি করেছে। তারা পাল্টা আঘাতের পরিধি সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে, যেখানে ইরানের সদিচ্ছা ও শর্তের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সূত্র: আল–জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিল ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ইসরায়েল একটি স্থায়ী 'বাফার জোন' হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবানিজ গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আক্রমণগুলোকে একটি 'পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলপথ এখন আক্ষরিক অর্থেই বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে একের পর এক তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই সম্ভব যখন বিপক্ষ শক্তি নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই অনমনীয় অবস্থানের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরান। ইরাকি জলসীমায় মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফ্রিওস’ এবং মার্শাল আইল্যান্ডের ‘সেফ সি বিষ্ণু’ নামক দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকি কর্মকর্তা ফারহান আল-ফারতৌসি নিশ্চিত করেছেন যে, জ্বলন্ত জাহাজ থেকে ৩৮ জনকে উদ্ধার করা গেলেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ড্রোন নাকি নৌপথের হামলায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে ইসরায়েল পর্যন্ত। লেবানন থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ রকেট হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলি ভূখণ্ড। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ইম্যানুয়েল ফ্যাবিয়ান জানিয়েছেন, তাদের আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা এই আক্রমণ প্রতিহত করেছে। পাল্টা জবাবে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। কেনটাকির এক সভায় তিনি বলেন, "আমরা প্রথম প্রহরেই ইরানকে ধ্বংস করেছি।" তবে মার্কিন সেনাদের অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা এবং যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে জ্বালানি খাত। অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। জাহাজটি ভেড়ার পর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু হয়। এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একই বন্দরে পৌঁছেছিল। পরপর দুটি চালান আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে। এছাড়া ১৩ মার্চ ‘র্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি জাহাজ বন্দরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজেই আনুমানিক ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল থাকবে। সব মিলিয়ে পাঁচটি ট্যাংকার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ জ্বালানি বর্তমান ব্যবহারের ধারা ধরে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গত ৮ মার্চ থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরবরাহ সীমিত রাখার এই নীতি অব্যাহত থাকলে নতুন চালান দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশের বিদ্যমান মজুত দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের জ্বালানি চাহিদা মেটানো যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে নতুন চালানগুলো যুক্ত হলে দেশে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণের মতো মজুত নিশ্চিত হতে পারে। বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই খালাস শুরু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় জাহাজের কাজও চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি জাহাজগুলো পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবার এই তালিকায় যোগ দিলেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান হবে একটি ‘ভয়াবহ ভুল’। বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির মুখে বৈরুতের জন্য ৯ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রিদ। আলবারেস স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা জরুরি। একইসাথে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল অভিমুখে রকেট হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন আলবারেস। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান বিরোধী অভিযানে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি দিয়েছিলেন, তারপরও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। সম্প্রতি ইরানে পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলি পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘আগাম হামলা’ বা প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওয়াশিংটন আগে থেকেই জানত যে ইসরায়েল ইরানে আঘাত হানতে যাচ্ছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রণকৌশল সাজায় বাইডেন প্রশাসন। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কো রুবিও জানান, ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে আক্রমণ চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা জানতাম ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এবং এতে আমেরিকান সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিই।” মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এই সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে তেহরান ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইরান ইতিমধ্যেই ড্রোনের মাধ্যমে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। রুবিও দাবি করেছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ড্রোন সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে তার একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। লেবানন, সিরিয়া, মিশর ও ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিনীদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিভুজমুখী সংঘাত এখন আর কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সুপ্রতিবেশী হিসেবে শান্তিতে থাকতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য নিরসনে এবার সরাসরি ‘সংলাপ সহজতর’ করার বা মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আলোচনার টেবিলে দেখতে চায় তেহরান। দুই দেশ যাতে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক” বজায় রাখে, সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় ইরানের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর আগেও বিভিন্ন সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছিল ইরান। তেহরানের এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির নতুন পথ খুলতে পারে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু? বিবিসি উর্দুর এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগান তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত সম্মুখ যুদ্ধে জয়ী হওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান নিয়মিতভাবে শীর্ষ ১৫-তে অবস্থান করে। অন্যদিকে, তালেবান বাহিনীর সক্ষমতা মূলত তিনটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল: সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র। মার্কিন ও বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম। কালোবাজার থেকে সংগৃহীত অনিয়মিত অস্ত্রশস্ত্র। প্রচলিত বনাম গেরিলা যুদ্ধ সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তালেবানরা সাধারণত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। আফগান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে তারা অতর্কিত হামলা এবং সড়কপথে বোমা পেতে রাখার (IED) মতো কৌশলেই বেশি অভ্যস্ত। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব তালেবানদের একটি বড় আকারের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews