সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

খুলনা

দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক
দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে শাস্তি পাওয়া প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল এবার খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বর তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের পর ভবনে হাঁটাচলার সময় কম্পন অনুভূত হওয়ায় ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে নির্মাণকাজে অনিয়মের তথ্য পায়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নকশা অনুযায়ী ছাদের কংক্রিটের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও কোথাও তা ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পাওয়া যায়। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তদন্তের পর সাতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি দেওয়া হয় এবং চার বছরের জন্য তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণকাজের একটি পর্যায়ে জুয়েল বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে অনুপস্থিত সময়ের নির্মাণকাজের মেজারমেন্ট বুক যাচাই না করেই তাতে স্বাক্ষর করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে সহযোগিতা করার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।   তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুয়েল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ওই সময় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে পদোন্নতি দেয়।   ২০২৫ সালে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে ২৮ জুন তাকে প্রেষণে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।   খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বা ফেজ-২ গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এর আওতায় নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন পাইপলাইন ও পানির সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নিয়ে এর আগে খুলনা ওয়াসায় একাধিক দফায় পরিবর্তন ও আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে এ বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২ সেপ্টেম্বর আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।   জুয়েলের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জুয়েল।   এদিকে এত বড় একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব এমন একজন কর্মকর্তাকে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, নগরীর সুপেয় পানি সরবরাহ, বিলের ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ নানা সমস্যায় ওয়াসা সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করা প্রয়োজন।   তবে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং তাকে নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
পাইকগাছায় রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে খুলনার সেই ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, ল্যাব রিপোর্টে মিলল কারণ

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস লাল থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় স্বস্তির তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরীক্ষায় মাংসের নমুনায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপে রান্নার কারণে মাংসের রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনকে সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়েছে।   গত ২২ জুলাই পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্না করছিলেন। রান্নার একপর্যায়ে মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে সবুজ হয়ে যায়। অস্বাভাবিক এই পরিবর্তন দেখে তারা রান্না বন্ধ করে দেন এবং মাংস ভর্তি কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পরে থানায় যান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ঘটনার পর মাংসের প্রকৃত অবস্থা জানতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।   সম্প্রতি পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে রং উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় মাংসে পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি।   অর্থাৎ, ল্যাব পরীক্ষায় মাংসের সবুজ রং ধারণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন কিংবা ক্ষতিকারক জীবাণুর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি।   প্রতিবেদনে স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়েছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। পরে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর কিংবা গাঠনিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলেই মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।   তবে ল্যাব পরীক্ষায় মাংস সবুজ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এবং পরবর্তী উচ্চ তাপের প্রভাবে মাংসের রঞ্জক পদার্থে পরিবর্তনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার শুরুতে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল দাবি করেছিলেন, তিনি ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস বিক্রি করেছেন এবং এতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে বেকারির কর্মচারীরা দাবি করেন, রান্নার সময় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের পরই মাংসের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   বিএফএসএর পরীক্ষার প্রতিবেদন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে পাইকগাছায় আলোড়ন তোলা ‘সবুজ মাংস’ নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্ষতিকর জীবাণু বা পচনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলো। তবে মাংসের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের চূড়ান্ত কারণ হিসেবে কোনো একটি বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ খুলনার আলিমুলের

খুলনার ২১ বছর বয়সী আলিমুল ইসলাম সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গত মাসে সুখবরটি পাওয়ার পর থেকেই আনন্দে সময় কাটছে তার।   আলিমুল বলেন, “এটা আমার কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। আমি আনন্দে অভিভূত। এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”   তার এই অর্জনে বন্ধুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান আলিমুল। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   আলিমুল সৌদি সরকারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য ২৬৫টি পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।   সৌদি সরকারের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের বিমানভাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ভাতা এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ জানান, এই বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে।   এদিকে একই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার সৌদি আরবে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ হাসিব। তিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন।   সৌদি আরবকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে হাসিব বলেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকেই সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছেন। তার মাদ্রাসার সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের অনেকেই সৌদি আরবে পড়াশোনা করেছেন। তাদের দেখে তিনিও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন।   সৌদি আরবে গিয়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান হাসিব। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বৃত্তির সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগও এ আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ।   অ্যাসোসিয়েশন অব সৌদি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটস ইন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আল-মাদানি আরব নিউজকে বলেন, কিছু বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন আরবি ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক নয়। আইইএলটিএস থাকলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সৌদি আরবের উচ্চশিক্ষা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বড় কারণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার প্রতি বাংলাদেশিদের গভীর ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।   আল-মাদানির মতে, এই ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্কও সৌদি আরবে পড়াশোনার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনের সুযোগও শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।   আলিমুল ও হাসিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, বরং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের একটি বড় পথ। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে চান তারা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১২ ইউনিটে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

খুলনা মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনটিতে আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম সবার নজরে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় উৎসুক জনতা একযোগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের বেসমেন্ট থেকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং এর পরপরই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সূচনা নিচতলা বা বেসমেন্ট থেকে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের অন্যান্য তলায় তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিচতলার অক্সিজেন রুম লক্ষ্য করে পানি ছিটানো শুরু করেন, তবে রাত ১১টা পর্যন্ত বেসমেন্ট থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।   খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় উদ্ধারকাজে তাদের একটি দল মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালজুড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ১১ তলায় অবস্থানরত এক রোগী জানান, তারা সুরক্ষিত থাকলেও পুরো হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের ভেতরে আটকে পড়া রোগীদের যেন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় হাসপাতালের রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০