গরম

সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহে নিউইয়র্কে শতাধিক কুলিং সেন্টার চালু, প্রবীণ-শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কুলিং সেন্টার চালু করেছে। প্রবীণ, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গৃহহীন মানুষ এবং যাদের বাসায় পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউইয়র্কে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে অনুভূত তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নগর প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, সিনিয়র সেন্টার এবং সরকারি ভবনকে অস্থায়ী কুলিং সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।   শুধু কুলিং সেন্টারই নয়, নগর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত মোবাইল সহায়তা ভ্যানও মোতায়েন করেছে। এসব ভ্যান শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পানীয় জল, ইলেকট্রোলাইট, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি গৃহহীন ও একাকী বসবাসকারী প্রবীণদের খোঁজ নিতে বিশেষ টিমও মাঠে কাজ করছে।   শহর প্রশাসন বাসিন্দাদের দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার, পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কখনোই পার্ক করা গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে নগর প্রশাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বড় বড় ডিজিটাল বিলবোর্ডের আলো কমানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।   স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে কুলিং সেন্টারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত গরমকে অবহেলা না করে কেউ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে একা বসবাসকারী প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   চলমান তাপপ্রবাহকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র গরমের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির এই জরুরি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো তাপজনিত অসুস্থতা ও সম্ভাব্য প্রাণহানি কমিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ রাখা।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত
১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে কানেকটিকাট, ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রার পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য এ সপ্তাহে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজ্যের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে।    কানেকটিকাটে এমন তীব্র গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং জারি করেছে। এই সতর্কতা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাজ্যের রাজধানী হার্টফোর্ডসহ অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করতে পারে। এটি ২০১১ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ দিনের একটি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে বহু বছরের দৈনিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো তুলনামূলক শীতল হলেও সেখানেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট অঙ্গরাজ্যের চরম গরম মোকাবিলা প্রটোকল চালু করেছেন। এর আওতায় বিভিন্ন শহর ও পৌরসভায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কুলিং সেন্টার খোলা হয়েছে, যাতে যাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত শীতল পরিবেশ নেই তারা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসিন্দারা নিকটস্থ কুলিং সেন্টারের তথ্য রাজ্যব্যাপী তথ্যসেবা থেকে জানতে পারবেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং যাদের ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই, তাদের দ্রুত এসব কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে অবস্থান করলে হিট এক্সহসশন ও হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও পোষা প্রাণীকে কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।    আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতার মাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীরের ঘাম দ্রুত শুকাতে পারবে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে এবং মানুষ বাস্তব তাপমাত্রার তুলনায় আরও বেশি গরম অনুভব করবে। এ কারণেই তাপসূচক ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেক জায়গায় দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অনুশীলন স্থগিত করা হয়েছে অথবা সকাল ও সন্ধ্যায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিয়মিত বিরতি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিপুল সংখ্যক মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও এ পর্যন্ত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পুরো সময়জুড়েই গরম অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার ও শনিবারও তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকবে। একই সময়ে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনী ও উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠানগুলোতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তবে সব এলাকায় সারাদিন বৃষ্টি হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।     এই ধরনের তাপপ্রবাহে রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলক বেশি থাকায় শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এতে অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই রাতে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করতে পারে। এরপর আগামী সপ্তাহের শুরুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।   ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।   চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০