আওয়ামী লীগ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যাওয়ার সময় তিন নারীসহ গ্রেফতার চার। ছবি: সংগৃহীত
ধানমন্ডি ৩২-এ যাওয়ার পথে ৪ জন গ্রেফতার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ফুল দিতে যাওয়ার সময় তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে ডিএমপির কলাবাগান থানাধীন স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।   গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রুনা বেগম (৫০), জনতা বেগম (৬৫), আকছারী খানম উর্মি (১৮) এবং সোহেল মিজি (৪৮)।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কয়ার হাসপাতালের সামনে কলাবাগান থানা পুলিশের কিলো-২৬ নিয়মিত ডিউটির সময় দায়িত্বরত সদস্যরা দেখতে পান তিনজন নারী ও একজন পুরুষ ফুলের তোড়া হাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।   পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদস্যরা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে শালীনতা বজায় রেখে তাদের কলাবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।   গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, ফুলসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার পথে হাতেনাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।   তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের পেশা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাদের আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবি নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জামিনে বেরিয়েই জুলাইযোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছে আ.লীগ নেতারা

রংপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও সক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, এমনকি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দিচ্ছেন। এতে এসব পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।   জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশও রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর অনেক আসামি একের পর এক জামিন পাচ্ছেন। জামিনে বেরিয়েই তারা বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব বিষয় পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং পুলিশের কিছু কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাহস দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতার সহায়তা পাওয়ায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে আরও উৎসাহ পাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।   সূত্রগুলো জানায়, গঙ্গাচড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতা প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে পীরগাছা ও বদরগঞ্জ উপজেলাতেও। সেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং বাদী-সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।   এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতা সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের ওপর ভরসা করে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলাতেও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিভিন্নভাবে কর্মীদের সক্রিয় থাকতে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের ভেতরে এখনো এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা পেয়েছিলেন। তাদের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও তারা জানান।   রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অনেকেই এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।   বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। জুলাইয়ের সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী বলেন, পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। কেউ অপরাধ করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলামও বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধ করেছে বা করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তারও করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট হয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।   এর আগে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বিশেষ অনুমতিতে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট থেকে মরদেহটি ফেরত পাঠানো হয়। গত শুক্রবার কলকাতার দমদমে অবস্থিত ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর এক সপ্তাহ আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।   পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতে গিয়ে কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রীও ভিসায় সেখানে যান। শুক্রবার মাল্টি অর্গান ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।   জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবনে করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে।   বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জোয়াহেরুল ইসলাম
কলকাতায় সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জোয়াহেরুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর মাল্টি অর্গান ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই পলাতক রাজনীতিকের। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা বৃদ্ধির কারণে সপ্তাহখানেক আগে তাকে কলকাতার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুকালে তার পাশে স্ত্রী ও বিদেশ থেকে আসা কন্যা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান এবং কলকাতার নিউটাউনে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে মরদেহের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার পরিবার। বর্তমানে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য কলকাতার পিস হেভেনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পেশায় আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আওয়ামী লীগ-বিএনপির রসায়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি, বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলতে উদ্যোগ, একাধিক সাবেক সংসদ সদস্যের জামিন এবং বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতার দেশে ফেরার খবরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় খুলতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।   জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পর আওয়ামী লীগের এই নড়াচড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নীরব সমর্থন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনপূর্ব ‘বোঝাপড়ার’ অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিকে জামায়াতে ইসলামী সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। তার সঙ্গে মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ দেশ ছাড়েন। কেউ গ্রেপ্তার হন, বাকিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময় সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আওয়ামী লীগের যেকোনো পুনরুত্থান চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।   কিন্তু চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। এরপর দেশের অর্ধশতাধিক স্থানে কার্যালয় খুলে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো, মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার খবর পাওয়া যায়। এমনকি শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেখ হাসিনার নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   অন্যদিকে, কিছু স্থানে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যেই একের পর এক সাবেক এমপি ও জেলা-উপজেলার নেতাদের জামিন পাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। গত সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভী রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা জামিন পেয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোট প্রত্যাশায় বিভিন্ন প্রার্থী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে ভোট চাইতেও দেখা যায়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে-পরে দুই দলের মধ্যে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।   এদিকে, বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রমে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। সরকারকে দ্রুত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।   বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন অনুযায়ীই সবকিছু বিবেচিত হবে এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অবস্থান বহাল থাকবে। তবে দলের ভেতর থেকেও বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমঝোতা থাকতে পারে।   সব মিলিয়ে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা সামনের দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান
রাজশাহীতে আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান গ্রেফতার

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বাবুকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের দরগাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাবিবুর রহমান বাবু রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। পরে মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। হাবিবুর রহমান বাবু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকলে বেশ কিছুদিন থেকে তিনি স্যোসাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন।   নগরের বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, হাবিবুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কোন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল তা ওসি জানাতে পারেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন? শেখ হাসিনার বিকল্প নিয়ে যা ভাবছে হাইকমান্ড

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক কঠিন সময় পার করছে আওয়ামী লীগ।   ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিত ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দলটি। বর্তমানে রাজনৈতিক ‘স্পেস’ ফিরে পেতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। দলীয় সূত্রমতে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়ে হাইকমান্ডে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতৃত্ব ঘিরেই। দলের ভেতরে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব আনার বিষয়টি জোরালো আলোচনায় রয়েছে। বিচক্ষণ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ‘শেখ পরিবার’-এর হাতেই নেতৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং সামনে আনা হতে পারে নতুন কোনো মুখ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, পরিস্থিতির বিচারে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে কড়া নজর রাখছে দলটি। অনেক আত্মগোপনে থাকা নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা দেখছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বাস্তবতা মেনে বিকল্প নেতৃত্বের পথ খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
নতুন ধারার রাজনীতিতে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ: অপেক্ষা রাজনৈতিক সুযোগের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির পর দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার নতুন কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।   অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং নিবন্ধন স্থগিতের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখন কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে দলটি। আপাতত সংঘাতের পথ পরিহার করে সংগঠন পুনর্গঠন এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে ফেরাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সূত্রমতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির হার বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে হামলা বা পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটলেও, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থানের প্রতি এক ধরনের আস্থা প্রকাশ করছে আওয়ামী লীগ। দলটির অভ্যন্তরে এমন আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপির নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক স্তরের নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলটির হাইকমান্ড এখন ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। বিগত সময়ে যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাদের সরিয়ে তরুণ ও বিতর্কহীন নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য এবং পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা আশা করছেন, নবনির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির ওপর থাকা আইনি ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। সরকার থেকে সবুজ সংকেত বা প্রয়োজনীয় ‘রাজনৈতিক স্পেস’ পেলে দ্রুততম সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যমে শুরু করতে চায় দলটি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
আলামিন মালিথা
পাবনায় পতাকা উড়িয়ে মিছিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

পাবনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা শহরে প্রকাশ্যে মিছিল করার পাশাপাশি জেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি আলামিন মালিথা এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রাজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   শনিবার রাতে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট তৌফিক ইমাম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন নেতা ও কর্মী কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।   এরপর একদল যুবক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে, নেতাকর্মীরা শনিবার রাতে শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে তারা জেলা কার্যালয়ে আবারও পতাকা উত্তোলন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।   পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
বগারচর আওয়ামী লীগ অফিসে ‘পাবলিক টয়লেট’ সাইন উধাও

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিস থেকে গণঅধিকার পরিষদ কর্তৃক স্থাপিত ‘পাবলিক টয়লেট’ লেখা সাইন বোর্ড উধাও হয়ে গেছে। কে বা কারা সাইন বোর্ডটি সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।   ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম ও ছাত্রলীগ সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।   ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বকশীগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ শনিবার বিকালে বগারচর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা দলীয় ও জাতীয় পতাকা অপসারণ করে অফিসে আগুন ধরান এবং অফিসকে ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা করে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেন।   রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙাচোরা ও পরিত্যক্ত অফিসে সাইন বোর্ডটি আর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা কতিপয় ব্যক্তি সরিয়ে নিয়ে গেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের হামলায় বিএনপির ৫ নেতাকর্মী আহত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার নেতৃত্বে বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।   ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আহতরা বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   আহতরা হলেন— পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), এবং স্থানীয় কর্মী নাছির উদ্দীন ফকির (৫০), নাইম হোসেন (২৮) ও মো. নাহিদ হোসেন (১৮)।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকু, তাঁর ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রায়হান এবং টুকুর ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহত জাহিদ হোসেন ও নাসির ফকির বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশোধ নিতেই নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমাদের একমাত্র অপরাধ আমরা বিএনপি করি।”   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ পত্তাশী বাজার এলাকায় আর্তচিৎকার শুনে তাঁরা এগিয়ে যান। সেখানে পাঁচজনকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রাতেই পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু দাবি করেছেন, তিনি কোনো হামলায় জড়িত নন। বরং মারামারি থামাতে গিয়ে তিনি নিজেই আহত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।   ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, বিএনপি নেতাসহ আহত ৫

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পত্তাশী বাজার এলাকার পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাহিদ হোসেন (১৮), নাছির উদ্দীন ফকির (৫০) ও নাইম হোসেন (২৮)।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার এলাকায় হঠাৎ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে পাঁচজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।   অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।   আহত জাহিদ হোসেন দাবি করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকুসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। অপর আহত নাছির ফকিরের অভিযোগ, টুকুর ছেলে রায়হান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮–১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হামলা হয়েছে।   তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।   এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম হাওলাদার জানান, মারামারির খবর পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জামিনে কারামুক্ত সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি দবিরুল ইসলাম

গ্রেফতারের দেড় বছর পর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে একই দিন ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।   দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় দবিরুল ইসলাম গ্রেফতার হন। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনও গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে দিনাজপুর কারাগারেই রয়েছেন।   দবিরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং হাঁটাচলা করার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।   এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একই কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
আওয়ামী লীগ
১৮ মাস পর আবারও আওয়ামী লীগের উত্থান

দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। গত বুধবার নোয়াখালী, বরগুনা, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দলটির পরিত্যক্ত কার্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানোর ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে এসব কার্যালয় ভাঙচুর ও বন্ধ অবস্থায় ছিল।   সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব কর্মসূচি পালনের পরপরই পুলিশ সক্রিয় অবস্থানে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে সমাবেশ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। নোয়াখালীতেও কার্যালয়ের ফটকে ব্যানার ঝোলানোর দায়ে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে হবিগঞ্জে জেলা কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ভবনের ভেতরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে।   নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেটে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে ঝটিকা স্লোগান ও ব্যানার টানানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়েও ছবি ও পরিচিতি ফলক লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। বরগুনা ও কুড়িগ্রামে ভোরে কুয়াশার সুযোগ নিয়ে কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত এসব কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের শনাক্ত করতে তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম এতগুলো জেলায় একযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছোটখাটো মহড়া দেওয়ার চেষ্টা নতুন সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রতিটি জেলায় টহল জোরদার করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম-বরিশালে আ.লীগ কার্যালয় খুলেছে নেতাকর্মীরা
মুজিবের ভাস্কর্য পরিষ্কার, দলীয় ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনগতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশালে গভীর রাতে ব্যানার টাঙানো, কার্যালয় খোলা এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।   চট্টগ্রামে পুলিশের সামনেই তৎপরতা: গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় সংলগ্ন দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাইনবোর্ড টাঙান ছাত্রলীগ নেতারা। একই সময়ে লালদীঘি এলাকায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় একদল যুবককে। দীর্ঘক্ষণ ধরে এসব কাজ চললেও প্রশাসনের কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও সাধারণ ছাত্রজনতা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দোস্ত বিল্ডিংস্থ আওয়ামী লীগের সেই কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।   বরিশালে রাতের আঁধারে ব্যানার: বরিশাল মহানগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সোমবার গভীর রাতে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে মঙ্গলবার সকালে সেই ব্যানার আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধ দলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া পুরোপুরি প্রশাসনের দায়িত্ব।   পলাতক নেতাদের উসকানি: জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কার্যালয় খুলে জয়ের স্লোগান দিয়েছেন। এই প্রতিটি ঘটনা ভারত থেকে পরিচালিত সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যা মূলত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একটি বড় ছক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ছাত্রজনতার হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের বক্তব্য: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়, তবে ছাত্রজনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।   বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা এবং তার প্রেক্ষিতে ছাত্রজনতার অনড় অবস্থান দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মী উপস্থিতি, খুলনা বিএনপির তীব্র ক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মাল্যদানকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগর বিএনপি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।   রোববার রাতে নগর বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।   রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল নেতা–কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। এই সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন। উপস্থিতরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালানো হয়।   খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।   মাল্যদানের সময় কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উদ্যোগে সেখানে প্রবেশ করা হয়। প্রায় ২৫–৩০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন না।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। এরপর থেকে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার চাকলাহাট বাজারে
ক্ষমতায় বসার আগেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের দায়িত্ব হাতে নিলো বিএনপি

ক্ষমতায় বসার আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পঞ্চগড়ের একটি ঘটনা। নির্বাচনে বিজয়ের পরদিন পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের একটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।   শুক্রবার সকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বিএনপি নেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়টি খুলে দেওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞ।   এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, আপাতত মুক্তিযোদ্ধারাই কার্যালয়ে অবস্থান করবেন; দলীয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।   ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধে থাকা একটি দলের কার্যালয় খুলে দেওয়ার এই উদ্যোগের তাৎপর্য কী।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিজয়ের পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তালা খোলার ঘটনা সংবেদনশীল। এটি স্থানীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়াস হতে পারে, তবে এর রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও আলোচনা চলছে।   উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান দাবি করেছেন, এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘অনেক হিন্দু কেন্দ্রে যাবে, কিন্তু ভোট না দিয়েই ফিরে আসবে’— ভারতীয় গণমাধ্যমকে রঞ্জন কর্মকার

শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম স্ক্রল ইন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে হিন্দু ভোটাররা কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে।   প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকারের একটি সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি বলেন, “আমরা আসলে এই নির্বাচন বর্জন করতে চাই। অনেক হিন্দু ভোটার হয়তো লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে বা নজর এড়াতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো মার্কায় ভোট না দিয়েই ফিরে আসবেন।”   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর উত্থানের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রঞ্জন কর্মকার বলেন, ঐতিহাসিকভাবে হিন্দুরা একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষে ভোট দিয়ে এলেও বর্তমান নির্বাচনি পরিস্থিতিতে তারা তেমন কোনো শক্তি দেখতে পাচ্ছেন না।   তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের গণভোটে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দের পরিবর্তে ‘বহুত্ববাদ’ প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ সংখ্যালঘুদের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, “‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনা, আবার ‘না’ ভোট দিলেও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক শিক্ষার্থী তরুণ সরকার ও ঢাকার বাসিন্দা সৌরভ ঘোষসহ কয়েকজন ভোটার জানান, জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকাতে কিছু হিন্দু ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করতে পারেন। তবে তাদের বড় উদ্বেগ ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো জমি দখল ও সহিংসতার আশঙ্কায় রয়েছেন। ঐক্য পরিষদের নেতাদের মতে, প্রায় ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১০০ আসনে হিন্দু ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে, যদিও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।   সৌরভ ঘোষ বলেন, “আমরা যদি কোনো দলকে ভোট দিই এবং তারা হেরে যায়, বিজয়ীরা আমাদের ওপর চড়াও হয়। আবার আমাদের সমর্থিত দল জিতলেও হামলা বন্ধ হয় না।”   তবে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল ভোট বর্জনের বিপক্ষে মত দেন। তিনি মনে করেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে হিন্দু ভোটাররা এমন দলকেই বেছে নেবেন যারা নির্বাচনের পর তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের হিন্দুরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। তবুও বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক হিন্দু ভোটারের মধ্যে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ঝিনাইদহে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে রাশেদ খান। ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ-৪: রাশেদ খানের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে বিএনপিই একমাত্র নিরাপদ দল

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকলেও তাদের ভোটাররা বর্তমানে বিএনপিকে একমাত্র নিরাপদ দল হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, এর ফলে ধানের শীষ প্রতীকী ভোটের মাধ্যমে তারা বিএনপিকে সমর্থন করবেন।   রাশেদ খান বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জেলার সদর উপজেলার পান্নাতলা বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা তো জামায়াতকে জানি। তাদের একমাত্র পুঁজি হলো দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাবেন—এমন বিশ্বাস। জামায়াত নেতারা মনে করেন জান্নাত তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তাই তারা চাইলে জান্নাত দিতে পারবে।”   রাশেদ খানের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইবেন, কিন্তু দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। ধর্মের ব্যবহার রাজনীতিতে বন্ধ করতে হবে। জনগণ ইতোমধ্যেই জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান শুরু করেছে।”   নির্বাচনী গণসংযোগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদসহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা ঘেরাও

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে আসা, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে শিবচর থানায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   আজ বুধবার সন্ধ্যায় ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে আসছে এবং আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।   পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা জানান, মঙ্গলবার শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে অন্তত ২০ জন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিবচর থানার সামনে এসে শেষ হয়। অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী ব্যানার–ফেস্টুন হাতে থানার সামনে অবস্থান নেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।   বিক্ষোভকারীদের পক্ষে শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তার করা না হয়, আমরা পাঁচ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘেরাও করব। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচরদের প্রকাশ্যে রাজনীতি করা শিবচরের জনগণ মেনে নেবে না। আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে জবাব চাই।”   শিবচর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, “বিক্ষোভকারীরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা
বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা

৫ আগস্টের সেই নাটকীয় পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘ নীরবতার পর এবার সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কি পর্দার আড়ালে নতুন কোনো ছক কষছেন? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক চিত্র।   কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ৬০০ নেতার গতিবিধি এবং দিল্লির সাথে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ এখন আলোচনার তুঙ্গে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি সত্যিই ‘বীরের বেশে’ ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? ভারতের মাটিতে বসে প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা মিটিং আর ফোন কলে কী বার্তা দিচ্ছেন তিনি? মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সংকট কাটিয়ে দলটি কি আবারো বাংলাদেশের রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে পারবে?   পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তাঁর দাবি এবং গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী তথ্যে ঠাসা আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।   ভারতে অবস্থান: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬০০-এর বেশি প্রভাবশালী নেতা অবস্থান করছেন।   দিল্লির সাথে যোগাযোগ: গত কয়েক মাসে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়মিত দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে দলীয় কৌশলের আলোচনার জন্য।   শেখ হাসিনার ব্যস্ততা: সাদ্দাম হোসেনের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনা প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা নেতাকর্মী ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।   ফিরে আসার পরিকল্পনা: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও নানা অভিযোগ মাথায় থাকলেও, দলটি বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা আবারো বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0