সিলেট থেকে হেলিকপ্টারযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ে করতে আসেন প্রবাসী ইউসুফ আলী (৩০)। হেলিকপ্টার পৌঁছানোর সময় শিশু, নারী ও পুরুষসহ উৎসুক জনতা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ ভিডিও করেন, কেউ সেলফি তুলেন। প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বর ইউসুফ আলী সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার পাকিচিরি গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে। তিনি কাতারে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কনের নাম আবদিয়া আক্তার (২২), তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর গ্রামের নুরে আলমের মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বর সোমবার দুপুরে সাদুল্লাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের একটি রাইস মিল চাতালে হেলিকপ্টার থেকে নামেন। এরপর মাইক্রোবাসে চড়ে আধা কিলোমিটার দূরে কনের বাড়িতে পৌঁছে বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিকেলেই হেলিকপ্টারযোগে নববধূকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন বর। বরের সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকে ইউসুফ আলীর স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়া। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাওসার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কনের বাবা নুরে আলম বলেন, “হেলিকপ্টারে বর আসা এবং মেয়ে হেলিকপ্টারে শ্বশুরবাড়িতে যেতে পারা দেখে আনন্দিত। আমরা সকলের দোয়া চাই।”
সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা হয়, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকেও দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির, যিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাও। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণভোটের কিছু অংশ বাস্তবায়িত হলেও বাকি অংশ এখনো উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে ঘিরেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে বর্তমান ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। সরকারের ইতিবাচক কাজকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত এ নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন এবং তার দল সে জন্য অপেক্ষা করছে। গত নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করেননি এবং ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যানও করেননি। তবে নির্বাচন নিয়ে টিআইবি ও সুজন-এর মতো সংগঠনের প্রতিবেদন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ জামাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। ভোর থেকেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং সব ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় হয় ৩৯৬টি জামাত। বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক ও উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো নগরী।
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজের পর মাজার এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপির নেতা সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সাড়া দিচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা এনসিপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, তারাবির নামাজ শেষে মাজার এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক তরুণ জড়ো হন। তাঁদের দেখে উপস্থিত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে সারজিস আলমও তাতে কণ্ঠ মিলান। তিনি দাবি করেন, এতে মাজারের পবিত্রতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। একটি মহল বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে সিলেট জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উপদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় নয়। এ ছাড়া নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম মন্তব্য করেন, সুলতানুল বাঙাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। ঘটনাটি ঘিরে সিলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকলেও এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরুরি মেরামত কাজ ও গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ছাঁটাইয়ের কারণে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের কয়েকটি এলাকায় টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাক্কাতুরা স্টেডিয়াম ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না সেগুলো হলো— ১১ কেভি ঘোপাশাল ফিডার, ১১ কেভি কাকুয়ারপাড় ফিডার, ১১ কেভি ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস ফিডারের আওতাধীন এলাকা, ওসমানী বিমানবন্দরের আবাসিক জোন, কাকুয়ারপাড়, সিলেট ক্লাব, ফরিদাবাদ হাউজিং, অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, আবদানী, বড়শালা বাজার মসজিদের সংলগ্ন কিছু অংশ, পর্যটন এলাকা, ফরিণাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, ঘোপাশাল, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাহল, লালবাগ, পীরেরগাঁও, ছালিয়া, রতিলিলা, সালুটিকর ঘাট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
সিলেটের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতিভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বিপুল পরিমাণ কনডম পাওয়া গেছে এমন দাবিকে সামনে রেখে তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কলেজে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে হোস্টেল-সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে বাথরুমে বালতিভর্তি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান তারা। এ ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পোস্ট দিলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। বিকেল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন বলে জানান। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত পাট, বস্ত্র, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, “ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টর অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকে ভারতের এক ধরণের প্রাধান্য থাকবেই। তবে আমরা চাই আমাদের রপ্তানি যেন আরও বৃদ্ধি পায় এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যেন একটি ন্যায্য ভারসাম্য বজায় থাকে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারত এখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির একটি বড় হাব। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে তারা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। আমরা চাই বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারত যেন আমাদের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। গুগলের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সেখানে কাজ করছে, সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা আমাদের দেশেও নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।” খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল শক্তিশালীই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এর আগে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু নেতাদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্য মজুদ রয়েছে, তাতে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সময় স্বল্পতার কারণে বড় পরিসরের বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি খাতের প্রসার এবং সিলেটে একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সিলেট আইটি পার্কে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিশেষ নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে, যার সুফল দ্রুতই দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দুই দিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিকসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে পুলিশের গুলির নির্দেশের নেপথ্যে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এই কড়া নির্দেশ প্রদান করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জের ধারাবহর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে একাধিকবার জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চান— সেদিন ঘটনাস্থলে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বরত ছিলেন এবং কার নির্দেশে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। আদালত থেকে একাধিকবার আদেশ দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে এই তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে বিজিবি তাদের দায়িত্বরত সদস্যদের তথ্য প্রদান করেছে, সেখানে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার চার্জশিট দাখিল করা বা বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আদালত তাঁর আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, বিচারবিভাগীয় তদন্তে তথ্য সরবরাহ না করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। বিচারক সুদীপ্ত তালুকদার আদেশে প্রশ্ন তোলেন— কেন এই অসহযোগিতাকে বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে এই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে ডিসির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আদালত। নতুন বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই-আগস্টের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে যখন সাধারণ মানুষ সোচ্চার, তখন প্রশাসনের এমন উদাসীনতা ও অসহযোগিতা জনমনে গভীর সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে এক অভূতপূর্ব বিজয়ের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবক মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। দীর্ঘকাল মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারের কাজে নিয়োজিত থাকার পর এবার তিনি রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ ফোরামে পা রাখলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এই বিশাল জয় অর্জন করেন। বিজয়ের পর দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুফতি মাওলানা আবুল হাসান মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি সিলেট-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা অটুট রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেও আমি যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” তিনি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং জোটের সকল নেতাকর্মীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তাঁর প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও সৌজন্য ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আগামীর পাঁচ বছর নিজেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। একনজরে মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের বর্ণাঢ্য জীবন: ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মাজরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। শৈশবে হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করার পর তিনি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতওয়া বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতওয়া ও ইসলামি গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘকাল দ্বীনি খেদমত করে আসছেন। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধাভাজন ভাবমূর্তিই তাঁকে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে। বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছেন। মা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে দুই আউলিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বিশাল জয়ের পর এখন সবার নজর—নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে কারা ঠাঁই পাচ্ছেন। সিলেট শুধু বিএনপির শক্ত ঘাঁটিই নয়, বরং এটি তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির এলাকা। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মাঝে এখন ব্যাপক জল্পনা চলছে যে, ‘সিলেটি দামান্দ’ (জামাই) এবার তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে ট্রল ও আলোচনার ঝড় উঠেছে; অনেকেই বলছেন—সিলেটের বর নিশ্চয়ই এবার উদার হস্তে দেবেন এলাকাবাসীকে। সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগ থেকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায়ও সিলেটবাসী বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেটের বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং দলের হাইকমান্ডের সাথে তাঁদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের নিয়ে চলছে জোর আলোচনা: নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগ থেকে সম্ভাব্য যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তাঁরা হলেন— সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনের জি কে গউছ। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ৩ থেকে ৪ জন অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন— সিলেট-৫ আসনে নির্বাচনি জোটের অংশীদার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ করে হুমায়ুন কবিরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দক্ষতাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। সিলেটের এই বিপুল জনসমর্থন এবং ভালোবাসার প্রতিদান তিনি কীভাবে দেন, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো সিলেটবাসী।
সিলেট নগরের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা তাদের কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা আটকান এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন, “তিনজন রাতে কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতরা নিজেদের ভোট পর্যবেক্ষক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে রাতের বেলায় কেন তারা কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তারা প্রকৃত পর্যবেক্ষক কিনা, এবং যদি হন, ভোটকেন্দ্রে আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না সব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “আজ দুপুরে জামায়াতের এক নেতার বাসা থেকে লাঠিসোঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ভোটের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। নির্বাচনের দিন রাতে পর্যবেক্ষকরা কেন কেন্দ্রে এসেছেন, প্রশাসন তা খতিয়ে দেখুক। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে কি তারা ঢুকেছেন, সেটাও দেখা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশা করি। তবে ভোটকেন্দ্রে রাতের বেলা অস্বাভাবিক ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতার প্রশ্ন উত্থাপন করছে।” পুলিশের আটকের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে।
সিলেটের জৈন্তাপুরে ‘নীল নদ’ খ্যাত সারি নদে চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মো. মুসআব আমীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের ছাত্র। মুসআব গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো. শহিদুর রহমানের ছেলে। মুসআব শাকসু নির্বাচনে সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংসদে সদস্যপদে প্রার্থী ছিলেন। আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে জৈন্তাপুরের সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় চোরাবালিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মুসআব। পরে বিকেল চারটার দিকে ডুবুরি দলের প্রচেষ্টায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুরের সারি নদে শুক্রবার সকালের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন মুসআব আমীন। দুপুরের দিকে সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে নদের পানিতে গোসলে নেমেছিলেন তিনি। এ সময় নদের পানির নিচে চোরাবালিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা মুসআবকে খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে পাচ্ছিলেন না। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও জৈন্তাপুর থানা–পুলিশের সদস্যরা যান। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানিতে নেমে বিকেল চারটার দিকে নিখোঁজ মুসআবকে উদ্ধার করা হয়। পরে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মুসআবের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সিলেটের লালাখাল ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বেলা একটার দিকে নদীতে গোসল করতে নামি সবাই। ১০ মিনিট পর মুসআবকে তখন আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর আমরা খোঁজাখুজি শুরু করি। পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।’ এ তথ্য নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মরদেহ জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সুরতহালের একটি প্রতিবদেন তৈরি করবেন। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসতেছেন। ময়নাতদন্তের না করার জন্য হয়তো পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।