করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন মেরিন সেনারা সরাসরি গুলি চালিয়েছিল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া দুই মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার থেকে এই বিস্ফোরক সত্যটি উঠে এসেছে।
ঘটনার দিন উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট কমপ্লেক্সের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই সময় মেরিন সেনারা আত্মরক্ষার্থে বা আক্রমণ ঠেকাতে গুলিবর্ষণ করে। তবে মেরিনদের এই গুলিতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সেই প্রাণঘাতী গুলি ঠিক কোন বাহিনীর বন্দুক থেকে এসেছিল—তা মেরিন, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নাকি স্থানীয় পুলিশের—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই ঘটনা এখন বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে সরাসরি ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া’ হবে। সোমবার আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী এখন থেকে বন্ধ। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড এবং নৌবাহিনীর যোদ্ধারা সেই জাহাজগুলো পুড়িয়ে দেবে।” উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে ইরান দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যেই একটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ‘এথে নোভা’ (ATHE NOVA) নামক ওই ট্যাঙ্কারটি দুটি ড্রোনের আঘাতে বর্তমানে জ্বলছে বলে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সরকারের পতনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর পাওয়া যায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিমধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রুট দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা, যার পরপরই দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দূতাবাস সীমানার ভেতরে আগুনের শিখা দেখা যায়। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত দুটি ড্রোন হামলার ফল। এতে দূতাবাসে 'সীমিত আকারে' আগুন লাগলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে স্থাপনার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এবং ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতারসহ মোট ১৪টি দেশের নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এর আগে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে মার্কিন প্রশাসন, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরে নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের বিলম্ব না করে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে Amman-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য হুমকির কারণে তাদের কিছু কর্মী কূটনৈতিক স্থাপনা ত্যাগ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে Al Jazeera-এর প্রতিবেদক প্যাটি কালহেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের ঘোষণা অস্বাভাবিক। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন নাগরিকদের কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি সহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।