সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্যঝুঁকি

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
এয়ার ফ্রায়ার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় নতুন আলোচনা

জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র এয়ার ফ্রায়ার নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক ডা. পুনম দেশাই। দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই চিকিৎসক দাবি করেছেন, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই তার এয়ার ফ্রায়ার ফেলে দিয়েছেন।   ডা. দেশাইয়ের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা হলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলুর মতো শর্করা বা স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) জানিয়েছে, ভাজা, বেক করা বা রোস্ট করার মতো উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো সীমিত ও অসঙ্গত।   ডা. দেশাই আরও দাবি করেছেন, কিছু এয়ার ফ্রায়ারে থাকা নন-স্টিক আবরণে PFAS-জাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব এয়ার ফ্রায়ার একই ধরনের আবরণ দিয়ে তৈরি নয়।   কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অনেক নন-স্টিক রান্নার সামগ্রীর আবরণে PFAS ব্যবহার করা হয় এবং অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় এসব সামগ্রী ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।   তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) বলছে, খাবারে থাকা অ্যাক্রিলামাইড মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি অবশ্য দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে খাবার রান্না না করার এবং অতিরিক্ত বাদামি বা পুড়ে যাওয়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।   ডা. দেশাই বলেছেন, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে তিনি স্টেইনলেস স্টিলের মডেল বেছে নেবেন এবং সেটিও খুব বেশি ব্যবহার করবেন না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে
জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল।   জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র‌্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।   গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা।   বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়।   তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।   প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।   গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।   গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।   গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।   গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাব, বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের ২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে মারা যাওয়া আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এমন অনেক অধূমপায়ীও ছিলেন, যারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।   ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও ভূখণ্ডে পরোক্ষ ধূমপানের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করতে গবেষণাটি করা হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের পাবমেড ডাটাবেস এবং জনসংখ্যা জরিপের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়।   গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৬ লাখ ৬০ হাজার অকালমৃত্যু ঘটেছে। একই সঙ্গে এটি অকাল পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন রোগের কারণ হয়েছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে সৃষ্ট ইসকেমিক হার্ট ডিজিজও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আনুমানিক ৫২ লাখ শিশুর শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়েছে।   গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধূমপায়ীর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা একই সময়ে দুটি উৎস থেকে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। এর একটি হলো তামাকজাত পণ্য পোড়ার ফলে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া, যাকে সাইডস্ট্রিম স্মোক বলা হয়। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর বুক থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাইডস্ট্রিম স্মোক বা তামাকজাত পণ্য পোড়ার সরাসরি ধোঁয়াই সাধারণত অধূমপায়ীদের নেওয়া বাতাসের অধিকাংশ অংশজুড়ে থাকে।   এই ধোঁয়া ফিল্টার করা থাকে না। ফলে এতে ধূমপায়ী নিজে যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার চেয়েও বেশি ঘনত্বের বিষাক্ত ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ধূমপান না করেও আশপাশে থাকা মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা অপরিবর্তিতই রয়েছে। অর্থাৎ ধূমপানের হার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা একইভাবে কমেনি।   নারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের এই বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে খুব কমই স্বীকার বা আলোকপাত করা হয়।   নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য জনপরিসর এবং বাসাবাড়িতে আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাটি। গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অকালমৃত্যু, শিশুদের শ্বাসনালির সংক্রমণ এবং নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনার ১২০ ডিগ্রি তাপে মরুভূমিতে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গ্র্যান্ট সাইলার। ছবি: সংগৃহীত
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে।   অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি।   সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।   সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।   চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না।   ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে।   ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে।   পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।   বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে।   সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ডলার স্টোরে কম দামে খাবার পাওয়া গেলেও খাবারের মান নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগ উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার খরচ কমাতে ডলার স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক একটি চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ডলার স্টোরের আশপাশে বসবাস এবং স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষকেরা ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ডলার স্টোর ও প্রচলিত মুদি দোকানের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যানসহ গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৫০০ সিটি প্রকল্পের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করেন।   গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা হয়েছে, কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ডলার স্টোর বা প্রচলিত মুদি দোকানে পৌঁছাতে কতটা সহজ। এ জন্য ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দোকানগুলোর অবস্থান ও আশপাশের জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি আয়, বেকারত্বসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত মুদি দোকানের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রতিকূল স্বাস্থ্য ফলাফলের তুলনামূলক কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডলার স্টোরের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বিভিন্ন অঞ্চলে বজায় ছিল।   তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা ডলার স্টোরের খাবারকে এসব রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। গবেষণাটি মূলত বিভিন্ন এলাকার খাবারের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ডলার স্টোর বেশি থাকার কারণেই সেখানকার মানুষ স্থূলতা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষক রায়ান ব্রুয়েলম্যানের মতে, মূল সমস্যা খাবারের দাম নয়, বরং কী ধরনের খাবার মানুষ সহজে কিনতে পারছেন সেটি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার কম দামে বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারের প্রাপ্যতা বেশি হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত মুদি দোকান ও ডলার স্টোরের খাবারের ধরনে পার্থক্য রয়েছে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক ডলার স্টোরে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হালকা খাবারের উপস্থিতি বেশি হওয়ার বিষয়টি আগের গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও ডলার স্টোর থেকে কেনা খাবার অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা খাবারের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম স্বাস্থ্যকর বলে দেখা যায়। তবে সেই গবেষণায় এটাও দেখা হয়েছিল যে ডলার স্টোরে বেশি কেনাকাটা করা পরিবারগুলো অন্য জায়গা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য কিছুটা পূরণ করতে পারে।   অন্যদিকে, কম আয়ের পরিবারের জন্য ডলার স্টোরের গুরুত্বও গবেষকেরা উপেক্ষা করেননি। এসব দোকানে খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং অনেক এলাকায় এগুলো সহজে পৌঁছানো যায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম আয়ের ডলার স্টোর ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী দাম ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা এসব দোকানে কেনাকাটা করেন। তবে তাদের অনেকেই ডলার স্টোরে আরও বেশি ফল, শাকসবজি ও উন্নতমানের প্রোটিনজাত খাবার চান। এই বাস্তবতার কারণে গবেষকেরা ডলার স্টোর কমিয়ে দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং এসব দোকানেই স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফল ও সবজি বিক্রি, স্থানীয় কৃষক বাজার বা খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার এবং ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।   পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানী শাই বিষ্ণুমোহনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, মানুষ সাধারণত নিজের বাজেট, সময় ও আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগ বিবেচনা করেই খাবার বেছে নেন। তাই মানুষ কোথা থেকে কেনাকাটা করছেন, সেটিকে দায়ী করার বদলে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরকে খাবারের দোকান হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় সাধারণ পণ্য বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে খাদ্য পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার ক্ষেত্রে ডলার স্টোরের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে, গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী খাবার ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কম দামের খাবার মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে শুধু বড় সুপারমার্কেটেই নয়, কম আয়ের মানুষ যেসব দোকানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন, সেখানেও সহজলভ্য করতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ১১৫ ডিগ্রিতে

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে পারদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ‘হিট অ্যাডভাইজরি’ বা তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই সতর্কতা বলবৎ থাকবে শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে অঙ্গরাজ্যটির মরুভূমি অঞ্চলগুলো। এসব এলাকার জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ বা চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গলবার মরুভূমি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও পাম স্প্রিংস এলাকায় তা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছোঁয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়েই এসব অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ অব্যাহত থাকবে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি গরম অনুভূত হবে। তবে শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করবে এবং তাপমাত্রা নিম্নমুখী হবে। সপ্তাহান্তে বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু এলাকায় স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এর আগে লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে মঙ্গলবার আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে অবস্থান করবে, যা বুধ ও বৃহস্পতিবার বেড়ে ৮০-এর কোঠার একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ভ্যালি এলাকা এবং ইনল্যান্ড এম্পায়ার অঞ্চলে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৯৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা বিরাজ করবে। তবে বুধবার থেকে এসব এলাকায়ও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে এবং শুক্রবার থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। অন্যদিকে, সমুদ্র উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকাগুলোতে তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। উপকূলে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭৪ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ৬৪ ডিগ্রি থাকলেও বৃহস্পতিবার তা ৭৭ ডিগ্রিতে উঠতে পারে। একইভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে মঙ্গলবার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮৪ ডিগ্রি থেকে বেড়ে বৃহস্পতিবার ৮৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভেপ: মিষ্টি স্বাদের আড়ালে প্রাণঘাতী ঝুঁকি

ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে।   একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।   বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।     অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ।   বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত।   সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে।   কীভাবে কাজ করে ভেপ   ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক।   কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর   চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।   এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে।   প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।   ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা   ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল।   তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে?   গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন।   তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ।   সচেতনতার বিকল্প নেই   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।   তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি

গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০