ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতি-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— দ্য ডেইলি স্টার: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের অংশ হিসেবে অংশ নেওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। দলীয় সূত্র জানায়, জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু তালিকা জমা পড়েছে এবং বাকি তালিকা ঈদের পর পাওয়া যেতে পারে। এরপর প্রথম ধাপে ঢাকার দুটি সিটিসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের পরপরই জেলা ও উপজেলা ইউনিটগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বণিক বার্তা: সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, আগামী নির্বাচন থেকে কার্যকর হতে পারে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায় লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আগের রায়কে ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কজনক উল্লেখ করে তা বাতিল করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজনে সংসদ এ ব্যবস্থায় সংশোধন বা পরিমার্জনের ক্ষমতা রাখবে বলেও তারা জানিয়েছেন। দেশ রূপান্তর: দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করে শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই নিয়োগে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে কারিআনা পাসধারীদের নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনা এবং ইবতেদায়ি ও কওমি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যুগান্তর: সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৭৪ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আপিল বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে সংসদ এ ব্যবস্থায় সংযোজন বা বিয়োজন করার ক্ষমতা রাখবে। বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে এবং এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। প্রথম আলো: দখল, দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির জন্য মামলায় ‘ইচ্ছেমতো’ আসামি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। একটি ঘটনায় তিনটি মামলা হওয়ার নিয়ম না থাকলেও একই ঘটনার মামলায় ইসমাইল প্রধানীয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ১০৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। মামলায় তাকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দলটির কোনো কমিটিতেই তার নাম নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যাপার্টমেন্ট ও বিপণিবিতানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছিল। ১০০টি মামলার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষকেও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, সম্পদ দখল বা প্রতিহিংসার কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় তিনজন মৃত ব্যক্তিকেও আসামি করার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্তত ৪৭টি মামলায় ছয় শতাধিক আসামির নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মামলা বিচারব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। নিউ এইজ: সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বিতর্ক সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, গণভোটের ফল বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে সংশোধনী আনা প্রয়োজন এবং ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে তিনি অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন। কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে সংস্কার পরিষদ নামে কোনো কাঠামো নেই। তাই জুলাই সনদে উল্লেখিত বিষয় বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটে এটি অনুমোদিত হয়। আজকের পত্রিকা: ৪২ জেলা পরিষদে বিএনপির নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রশাসক দায়িত্বে থাকবেন এবং তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের সবাই বিএনপির নেতা। এর আগে ঢাকাসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনেও বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এই নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবজমিন: ঈদ সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রত্যাহার ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরান ও ইসরাইলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। নয়া দিগন্ত: ভূকৌশলগত অবস্থান কাজে লাগালে তেল রফতানিকারক দেশ হতে পারে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূকৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ তেল পরিশোধন ও পুনরায় রফতানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক রুটের সংযোগস্থলে অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দরের সম্ভাবনা এবং বড় আঞ্চলিক বাজারের নৈকট্য বাংলাদেশকে এ খাতে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেদারল্যান্ডসের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসব দেশ নিজস্ব তেল উৎপাদন না থাকলেও আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তাদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে এ খাতে সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। কৌশলগত পরিকল্পনা নিলে ভবিষ্যতে এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে জারি করা এক বিশেষ গেজেটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–কে এক বছরের জন্য ‘ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এ গেজেটে বলা হয়, দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হবে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে গেজেটটি প্রকাশিত হয়। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার স্বাক্ষরে এটি জারি করা হয়। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান ছাড়াও সরকার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। এই মর্যাদার ফলে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা পাবেন। ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী তার বাসভবন, কর্মস্থল ও উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহ কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় থাকবে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ভিভিআইপির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং বাসভবন বা অনুষ্ঠানের স্থানে দর্শনার্থী ও যানবাহন প্রবেশ–প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এসএসএফ। তবে গেজেটটি জনসমক্ষে প্রচার করা হয়নি বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটেও এটি আপলোড করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ত্যাগ করেন।
জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন টালমাটাল স্থানীয় সরকার রাজনীতির মাঠ। একদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ প্রধান সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে জনমনে প্রশ্ন: ভোট কি তবে অনিশ্চিত? শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। নাগরিক সেবা সচল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিলেও, গত রোববার এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দক্ষিণ সিটির নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করেই তারা নির্বাচনে যেতে চান। তবে আইন বলছে ভিন্ন কথা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়াদ গত বছরের জুনেই শেষ হয়েছে, আর চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনও কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারেনি। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র একজন প্রশাসক দিয়ে বিশাল এই সিটি কর্পোরেশনগুলোর কাউন্সিলরদের শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান বদিউল আলম মজুমদার উভয়েই দ্রুত নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যেমন কঠিন, তেমনি আইনি জটিলতাও বাড়ছে। এদিকে, বিএনপির এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সুর জাতীয় নাগরিক পার্টিরও (এনসিপি); তারা মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন সংস্কার ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। তবে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় সংসদ থেকে।
সরকারের আশ্বাসে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিটিএমএ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্পিনিং সেক্টরের চলমান সংকট ও সমস্যাসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা স্পিনিং শিল্পের সমস্যাগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পখাতে এ খাতের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস, চলমান ফলপ্রসূ আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিটিএমএ তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম, এনবিআরের শুল্ক নীতির সদস্য মুবিনুল কবীরসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারাও সভায় অংশ নেন। সভায় বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাঁদের নিজ নিজ প্রস্তাবনা ও দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, টেক্সটাইল ও স্পিনিং সেক্টরের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বিটিএমএ আশা প্রকাশ করেছে, সরকার ন্যায্যতা, বাস্তবতা ও দ্রুততার ভিত্তিতে স্পিনিং সেক্টরের বিদ্যমান সমস্যাসমূহের সমাধান করবে। এতে দেশের রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংগঠনটি মনে করে। পরিস্থিতি ও আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সময়োপযোগী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও শরিক দলের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মাঠে অনড় থাকা এবং এনসিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বয়কট’ স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বোয়ালখালী উপজেলায় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপির বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এলাকায় রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নেতাদের অভিযোগ, বোয়ালখালীতে ডা. আবু নাসেরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই জোটের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে এবং সেখানে ‘এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘জোটের ঐক্যের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ সহ সারাদেশে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এনসিপি কেবল এই একটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটের অন্য শরিকরা সরে দাঁড়ালেও জামায়াত প্রার্থী এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, জামায়াতের এ ধরণের কর্মকাণ্ড সেই শক্তির ক্ষতি করছে। আমরা জানতে চাই, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না এবং জোটের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে কি না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান এবং যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সংগঠক সাঈদ বিন ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস