সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#সুদেরহার

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ধীরগতির নতুন চিত্র উঠে এসেছে সর্বশেষ প্রতিবেদনে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরির বাজারে ধীরগতি, প্রভাব পড়তে পারে সুদ ও খরচে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।   শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে।   একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে।   এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়।   সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের সুদ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।   মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ।   এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে।   বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ।   শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ।   কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ?   গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল।   এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার।   এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে।   তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব   মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।   তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
গৃহঋণের সুদ ও ফি তুলনা না করায় বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ
একটু খোঁজ নিলেই বাঁচত হাজার হাজার ডলার, গৃহঋণে বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির মালিক গৃহঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করছেন। ব্যাংরেটের নতুন এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ঋণদাতার সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ বাড়ির মালিক বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে পারেন। এই বাড়তি ব্যয়কে বিশ্লেষণে ‘লুকানো বাড়ির মালিকানা কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   ব্যাংরেটের অ্যালেক্স গেইলি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বাড়ির মালিক তাদের গৃহঋণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছেন। এর কারণ সবসময় ভালো সুযোগ না থাকা নয়; বরং অনেকেই বিভিন্ন ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে তুলনা করেন না। ফলে একই ধরনের ঋণের জন্যও তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।   গেইলির মতে, সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ মার্কিন বাড়ির ক্রেতার বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই অর্থ পরিবারগুলো অবসর সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করতে পারত। দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি খরচ পরিবারের সম্পদ গড়ে তোলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের হারের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বড় হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংরেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরো ঋণের মেয়াদে এড়ানো সম্ভব এমন বাড়তি খরচ ৭৮ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে কয়েক হাজার ডলারের পার্থক্য মনে হলেও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে সেটি বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।   এ কারণে বাড়ি কেনার সময় একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গেইলি। তার মতে, একই দিনে একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া ভালো। এতে একই সময়ের বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলনা করা সহজ হয় এবং কোন ঋণদাতা তুলনামূলক ভালো শর্ত দিচ্ছে, তা বোঝা যায়।   তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না, ঋণের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ফি ও অতিরিক্ত খরচও হিসাব করতে হবে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট, ঋণ প্রক্রিয়াকরণের ফি এবং অন্যান্য প্রাথমিক খরচ যোগ করলে একটি গৃহঋণের প্রকৃত ব্যয় কত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তাই প্রতিটি ঋণদাতার কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত, লাইন-বাই-লাইন হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঋণ নেওয়ার আগে নিজের জন্য একটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সুদের হার ঠিক করে রাখাও কাজে আসতে পারে। কোনো ঋণদাতার প্রস্তাব সেই সীমার বাইরে গেলে অন্য বিকল্প খোঁজা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গৃহঋণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নিজের ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সুদের হার এবং মাসিক কিস্তির ধারণাও নেওয়া যায়।   বিশ্লেষণটি মূলত দেখিয়েছে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, গৃহঋণের শর্তও দীর্ঘমেয়াদি খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদের হার, ফি ও অন্যান্য শর্ত তুলনা করলে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সুদের হার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।   রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।   কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে।   ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।   সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।   ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে।   রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০