- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া
নিউইয়র্ক সিটিতে কম আয়ের বাসিন্দাদের জন্য আবারও চালু হয়েছে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ৫০০ ডলারেরও কম থেকে শুরু হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে লটারির মাধ্যমে এসব অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই লটারিতে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং বিভিন্ন ধরনের ইউনিট রয়েছে। তবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বার্ষিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরাই আবেদন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচিত ভবনগুলোতে আধুনিক নানা সুবিধা রয়েছে। ভবনভেদে ফিটনেস সেন্টার, লন্ড্রি, কমিউনিটি স্পেস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু ভবনে পোষা প্রাণী রাখার অনুমতিও রয়েছে। নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের মধ্যে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি বহু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করা হয়। হাউজিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়। আবেদনকারীদের আয়, পরিচয়, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখও আলাদা হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক ও দুই বছরের লিজের ক্ষেত্রে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ায় এটি মেয়র জোহরান মামদানির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে গেছেন ব্রঙ্কসের ট্রেসি টাওয়ার্স আবাসনের শত শত বাসিন্দা। তাদের জন্য বরং আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ব্রঙ্কসের ৮৭১ ইউনিটের ট্রেসি টাওয়ার্স 'মিচেল-লামা' কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প। এই কর্মসূচি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের নিয়মের আওতায় পড়ে না। ফলে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ভাড়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত এখানকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। আবাসনটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আরওয়াই ম্যানেজমেন্ট চলতি মাসে ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ১৫ শতাংশ, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছরে আরও ৩ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে চার বছরে ভাড়া বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশে। এর ফলে বর্তমানে এক শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিচেল-লামা কর্মসূচির আবাসনগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) বিভাগ। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, ভবনের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংস্থাটির। ফলে এই ক্ষেত্রে মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। এ পরিস্থিতি মেয়র মামদানির জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব কমানো বা বিকল্প আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসনসহ ছয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যখন লাগামছাড়া, তখন মিচেল-লামার বাসিন্দাদের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বৃদ্ধির চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কীভাবে পরিস্থিতি এত দূর গড়াল, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করবে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। অন্যদিকে, মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রেসি টাওয়ার্সের মতো আবাসনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করা হবে। তবে বিদ্যমান রাজ্য আইনের কারণে পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প নেই। এইচপিডি কমিশনার ডিনা লেভি বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্য ভবনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়। মূল সমস্যা হলো ভবনটির দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট। আবাসনটি তিন বছর ধরে বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছে এবং নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ও মেটাতে পারছে না। তিনি জানান, ভবনের বিকল লিফট, ছাদ চুইয়ে পানি পড়াসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আলাদাভাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন অনেক বাসিন্দা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি টনি টেইলর বলেন, অবসরে যাওয়ার সময় এই আবাসনটি সত্যিই সাশ্রয়ী ছিল। এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে ওষুধ কিনব, নাকি খাবার কিনব, সেটাই ভাবতে হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য এরিক ডিনোভিটজও বিষয়টির অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড যখন ২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়েও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে, তখন একই শহরে অন্য একটি আবাসনে ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রেসি টাওয়ার্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ফেডারেল সেকশন ৮ আবাসন ভর্তুকি বা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভাড়া সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকায় তাদের নিজস্ব পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না। কিন্তু বাকি শত শত পরিবারের জন্য এই প্রস্তাব বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি জিন হিলের অভিযোগ, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বাসিন্দার মনে হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।