যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সুপ্ত ও গোপনীয় যুদ্ধনীতির বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উম্মুক্ত ও প্রচারণামূলক যুদ্ধকৌশল মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। ইরানের সঙ্গে ৩২ দিনের সংঘাতকে ঐতিহাসিক যুদ্ধের দীর্ঘ মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প একে নগণ্য দাবি করলেও, এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং সংঘাতের পেছনে ‘ইসরায়েল লবি’র প্রভাবের অভিযোগ তুলে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ভাষণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের ভিডিও প্রচারকে বিশ্লেষকরা প্রথাগত সংঘাতের চেয়ে বরং সস্তা ‘কনটেন্ট’ বা উপাদানের মতো দেখছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে জেমস পক বা ডোনাল্ড রামসফেল্ডের মতো সাম্রাজ্যবাদ এবং বাধাহীন বিমান যুদ্ধের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমআইটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডাম জে. বেরিনস্কির মতে, যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত আসলে যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনার চেয়ে রাজনীতিকদের দলীয় কাদা-ছোড়াছুড়ির ওপর বেশি নির্ভর করে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ১৯ ও ২০ শতকের অধিকাংশ সময় কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়িত থাকলেও আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনের যুগে যুদ্ধের ঝুঁকি ও খরচ সাধারণ মানুষের আড়ালে চলে গেছে। রিচার্ড নিক্সন থেকে ওবামা প্রশাসন পর্যন্ত সবাই যুদ্ধের প্রাণহানি ও প্রকৃত ব্যয় গোপন করার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি ছাড়াই মৃত্যু ডেকে আনার সক্ষমতা যুদ্ধের নৈতিকতাকেই বদলে দিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘প্যালান্টির’-এর প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার কার্পের মতে, প্রযুক্তি নির্মাতা ও রাজনৈতিক এলিটরা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব মূলত নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধের বাস্তব সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার এক চরম রূপ। যখন যুদ্ধের খরচ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি সাধারণ মানুষের সরাসরি ওপর পড়ে না, তখন দেশ ও যুদ্ধ নিয়ে যেকোনো মনগড়া গল্প বিশ্বাস করানো সহজ হয়ে পড়ে। হোয়াইট হাউসের বানানো ইরান যুদ্ধের ভিডিওগুলো এখন কেবল ডিজিটাল প্রহসনে পরিণত হয়েছে, যা নাগরিকদের কাছে একটি ‘ক্লিক’ ছাড়া আর কিছুই দাবি করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) আগামী বছর তাদের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল সিটির ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন। “উন্নয়নের পথে আগামী প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত সংযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশের জনপ্রিয় একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকিব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে। এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের এ কনভেনশনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামীকাল ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ, আলোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জর্জিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলাহ পার্কেস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের (এজেসি) এক জরিপে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়ছে। নাবিলাহ পার্কেস জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফলে তার বর্তমান প্রার্থিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে শেখ রহমানের প্রার্থিতাও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত শেখ রহমানকে অনেকেই কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৯৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী তানজিনা। স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিভিন্ন পোস্টে ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশী কমিউনিটি একটিভিস্টদের মতে, জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানার চল্লিশতম কনভেনশন উপলক্ষে মেধাবী বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে অনুষ্ঠিত হবে ফোবানার চল্লিশতম কনভেনশন। এই কনভেনশনের অংশ হিসেবেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ এই বৃত্তি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং সম্মাননা সনদ প্রদান করা হবে। ফোবানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অথবা বৈধ কাগজপত্রসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থী হতে পারবেন। আবেদনকারীকে ২০২৫ সালের হাই স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করতে হবে এবং তার ফলাফল ৩.৫ থেকে ৪.০ এর মধ্যে থাকতে হবে। বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যেমন—বাংলাদেশি সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, বাংলা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, বাংলাদেশ বিষয়ক পাঠক্রম সম্পন্ন করা কিংবা বাংলাদেশ নিয়ে প্রবন্ধ বা গবেষণামূলক লেখা তৈরি করা। আবেদনকারীদের “বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ” বিষয়ের ওপর এক হাজার শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। পাশাপাশি নিজের সম্পর্কে ৫০০ শব্দের একটি আত্মজীবনীমূলক লেখা জমা দিতে হবে, যেখানে কমিউনিটিতে অবদান, ব্যক্তিগত অর্জন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য তুলে ধরতে হবে। এছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত ফলাফলের সরকারি অনুলিপি, কমিউনিটি সংগঠনের সনদ বা সুপারিশপত্র এবং আবেদনকারীর রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর কমিউনিটিতে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কম রয়েছে, তারা বিকল্প হিসেবে ফোবানা ২০২৬ আয়োজক কমিটির সঙ্গে ২০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন। ফোবানা জানিয়েছে, একটি স্বাধীন বিচারক প্যানেল প্রবন্ধ মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করবে। নির্বাচিতদের সম্মাননা প্রদান করা হবে হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিত চল্লিশতম ফোবানা কনভেনশনের মঞ্চে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জানতে ভিজিট করুন: https://fobanaonline.com/scholarship-application/