সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৬:৭
সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে
সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে

হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল।

 

জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র‌্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা।

 

বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়।

 

তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

 

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।

 

গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।

 

গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

 

গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
গবেষণাগারে ক্যানসার কোষ, ডিএনএ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ইমেজ বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা
টিউমার হওয়ার আগেই স্তনের ক্যানসার ঠেকানোর সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত ঘন হলে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এবার এই ঘন টিস্যু কীভাবে রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) গবেষকেরা। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া বোঝা গেলে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে।   মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ঘন স্তন টিস্যু ম্যামোগ্রামে সাদা অংশ হিসেবে দেখা যায়। ফলে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঘন টিস্যুর সঙ্গে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্কও রয়েছে।   নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন স্তন টিস্যু স্বাভাবিক টিস্যুর তুলনায় বেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়। এই শক্ত পরিবেশ স্তনে থাকা ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ বদলে দিতে পারে। এরপর এসব কোষ এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণাটির প্রধান গবেষক মেরি-কেট হেওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে ঘন স্তন টিস্যুর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর পেছনের কারণ এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণায় টিস্যুর শক্তভাব কীভাবে রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ পরিবর্তন করে, তার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।   গবেষকেরা স্তনের বিভিন্ন টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি টিউমারের শক্তভাব এবং টিস্যু শক্ত করতে ভূমিকা রাখা কোলাজেন নামের প্রোটিনের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশি শক্ত অংশগুলোতে কোলাজেন, দাগের মতো টিস্যু, ম্যাক্রোফেজ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা বেশি ছিল।   গবেষণায় আরও দেখা যায়, শক্ত টিস্যুতে এসটিএটি৩ নামের একটি সংকেত-প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়া স্তনের কোষকে এমন সংকেত দিতে পারে, যার মাধ্যমে আরও বেশি ম্যাক্রোফেজ ওই এলাকায় চলে আসে। পরে এসব ম্যাক্রোফেজ এমন রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।   গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের জেল ব্যবহার করে শক্ত টিস্যুর মতো পরিবেশ তৈরি করেন এবং পরে ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, শক্ত পরিবেশ স্তনের কোষে এসটিএটি৩ সক্রিয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ম্যাক্রোফেজ আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।   গবেষকেরা আরও একটি বিষয় শনাক্ত করেছেন। ম্যাক্রোফেজ থেকে তৈরি রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আরওএস ম্যাক্রোফেজের ভেতরের চর্বিজাতীয় উপাদানে ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে অ্যালডিহাইড নামের কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়, যা আশপাশের কোষে পৌঁছে ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।   পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ঘন ও শক্ত স্তন টিস্যুর সঙ্গে বেশি ম্যাক্রোফেজ, বেশি অ্যালডিহাইড, বেশি ডিএনএ পরিবর্তন এবং রোগের আরও অগ্রসর অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   গবেষকেরা এখন এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা করতে চান, যা ম্যাক্রোফেজের ভেতরে ক্ষতিকর অ্যালডিহাইড তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে উচ্চঝুঁকির স্তন টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই রোগের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করতেও আরও পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।আ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৬:২১
সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে

জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রচণ্ড গরমে কাজ করা তরুণ নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে অজ্ঞাত কারণে কিডনি বিকলের ঘটনা নজরে চিকিৎসকদের

২০-এর কোঠায় কিডনি বিকল, টেক্সাসে চিকিৎসকদের নজরে রহস্যজনক রোগ

পেট ফাঁপাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করার পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত ও বিষণ্নতাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে নতুন গবেষণা
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়—এমন কারণগুলো ভিন্ন হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকিগুলো সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সীমিত শিক্ষার সুযোগ, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং আগে মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস। গবেষণাটি গত ২৪ আগস্ট ‘আলঝেইমার্স অ্যান্ড ডিমেনশিয়া: দ্য জার্নাল অব দ্য আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় যুক্ত নন, নিউইয়র্কের ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজিস্ট মাইকা স্যাভিন নিউজউইককে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কোনো শূন্যস্থানে তৈরি হয় না।” তাঁর মতে, গবেষণার ফলাফল ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সম্ভাব্য কিছু কার্যকর ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। তবে এসব ফলাফলকে কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্মগত বা জৈবিক পার্থক্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্যাভিন বলেন, “এখানে জাতিগত পরিচয় মূল কারণ নয়।” তাঁর মতে, আমেরিকান ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়গুলো সামাজিক, ঐতিহাসিক, পরিবেশগত, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অনেক ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এসব পরিস্থিতি কয়েক দশক ধরে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ তৈরি করেছে। ডিমেনশিয়া কোনো একক রোগ নয়। বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব রোগের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে কিছু প্রোটিন জমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডিমেনশিয়ার পরিচিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স, বংশগত কারণ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা। এর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও বিষণ্নতা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকদের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশ জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগে প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মধ্য ও বেশি বয়সী ৮০৮ জন আমেরিকান ইন্ডিয়ানকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঝুঁকির বিষয় নিয়ে তারা বিশ্লেষণ করেন। এসব ঝুঁকি এর আগে ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকি হলো—সীমিত শিক্ষার সুযোগ, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, বিষণ্নতা, মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। গবেষকরা দেখেছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ঝুঁকিগুলো হলো স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস এবং বিষণ্নতা। গবেষণায় অংশ নেওয়া আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের ৫০ শতাংশের মধ্যে স্থূলতা ছিল। ধূমপানের হার ছিল ৪২ শতাংশ, ডায়াবেটিস ৪০ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপ ৩৮ শতাংশ, আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ৩১ শতাংশ এবং বিষণ্নতা ১৭ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে। এসব ঝুঁকির কয়েকটির ক্ষেত্রে ল্যানসেট কমিশনের পর্যালোচনা করা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বড় ধরনের পার্থক্যও দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে বিষণ্নতার হার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি ছিল। আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ছিল ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি। আর উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। অন্যদিকে, ল্যানসেট কমিশনের গবেষণায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কিছু ঝুঁকি—যেমন উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের এই গবেষণায় তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। স্যাভিন জানান, আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কার আদিবাসী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে তাঁদের নিজস্ব গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও নতুন গবেষণার ফল পুরোপুরি ভিন্ন নয়। তিনি বলেন, “আমরা জ্ঞানীয় সক্ষমতা বা চিন্তা-স্মৃতির কার্যক্ষমতা কমার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের প্রবণতা দেখেছি। তবে আমাদের ব্যাখ্যা কখনোই এমন ছিল না যে আমেরিকান ইন্ডিয়ান পরিচয় নিজেই এসব পার্থক্যের কারণ।” স্যাভিনের মতে, জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আসলে একজন মানুষের আরও বিস্তৃত জীবন-অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে পারে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ভাষা এবং অন্যান্য সামাজিক ও জৈবিক অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত। গবেষণার ফলাফলকে স্যাভিন আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই কোনো জনগোষ্ঠীর অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য নয়। বরং এগুলোর অনেকগুলো পরিবর্তন করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। বিষণ্নতা শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো সম্ভব। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি শুধু “কত বছর স্কুলে পড়েছে”—এভাবে দেখলে হবে না। বরং একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেই শিক্ষার মান কেমন ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষার সুযোগ ও মানের পার্থক্য মানুষের পুরো জীবনজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। স্যাভিন বলেন, “আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, বৈষম্য মানেই ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়।” তাঁর মতে, এ ধরনের গবেষণা মানুষকে এই প্রশ্ন থেকে দূরে সরিয়ে আনে যে কোনো একটি জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী জৈবিকভাবে ডিমেনশিয়ার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কি না। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন পরিবর্তনযোগ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পরিস্থিতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভিন্ন ফল তৈরি করছে এবং কীভাবে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যায়। গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আগেভাগে কাজ করাও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৫:৩৫
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত

নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার

মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত

হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু

থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি

বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিওর জন্য পরিচিত ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ব্যবসায়ী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর মারা গেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডেনিসি’ বা ‘ইগো’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ।   ২০২৬ সালের মার্চে স্ত্রী ড্যানিয়েল সিম্বা অ্যালেনকে নিয়ে ব্যাংককে ছুটি কাটাচ্ছিলেন উবিরিবো। তারা একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ছুটির সময় তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপন অঙ্গ বড় করার কসমেটিক চিকিৎসা নেন। এ সময় তাঁর শরীরে ৪০ মিলিলিটার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ও লিডোকেন প্রয়োগ করা হয়।   চিকিৎসা শেষে হোটেলে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং দুবার অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুখুমভিত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুরুতে তিনি সচেতন থাকলেও সিটি স্ক্যান করার আগেই আবার অচেতন হয়ে পড়েন।   পরে চিকিৎসকেরা তাঁর পালমোনারি এম্বোলিজম শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ফুসফুসে রক্তপ্রবাহে প্রাণঘাতী বাধা তৈরি হয়েছিল। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পর ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় সিপিআর চালানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৬ মার্চ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরে যুক্তরাজ্যে করা ময়নাতদন্তে তাঁর ফুসফুসে এমন উপাদান পাওয়া যায়, যা ব্যবহৃত ফিলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। করোনার জিন হারকিনের রায়ে বলা হয়, কসমেটিক চিকিৎসার ফলেই সৃষ্ট পালমোনারি এম্বোলিজম তাঁর মৃত্যুর কারণ।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ফিলার চিকিৎসায় রক্তনালিতে বাধা, সংক্রমণ ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। অথচ এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়।   মে মাসে লন্ডনে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সোনালি রঙের বিলাসবহুল কফিনে তাঁকে সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে তাঁর শৈশবের বন্ধু ও নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী ডেভিডোও উপস্থিত ছিলেন। বিলাসী জীবনের জন্য পরিচিত এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন করুণ মৃত্যু নতুন করে কসমেটিক চিকিৎসার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৬
দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে

১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য

দুই চিকিৎসক ব্যারি মার্শাল ও রবিন ওয়ারেন, যাঁদের গবেষণায় আলসারের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার

হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

0 Comments