- প্রচ্ছদ
- Topic
সংস্কার
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ অভিমুখে মিছিল এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ এবং আটক করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের আগের দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পরে তিনিও ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, সংবিধানের আওতায় থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের দাবি জানানো প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। পুলিশি পদক্ষেপের পর বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এ সময় নিজের পোস্টে অরিজিৎ সিং লেখেন, “এবার তোমরা ছাত্রদের পেটাচ্ছ? তোমাদের কি লজ্জা করে না? মাননীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ, এসব হচ্ছেটা কী! তোমরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছ? সবকিছু মনে রাখা হবে।” তার এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। শুধু অরিজিৎ সিং নন, বিক্ষোভের পর আরও কয়েকজন শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান। তাদের মধ্যে দিলজিৎ দোসাঞ্জ, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখ, হুমা কুরেশি, প্রকাশ রাজসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ বলছে, সংসদমুখী মিছিলের অনুমতি ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রণীত জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক সংস্কার বাতিল বা স্থগিত করেছে বাংলাদেশের নতুন সংসদ। এতে করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি থেকে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে কি না- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকেরা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-প্রধান নতুন সংসদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে- কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনসহ। তবে অন্তত ২৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অকার্যকর হয়ে গেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংস্কারের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ক্ষমতা আবার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার বলছে, এটি সংস্কার বাতিল নয়; বরং আইনগুলো আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা। আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত আইন পুনরায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। পটভূমি: আন্দোলন থেকে সংস্কার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা, মতপ্রকাশের দমন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নামে একটি সংস্কার কাঠামো প্রণয়ন করে, যাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পায় এই চার্টার। তবে সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে পারেনি; পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল করতে হয়। মানবাধিকার কমিশন: কী পরিবর্তন হলো বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর একটি ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সংক্রান্ত। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়সীমা, ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার বিধান ছিল। কিন্তু তা বাতিল হওয়ায় ২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত। সরকার বলছে, ওই অধ্যাদেশে আইনি অস্পষ্টতা ছিল। তবে সাবেক কমিশনারদের অভিযোগ, সরকারের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। গুমের আইনগত স্বীকৃতি: শূন্যতা তৈরি গুমের ঘটনাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার উদ্যোগও বাতিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন ১ হাজার ৯০০-এর বেশি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুমকে স্পষ্টভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত না করলে বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দায়মুক্তির ঝুঁকি তৈরি হয়। বিচার বিভাগীয় সংস্কার বাতিল হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালু করা। এর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো। এসব প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। সরকারের অবস্থান: ‘পুনর্মূল্যায়ন, বাতিল নয়’ সরকার বলছে, স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা কঠিন ছিল। তাই কিছু আইন পরে আলোচনা করে পুনরায় আনা হবে। আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান হুইপের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনগুলো আরও পরিশীলিত করে পুনরায় প্রণয়ন করা হবে। বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সংস্কারের পথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছিল, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল আইন বাতিল নয়; বরং ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্ন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য দুর্বল করতে পারে। এতে করে আগের মতোই নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা এটিও মনে করেন, সরকার চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারগুলো আরও শক্তিশালী করে ফিরিয়ে আনার সুযোগ এখনো রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
নেপালের নবগঠিত সরকার দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়েছে ১০০ দফার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচি। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমিয়ে আনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলো সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকা বা দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা আর থাকছে না। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া সেশন জট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নেপালি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’-এর মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নেপালি নাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বালেন শাহর সরকার।
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। তাই বাহিনীর গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আগের যেকোনো একটি পোশাকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না; বরং তারা হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে 'পুলিশ সংস্কার কমিশন' গঠন করা হয়েছে, যার সুফল দেশবাসী খুব দ্রুতই ভোগ করবে। উল্লেখ্য, এবারের ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন এএসপি তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।