আইনশৃঙ্খলা

ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।   মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।   এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হামজা (২৩) শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি খুলনার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও কর্মরত ছিলেন।   নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে পৌঁছায়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া দেয়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাশের একটি খালের পাড়ে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।   বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।   এর আগে চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৪ মার্চ মোল্লাহাট উপজেলা সদরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যবসায়ী। তারও আগে একই এলাকায় আরেক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কূটনীতির আড়ালে সামরিক তৎপরতা, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তাদের দেওয়া ১৫ দফার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। ইরান মনে করছে, একদিকে কূটনীতির কথা বলা আর অন্যদিকে রণসজ্জা বাড়ানো—যুক্তরাষ্ট্রের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান আসলে একটি "চরমপন্থী ও অযৌক্তিক" কৌশল। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ইরানের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি এই পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। আসলানির মতে, ওয়াশিংটন মুখে কূটনীতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের কথা বললেও তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, তারা আসলে আন্তরিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতি বা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ইচ্ছুক নয়। ইরানি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র "দ্বিমুখী নীতি" অনুসরণ করছে—কাগজে-কলমে আলোচনার টেবিল সাজানো হলেও বাস্তবে সামরিক শক্তি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই অতি-চরমপন্থী অবস্থানকে ইরান কূটনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবেই দেখছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহে ফেসবুক পোস্টের জেরে কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আবুল কাশেম নামের এক কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার কুল্লাগাছা-ভাতুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আবুল কাশেম কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাহ হোসেন জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যা: জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফয়সাল করিমের, দেশে ফেরাতে উদ্যোগ সরকারের

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ভারতের আদালতে হাজিরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এ কাজ করি নাই”—এভাবে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। ভারতের West Bengal-এর বিধাননগর আদালতে গত রোববার ফয়সাল করিম ও আরেক আসামি আলমগীরকে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এর আগে, ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে তাঁদের National Investigation Agency (এনআইএ)-এর কর্মকর্তারা দিল্লিতে নিয়ে গেছেন। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন ফয়সাল করিম। “কার নির্দেশে হত্যা?”, “আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না?”—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে নীরব থাকলেও পরে তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কাজে ছিলাম না।”   তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে তিনি নিহত হাদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন, যা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে, হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন Shama Obaid। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হত্যার আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”   তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সরকার বলছে, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় আসামিরা ভারতে অবস্থান করলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা খোরশেদ নিহত

Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।   এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ফসলের মাঠে অর্ধশতাধিক মানুষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৭

কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে কোমল পানীয়ের বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. শফিউদ্দিন (৬৫), মো. রাব্বি (২২), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শারুফ শেখ (২০) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বেড় কালোয়া মোড়ে এক ব্যক্তি কোমল পানীয় পান শেষে বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে তা আরেকজনের মাথায় লাগে। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটিয়ে দেন। তবে বিকেলে পূর্বের ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন।   ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে অনেকেই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।   শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চকরিয়া এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   রোববার রাজধানীর মিন্টো রোড-এ অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন, সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়।   পুলিশ জানায়, এসব ভুয়া নথি তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে তৈরি করা একটি জাল সিলও উদ্ধার করা হয়েছে।   ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।   এ ছাড়া ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে হত্যাকাণ্ডের জেরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।   এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার সময় তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন।   পুলিশ জানায়, আলমগীর হাওলাদার হত্যার পর প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে সুযোগ নিয়ে আরেকটি পক্ষ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাস্তাঘাট অবরোধ করে প্রতিপক্ষের সমর্থিত কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।   মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে আলমগীর হাওলাদারের হত্যার প্রতিবাদে বিকেলে তাঁর লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।   পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ ব্যাপারী (৫৪) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীর লাগেজে ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার আগে প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।   সোমবার (৯ মার্চ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বিএস–৩৮১–এর এক যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করার সময় এ ঘটনা ধরা পড়ে।   বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বোর্ডিং ব্রিজ সি–২–এ দায়িত্বে থাকা এভিয়েশন সিকিউরিটির এক স্ক্রিনার লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি তল্লাশি করেন।   তল্লাশির সময় ওই লাগেজ থেকে মোট ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দায়িত্বে থাকা স্ক্রিনার ও এভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের কারণে মাদক পাচারের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভা।
সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পেট্রল মজুত: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।   সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সীতাকুণ্ডে বড় ধরনের যৌথ অভিযান

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য নিয়ে সোমবার এক বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। ভোর থেকে দিনভর চালানো অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। সবশেষ গত ১৯ জানুয়ারি র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন সন্ত্রাসী হামলায়। মূলত ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদক, অস্ত্র ও নানা অপরাধে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।   পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এই বিশাল এলাকায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে সেখানে কামানও ব্যবহার করা হবে।   জঙ্গল সলিমপুর হলো পাহাড় কেটে গড়া খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকা। প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করেন। এলাকার নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে ছিল। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ইয়াসিন, রোকন ও রিদোয়ান গ্রুপসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।   সাম্প্রতিক বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব ও পুলিশের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি এবং উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় প্রশাসন বাধার সম্মুখীন হয়। এরপরও এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।   এবারের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ও পুলিশের স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে প্রশাসনের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ট্রাক আটকে ১৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, আশুলিয়ার এসআই ক্লোজড

সাভারের আশুলিয়ায় জিরা বোঝাই একটি ট্রাক আটকে ১৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনকে ক্লোজড করা হয়েছে। বুধবার রাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ায় জিরা বোঝাই একটি ট্রাক আটকে জোরপূর্বক ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান।   পরে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আদায় করা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন এসআই আনোয়ার। এরপর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে গরুর খামার থেকে জোরপূর্বক সাতটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, এসআই আনোয়ারকে কী কারণে ক্লোজড করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
রূপগঞ্জের চুরির অভিযোগে তিন নারীর চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ডওহরগাঁও এলাকায়। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে ৩ নারীকে বেঁধে মারধর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার তিন নারীকে পরে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।   নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্যাতিত তিন নারী মধ্যবয়সী। তাঁদের মধ্যে দুজনের বাড়ি খুলনায় এবং একজন কুমিল্লায়। তাঁরা রূপগঞ্জে ভাড়া থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ও পেশা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন তিন নারীকে আটকে রাখেন। অভিযোগের একপর্যায়ে তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এ ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তিন নারীকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে এক নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। ওই সময় ভুক্তভোগীরা চুল না কাটার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন।   অন্য একটি ভিডিওতে একটি ভবনের ভেতরে তাঁদের বেঁধে রেখে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত সেলিম মিয়া দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় তিন নারীকে আটক করা হয়। তবে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, তিন নারী পুলিশের কাছে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কাজের খোঁজে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।   তিনি আরও বলেন, চুরি অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কাউকে বেঁধে রাখা, মারধর বা চুল কেটে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উভয় পক্ষ চাইলে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কড়া নির্দেশ আইজিপির

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।   সোমবার (২ মার্চ) সকালে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব নির্দেশনা দেন আইজিপি। এ সময় তিনি মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।   আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো ও ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে।   আইজিপি আরও বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।   ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি। এ সময় পুলিশ সদরদপ্তরের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ফাইল ছব
ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতের

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।   রোববার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন।   এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরানের জনগণের বিপক্ষে গিয়ে এ ধরনের হামলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। জাতিসংঘ ও ওআইসি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হলে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সমাবেশে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান হত্যার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।   বক্তারা আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত ১৩ দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে এবং সরকার আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই স্থিতিশীলতা আসে এবং মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   গত ১৩ দিনে কী ধরনের উন্নতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীর একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা বাস্তবায়ন করেছে। অন্যান্য কয়েকটি ঘটনাতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   মন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক ও কঠোর তা জনগণ ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে। তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি জানান, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
রাজশাহী পুলিশের গ্রেফতারের নতুন নির্দেশনা

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর যদি কোনো নেতাকর্মী দলকে পুনরায় সংগঠিত করার বা মাঠে তৎপরতা দেখানোর সক্ষমতা রাখেন, তাদের পুনরায় গ্রেফতার দেখাতে হবে।   মঙ্গলবার এই গোপন চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারদের। চিঠিতে সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ‘ফ্যাসিস্ট সংগঠন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।   চিঠি ফাঁস হওয়ার পর ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এটি পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। তিনি মন্তব্য করেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মব জাস্টিস দমনে কঠোর সরকার, অগ্রাধিকার পাবে তৃণমূলের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং ‘মব জাস্টিস’ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সচিবালয়ে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস প্রসঙ্গ গত দেড় বছরের মব জাস্টিস সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সরকার এখন এটি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, আগের তুলনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এটি আরও সুসংহত করা হবে।   সরকারের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ‘দেশ পুনর্গঠন’ বা 'টু বিল্ড দ্য নেশন'-কে চিহ্নিত করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনমানুষের সমস্যার সমাধান এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততায় আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।   অর্থনীতি ও নির্বাচন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছিল এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।   অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তারা গণতন্ত্রে উত্তরণের যে মূল দায়িত্বটি পেয়েছিল, তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই আলাদা করে কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কার—অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতির হিসাব

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)–এ প্রচারিত বিদায়ী ভাষণে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।   ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। তাঁর ভাষ্য, এই সংস্কার নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করেছে।   আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় পরিস্থিতি ছিল ভঙ্গুর—অনেক থানায় পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছিল না, জনমনে আস্থার বদলে ভয় কাজ করছিল। ধাপে ধাপে সে অবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এখন পুলিশ মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নেওয়া বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার ঘটনা ঘটে না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী গড়ে তুলতে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়ন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি কার্যকর করতে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   এ ছাড়া গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন, রায় সরাসরি সম্প্রচার, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান যুক্ত করার কথা ভাষণে তুলে ধরা হয়। মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে কমিশন গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0