দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। গত বুধবার নোয়াখালী, বরগুনা, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দলটির পরিত্যক্ত কার্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানোর ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে এসব কার্যালয় ভাঙচুর ও বন্ধ অবস্থায় ছিল।
সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব কর্মসূচি পালনের পরপরই পুলিশ সক্রিয় অবস্থানে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে সমাবেশ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। নোয়াখালীতেও কার্যালয়ের ফটকে ব্যানার ঝোলানোর দায়ে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে হবিগঞ্জে জেলা কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ভবনের ভেতরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে।
নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেটে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে ঝটিকা স্লোগান ও ব্যানার টানানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়েও ছবি ও পরিচিতি ফলক লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। বরগুনা ও কুড়িগ্রামে ভোরে কুয়াশার সুযোগ নিয়ে কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত এসব কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের শনাক্ত করতে তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম এতগুলো জেলায় একযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছোটখাটো মহড়া দেওয়ার চেষ্টা নতুন সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রতিটি জেলায় টহল জোরদার করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। গত বুধবার নোয়াখালী, বরগুনা, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দলটির পরিত্যক্ত কার্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানোর ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে এসব কার্যালয় ভাঙচুর ও বন্ধ অবস্থায় ছিল। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব কর্মসূচি পালনের পরপরই পুলিশ সক্রিয় অবস্থানে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে সমাবেশ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। নোয়াখালীতেও কার্যালয়ের ফটকে ব্যানার ঝোলানোর দায়ে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে হবিগঞ্জে জেলা কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ভবনের ভেতরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেটে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে ঝটিকা স্লোগান ও ব্যানার টানানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়েও ছবি ও পরিচিতি ফলক লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। বরগুনা ও কুড়িগ্রামে ভোরে কুয়াশার সুযোগ নিয়ে কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত এসব কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের শনাক্ত করতে তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম এতগুলো জেলায় একযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছোটখাটো মহড়া দেওয়ার চেষ্টা নতুন সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রতিটি জেলায় টহল জোরদার করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে মন্ত্রী হওয়ার ঘটনাকে অলৌকিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন নবনিযুক্ত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। একইসঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকা মুরাদনগরকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। উম্মাহর খেদমত ও দেশের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী যেন নিরাপদ থাকেন, সেজন্য সবাইকে নফল নামাজ পড়ে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফুলের মালার চেয়ে দোয়া তার কাছে বেশি মূল্যবান। নিজের রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই স্মরণ করে কায়কোবাদ বলেন, একসময় ভাবতেও পারিনি দেশে ফিরে নির্বাচন করতে পারব, আজ আল্লাহর ইচ্ছায় আমি মন্ত্রী। এই সম্মানের মর্যাদা রক্ষায় আমি বদ্ধপরিকর। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত হলে দল থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে। মুরাদনগর হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ। তিনি নেতাকর্মীদের মাস্তানি পরিহার করে সততার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পরামর্শ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর মেয়াদের প্রথম দিনটি শুরু করেছেন এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক কাজের মাধ্যমে। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর রাজধানীর মিরপুর মনিপুর এলাকার বাইতুর নুর মসজিদের সামনের রাস্তা নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন। এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পরিচ্ছন্নতা কাজ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু ড্রেন বা রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করা নয়, বরং সমাজ ও মানুষের মনের ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছরের আবর্জনা ও কলুষতা দূর করা। পরিবেশ সুন্দর হলে মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা এক দরদী ও দায়িত্বশীল জাতি গঠনে সহায়তা করে।” তিনি আরও ঘোষণা করেন, এটি কোনো সাময়িক বা লোকদেখানো কর্মসূচি নয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তারা প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধা ঘণ্টা নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি মিরপুর-কাফরুল এলাকাকে একটি ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দল-মত ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপির সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির এই শপথ না নেওয়া মূলত জুলাই বিপ্লবকে অপমানের শামিল। আজ জুলাই বিপ্লব সফল না হলে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। এই ঐতিহাসিক অর্জনকে সম্মান জানানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।” ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ঢাকায় থাকলে নিয়মিত এই কাজে অংশ নেবেন এবং ঢাকার বাইরে গেলেও তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে এই পরিচ্ছন্নতার ধারা অব্যাহত রাখবেন। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ‘সেবকের ভূমিকা’ সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।