করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন মেরিন সেনারা সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া দুই মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার থেকে এই বিস্ফোরক সত্যটি উঠে এসেছে। ঘটনার দিন উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট কমপ্লেক্সের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই সময় মেরিন সেনারা আত্মরক্ষার্থে বা আক্রমণ ঠেকাতে গুলিবর্ষণ করে। তবে মেরিনদের এই গুলিতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সেই প্রাণঘাতী গুলি ঠিক কোন বাহিনীর বন্দুক থেকে এসেছিল—তা মেরিন, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নাকি স্থানীয় পুলিশের—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই ঘটনা এখন বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্স ও চ্যানেল-১২ জানিয়েছে। তবে ইরানের দুটি সরকারি সংবাদমাধ্যম—তাসনিম নিউজ ও মেহের নিউজ—বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, রয়টার্স ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরের সঙ্গে ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে এবং তার প্রাসাদের কমাউন্ডে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। নিউইয়র্ক টাইমস পরে স্যাটেলাইটের ছবি প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় প্রাসাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। মিরপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তোলা এবং বিসিবির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যে বর্তমান বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নতুন প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও সম্পর্কের এই আপাত মধুরতা খুব একটা টেকসই না-ও হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ক্ষমতা ব্যবহার করে গত ৬ অক্টোবরের নির্বাচনটি ছিল অনিয়মে ভরা। আইসিসির আইনের মধ্যে থেকে আলোচনার মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ড পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "বিগত দিনে ক্রিকেটে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে; এখন দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তাদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।" মূলত ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম বড় চমক ছিল দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর নমনীয় অবস্থান। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব দেশে ফিরতে পারছেন না এবং মাশরাফি এক প্রকার ‘গৃহবন্দি’ জীবন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, "সাকিব ও মাশরাফি দেশের সম্পদ। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে যাতে সাকিব দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন এবং মাশরাফি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।" সরকারের এই আন্তরিক অবস্থান দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমিনুল হক জানান, এখন থেকে খেলাধুলাকে কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে নিয়মিত খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চারটি খেলা বাছাই করে স্কুল পর্যায়ে চর্চা শুরু হবে। অস্থিতিশীল ক্রীড়াঙ্গনকে রুখতে এবং যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা 'দুষ্টামি' প্রতিহত করে একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন নতুন এই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
দীর্ঘ ৫৫৯ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষ করে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'যমুনা' ছাড়ছেন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদটি বিলুপ্ত হয়। এরপরই রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ড. ইউনূসের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছেড়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তার নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যাবেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি যমুনা ছেড়ে সেখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি কোনো বাড়তি প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসেবে যমুনায় ফিরে যান, যা তার সাদামাটা জীবনধারারই প্রতিফলন। এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় বাসভবন হিসেবে ‘যমুনা’ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় পর ভবনটিতে কিছু সংস্কার কাজ প্রয়োজন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী। সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার ঐতিহাসিক দায়িত্বের অবসান ঘটল। জানা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষে ড. ইউনূস পুনরায় তার আগের পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন। বিশেষ করে দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত ১৭ মার্চ অনুমোদন পাওয়া 'গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়' এর দেখভাল করবেন তিনি। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন এই মিশনে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমেই তার পরবর্তী দিনগুলো কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছে সরকার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে দেশের গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তা সত্ত্বেও মৌলিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বারবার যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতির উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা এবং হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি বলেন, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই যাচাই না করে সত্য হিসেবে ধরে নেয় এবং ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এর ফলে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় বর্তমানে পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি। সংবাদ সংগ্রহকে একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে ভয়াবহ অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তাঁর অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে—তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, বরং সেটিকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পষ্ট বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হয়। সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম আরও বলেন, সরকার, রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার দাবি তুলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন; কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে ভারতীয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। এক খসড়া নথি অনুযায়ী, এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটতে যাচ্ছে, যখন ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। উক্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি, ভূরাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ইইউ এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়াচ্ছে। নতুন অংশীদারত্বে প্রতি বছর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংলাপ হবে। এতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইইউএর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণ উভয়পক্ষের জন্য যুতসই ও লাভজনক কিনা, তাও এই আলোচনায় খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভারত ও ইইউ দীর্ঘ আলোচনার পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই নতুন অংশীদারত্ব মূলত ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ়ই করবে। সেই সাথে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় উভয়পক্ষের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি মোকাবেলায় এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস