সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

পোপ লিও চতুর্দশ ট্রাম্পকে আহ্বান: ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে সরে আসুন

Unknown প্রকাশ: মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৭:৫
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে নতুন নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান, ৮ মে ২০২৫। ছবি: এপি
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে নতুন নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান, ৮ মে ২০২৫। ছবি: এপি

ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

 

রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।”

 

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

 

সূত্র: আল–জাজিরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।   ওই সপ্তাহের অভিযানে আটক হয়েছেন ১৩ হাজার ৬২৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জনকে আবাসনবিধি, ৩ হাজার ৫৩১ জনকে সীমান্ত নিরাপত্তাবিধি এবং ৩ হাজার ৫০৪ জনকে শ্রমবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।   অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ১৯৭ জনকে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কাজে সহায়তার অভিযোগে আটক হয়েছেন ২২ জন।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ভ্রমণ নথির জন্য ১৮ হাজার ৫৪৯ জনকে তাঁদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৮১৫ জনের ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।   সৌদি আরবে এমন অভিযান নিয়মিত চলছে। এর আগের সপ্তাহে, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, ১২ হাজার ৬৩৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তার আগের সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হয় ১২ হাজার ৫৭ জনকে।    সর্বশেষ ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দেশভিত্তিক পরিচয় সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা জানা যায়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:২৭
৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে লাফ দেওয়ার পর উইংসুটে দেখা দিল ত্রুটি

৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে লাফ দেওয়ার পর উইংসুটে দেখা দিল ত্রুটি, জাম্পারের মৃত্যু

প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেও সাগরে আছড়ে পড়ল ৪০ তলা ভবনের সমান স্টারশিপ রকেট

প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেও সাগরে আছড়ে পড়ল ৪০ তলা ভবনের সমান স্টারশিপ রকেট

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে সামরিক যন্ত্রাংশ পাঠানোর মামলায় রায় দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

চীনের মাধ্যমে ইরানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি পাচার, ইরানি নাগরিকের ১৮ মাসের কারাদণ্ড

জিনগত গবেষণায় জেন্টু পেঙ্গুইনের চারটি পৃথক প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
১০০ বছরের বেশি সময় পর নতুন প্রজাতির পেঙ্গুইন আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

১০০ বছরেরও বেশি সময় পর পৃথিবীতে নতুন একটি পেঙ্গুইন প্রজাতির আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দুর্গম কের্গেলেন দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী এই পেঙ্গুইনের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Pygoscelis kerguelensis। গবেষকদের মতে, এতদিন এটিকে পরিচিত জেন্টু পেঙ্গুইনেরই একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জিনগত ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণে এটি স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   কের্গেলেন দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের একটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল, যা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নিকটতম জনবসতি থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানকার পেঙ্গুইন জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন গবেষকদের নজরের বাইরে ছিল। চিলি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল এই জনগোষ্ঠীর ওপর বিস্তারিত গবেষণা চালিয়ে নতুন প্রজাতিটির পরিচয় নিশ্চিত করে।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Communications Biology-তে। গবেষকেরা জেন্টু পেঙ্গুইনের বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে সংগৃহীত জিনগত তথ্যের সঙ্গে তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, প্রজননের সময়, আচরণ এবং বসবাসের পরিবেশ তুলনা করেছেন। পুরো জিনগত কাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণে ১০টি প্রজনন উপনিবেশের ৬৪টি পেঙ্গুইনের নমুনা ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা যায়, আগে একটি প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত জেন্টু পেঙ্গুইন আসলে চারটি স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় ধারায় বিভক্ত।   নতুন শনাক্ত হওয়া কের্গেলেন পেঙ্গুইন ছাড়াও গবেষকেরা উত্তরাঞ্চলীয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনকে পৃথক প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় প্রজাতি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার ফকল্যান্ড বা মালভিনাস ও মার্তিয়ো দ্বীপ এলাকায় দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রজাতি অ্যান্টার্কটিকা ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত। আর পূর্বাঞ্চলীয় প্রজাতির আবাস ক্রোজে, মেরিয়ন ও ম্যাককুয়ারি দ্বীপপুঞ্জে।   দেখতে চার ধরনের জেন্টু পেঙ্গুইনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে গবেষকেরা জিনগত বিশ্লেষণে স্পষ্ট পার্থক্য পেয়েছেন। শারীরিক গঠন, আকার, ডাক, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত অভিযোজনের কিছু পার্থক্যও তাদের আলাদা বিবর্তনীয় পরিচয়ের পক্ষে প্রমাণ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠীগুলো অতীতে কখনো কখনো পরস্পরের সঙ্গে জিন বিনিময় করলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও নিজ নিজ পরিবেশে অভিযোজনের কারণে আলাদা পথে বিবর্তিত হয়েছে।   বিজ্ঞানীদের মতে, কের্গেলেন অঞ্চলের পেঙ্গুইনদের মধ্যে বিশেষভাবে উচ্চ জিনগত বৈচিত্র্য রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, অতীতের বরফযুগগুলোতে এই দ্বীপপুঞ্জ পেঙ্গুইনদের জন্য এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় টিকে থাকার কারণেই এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   গবেষণাটি শুধু নতুন একটি প্রজাতির পরিচয় নিশ্চিত করেনি, পেঙ্গুইনদের বিবর্তন কীভাবে ঘটেছে সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, জেন্টু পেঙ্গুইন সাধারণত মাছ, ক্রিল, স্কুইড ও কাটলফিশসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খায়। ফলে খাবারের সন্ধানে তাদের খুব দূরে যেতে হয় না এবং তারা বছরের পর বছর একই প্রজনন এলাকায় ফিরে আসে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে দীর্ঘদিন একই পরিবেশে বসবাসের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর আচরণ ও পরিবেশগত অভিযোজন ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়।   জিনগত বিশ্লেষণে চার প্রজাতির পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বসবাসকারী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের জিনে শরীরের তাপ উৎপাদন, চর্বি ও শক্তি সঞ্চয় এবং আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে শক্তি-সাশ্রয়ী বিপাকক্রিয়া ও ডুব দেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।   নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সংরক্ষণনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা। কারণ আগে একই প্রজাতির অংশ হিসেবে বিবেচিত জনগোষ্ঠীগুলোর আলাদা পরিবেশগত প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থাকতে পারে। গবেষণায় ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতির মডেল বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, চার প্রজাতির মধ্যে তিনটির উপযুক্ত আবাসস্থল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিপরীতে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের বিস্তৃতি কিছু ক্ষেত্রে বাড়তেও পারে।   গবেষকেরা তাই ভবিষ্যৎ সংরক্ষণমূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার তালিকায় চার প্রজাতিকে আলাদাভাবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো প্রাণীর ভেতরে থাকা এমন গোপন জৈববৈচিত্র্য শনাক্ত করা গেলে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা সংরক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর নতুন পেঙ্গুইন প্রজাতির এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দক্ষিণ মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকেও নতুনভাবে সাজাচ্ছে।   সূত্র: Communications Biology, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২৩:২৫
পরিত্যক্ত স্যুটকেসে সবজি ও ভেষজ চাষ করছে টোকিওর হোটেল নিওয়া। ছবি: সংগৃহীত

অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে সবজি চাষ, টোকিওর হোটেলের ছাদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন পারাস্তো আহমাদি। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য

কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। ছবি: সংগৃহীত
২৮০ কেজি সোনায় মোড়ানো কাবার দরজা তৈরির কারিগর থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ এখন সৌদি বাদশাহর অতিথি

১৯৭৯ সালে পবিত্র কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের নাগরিক আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেই ঐতিহাসিক কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। সৌদি আরবের বাদশাহর অতিথি হিসেবে তিনি দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন জানিয়েছে।   আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় থাইল্যান্ড থেকে তিনজন কাঠমিস্ত্রি ও তিনজন স্বর্ণকারকে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হয়েছিল। আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তিনি দলের অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছয় কারিগরের কাজের সমন্বয়ও করেন। মক্কার প্রধান স্বর্ণকার শেখ আহমদ ইব্রাহিম বদর তাকে এই কাজে যুক্ত করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। দরজার নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিরীয় স্থপতি মুনির আল-জুন্দি।   কাবার পুরোনো দরজার মাপ নেওয়ার পর মক্কায় একটি বিশেষ কর্মশালায় নতুন দরজা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে কাঠের কাঠামো তৈরি করা হয়, পরে তাতে স্বর্ণের কাজ করা হয়। সৌদি আরবের সরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট সৌদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে বাদশাহ খালিদের শাসনামলে কাবার দরজা পরিবর্তন করা হয় এবং এতে ২৮০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছিল। দরজাটি তৈরিতে প্রায় ১২ মাস সময় লেগেছিল।   আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, দরজায় আল্লাহর ১৫টি সুন্দর নামও খোদাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি এক পাশে, ছয়টি অন্য পাশে এবং তিনটি ওপরের অংশে রাখা হয়। দরজায় কোরআনের আয়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফিও রয়েছে। সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, দরজার অলংকরণে উঁচু করে খোদাই করা নকশা, কোরআনের আয়াত এবং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামও রয়েছে।   দরজা স্থাপনের সময়টিও ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো দরজা সরিয়ে নতুন দরজা বসানোর কাজ চলার সময় নিচে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ করছিলেন। কারিগররা ওপরের অংশে কাজ করছিলেন, আর নিচে কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ চলতে থাকে। ১৩৯৯ হিজরির ২২ জিলকদ, যা ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে পড়ে, নতুন দরজাটি স্থাপন করা হয়।   বর্তমানে কাবার যে স্বর্ণখচিত দরজাটি দেখা যায়, সেটিই ১৯৭৯ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। সৌদি সরকারের তথ্যভিত্তিক সৌদিপিডিয়া বলছে, দরজাটিতে ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ২৮০ কেজি এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ। দরজাটি তৈরির জন্য বিশেষ কর্মশালা স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর নকশা ও অলংকরণে উন্নত কারুশিল্পের ব্যবহার করা হয়।   আবদুল্লাহ বর্তমানে সৌদি আরবে বাদশাহর অতিথি হিসেবে সফর করছেন। মদিনার একটি হোটেলে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ১৯৭৯ সালের সেই কাজের স্মৃতিচারণ করেন। তার এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর কাবার বর্তমান দরজা তৈরির পেছনে থাইল্যান্ডের ছয় কারিগরের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন, সৌদিপিডিয়া

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২১:৭
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাসা আনোজন। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে হ্রদের পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

0 Comments