- প্রচ্ছদ
- Topic
আইইএলটিএস
আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুধু বইয়ের অনুশীলনী শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। এর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, সময় ব্যবস্থাপনা ও উত্তর দেওয়ার নিয়ম বুঝে অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হয়। প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় ভাষা শেখার জন্য ইংরেজির চর্চায় ডুবে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, সিরিজ ও সিনেমা দেখা, সংবাদপত্র পড়া এবং নিজের দক্ষতার উপযোগী বই পড়াকে এই চর্চার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কৌশল আর পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নিয়মের পার্থক্য বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। লিসেনিংয়ে প্রথম কাজ হলো কথার অর্থ বোঝা। উচ্চারণ অপরিচিত মনে হলেও বক্তা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেদিকে মনোযোগ রাখতে হবে। রেকর্ডিং শুরুর আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, উত্তরে নাম, সংখ্যা, সময়, স্থান নাকি অন্য কোনো তথ্য চাওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের মূল শব্দ চিহ্নিত করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে রেকর্ডিংয়ে প্রশ্নের হুবহু শব্দ শোনার অপেক্ষায় থাকলে তথ্য বাদ পড়তে পারে। বক্তব্যের অর্থ বুঝে উত্তর ধরার অনুশীলন করুন। আইইএলটিএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রেকর্ডিং একবারই শোনানো হয়। নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি লিখলেও নম্বর হারাতে হয়। ম্যাপের প্রশ্নে শুরু করার জায়গা, দিকনির্দেশ এবং পরিচিত স্থাপনা আগে দেখে নেওয়া সহায়ক। ডান ও বাঁয়ের নির্দেশ বোঝার সময় বক্তার চলার দিকের সঙ্গে মানচিত্র মিলিয়ে নিন। মানচিত্র ঘুরিয়ে নেওয়াকে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য কৌশল ধরে নেওয়ার বদলে অনুশীলনে নিজের সুবিধাজনক পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া ভালো। রিডিংয়ে আগে প্রশ্ন পড়বেন, নাকি প্যাসেজে চোখ বুলিয়ে নেবেন, তা অনুশীলনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ধরে প্যাসেজে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজুন। একই তথ্য সমার্থক শব্দ বা ভিন্ন বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন। দ্রুত চোখ বুলিয়ে লেখার মূল বক্তব্য বোঝা এবং নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা আলাদাভাবে চর্চা করা দরকার। শুধু পরিচিত একটি শব্দ পেলেই উত্তর ঠিক করে ফেলবেন না। আশপাশের বাক্য পড়ে নিশ্চিত হোন, প্রশ্নে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তথ্যটি তার সঙ্গে মিলে কি না। ম্যাচিং প্রশ্নেও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপশন ব্যবহার হয়েছে মানেই সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না, এমন নিয়ম সব প্রশ্নে নেই। আইইএলটিএসের রিডিং নির্দেশনায় কিছু প্রশ্নে একই অনুচ্ছেদ বা অপশন একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই উত্তর দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নিয়ম পড়তে হবে। রাইটিংয়ের প্রস্তুতিতে নিয়মিত ছোট লেখা দিয়ে শুরু করা যায়। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে লিখে পরে ব্যাকরণ, বানান ও বাক্যের গঠন সংশোধন করুন। নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং যুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানোর অভ্যাসও গড়ে তুলুন। রাইটিং পরীক্ষায় মোট সময় ৬০ মিনিট। আনুষ্ঠানিক পরামর্শ হলো টাস্ক ওয়ানে প্রায় ২০ মিনিট এবং টাস্ক টুতে প্রায় ৪০ মিনিট ব্যয় করা। টাস্ক ওয়ানে অন্তত ১৫০ এবং টাস্ক টুতে অন্তত ২৫০ শব্দ লিখতে হয়। টাস্ক টুর মূল্যায়নের ওজনও বেশি। প্রস্তুতির সময় দ্রুত লেখার অনুশীলন করা যায়, তবে পরিকল্পনা ও ভুল সংশোধনের জন্যও সময় রাখতে হবে। টাস্ক টুর লেখায় প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্য সাজান। ভূমিকার পর যুক্তি ব্যাখ্যা করুন এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিন। শেষে উপসংহারে মূল অবস্থান স্পষ্ট করুন। সব প্রশ্নে একই কাঠামো বা সর্বোচ্চ চারটি অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ধরে লেখার বদলে বিষয় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ সাজানো বেশি কার্যকর। টাস্ক ওয়ানের ধরনও পরীক্ষাভেদে আলাদা। একাডেমিক পরীক্ষায় গ্রাফ, চার্ট, টেবিল বা ডায়াগ্রামের তথ্য বর্ণনা করতে হতে পারে। সেখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তুলনা তুলে ধরতে হয়। জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষায় টাস্ক ওয়ানে একটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে চিঠি লিখতে হয়। তাই নিজের পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। স্পিকিংয়ের জড়তা কাটাতে নিয়মিত কথোপকথন ও মক টেস্ট সহায়ক হতে পারে। আয়নার সামনে বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। মক পরীক্ষকের পরামর্শ নিয়ে দেখুন, কোথায় বক্তব্য আটকে যাচ্ছে বা একই শব্দ বারবার ব্যবহার হচ্ছে। স্পিকিংয়ের দ্বিতীয় অংশে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট পাওয়া যায়। এরপর নির্ধারিত বিষয়ে এক থেকে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। প্রস্তুতির সময় পুরো বক্তব্য লেখার চেষ্টা না করে মূল বিষয়, একটি উদাহরণ এবং বলার ক্রম সংক্ষেপে নোট করা যায়। কথা বলার সময় ভুল হলে শান্তভাবে সংশোধন করে এগিয়ে যান। পরীক্ষককে হাসানো বা কৌতুক করা নম্বর বাড়ানোর কৌশল নয়। স্পিকিংয়ে মূল্যায়ন করা হয় সাবলীলতা ও বক্তব্যের সংযোগ, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণের বৈচিত্র্য ও শুদ্ধতা এবং উচ্চারণ। প্রস্তুতির অগ্রগতি বুঝতে সময় ধরে অনুশীলন করুন এবং ভুলগুলো লিখে রাখুন। কোন অংশে বারবার সমস্যা হচ্ছে, পরের অনুশীলনে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। ইংরেজির নিয়মিত ব্যবহার এবং পরীক্ষার নির্দেশনা মেনে চর্চা, দুটিকে একসঙ্গে রাখলেই প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা সহজ হবে। সূত্র: প্রথম আলো
আইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড অর্জন করেছেন রাইসা শাম্মা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামে পড়ছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইইএলটিএস পরীক্ষার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বই পড়া, ইংরেজি কনটেন্ট দেখা এবং ভাষা শেখার অভ্যাসই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর পেতে সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে। আইইএলটিএসের চারটি অংশ হলো লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। রাইসার মতে, পরীক্ষার কৌশল জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কেবল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দিয়ে ভাষায় শক্ত ভিত্তি তৈরি করা কঠিন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, দীর্ঘদিনের চর্চার ফলে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়েছে। লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি অনুষ্ঠান, খবর, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শোনার অভ্যাস ছিল রাইসার। শুরুতে সবকিছু বুঝতে না পারলেও নিয়মিত শোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যের ধরন বুঝতে শেখেন। বিভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চারণ বুঝতে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও প্রথমে সাবটাইটেল ব্যবহার করে এবং পরে সাবটাইটেল ছাড়া কনটেন্ট দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাইসার পরামর্শ, যারা ইংরেজি শেখা শুরু করছেন তারা সহজ কনটেন্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। অ্যানিমেটেড সিনেমা, সহজ গল্প, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনা যেতে পারে। শুরুতেই প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত শোনার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে ভাষার সঙ্গে কান পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে আইইএলটিএসের লিসেনিং অংশে শুধু ইংরেজি বুঝতে পারলেই হবে না, পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতায় ভুল হতে পারে। তাই মক টেস্ট দিয়ে প্রশ্নের ধরন ও সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রিডিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় সহায় ছিল দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বই পড়েছেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন বই পড়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ভোকাবুলারি বাড়ানোর জন্য শুধু শব্দের অর্থ মুখস্থ করার চেয়ে বাস্তব বাক্যে শব্দটির ব্যবহার বোঝা বেশি কার্যকর। একটি শব্দ কোনো বাক্য বা গল্পের মধ্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি বুঝে পড়লে শব্দটি মনে রাখা সহজ হয়। তাই আইইএলটিএসের আগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শব্দ মুখস্থ করার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাইসা। রিডিং পরীক্ষায় তাঁর কৌশল ছিল প্রথমে পুরো লেখাটির মূল বিষয় বোঝার চেষ্টা করা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, নাম, সংখ্যা ও নির্দিষ্ট তথ্যের দিকে নজর দেওয়া। একই লেখা বারবার পুরোপুরি পড়ার পরিবর্তে প্রথমে সামগ্রিক ধারণা তৈরি করে পরে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করলে সময় বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। রাইটিং অংশকে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন মনে করেন। রাইসার মতে, এখানে শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়, নিজের চিন্তাকে পরিষ্কার ও যুক্তিসংগতভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাও প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে কোনো কিছু পড়ে তার সারাংশ লেখা, নতুন শব্দ লিখে রাখা এবং নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস তাঁর রাইটিং দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করেছে। রাইটিং ভালো করার জন্য গ্রামারের ভিত্তি পরিষ্কার থাকা জরুরি বলে মনে করেন রাইসা। বিশেষ করে বাক্যের গঠন, টেন্স এবং কর্তা ও ক্রিয়ার সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই ভালো লেখা হয় না। বরং সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় যুক্তিগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএস রাইটিংয়ে জটিল বাক্য গঠনের দক্ষতাও প্রয়োজন। একই ভাবকে কয়েকটি ছোট বাক্যে আলাদা করে না লিখে প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে সেগুলোকে সুন্দরভাবে একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়, সেটি অনুশীলন করা দরকার। আবার কোনো গ্রাফ বা চার্ট দেওয়া হলে শুধু সংখ্যাগুলো উল্লেখ না করে তথ্যের পরিবর্তন ও প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরতে হয়। স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো ভয় কাটিয়ে নিয়মিত কথা বলা। অনেকেই ইংরেজি বুঝতে ও লিখতে পারলেও কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা কাটাতে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। আশপাশের ভালো ইংরেজি বক্তাদের কথা শুনে তাদের বাক্য গঠন ও উচ্চারণও লক্ষ্য করতেন। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা এবং নিজের চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস স্পিকিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন রাইসা। তাঁর মতে, আইইএলটিএস স্পিকিংয়ে মুখস্থ উত্তর দিয়ে ভালো করা কঠিন। কারণ পরীক্ষায় প্রার্থীকে নিজের অভিজ্ঞতা, পছন্দ, মতামত ও চিন্তা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে হয়। কোথায় থাকেন, কী ধরনের বই পড়েন, কী পছন্দ করেন বা কী ধরনের কনটেন্ট দেখেন, এমন সাধারণ বিষয় পরীক্ষায় আসতে পারে। এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে নিজের জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাইসা শাম্মার মতে, একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য শুধু ইংরেজি শেখাই যথেষ্ট নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনা রাখা এবং নিজের চিন্তা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও জরুরি। তাঁর আইইএলটিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, কোনো দক্ষতাই রাতারাতি তৈরি হয় না। ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত চর্চা এবং শেখার আগ্রহ দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল এনে দিতে পারে। রাইসা শাম্মা বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। আইইএলটিএসে তাঁর ৯ ব্যান্ড অর্জনের অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শেখার দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের গুরুত্বও তুলে ধরে।
বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়। জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়। ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন। আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি। ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।" এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত সম্পূর্ণ অর্থায়িত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এর আবেদন গ্রহণ আবারো শুরু হয়েছে। নেতৃত্ব দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরির এই অনন্য সুযোগটি লুফে নিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো আইইএলটিএস স্কোরের প্রয়োজন হবে না। মূলত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের জন্য ডিজাইন করা ৮ সপ্তাহের এই অনলাইন প্রোগ্রামে হার্ভার্ডসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি ক্লাস নিয়ে থাকেন। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি পূর্বে ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস’ নামে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে ‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বা স্নাতক সম্পন্ন হতে হবে এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে, পরিবারের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তারা এই প্রোগ্রামে আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা-নির্মাণ কর্মশালায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান, নিজস্ব আইডিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো আকর্ষণীয় সুবিধাও থাকছে এখানে। তরুণদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানে প্রস্তুত করতে এই প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।